সিলেটি ভাষা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
সিলেটি
ছিলটি
দেশোদ্ভব বাংলাদেশ, ভারত, যুক্তরাজ্য
দেশীয় ভাষাভাষী ১,০৩,০০,০০০  (তারিখ হারিয়ে গিয়েছে)
ভাষা পরিবার
লিখন পদ্ধতি সিলেটি নাগরী, বাংলা লিপি
ভাষা কোডসমূহ
আইএসও ৬৩৯-২ inc
আইএসও ৬৩৯-৩ syl

সিলেটি ভাষা (ছিলটি) বাংলাদেশের উত্তর পূর্বাঞ্চলের সিলেট অঞ্চলে প্রচলিত বাংলা ভাষার একটি আঞ্চলিক রূপ। সিলেটি পূর্বাঞ্চলীয় আঞ্চলিক বাংলা হওয়ায় এবং বাংলা ভাষার মূল রীতির ভিত্তি নদীয়া তথা পশ্চিমাঞ্চলীয় আঞ্চলিক বাংলা হওয়ায়, বাংলা ভাষার মূল রীতির সাথে এর যথেষ্ট পার্থক্য দেখা যায়।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন] এছাড়া ভারতের অন্তর্ভুক্ত অসম রাজ্যের দক্ষিণে শিলচর এবং তার পার্শ্ববর্তী এলাকার মানুষ এই ভাষায় কথা বলে।

বর্ণমালা[সম্পাদনা]

সিলেটে প্রাচীনকাল হতে বাংলার অন্যান্য অঞ্চলের মত বাংলা লিপিতে লেখা হলেও মধ্যযুগে ইসলামের আগমনের পর বাংলার পাশাপাশি সিলেটি নাগরী লিপি (ছিলটি নাম: ছিলটি নাগরী) প্রচলিত হয়। তবে বর্তমানে নাগরী লিপি তেমন চোখে পড়েনা, লেখার জন্য এখন শুধু বাংলা বর্ণমালাই ব্যবহৃত হয়। ভারতের বিহার রাজ্যের কৈথী লিপির সাথে সিলেটি নাগরী লিপির সম্পর্ক রয়েছে। যদিও এর প্রকৃত উৎপত্তি সম্পর্কে এখনো জানা যায়নি। তবে সর্বপ্রাচীন খোঁজ পাওয়া পাণ্ডুলিপিটি হয় ১৫৪৯ অথবা ১৭৭৪ খ্রিস্টাব্দের (যদিও পাণ্ডুলিপিতে তারিখ লিপিবদ্ধ ছিল, কিন্তু লেখা থেকে তা পরিষ্কার নয়।)

নাগরী লিপিতে ৩২টি অক্ষর বা বর্ণ রয়েছে। এর মধ্যে স্বরবর্ণ রয়েছে ৫টি (অ ই ঈ উ ঊ)।

সিলেটিরা মূলত বাংলাভাষী। বাংলার অনেকগুলো আঞ্চলিক রূপের একটি হল সিলেটি। বাংলার এই উপভাষার ইতিহাসও সুপ্রাচীন। ধারণা করা হয়, বাংলা ভাষার সর্বপ্রাচীন নিদর্শন চর্যাপদ সিলেটের আঞ্চলিক বাংলায় লিখিত।

ইতিহাস[সম্পাদনা]

সিলেটি ভাষার ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, এ ভাষার প্রচলন শুধু সিলেটেই সীমাবদ্ধ নয়, ভারতের আসাম, ত্রিপুরা এবং মেঘালয়ের বহু সংখ্যক লোকের মুখের ভাষা সিলটী। এটি একটি প্রাচীন ভাষা তাতে কোন সন্দেহ নেই। ধারণা করা হয়, বাংলা ভাষার আদি নিদর্শন চর্যাপদ সিলেটের আঞ্চলিক বাংলায় লিখিত। ভাষা গবেষক সৈয়দ মোস্তফা কামাল ও অধ্যাপক মুহম্মদ আসাদ্দর আলীর মতে জটিল সংস্কৃত-প্রধান বাংলা বর্ণমালার বিকল্প লিপি হিসেবে ‘সিলটী নাগরী’ লিপির উদ্ভাবন হয়েছিল খ্রিষ্টীয় চতুর্দশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে। গবেষকদের ধারণা, ইসলাম প্রচারক সুফী দরবেশ এবং স্থানীয় অধিবাসীদের মনের ভাব বিনিময়ের সুবিধার জন্যে নাগরী লিপির উদ্ভাবন হয়েছিল। এই নাগরী বা সিলেটী ভাষা শুধু ভারত বা বাংলাদেশেই সীমাবদ্ধ নয়, ক্রমে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিস্তৃতি লাভ করেছে। এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, সিলেট অঞ্চল এবং ভারত ছাড়াও বিশ্বের অন্যান্য দেশে এ ভাষা ব্যবহারকারীর সংখ্যা সাত লক্ষেরও বেশী। বৃহত্তর সিলেটের বর্তমান জনসংখ্যা এক কোটি। লন্ডনের সিলেটী রিসার্চ এন্ড ট্রেন্সলেশন সেন্টারের উদ্যোগে পরিচালিত এক জরিপে দেখা গেছে, সিলেট অঞ্চল সহ সমগ্র বিশ্বে বর্তমানে এক কোটি ষাট লক্ষ মানুষের মুখের ভাষা হচ্ছে সিলেটী।

ছিলটি নাগরি এবং বাংলা লিপি

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]