বিষয়বস্তুতে চলুন

ঝাড়খণ্ডী উপভাষা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
ঝাড়খণ্ডী বাংলা
পশ্চিমাঞ্চলীয় বাংলা
মানভূমি বাংলা
দেশোদ্ভবভারত
অঞ্চলঝাড়গ্রাম জেলা, পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা, পুরুলিয়া জেলা, বাঁকুড়া জেলা, পশ্চিম বর্ধমান জেলা, পূর্ব সিংভূম, সরাইকেল্লা খরসওয়াঁ, ধানবাদ, বোকারো
মাতৃভাষী

বাংলা বর্ণমালা
ভাষা কোডসমূহ
আইএসও ৬৩৯-৩

ঝাড়খণ্ডী বাংলা, পশ্চিমাঞ্চলীয় বাংলা বা মানভূমি বাংলা হলো পশ্চিম রাঢ় অর্থাৎ ভারতের পশ্চিমবঙ্গের পশ্চিমাঞ্চল, ঝাড়খণ্ড এবং ওড়িশার কিছু জেলায় প্রচলিত বাংলা ভাষার একটি উপভাষা। এই কারণে ঝাড়খণ্ডের অংশে কিছু হিন্দি শব্দ ব্যবহার হয়ে থাকে আর ওড়িশার অংশে ওড়িয়ার কিছু শব্দ। এটি পশ্চিমবঙ্গে প্রচলিত বাংলা উপভাষাগুলোর মধ্যে একটি প্রধান উপভাষাসুকুমার সেন, পরেশচন্দ্র মজুমদার সহ অনেক ভাষাবিদ এই বাংলা উপভাষাকে শ্রেণীবিভাগ করেছিলেন।

ভৌগোলিক সীমানা

[সম্পাদনা]

প্রধানত পশ্চিমবঙ্গের পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, বীরভূম, ঝাড়গ্রাম, পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর, পূর্বপশ্চিম বর্ধমান। ঝাড়খণ্ড রাজ্যের সরাইকেল্লা খরসওয়াঁ, বোকারো, ধানবাদ, পূর্ব সিংভূমপশ্চিম সিংভূম জেলা এবং ওড়িশার বালেশ্বরময়ূরভঞ্জ জেলায় এই বাংলা উপভাষার প্রচলন লক্ষ্য করা যায়।

বৈশিষ্ট্য

[সম্পাদনা]

১। প্রায় সর্বত্র শব্দের প্রথমে ‘ও’-কার লুপ্ত হয়ে ‘অ’-কারে পরিণত হয়েছে।

  • যেমন- লোক>লক, মোটা>মটা, ভালো>ভাল, অঘোর>অঘর।

২। ‘ন’ ধ্বনি অনেকসময়ই ‘ল’ ধ্বনিতে পরিবর্তিত হয়।

  • যেমন: লাচবো (নাচবো), লয় (নয়) ইত্যাদি।

৩। ক্রিয়াপদে স্বার্থিক ‘ক’ প্রত্যয়ের প্রচুর প্রয়োগ।

  • যেমন- যাবেক, খাবেক, করবেক।

৪। না বাচক অব্যয় প্রায় সময়েই ক্রিয়াপদের আগে বসে।

  • যেমন- হামি/আমি নাই যাবো, হামি/আমি করতে নারবো (না পারবো), হামার উয়াকে ভাল নাই লাগছে।

৫। মধ্যযুগীয় সাহিত্যিক বাংলার মতো নাসিক্য উচ্চারণের ব্যবহার বিশেষ করে ত্রিয়ার শেষাংশে পশ্চিমাঞ্চলীয় বাংলায় বেশ স্পষ্ট।

  • যেমন- রাখিঞা>রাখেঁ, আসিঞা>আসেঁ

৬। উত্তম পুরুষের অতীতকালের ক্রিয়াপদে প্রমিত বাংলার ‘লাম’ প্রত্যয়ের পরিবর্তে ‘লি’ প্রত্যয় ব্যবহৃত হয়।

  • যেমন — করলি, দিলি ইত্যাদি।

৭। কর্তৃকারকের বহুবচনে ‘গুলা’ এবং অন্য কারকের বহুবচনে ‘দের’ বিভক্তির প্রয়োগ।

  • যেমন — মেয়েগুলা, পাখিগুলা, লোকেদের, হামদের, তদের ইত্যাদি।

৮। নামধাতুর প্রচুর ব্যবহার লক্ষ করা যায়।

  • যেমন- জাড়াচ্ছে, গঁধাচ্ছে।[]

আরও দেখুন

[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. SK Chatterji, The Origin and Development of the Bengali Language, Calcutta University, Calcutta, 1926;