নারায়ন চন্দ্র চন্দ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
নারায়ন চন্দ্র চন্দ
খুলনা-৫ আসনের
সংসদ সদস্য
দায়িত্বাধীন
অধিকৃত কার্যালয়
২৫ জানুয়ারি ২০০৯
পূর্বসূরীমিয়া গোলাম পরওয়ার
কাজের মেয়াদ
২০ ডিসেম্বর ২০০০ – ১৩ জুলাই ২০০১
পূর্বসূরীসালাহ উদ্দিন ইউসুফ
উত্তরসূরীমিয়া গোলাম পরওয়ার
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী
কাজের মেয়াদ
২ জানুয়ারি ২০১৮[১] – ৭ জানুয়ারি ২০১৯
পূর্বসূরীমোহাম্মদ ছায়েদুল হক
উত্তরসূরীশ ম রেজাউল করিম
মৎস্য ও পশু সম্পদ প্রতিমন্ত্রী
কাজের মেয়াদ
২৫ জানুয়ারি ২০১৪ – ২ জানুয়ারি ২০১৮
পূর্বসূরীআব্দুল হাই
উত্তরসূরীআশরাফ আলী খান খসরু
ব্যক্তিগত বিবরণ
জন্ম (1945-03-12) ১২ মার্চ ১৯৪৫ (বয়স ৭৮)
ডুমুরিয়া,খুলনা
নাগরিকত্বব্রিটিশ ভারত (১৯৪৭ সাল পর্যন্ত)
পাকিস্তান (১৯৭১ সালের পূর্বে)
বাংলাদেশ
রাজনৈতিক দলবাংলাদেশ আওয়ামী লীগ
সন্তান৩ ছেলে ও ২ মেয়ে
প্রাক্তন শিক্ষার্থীরাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
পেশারাজনীতিবিদ
ধর্মহিন্দু

নারায়ন চন্দ্র চন্দ (জন্ম: ১২ মার্চ, ১৯৪৫) একজন বাংলাদেশী রাজনীতিবিদ। তিনি খুলনা-৫ আসনের সংসদ সদস্যশেখ হাসিনার তৃতীয় মন্ত্রিসভায় তিনি প্রথমে মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ও পরে মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

প্রাথমিক জীবন[সম্পাদনা]

নারায়ন চন্দ্র খুলনা জেলার ডুমুরিয়া উপজেলায় ১৯৪৫ সালের ১২ মার্চ জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম কালীপদ চন্দ ও মাতার নাম রেণুকা বালা চন্দ। নারায়ন চন্দ্র উলাগ্রামের পাঠশালায় তার শিক্ষাজীবন শুরু করে বান্দা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে নবম শ্রেণী পর্যন্ত পড়াশোনা করেন। ১৯৬১ সালে ডুমুরিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে ম্যাট্রিক্যুলেশন পাশ করেন। ১৯৬৩ সালে দৌলতপুর বিএল কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৬৬ সালে তিনি রাষ্ট্রবিজ্ঞানে অনার্স এবং ১৯৬৭ সালে একই বিষয়ে একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রী নেন। চাকুরীকরাকালীন সময়ে ১৯৭২ সালে তিনি বিএড পাশ করেন।[২]

কর্মজীবন[সম্পাদনা]

নারায়ন চন্দ্র চন্দ ডুমুরিয়ার সাহস নোয়াকাটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। ১৯৭৩ সালের ৭ মে ডুমুরিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পান। তিনি ২০০৫ সালের ১১ মার্চ চাকরি থেকে অবসর নেন।[২]

শিক্ষক নেতা[সম্পাদনা]

১৯৬৮ সালে নারায়ন চন্দ্র চন্দ মাধ্যমিক শিক্ষকদের ঐক্যবদ্ধ করতে প্রতিষ্ঠা করেন থানা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতি। তিনি প্রতিষ্ঠাকালিন সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এরপর ১৯৮৭ সালে জেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি নির্বাচিত হন। ২০০৭ সাল পর্যন্ত তিনি ওই পদে দায়িত্ব পালন করেন।[২]

রাজনৈতিক জীবন[সম্পাদনা]

নারায়ন চন্দ্র চন্দ ১৯৬৭ সালে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে যুক্ত হন। ১৯৬৮ সালে আওয়ামী লীগের ডুমুরিয়া থানা কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পান। ১৯৮৪ সালে তিনি ডুমুরিয়া থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৯৫ সালে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন। সর্বশেষ ২০০৩ সালে গঠিত কমিটিতেও তিনি সভাপতি নির্বাচিত হন। তিনি আওয়ামী লীগ খুলনা জেলা শাখার সদস্য। তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী মৎস্যজীবী লীগের কেন্দ্রীয় আহবায়ক ছিলেন।[২]

জনপ্রতিনিধিত্ব[সম্পাদনা]

নারায়ন চন্দ্র চন্দ বাংলাদেশের সর্বপ্রথম ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ডুমুরিয়া উপজেলার ভান্ডারপাড়া ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হন। ছয় মেয়াদে তিনি চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছেন।

খুলনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য, তৎকালিন স্বাস্থ্য মন্ত্রী ও পরে দপ্তরবিহীন মন্ত্রী সালাহউদ্দিন ইউসুফের মৃত্যুর পর ২০০০ সালের ২০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত উপ-নির্বাচনে নারায়ন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনয়নে খুলনা-৫ (ডুমুরিয়া-ফুলতলা) আসনে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।[৩]

২০০১ সালের অষ্টম সংসদ নির্বাচনে তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনয়নে চারদলীয় জোট সমর্থিত বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মিয়া গোলাম পরোয়ারের নিকট পরাজিত হন।[৪]

২০০৮ সালের নবম সংসদ নির্বাচনে তিনি আবারও খুলনা-৫ আসন থেকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনয়নে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।[৫]

২০১৪ সালের দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনয়নে খুলনা-৫ আসন থেকে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় তৃতীয়বারের মত সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।[৬]

শেখ হাসিনার তৃতীয় মন্ত্রিসভায় তিনি ২৫ জানুয়ারি ২০১৪ থেকে ২ জানুয়ারি ২০১৮ পর্যন্ত মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ও ২ জানুয়ারি ২০১৮ থেকে ৭ জানুয়ারি ২০১৯ পর্যন্ত মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।[৭][৮]

২০১৯ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি খুলনা-৫ আসন থেকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনয়নে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়।[৯]

পারিবারিক জীবন[সম্পাদনা]

নারায়ন চন্দের স্ত্রী ঊষা রানী চন্দ স্কুল শিক্ষক। এই দম্পতীর তিন ছেলে ও এক মেয়ের জনক। বড় ছেলে বিশ্বজিৎ চন্দ বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় উপ কমিটির সদস্য, বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের সদস্য ও জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের অবৈতনিক সদস্য ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের অধ্যাপক ও ডীন। মেঝ ছেলে সত্যজিত চন্দ্র চন্দ ব্যবসায়ী ও ছোট ছেলে প্রয়াত অভিজিত চন্দ্র চন্দ খুলনা জেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান ছিলেন। তিনি ২৩ জানুয়ারি ২০২০ সালে আত্মহত্যা করেন।[১০]

মেয়ে জয়ন্তী দত্ত গৃহিনী। জামাতা বাংলাদেশ ব্যাংকের ডিজিএম। আরও এক মেয়ে বেবী হারপিক পান করে আত্মহত্যা করেছিলেন।[১০]

তার বড় ভাই দীন বন্ধু চন্দ্র চন্দ শোভনা বিরাজময়ী মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক ছিলেন।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "Cabinet gets 3 new ministers, one state minister"Dhaka Tribune। ২০১৮-০১-০২। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৪-০৪ 
  2. "শিক্ষক নেতা ছিলেন প্রবীণ রাজনীতিক নারায়ণ চন্দ্র চন্দ"চ্যানেল আই অনলাইন। ২ জানুয়ারি ২০১৮। ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৩ 
  3. "৭ম জাতীয় সংসদে নির্বাচিত মাননীয় সংসদ-সদস্যদের নামের তালিকা" (পিডিএফ)জাতীয় সংসদবাংলাদেশ সরকার। ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৫ তারিখে মূল (পিডিএফ) থেকে আর্কাইভ করা। 
  4. "নারায়ণ চন্দ্র চন্দ, আসন নং: ১০৩, খুলনা-৫, দল: আওয়ামী লীগ (নৌকা)"দৈনিক প্রথম আলো। ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৩। ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৩ 
  5. "৯ম জাতীয় সংসদে নির্বাচিত মাননীয় সংসদ-সদস্যদের নামের তালিকা"জাতীয় সংসদবাংলাদেশ সরকার 
  6. "১০ম জাতীয় সংসদে নির্বাচিত মাননীয় সংসদ-সদস্যদের নামের তালিকা"জাতীয় সংসদবাংলাদেশ সরকার 
  7. "সাবেক মন্ত্রী / উপদেষ্টাবৃন্দ"বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন। ১২ ডিসেম্বর ২০২১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৩ ডিসেম্বর ২০২১ 
  8. "বর্তমান ও সাবেক মাননীয় প্রতিমন্ত্রীগণ"বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন। ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৩ 
  9. "১১তম সংসদের সদস্যবৃন্দ"জাতীয় সংসদ। ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯। ২০১৯-১০-১৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৪ অক্টোবর ২০১৯ 
  10. "এমপি নারায়ণ চন্দ্রের ছেলের আত্মহত্যা"দৈনিক নয়াদিগন্ত। ২৩ জানুয়ারি ২০২০। ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৩