পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
Jump to navigation Jump to search
পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি
Official-logo-bangla-akademi.jpg
বাংলা আকাদেমির লোগো
Bangla-Akademi-Nandan.jpg
বাংলা আকাদেমির প্রধান ভবন
সংক্ষেপে বাংলা আকাদেমি
গঠিত মে ২০, ১৯৮৬; ৩২ বছর আগে (১৯৮৬-০৫-২০)
ধরণ ভাষা-নিয়ন্ত্রক সংস্থা
আইনি অবস্থা সরকারি বিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান
উদ্দেশ্ বাংলা ভাষা সংক্রান্ত গবেষণা ও নিয়ন্ত্রণ
সদর দপ্তর কলকাতা
অবস্থান
অঞ্চলগত served
পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরা
দাপ্তরিক ভাষা
বাংলা
সভাপতি
?[১]
প্রধান প্রতিষ্ঠান
তথ্য ও সংস্কৃতি বিভাগ, পশ্চিমবঙ্গ সরকার

পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি, যেটি বাংলা আকাদেমি নামে জনপ্রিয়, পশ্চিমবঙ্গে প্রতিষ্ঠিত বাংলা ভাষার সরকারি নিয়ন্ত্রক সংস্থা। বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের বিকাশ ও ঐতিহ্যরক্ষার লক্ষ্যে ফ্রান্সের আকাদেমি ফ্রঁসেজ-এর আদলে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তথ্য ও সংস্কৃতি বিভাগের একটি অঙ্গ হিসাবে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৯৪ খ্রিস্টাব্দে এটি একটি স্বশাসিত সংস্থার মর্যাদা পায়। যদিও বাংলা আকাদেমি কর্তৃক প্রচলিত ভাষাসংক্রান্ত সংস্কারগুলি আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক নয়, তবু পশ্চিমবঙ্গ সরকার এই সংস্কারগুলির প্রচারে সচেষ্ট থাকেন। ত্রিপুরা সরকারও সম্প্রতি এই সংস্কারগুলি বিদ্যালয়স্তরে চালু করেছেন। অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস বা রামকৃষ্ণ মিশনের মতো বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা পশ্চিমবঙ্গে বাংলা প্রকাশনার ক্ষেত্রে বাংলা আকাদেমির নিয়মাবলি মেনে চলেন।

নামকরণ[সম্পাদনা]

কাজ[সম্পাদনা]

বাংলা আকাদেমির গবেষকেরা বাংলা বানান, ব্যাকরণ, ব্যুৎপত্তি ও বাংলা ভাষার ইতিহাস নিয়ে গবেষণা করছেন। মৌলিক বাংলা পাণ্ডুলিপি সংরক্ষণ করার জন্য তাঁরা একটি বড়ো গ্রন্থাগার নির্মাণ করেছেন। বিগত শতকেই বাংলা আকাদেমি থেকে 'আকাদেমি বিদ্যার্থী বাংলা অভিধান' এবং 'আকাদেমি বানান অভিধান' প্রকাশিত হয়েছে। রাজ্যের বাংলা ভাষার গবেষক, শিক্ষাবিদ, কবি-সাহিত্যিকদের নিয়ে এক উচ্চ পর্যায়ের 'বাংলা বানান উপসমিতি' গঠন করে তাঁদের সাহায্যেই বাংলা বানানের ব্যাপক সংস্কারসাধন করে এইসব অভিধান লেখা এবং সংকলিত হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের একশো শতাংশ পাঠ্য বই প্রকাশক এবং প্রায় নিরানব্বই শতাংশ সংবাদপত্র প্রকাশকের কার্যালয়ে 'বাংলা আকাদেমি বানান অভিধান' মেনে কাজ করা হয়। অতীতে প্রকাশিত যেকোনো বাংলা অভিধানের বানানের সঙ্গে 'আকাদেমি বানান অভিধান' সম্পূর্ণ আলাদা। কারণ কয়েক দশকের গবেষণালব্ধ নতুন বানানবিধি প্রণয়ন পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমির এক অসাধ্য সাধন বিষয় ছিল। কেননা, সত্যি কথাটা হল, বাংলা বানানের মধ্যে একটা ছন্নছাড়া ভাবকে কাটিয়ে একসূত্রে বাঁধার জায়গা তৈরি করেছে পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি। এখনো পাঠ্য বইয়ের শিরোনাম পৃষ্ঠায় প্রকাশকদর লিখতে হয়, 'পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমির বানানবিধি অনুসৃত'। তবে, ঠিক এই মুহূর্তে যদি কোনো নতুন পাঠ্য বই অথবা সংবাদপত্র প্রকাশক 'আকাদেমি বানান অভিধান' সংগ্রহ করতে চান, তাঁরা পাবেননা। কারণ রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমির কাজে ভাটা পড়েছে। দীর্ঘ কয়েক বছর হল 'আকাদেমি বানান অভিধান' আকাদেমির দোকানে পাওয়া যাচ্ছেনা। বইটা কিনতে গেলে বলা হয়, 'ছাপা বন্ধ আছে'!

এছাড়াও বাংলা আকাদেমি কর্তৃক সংস্কারপ্রাপ্ত বাংলা লিপি অনুসারে এই সংস্থা ইউনিকোড বাংলা ফন্ট তৈরি করে। যে ইউনিকোড রাজ্যের বাংলা সংবাদপত্রগুলোও ব্যবহার করতে শুরু করেছে।

পাদটীকা[সম্পাদনা]