নোয়াখালীয় উপভাষা
| নোয়াখালীয় | |
|---|---|
| |
| দেশোদ্ভব | বাংলাদেশ এবং ভারত |
| অঞ্চল | বৃহত্তর নোয়াখালী, দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলার কিছু এলাকা। |
মাতৃভাষী | ৭০ লক্ষ (২০১১)
|
| উপভাষা | চাটখিল[১][২] |
| বাংলা, | |
| ভাষা কোডসমূহ | |
| আইএসও ৬৩৯-৩ | – |
নোয়াখালীয় বা নোয়াখালীয় বাংলা হচ্ছে ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষা পরিবারের অন্তর্গত বাংলা ভাষার একটি উপভাষা। এটি বাংলাদেশের বৃহত্তর নোয়াখালী অঞ্চলের মানুষের প্রধান উপভাষা। বর্তমান চট্টগ্রাম বিভাগের নোয়াখালী, ফেনী ও লক্ষীপুরের স্থানীয় মানুষের প্রধান উপভাষা এটি। নোয়াখালী, ফেনী ও লক্ষীপুর ছাড়াও পার্শবর্তী ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলার কিছু এলাকার বাঙালিদের প্রধান উপভাষা হিসেবে এটি প্রচলিত। তবে দক্ষিণ কুমিল্লা ও দক্ষিণ চাঁদপুরের উপভাষায় আশেপাশের কুমিল্লা, বিক্রমপুর এবং নোয়াখালী অঞ্চলের উপভাষার অনেক বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান রয়েছে। সেকারণে এই দুটো উপভাষাকে মিশ্রিত উপভাষা বলা চলে। দক্ষিণ কুমিল্লার মানুষজন নিজেদের কথ্য বাংলাকে ‘লাকসাইম্মা’ ও ‘চৌদ্দগেরাইম্মা’ ডেকে থাকে। নোয়াখালীয় উপভাষার সঙ্গে এগুলোর যথেষ্ট মিল থাকলেও বৈসাদৃশ্যও কম নয়।
নোয়াখালীয় বাংলা কৌতুক ও ইন্টারনেট মিম পোস্টিং এর জন্য সর্বদাই বিখ্যাত। হাস্যরসাত্মক নাটক ও চলচ্চিত্রতেও এর প্রভাব লক্ষ্যণীয়। নোয়াখালীয় উপভাষায় বেশ কিছু লোকগানও রচিত হয়েছে।
ভাষাভাষী জনসংখ্যা
[সম্পাদনা]2022 সাল আদমশুমারি অনুযায়ী নোয়াখাইল্লা ভাষায় কথা বলে থাকে বাংলাদেশ ও ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য মিলিয়ে মোট ১,১০,৩৭,০০০ জন। যা বাংলাদেশের আঞ্চলিক ভাষার দিক থেকে, চট্টগ্রামে ও সিলেটের পরেই নোয়াখালী ভাষার অবস্থান।
ভাষাভাষী অঞ্চলের আয়তন
[সম্পাদনা]নোয়াখাইল্লা ভাষাভাষী অঞ্চলের বাংলাদেশ ও ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য মিলিয়ে মোট আয়তন হলো ১১,২৬০ বর্গ কিলোমিটার বা ৬৯৯৭ মাইল। বাংলাদেশের নোয়াখালী, ফেনী, লক্ষীপুর, দক্ষিণ কুমিল্লা, দক্ষিণ চাঁদপুর, পূর্ব ভোলা, উত্তর চট্টগ্রাম, উত্তর-পশ্চিম খাগড়াছড়ি, ও ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের দক্ষিণ পশ্চিম এই বিশাল অঞ্চলের মানুষের প্রধান কথ্য ভাষা হলো নোয়াখাইল্লা ভাষা।
ভৌগোলিক বিস্তার
[সম্পাদনা]বাংলাদেশের চট্টগ্রাম বিভাগের নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর ও ফেনী জেলার মানুষের প্রধান কথ্য ভাষা হচ্ছে এই নোয়াখাইল্লা উপভাষা। তাছাড়া বৃহত্তর নোয়াখালীর পাশ্ববর্তী জেলার মধ্যে দক্ষিণ কুমিল্লার নাঙ্গলকোট, চৌদ্দগ্রাম, মনোহরগঞ্জ, লাকসাম, লালমাই, বরুড়া উপজেলা অংশবিশেষ, দক্ষিণ চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ, হাজিগঞ্জ, শাহরাস্তি, কচুয়া উপজেলার অংশবিশেষ, পূর্ব ভোলার মনপুরা দ্বীপ, তজমুদ্দিন, দৌলতখান, লালমোহন, চরফ্যাশন উপজেলার অংশবিশেষ, উত্তর চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ, মিরসরাই, ফটিকছড়ি উপজেলার অংশবিশেষ, উত্তর খাগড়াছড়ির রামগড় ও মাটিরাঙ্গা উপজেলার অংশবিশেষ, মানুষের মুখেরভাষা ও নোয়াখাইল্লা উপভাষা, এর বাইরে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলার বিলোনিয়া, হৃষ্যমুখ অঞ্চলে বাঙালিদের প্রধান কথ্য ভাষা হিসেবে নোয়াখালীয় বাংলা প্রচলিত।
নোয়াখাইল্লা ভাষা উপভাষা
[সম্পাদনা]পৃথিবীর প্রতিটি ভাষারি একাধিক উপভাষা থাকে নোয়াখাইল্লা ভাষা ও এর ব্যতিক্রম নয়, তাই নোয়াখালী ভাষাও কিছু উপভাষা রয়েছে, ভাষা গুলো হলো:
- রামগঞ্জ উপভাষা,
- লক্ষ্মীপুর উপভাষা,
- হাতিয়া উপভাষা,
- ফেনী উপভাষা,
- ছাগলনাইয়া উপভাষা,
- লাকসামী উপভাষা,
- চৌদ্দগ্রাম উপভাষা,
- সন্দ্বীপ উপভাষা,
- ভোলা দ্বীপ অঞ্চলীয় উপভাষা,
- নোয়াখাইল্লা ত্রিপুরা উপভাষা।
প্রমিত বাংলার সঙ্গে তুলনা
[সম্পাদনা]| প্রমিত বাংলা | নোয়াখাইল্লা | টীকা |
|---|---|---|
| ছেলে | হোলা/হুত | |
| মেয়ে | মাই-য়া | |
| পানি | হানি | |
| পাগল | হাগল | |
| শোন~শোনো | হুন/হুনো | |
| কি | কিয়া | |
| আমি | আঁই | |
| আপনি | আঁন্নে | |
| আমরা | আন্রা | |
| সকল | বেকে/বেগগুন | |
| পেঁপে | হাবিয়া/কবিয়া | |
| পেয়ারা | গৈইয়া | |
| কলকাতা | কইলকাতা | |
| ফেনী | হেনী | |
| লক্ষ্মীপুর | লোক্ষুরা/লক্ষীহুর | |
| মজুপুর | মজুহুর | |
| বড় স্বর্ণকার বাড়ি | বড় হোনার বাড়ি | |
| বড়, বড্ড | বড্ডা | |
| ডিম, আণ্ডা, | বয়জা/ডিমা | আরবি: بيضة, প্রতিবর্ণীকৃত: bayḍah থেকে আগত |
| শয়তানি | খন্নাশি[৩] | আরবি: خناس, প্রতিবর্ণীকৃত: khannās থেকে আগত |
| শুতে যা | হুতা/হুতি যা | |
| বন্ধু, দোস্ত, | বন্দু, দোস্ত, | |
| সে আমাকে ফোন করেছিল | হেতে আঁরে হোন কইরছিল | |
| আমি করতে দেবো না | আঁই কইত্তাম দিতাম নো | |
| আমার মনে হয় যেন পাঁচটা বাজলো | আঁত্তুন লাগে যেন্ হাঁচটা বাইজলো | |
| পায়খানা | হাইকানা/গু | |
| চিরুনি/কাঁকই | কাঁই | |
| শ্বশুর | হোর | |
| শাশুড়ি | হড়ি | |
| শ্যালক/শালা | হালা | |
| শালিকা/শালি | হালি | |
| আপনার নাম কি? | আন্নের নাম কিয়া? | |
| তোমার নাম কি? | তোঁয়ার নাম কিয়া? | |
| আপনি কোথায় যাবেন? | আন্নে কোঁনাই যাইবেন? | |
| আপনি কি খাওয়া-দাওয়া করেছেন নাকি? | আন্নে কি খানা-দানা খাইচেন নি? | |
| আমি রাতে ভাত খাই না | আঁই রাইত্তা বাত খাই না | |
| আপনি কেন এখানে এসেছেন? | আন্নে কিল্লাই ইয়ানো আইচেন? | |
| আমাদের ভাষা নোয়াখাইল্লা | আংগো বাষা নোয়াখাইল্লা |
আরও দেখুন
[সম্পাদনা]আরো পড়ুন
[সম্পাদনা]- মোরশেদ, আবুল কালাম মনজুর (১৯৮৫)। A study of standard Bengali and the Noakhali dialect (অভিসন্দর্ভ)। ঢাকা: বাংলা একাডেমি।
- চক্রবর্তী, উত্তম (২০১৪)। দাস, শ্যামল (সম্পাদক)। A prosodic study of the Noakhali dialect of Bangla and its implication for teaching and learning of English as a second language by the native speakers of the dialect। শোধগঙ্গা (অভিসন্দর্ভ)। ত্রিপুরা: ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়।
তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ রাসেল, মুহাম্মদ মোস্তফা (১৮ অক্টোবর ২০১০)। Analysis of the Chatkhil Dialect in Noakhali District, Bangladesh। ভিডিএম ফার্লেগ ম্যুলার।
- ↑ রাসেল, মুহাম্মদ মোস্তফা (সেপ্টেম্বর ২০১৮)। Phonological Analysis of Chatkhil Dialect in Noakhali District, Bangladesh (অভিসন্দর্ভ)। মেলবোর্ন, অস্ট্রেলিয়া: La Trobe University।
- ↑ রাসেল, মুহাম্মদ (৭ এপ্রিল ২০১৪), আমরা যারা নোয়াখাইল্লা
বহিঃসংযোগ
[সম্পাদনা]| এই নিবন্ধটি অসম্পূর্ণ। আপনি চাইলে এটিকে সম্প্রসারিত করে উইকিপিডিয়াকে সাহায্য করতে পারেন। |