বাংলা ব্যাকরণ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

বাংলা ব্যাকরণ বাংলা ভাষার রূপমূলতত্ত্ববাক্যতত্ত্বের আলোচনা। বাংলা একটি দক্ষিণ এশীয় ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষা

ইতিহাস[সম্পাদনা]

উৎপত্তি[সম্পাদনা]

পর্তুগিজ ধর্মযাজক মানোএল দ্য আসসুম্পসাঁউ (Manoel da Assumpcam) বাংলা ভাষার প্রথম ব্যাকরণ রচনা করেন। ১৭৪৩ খ্রিস্টাব্দে পর্তুগালের লিসবন শহর থেকে রোমান হরফে মুদ্রিত তাঁর লেখা Vocabolario em idioma Bengalla, e Portuguez dividido em duas partes শীর্ষক গ্রন্থটির প্রথমার্ধে রয়েছে একটি সংক্ষিপ্ত, খন্ডিত ও অপরিকল্পিত বাংলা ব্যাকরণ। এর দ্বিতীয়াংশে রয়েছে বাংলা-পর্তুগিজ ও পর্তুগিজ-বাংলা শব্দাভিধান। মানোএল ভাওয়ালের একটি গির্জায় ধর্মযাজকের দায়িত্ব পালনের সময় নিজের ও ভবিষ্যৎ ধর্মযাজকদের প্রয়োজনে এই ব্যাকরণ রচনা করেন; বাংলা ভাষার বিকাশ ঘটানো তাঁর লক্ষ্য ছিল না। লাতিন ভাষার ধাঁচে লেখা এই ব্যাকরণটিতে শুধু রূপতত্ত্ব ও বাক্যতত্ত্ব আলোচিত হযেছে, কিন্তু ধ্বনিতত্ত্ব নিয়ে কোনো আলোচনা করা হয় নি। এছাড়া পুরো আঠারো ও উনিশ শতকে লোকচক্ষুর আড়ালে থাকায় এই গ্রন্থটি বাঙালি ও বাংলা ভাষার কোনো উপকারেও আসেনি তখন।

বাংলা ভাষার দ্বিতীয় ব্যাকরণটি রচনা করেন ইংরেজ প্রাচ্যবিদ ন্যাথানিয়েল ব্র্যাসি হ্যালহেড (Nathaniel Brassey Halhed)। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির গভর্নর ওয়ারেন হেস্টিংসের (Warren Hastings) অনুরোধে তরুণ লেখক হ্যালহেড বাংলা ভাষার ব্যাকরণ রচনায় হাত দেন। তাঁর লেখা A Grammar of the Bengal Language গ্রন্থটি ১৭৭৮ সালে প্রকাশিত হয়। এ ব্যাকরণটি অনেক কারণে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। পূর্বের পর্তুগিজ ধর্মযাজকদের মতো নিজ প্রয়োজনে নয়, নিঃস্বার্থ বুদ্ধিজীবী হ্যালহেডের ইচ্ছা ছিল বাংলা ভাষাকে একটি বিকশিত ভাষাতে পরিণত করা|

ক্রমবিকাশ[সম্পাদনা]

উনিশ শতকে নিম্ন বর্ণিত ব্যাক্তিগণ ইংরেজি ভাষায় বাংলা ব্যাকরণ রচনা করেছিলেন ।

  • উইলিয়াম কেরি - (১৮০১ খ্রিঃ)
  • গঙ্গা কিশোর ভট্টাচার্য - (১৮১৬ খ্রিঃ)
  • কিথ - (১৮২০ খ্রিঃ)
  • হটন - (১৮২১ খ্রিঃ)
  • রাজা রামমোহন রায় - (১৮২৬ খ্রিঃ)
  • শ্যামবরণ সরকার - (১৮৫০ খ্রিঃ)
  • বীমস্‌ - (১৮৭২ খ্রিঃ)
  • শ্যামচরণ গাঙ্গুলি - (১৮৭৭ খ্রিঃ)
  • যদুনাথ ভট্টাচার্য - (১৮৭৯ খ্রিঃ)
  • কেপি ব্যানার্জি - (১৮৯৩ খ্রিঃ)

উনিশ শতকে বাংলা ব্যাকরণ যারা বাংলা ভাষাতে রচনা করেন তারা হলেনঃ -

  • রাজা রামমোহন রায় - (১৮৩৩ খ্রিঃ)
  • শ্যামাচরণ সরকার - (১৮৫২ খ্রিঃ)
  • ব্রজনাথ বিদ্যালংকার - (১৮৭৮ খ্রিঃ)
  • নিত্যানন্দ চক্রবর্তী - (১৮৭৮ খ্রিঃ)
  • নীলমণি মুখোপাধ্যায় - (১৮৭৮ খ্রিঃ)
  • কেদার নাথ তর্করত্ন - (১৮৭৮ খ্রিঃ)
  • চিন্তামনি গঙ্গোপাধ্যায় - (১৮৮১ খ্রিঃ)
  • প্রসন্নচন্দ্র বিদ্যারত্ন - (১৮৮৪ খ্রিঃ)
  • ধীরেশ্বর পাঁড়ে - (২য় সং, ১৮৯১)।

বিশ শতকে প্রণীত বাংলা ব্যাকরণসমুহের প্রকৃতি-প্রণালীতে পূর্বের শতকের বৈশিষ্ট্য অনুসরণ পরিলক্ষিত হয় । ভাষা-সমালোচকদের কেউ কেউ বাংলা ব্যাকরণ চর্চার ক্ষেত্রে সংস্কৃত ব্যাকরণকেই আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করেছেন । পরবর্তী কালে বাংলা ব্যাকরণের আলোচিত বিষয়গুলোর ওপর গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা উপস্থাপন করেছেন বিশিষ্ট ভাষাতাত্ত্বিক সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় । তার রচিত " The Origin and Development of the Bengali Language " গ্রন্থে বাংলা ভাষার উদ্ভব ও ক্রমবিকাশ আলোচিত হয়েছে ।

বিশ শতকে উল্লেখযোগ্য কতিপয় ভাষাবিদ যারা বাংলা ব্যাকরণ রচনায় প্রয়াস পান তারা হলেনঃ -

সর্বনাম[সম্পাদনা]

বাংলা সর্বনামগুলির সঙ্গে ইংরাজি সর্বনামগুলির কিছুটা সাদৃশ্য আছে । এখানে প্রথম পুরুষ, দ্বিতীয় পুরুষ এবং তৃতীয় পুরুষের ক্ষেত্রে আলাদা আলাদা শব্দ ব্যবহার হয়। এই রীতি একবচন ও বহুবচন, এই দুইয়ের ক্ষেত্রেও শব্দগুলির ইংরাজি প্রতিরূপগুলির মত লিঙ্গভেদে পার্থক্য হয় না। অর্থাৎ, সে(পুং) বা সে(স্ত্রী) এই দুই ক্ষেত্রে একই সর্বনাম ব্যবহার হয়, কিন্তু নৈকট্যর জন্য, তৃতীয় পুরুষের ব্যবহার বিভিন্ন হয় ।

আরোও দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. ভাষাবিধি বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও প্রবন্ধ রচনা - ড.মোঃ মুস্তাফিজুর রহমান, বি এ অনার্স, এম এ রবিন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়,পি এইচ ডি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়; প্রকাশনায়-আদিল ব্রাদার্স, ৫৯ প্যারিদাস রোড, বাংলা বাজার , ঢাকা-১১০০;প্রথম প্রকাশ-জানুয়ারি ২০০৯ খ্রি, পৌষ ১৪১৫ বঙ্গাব্দ ।