ভূরুঙ্গামারী উপজেলা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
ভূরুঙ্গামারী
উপজেলা
ভূরুঙ্গামারী বাংলাদেশ-এ অবস্থিত
ভূরুঙ্গামারী
ভূরুঙ্গামারী
বাংলাদেশে ভূরুঙ্গামারী উপজেলার অবস্থান
স্থানাঙ্ক: ২৬°৭′২৬″ উত্তর ৮৯°৪১′১৬″ পূর্ব / ২৬.১২৩৮৯° উত্তর ৮৯.৬৮৭৭৮° পূর্ব / 26.12389; 89.68778স্থানাঙ্ক: ২৬°৭′২৬″ উত্তর ৮৯°৪১′১৬″ পূর্ব / ২৬.১২৩৮৯° উত্তর ৮৯.৬৮৭৭৮° পূর্ব / 26.12389; 89.68778 উইকিউপাত্তে এটি সম্পাদনা করুন
দেশ বাংলাদেশ
বিভাগরংপুর বিভাগ
জেলাকুড়িগ্রাম জেলা
প্রতিষ্ঠা১৯১৫ সালে
সংসদীয় আসনকুড়িগ্রাম-১
আয়তন
 • মোট২৩১.৭০ কিমি (৮৯.৪৬ বর্গমাইল)
জনসংখ্যা (২০১১)[১]
 • মোট২,৩১,৫৭৪
 • জনঘনত্ব১০০০/কিমি (২৬০০/বর্গমাইল)
সাক্ষরতার হার
 • মোট৭২.৬(২০১৭)
সময় অঞ্চলবিএসটি (ইউটিসি+৬)
পোস্ট কোড৫৬৭০ উইকিউপাত্তে এটি সম্পাদনা করুন
প্রশাসনিক
বিভাগের কোড
৫৫ ৪৯ ০৬
ওয়েবসাইটপ্রাতিষ্ঠানিক ওয়েবসাইট Edit this at Wikidata

ভূরুঙ্গামারী উপজেলা বাংলাদেশের কুড়িগ্রাম জেলার একটি প্রশাসনিক এলাকা।

অবস্থান ও আয়তন[সম্পাদনা]

ভূরুঙ্গামারী উপজেলাটি কুড়িগ্রাম জেলার উত্তরপূর্ব দিকে অবস্থিত।[২]

অবস্থানঃ ২৬°২০´ থেকে ২৬°১৪´ উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮৯°৩৬´ থেকে ৮৯°৪৮´ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ।

আয়তনঃ

  • ৯১.২২ বর্গমাইল।
  • ২৩১.৭০ বর্গকিলোমিটার।
  • ৫৮,৩৮১.২ একর।

তিন দিকে ভারত বেষ্টিত এই উপজেলার পশ্চিমে- পশ্চিম বঙ্গের কুচবিহার জেলার দিনহাটা থানা।

উত্তরে- কুচবিহার জেলার তুফানগঞ্জ থানা, পূর্বে- আসামের ধুবরী জেলার গোলকগঞ্জ থানা, দক্ষিণে- কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী থানা।

প্রশাসনিক এলাকা[সম্পাদনা]

এটি কুড়িগ্রাম -১ সংসদীয় এলাকার অধীন; যা নাগেশ্বরী এবং ভূরুঙ্গামারী নিয়ে গঠিত। ভূরুঙ্গামারী উপজেলাতে ১২৮টি গ্রাম, ৭০টি মৌজা, ১০টি ইউনিয়ন পরিষদ রয়েছে। ইউনিয়ন গুলি হলঃ

১. পাথরডুবী

২. শিলখুড়ি

৩. তিলাই

৪. পাইকেরছড়া

৫. ভূরুঙ্গামারী

৬. জয়মনিরহাট

৭. আন্ধারীঝাড়

৮. বলদিয়া

৯. চরভূরুঙ্গামারী

১০.বঙ্গসোনাহাট

ইতিহাস[সম্পাদনা]

প্রাচীনকালে ভূরুঙ্গামারী একটি নদীবহুল এলাকা ছিল। এখানকার সবগুলো নদীই খরস্রোতা ছিল। এ অঞ্চলে প্রবাহিত নদীগুলো বার বার তাদের গতিপথ পরিবর্তন করেছে। নদীর পরিত্যক্ত গতিপথ থেকে বিল ও পুকুর সদৃশ কুরা সৃষ্টি হয়েছে। এখানকার প্রায় সবগুলো বিল এবং পুকুর মাছ চাষের উপযোগী। ‘মাছে ভাতে বাঙালি’ এ প্রবাদটি ভূরুঙ্গামারীর অধিবাসীদের কাছে এখনো সত্য। এক সময় ভূরুঙ্গামারী রুই মাছের জন্য বিখ্যাত ছিল। ভূরুঙ্গা মাছের প্রাচুর্য থেকে এই অঞ্চলের নামকরণ করা হয়েছে ভূরুঙ্গামারী। লোকজন দল বেধে মাছ মারতে যাওয়ার সময় একে অপরকে আহ্বান করত ‘চল ভূরুঙ্গা মারতে যাই’। এভাবে ভূরুঙ্গামারী নামটি প্রচলিত হয়েছে।১৯৪৭ সালে ভারত বিভক্তির পূর্বে ভূরুঙ্গামারী কোচ রাজ্যের অন্তর্ভূক্ত ছিল। ভূরুঙ্গামারী-সোনাহাট রোডটি মিলিটারী রোড নামে পরিচিত। কথিত আছে যে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্রিটিশ সরকার সৈন্য চলাচলের জন্য রাস্তাটি তৈরি করেন। রাস্তাটি ভারতের পশ্চিমবঙ্গ থেকে আসামের মনিপুর পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল।এই রাস্তাটি বাগভান্ডার বিডিআর ক্যাম্পের পাশ দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। ১৯১৫ সালের পূর্বে ভূরুঙ্গামারী নাগেশ্বরী থানার অধীনে ছিল। এ সময় ভূরুঙ্গামারীতে ফুলকুমার নামে একটি পুলিশ ফাঁড়ি ছিল। ১৯১৫ সালে ভূরুঙ্গামারী পৃথক থানা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করলে ফুলকুমার নামক পুলিশ ফাঁড়িটি থানা সদরে স্থানান্তরিত হয়। ভূরুঙ্গামারীকে ১৯৮৩ সালের মার্চ মাসে মানউন্নীত থানা হিসেবে ঘোষণা করা হয়। বঙ্গসোনাহাট বিডিআর ক্যাম্পের পূর্ব দক্ষিণ দিকে একটি পুরোনো তালগাছ এখনো অতীতের স্মৃতিকে আঁকড়ে ধরে আছে।

এই তালগাছের পাশে ১৯৪০ সালে বাহারবন্দ পরগণার জমিদার শ্রীশ চন্দ্র নন্দীর নায়েব রমেশ চন্দ্রের উদ্যোগে সোনাহাটে একটি এম.ই স্কুল প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। পরবর্তীতে সেটি সোনাহাট উচ্চ বিদ্যালয়ে উন্নীত হয়। দেশ বিভক্তির পর স্কুলটি মিলিটারী সড়কের দক্ষিণ দিকে স্থানান্তরিত করা হয়।বর্তমানে এই স্কুলের পশ্চিম পাশে বসেছে সোনাহাট বাজার।সোনাহাট রেলওয়ে স্টেশন সংলগ্ন স্থানে পাশাপাশি দু’টি সিনেমা হল ছিল। দু’টি হলের মধ্যে একটি ছিল শ্রীশ চন্দ্র নন্দীর এবং অন্যটি ছিল আসামের গৌরিপুরের জমিদারের। দুর্গা পুজা উপলক্ষে সোনাহাটে মেলা অনুষ্ঠিত হত। মেলায় সার্কাস এবং যাত্রাগানসহ বিভিন্ন রকমের বিনোদনের ব্যবস্থা থাকত। মেলা কতদিন স্থায়ী হবে এ নিয়ে দুই জমিদারের মধ্যে প্রতিযোগিতা হত।বর্তমানে ভূরুঙ্গামারী শহর ১৯৬৬ সালে দেওয়ানের খামার নামক স্থানে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। পাকিস্তান আমলে এখানে একটি তাঁতি পাড়া ছিল। তাঁতির লুঙ্গি, গামছা এসব নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস তৈরি করত। ১৯৬৭ সালে তৎকালীন সার্কেল অফিসার গাজী আতিকুল হকের উদ্যোগে ভূরুঙ্গামারী ডিগ্রী কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তার মহতি উদ্যোগ বাস্তবায়নে সহায়তা করেছিলেন শামছুল হক চৌধুরী, ভূরুঙ্গামারী থানার ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানবৃন্দ এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

জনসংখ্যা[সম্পাদনা]

২০১১ সালের আদমশুমারী অনুসারে

  • জনসংখ্যা ২,৩১,৫৭৪ জন।
         পুরুষঃ ১,১৩,৫০২ জন। 
         মহিলাঃ ১,১৮,০৩৬ জন।
  • ভোটার সংখ্যাঃ ১,৭৫,৬৬২ জন। (২০১৭)
         পুরুষঃ ৮৬,০৬০ জন।
         মহিলাঃ ৮৯,৬০২ জন।
  • মুসলিম জনসংখ্যাঃ ২,২৭,৫৭৪ জন।
  • হিন্দুঃ ৩,৯৪৫ জন।
  • বৌদ্ধঃ ১১ জন।
  • খ্রিষ্টানঃ ১৫ জন।

শিক্ষা[সম্পাদনা]

  • শিক্ষার হার: ৭২.৬% (২০১৭)
   *পুরুষ: ৭৯.০৮%
   *মহিলা: ৬৫.৪০%
  • কলেজ: ৫টি
  • হাইস্কুল: ২৩টি
  • বালিকা বিদ্যালয়: ৫টি
  • জুনিয়র হাইস্কুল: ১৯ টি
  • মাদ্রাসা: ১৭টি
  • সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়: ৬২টি
  • বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়: ৪৪টি
  • কিন্ডারগার্টেন:৩৭ টি

অর্থনীতি[সম্পাদনা]

ভূরুঙ্গামারী উপজেলার মোট আবাদী জমির পরিমাণ ১৬,৯০০ একর। অত্র উপজেলায় ফসল ধান, গম, পাট, রাই-সরিষা, আলু, ইক্ষু ও ভুট্টা ইত্যাদির ব্যবসা মোটামুটি প্রচলিত। রফতানী যোগ্য পন্য বলতে ধান, চাল, পাট ও আলু। ব্যবসা-বাণিজ্য বলতে ধান, চাল, পাট,মাছ ও আলু ছাড়াও দ্রব্যাদী অত্র উপজেলায় ব্যবসা বাণিজ্য হয়ে থাকে।এছাড়াও অত্র উপজেলায় নদী পথে বিভিন্ন অঞ্চলের সাথে অনেক সময় মালামাল ক্রয়-বিক্রয় হয়ে থাকে।

মৃৎ শিল্পঃ মাটি আর মানুষ আমাদের বড় সম্পদ। এ সত্যের প্রকাশ ঘটেছে ভূরুঙ্গামারীর উপজেলার মৃৎশিল্পে। ভূরুঙ্গামারীর উপজেলার এঁটেল মাটির তৈজসপত্র দ্রব্যাধার পুতুল ও দেবদেবীর বিগ্রহ দেখতে সুন্দর, কাজে টেকসই। গবাদি পশুর সম্মুখে যে পাত্রে খাওয়া দেওয়া হয় তার নাম চাড়ি। ভূরুঙ্গামারীর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে এটি তৈরি হয়। এছাড়া মটকি বা কোলা বা বিশাল বপু পাতিল তৈরি হয় টাঙ্গাইলের বিভিন্ন কুমার পাড়ায়। মাটির তৈজসপত্র, সানকি, হাড়ি, সরা, বাটি, পিঠা তৈরির ছিদ্রযুক্ত পাতিল। দইয়ের ঠিলা, কোলা, গুড়ের মটকি প্রভৃতিভূরুঙ্গামারীর উপজেলার কুমারদের অনবদ্য সৃষ্টি। এসব মাটির জিনিসপত্র সাধারণত বিভিন্ন হাট-বাজার ও মেলায় বিক্রি হয়। ফেরি করেও বিক্রি করা হয়। ভূরুঙ্গামারীর উপজেলার কুমারদের মধ্যে অনেকে প্রতিমা নির্মাণে সিদ্ধহস্ত। এছাড়া ঘোড়া, গরু, বাঘ, হাতি, কুকুর, মাছ, আম, কাঁঠালসহ নানা ধরনের খেলনা শিশুদের মনোরঞ্জন করতে সক্ষম হয়। এই শিল্পের উন্নয়নে আজো কিছু করা হয়নি। আদিমকালের সাজ সরঞ্জাম দিয়ে কুমাররা এখনো কাজ করে যাচ্ছেন।

বাঁশ ও বেত শিল্পঃ ভূরুঙ্গামারীর উপজেলার বাঁশ ও বেতশিল্পেরও রয়েছে একটি সুপ্রাচীন ইতিহাস। বাঁশ দিয়ে শুধু বাঁশি তৈরি হয়নি। এদিয়ে তৈরি হয়েছে নানাবিধ উপকরণ। ভূরুঙ্গামারীর উপজেলার বেতঝোপ থেকে বেত কেটে এনে হাতের গুণে তৈরি করা হয় নানা প্রকার ব্যবহারযোগ্য জিনিস। বেতের ডালিয়া, ধান চাউলের বেড় ও তিল তিসি, সরিষা রাখার ছোট বড় ডুলি। বাটখারা প্রচলনের পূর্বে পাঁচসেরি মুনকা বা ধামার ব্যবহার ছিল। এখনো গ্রামাঞ্চলে ব্যবহৃত হয়। বাঁশের চটি দিয়ে তৈরি হয় ডালি, চাটাই, ধাড়ি, কাইত্যা, বেড়, ডুলি, ঘরের বেড়া। এছাড়াও টুকরি, ঝাকা, কূলা চালনি, খালই, তালাই, প্রভৃতি।আজো গ্রাম বাংলায় কৃষিকাজ করার জন্য কৃষকের মাথায় মাথাইল ব্যবহৃত হয়ে আসছে।ভূরুঙ্গামারীর উপজেলার বিপুল সংখ্যক নারীপুরুষ বাঁশজাত সামগ্রী তৈরির কাজে নিয়োজিত আছেন। ভূরুঙ্গামারীর উপজেলার পাট বেতের সাহায্যে চমৎকার হস্তশিল্প শীতল পাটি তৈরি হয়। বুনন কৌশলে ও কাজের দক্ষতায় যে কোন সাধারণ পাটিতেও ফুটিয়ে তোলা হয় জ্যামিতিক নকশা। এছাড়া জীবজন্তু, ব্যবহার্য দ্রব্যাদি, ফুল, লতাপাতা, মিনার, মসজিদ, নৌকা, পালকী প্রভৃতি ফুটে উঠে শীতল পাটির বুননের মাধ্যমে। টাঙ্গাইলের কালিহাতী, ঘাটাইল, বাসাইল, মির্জাপুর, নাগরপুর ও দেলদুয়ারের পাইতারা সম্প্রদায় পটিয়াল বলে পরিচিত। তারা সাধারণ ও শীতল পাটি বুনে থাকে। ভূরুঙ্গামারীর উপজেলার গ্রামাঞ্চলে ৫/৭ ফুট উঁচু একপ্রকার গাছের ছাল দিলে পাটি তৈরি করা হয়। গরমের সময় কারুকার্যময় শীতল পাটি বিছানায় ব্যবহার করলে শরীর ঠান্ডা হয়।

কাঠ শিল্পঃ প্রাগৈতিহাসিককাল থেকেই সূত্রধর বা ছুতার আমাদের গ্রাম জীবনের প্রয়োজনে কাজ করে যাচ্ছে। কৃষি সরঞ্জাম যেমন, লাঙ্গল, ঈষ, মই, আচড়া, ইচামুগর, গরুর গাড়ি, গৃহনির্মাণ ও নৌ-নির্মাণে সূত্রধররা অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। সামাজিক দাবি মিটানোই ভূরুঙ্গামারীর উপজেলারর সূত্রধরদের কাজ। খাট, পালঙ্ক, বারকোশ, পিঁড়ি, টুল, জলচৌকি থেকে শুরু করে আধুনিক টেবিল চেয়ার শোকেস, আলমিরা প্রভৃতি তৈরিতেও টাঙ্গাইলের সূত্রধররা দক্ষতার সাথে কাজ করছে। টাঙ্গাইলের মধুপুর, ধনবাড়ী, কালিহাতী, ঘাটাইল, মির্জাপুর, করটিয়া উল্লেখযোগ্য কাঠশিল্পের স্থান।জেলায় নদী ও খালের তীরে অনেক এলাকায় নৌকা তৈরি করা হয়। সাধারণ ধরনের নৌকায় করে গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে দ্রব্যাদির ব্যবসা বাণিজ্য চলে। তাছাড়া বিভিন্ন ধরনের মাছ ধরার নৌকাও তৈরি হয়।

ঘানি শিল্পঃ ভূরুঙ্গামারীর উপজেলার তেলি বা কলু সম্প্রদায় তিল, তিসি, সরিষা প্রভৃতি তৈলবীজ ভেঙ্গে প্রস্ত্তত করে তৈল। ঘানি ঘোরাবার জন্য চোখ বাঁধা বলদ ব্যবহার করা হয়। কলের ঘানির সাথে বলদের ঘানি পাল্লা দিয়ে পারছে না বলে কলুরা আজ পেশাচ্যুত হয়ে পড়েছে। এই শিল্প আজ বিলুপ্তির পথে। তাছাড়া মুচি ও ঋষিরা মৃত গরুর চামড়া সংগ্রহ করে বিক্রি করে। এদের মধ্যে অনেকে জুতাও তৈরি করে আসছে। এদের অনেকেই ঢাক, ঢোল, তবল, ডুগি প্রভৃতি তৈরি করে থাকে। এই মুচিদের সংগঠিত করতে পারলে চর্মশিল্পের অনেক উন্নতি বিধান করা সম্ভব।

এছাড়া ভূরুঙ্গামারী উপজেলার গ্রাম বাংলার প্রতিটি ঘরে এক সময় ঢেঁকির প্রচলন ছিল। এসব কুটির শিল্পের বিকাশ বহু বছর পূর্ব থেকেই। বিভিন্ন স্থান থেকে বহু লোক এখানে এসে বসবাস করে বংশানুক্রমিকভাবে এসব শিল্পের কাজ শুরু করেছে। কুটিরশিল্প ছিল ঐতিহ্যবাহী এবং ঐশ্বর্যমন্ডিত। এই শিল্পের এখনো প্রচুর সম্ভাবনী রয়েছে- শুধুমাত্র উদ্যোগের অভাব। বিপুল সংখ্যক মানুষ উল্লেখিত টাঙ্গাইলের কুটির শিল্পের সাথে জড়িত রয়েছেন। প্রয়োজন, দক্ষতা বৃদ্ধি, দরকার কাচামাল, ঋণ এবং বাজারজাতকরণের ব্যবস্থা। নইলে ভূরুঙ্গামারীর উপজেলার এসব শিল্প একেবারে বিলুপ্ত হয়ে যাবে। ভূরুঙ্গামারীর উপজেলারবাসীর উন্নয়নে তথা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের স্বার্থে শিল্প খাত যাতে নতুন উদ্যমে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে সে বিষয়ে প্রতিটি সচেতন মানুষ ও সরকারের এগিয়ে আসা প্রয়োজন।

যোগাযোগব্যবস্থা[সম্পাদনা]

ঢাকাসহ সারাদেশের সাথে ভুরুঙ্গামারী উপজেলার খুব ভাল সড়ক যোগাযোগ রয়েছে।

  • জেলা সদর হতে দূরত্ব ও যোগাযোগ ব্যবস্থা (সড়ক পথে): ৪০ কিলোমিটার
  • জেলা সদর হতে সোনাহাট স্থল বন্দরের দূরত্ব (সড়ক পথে): ৫২ কিলোমিটার
  • উপজেলা সদর হতে স্থল বন্দরের দূরত্ব (সড়ক পথে) : ১২ কিলোমিটার
  • উপজেলা সদর হতে প্রস্তাবিত বর্ডার হাটের দূরম্নত্ব (সড়ক পথে): ০৩ কিলোমিটার
  • ভুরুঙ্গামারী হতে ঢাকার দূরত্ব (সড়ক পথে) : ৩৯৩ কিলোমিটার
  • মোট সড়ক পথ: ৪১৭.৯৭ কিলোমিটার
  • পাঁকা রাস্তা: ৮২.৫৬ কিলোমিটার
  • কাঁচা রাস্তা: ৩৩৫.৪১ কিলোমিটার
  • ব্রীজ কালভার্টের সংখ্যাঃ ৩১২ টি

প্রখ্যাত ব্যক্তিত্ব[সম্পাদনা]

  • সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল হাই মাষ্টার সাহেব।
  • মৃত শামসুল হক চৌধুরী,সাবেক এম.এল.এ,এম.পি,গভর্নর (উত্তরবঙ্গ,বাকশাল)।
  • মৃত তাহের উদ্দিন তহশিলদার মোঃ নছর উদ্দিন পন্ডিত,প্রখ্যাত সমাজসেবক।
  • মৃত আলাউদ্দিন সরকার।
  • মৃত ফজলার মিয়া,প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি,উপজেলা আওয়ামীলীগ
  • মৃত মজিবর রহমান(প্যাটলা মজিবর),সাবেক চেয়ারম্যান,পাথরডুবি ইউনিয়ন পরিষদ।
  • মোঃ কফিলুর রহমান ব্যাপারি।
  • অধ্যাপক মোঃ মোজাম্মেল হক,সাবেক অধ্যক্ষ,কারমাইকেল বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ,রংপুর।
  • জয়নাল আবেদীন ভান্ডারী।
  • আব্দুল হাই শিকদার,প্রখ্যাত কবি ও সাহিত্যিক।
  • মোঃ রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন,সাবেক সভাপতি,বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ।

খেলাধুলা[সম্পাদনা]

প্রাচীনকাল থেকেই ভূরুঙ্গামারী উপজেলার জনেগাষ্ঠী ক্রীড়ামোদী। এখানে প্রতিবছরই বিভিন্ন টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হয়।এখানকার জনপ্রিয় খেলার মধ্যে বর্তমানে ক্রিকেট ও ফুটবলের আধিপত্য দেখাগেলেও অন্যান্য খেলাও পিছিয়ে নেই। ভূরুঙ্গামারীতে বেশ কয়েকটি খেলার মাঠ রয়েছে।এর মধ্যে ভূরুঙ্গামারী ডিগ্রী কলেজ মাঠ ও ভূরুঙ্গামারী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠ দু’টি উল্লেখযোগ্য। প্রতি বছর এ দু’টি মাঠে উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় ভাবে ফুটবল ও ক্রিক্রেট লীগ অনুষ্ঠিত হয়।ব্রিটিশ আমলে গাগলার শ্যামাসুন্দরী স্টেটের নায়েব রঞ্জিত কুমার সরকার ভূরুঙ্গামারীতে ‘শ্যামা সুন্দরী সিল্ড’ নামে ফুটবল প্রতিযোগিতার আয়োজন করতেন। সে সময় বৃহত্তর রংপুরের ফুটবল টিম, গৌরিপুরের মহারাজার ফুটবল টিম এবং কলকাতা, গৌহাটি, ধুবড়িসহ আরো অনেক জায়গা থেকে ফুটবল টিম ভূরুঙ্গামারীতে খেলতে আসত। ১৯৫২ সালের পর এই ফুটবল প্রতিযোগিতা বন্ধ হয়ে যায়। পাকিস্তান আমলে ভূরুঙ্গামারীতে একটি ভাল ফুটবল টিম ছিল। ভূরুঙ্গামারীর খ্যাতিমান ফুটবল খেলোয়াড়দের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন আব্দুল হামিদ, ওসমান আলী ব্যাপারী, কণক, রবি বাবু, মহাদেব রায়, জোগেন, আলম, হরিচরণ সাহা, বীরেন মন্ডল, আইনুদ্দিন ব্যাপারী, রহমত উল্লাহ, নটো সরেতুল্লাহ, কেতাব উদ্দীন মুন্সী, উপেন, বিজয় কুমার, হবিবর মাষ্টার, বসরত উল্লাহ, বছির উদ্দিন, ডাক্তার কেশরী, সুরেন, আছিমুদ্দিন, জামাল উদ্দীন, মোসলেম উদ্দিন প্রমূখ।

মুক্তিযুদ্ধে ভুরুঙ্গামারী[সম্পাদনা]

তালিকাভূক্ত মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা-৯৩০জন। ভাতাভোগী মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা-৮১০ জন।

২৩শে মার্চ ভূরুঙ্গামারী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে কুড়িগ্রাম মহকুমা ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দ, আওয়ামীলীগ স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী, পুলিশ, আনসার-মুজাহিদ, সাবেক ইপিআর, আওয়ামীলীগ কর্মী, নেতা এবং সর্বস্তরের জনগণের এক বিরাট সমাবেশে পাকিস্তানি সৈন্যদের কবল থেকে মাতৃভূমিকে মুক্ত করার জন্য শপথ গ্রহণ করা হয়। ঐ সমাবেশেই স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করা হয়। ভূরুঙ্গামারীর ইতিহাসে এটিই ছিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিন।২৫শে মার্চের কালো রাত্রিতে বাংলাদেশে ব্যাপক গণহত্যা শুরু হলে ২৬শে মার্চ জরুরী ভিত্তিতে স্থানীয় নেতাদের নিয়ে এক গোপন বৈঠকে থানা সংগ্রাম পরিষদ গঠন করা হয় এবং সমস্ত ইউনিয়নে সংগ্রাম পরিষদ গঠন করার জন্য জরুরী নির্দেশ প্রদান করা হয়। বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ মোতাবেক সর্বস্তরের জনগণকে সংঘবদ্ধ করার জন্যও কর্মসূচী গ্রহণ করা হয়।ইতোমধ্যে ভূরুঙ্গামারী থানার সীমান্তবর্তী ফাড়িগুলোর সাবেক অবাঙ্গালী ইপিআর-রা সাবেক বাঙ্গালী ইপিআর-দের ওপর আক্রমণের প্রস্তুতি নেয়। ইপিআর আনিস মোল্লা এবং রওশনুল বারীর নেতৃত্বে ইপিআররের সদস্যবৃন্দ আমাদের সহযোগিতা কামনা করলে স্থানীয় এক জরুরী বৈঠকে অবাঙ্গালী ইপিআরদের সক্রিয় সাহায্যের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়।২৮শে মার্চ অবাঙ্গালী ইপিআরদের বিরুদ্ধে সম্মিলিত প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়। পরদিন ২৯ মার্চ বাঙ্গালী ইপিআর এবং সম্মিলিত ছাত্র জনতার সঙ্গে প্রত্যক্ষ সংঘর্ষে জয়মনিরহাট ক্যাম্পের একজন অবাঙ্গালী সুবেদার, একজন ড্রাইভার এবং একজন অয়ারলেস অপারেটর নিহত হয়।উক্ত জয়মনিরহাট ক্যাম্পে অবাঙ্গালী ইপিআরদের সঙ্গে সহযোগিতাকারী জয়মনিরহাটের একজন অবাঙ্গালী চক্ষু চিকিৎসক জনগণের হাতে নিহত হয়।অত্র থানার অন্যান্য সীমান্ত ফাঁড়ি যেমন- কেদার, সোনাহাট, ধলডাঙ্গা প্রভৃতি স্থানে বাঙ্গালী ইপিআরদের সঙ্গে সংঘর্ষে কয়েকজন অবাঙ্গালী ইপিআর নিহত হয়। অবাঙ্গালী ইপিআরদের কবল থেকে জয়মনিরহাট ক্যাম্প ও অস্ত্রাদি উদ্ধার করা হয় এবং নাগেশ্বরী ও ভূরুঙ্গামারী থানার সমস্ত বাঙ্গালী ইপিআরগণকে তাদের অস্ত্রসমেত উক্ত ক্যাম্পে জরুরী ভিত্তিতে সংঘবদ্ধ করা হয়।

অতঃপর সাবেক বাঙ্গালী ইপিআরগণের সঙ্গে আনসার, মুজাহিদ এবং আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী জয়মনিরহাটে যোগ দেয়। ছাত্র ও যুব সম্প্রদায়ও এখানে যোগ দেয়। এদের সকলকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে নিয়ে হানাদার বাহিনী প্রতিরোধের ব্যবস্থা করা হয়।জয়মনিরহাটে সংঘবদ্ধ এই দলকে বিভিন্ন ক্যাম্পে এবং পুলিশ ফাঁড়ি থেকে প্রাপ্ত সামান্য অস্ত্র দিয়েই রংপুর সামরিক গ্যারিসন থেকে হানাদার বাহিনী যাতে অত্র অঞ্চলে প্রবেশ করতে না পারে সেজন্য তিস্তাপুল প্রতিরোধ কেন্দ্রে পাঠানো হয়। ২৯শে মার্চ শামছুল হক চৌধুরী ব্যক্তিগত উদ্যোগে স্থানীয় নেতৃবৃন্দকে নিয়ে বন্ধুরাষ্ট্র ভারতের আসাম ও পশ্চিমবঙ্গ সীমান্তে সোনাহাট এবং সাহেবগঞ্জ সীমান্ত ঘাঁটির সেনাধ্যক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তাদের অনুরোধে উক্ত সেনাধ্যক্ষ প্রাথমিক বেসরকারী সাহায্য হিসেবে ১লা এপ্রিল মধ্যরাতে ২টি হাল্কা মেশিনগান, কিছুসংখ্যক রাইফেল এবং প্রচুর হাতবোমা প্রদান করেন। এসব অস্ত্র ও গোলাবারুদ তিস্তাপ্রতিরোধ কেন্দ্রে সরাসরি পাঠানো হয়। পরবর্তীতে সোনাহাট ও সাহেবগঞ্জের ভারতীয় সীমান্ত ঘাঁটি থেকে আরও সামরিক সাহায্য নেওয়া হয়।৫ই এপ্রিল ভূরুঙ্গামারী কলেজে প্রথম মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য প্রশিক্ষণ কেন্দ্র খোলা হয়। যুবক এবং ছাত্ররা এখানে প্রশিক্ষণ নিতে থাকে। শ্রীঘ্রই বাংলাদেশের অধিকৃত অঞ্চল থেকে বহু ছাত্র-যুবক এখানে আসতে থাকলে এই প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটি সম্প্রসারণ করা হয়। সমগ্র রংপুর জেলার বিভিন্ন সীমান্ত ফাঁড়ি থেকে বাঙ্গালী ইপিআরদেরকে ভূরুঙ্গামারী থানায় সংঘবদ্ধ করে দুই কোম্পানি ইপিআরকে তিস্তা প্রতিরোধ কেন্দ্রে পাঠান হয় এবং এক কোম্পানী ইপিআরকে ভূরুঙ্গামারীতে সংরক্ষিত রাখা হয়।

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের মুক্তিযোদ্ধাদের প্রথম ও প্রধান নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র হিসেবে ভূরুঙ্গামারী প্রশিক্ষণ কেন্দ্র হানাদার কবলিত হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত অসংখ্য গেরিলা যোদ্ধা তৈরি করেছে। প্রাথমিক পর্যায়ে প্রাথমিক ট্রেনিং দিয়েই গেরিলাদেরকে সরাসরি প্রতিরোধ ঘাঁটিতে পাঠানো হয়েছে। পরবর্তীকালে এখান থেকে মুক্তিযোদ্ধাদেরকে উচ্চতর প্রশিক্ষণের জন্য ভারতে পাঠানো হয়েছে। সংগ্রাম পরিষদের মাধ্যমে অত্র থানার বিভিন্ন ইউনিয়নের জনগণ মুক্তিযোদ্ধাদেরকে আর্থিক সাহায্য করেছেন। এছাড়া ভারতীয় জনগণ ভূরুঙ্গামারী থানার প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোতে চাল, গম, আলু, কেরোসিন, পেট্রোল, বিস্কুট, কাপড়, ঔষধপত্র প্রভৃতি প্রয়োজনীয় সামগ্রী দিয়ে সাহায্য করেছেন।ভারতে প্রবেশের পরপরই মুক্তিযোদ্ধাদের সংঘবদ্ধ করা হয়। ভারতের পশ্চিম বাংলা সীমান্তের সাহেবগঞ্জ ও আসামের সোনাহাটে ভারতীয় সামরিক বাহিনীর অনুমোদনে মুক্তিযোদ্ধাদের গেরিলা ঘাঁটি প্রতিষ্ঠিত হয়।এখান থেকেই মুক্তিযোদ্ধারা অধিকৃত ভূরুঙ্গামারী এবং নাগেশ্বরী থানার বিভিন্ন স্থানে হানাদারদের প্রতি আঘাত হানতে থাকে। বাংলাদেশ সরকারের পরিকল্পনা মোতাবেক অধিকৃত অঞ্চল থেকে মুক্তিযোদ্ধা সংগ্রহ করার জন্য পশ্চিম বাংলা সীমান্তে যুবশিবির খোলার দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। প্রাথমিক অবস্থায় এই যুবশিবিরগুলো স্থানীয় ভারতীয় জনগনের আর্থিক সাহায্যপুষ্ট ছিল।

পরবর্তীকালে বাংলাদেশ সরকার যুবশিবিরগুলোর আর্থিক দায়িত্ব গ্রহণ করে। যুবশিবিরে ভারতীয় সেনাবাহিনীর সহায়তায় মুক্তিযোদ্ধাদের প্রাথমিক ট্রেনিং-এর পর তাদের উচ্চতর ট্রেনিং-এর জন্য ভারতের অভ্যন্তরে পাঠানো হতো।দুধকুমার নদীর পূর্বতীরস্থ এবং ভূরুঙ্গামারী থানার এক বিস্তীর্ণ অঞ্চল হানাদারকবল মুক্ত ছিল। এই সমস্ত অঞ্চলের জনগণের সার্বিক সাহায্যের জন্য আমরা বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে সাধ্যমত চেষ্টা চালিয়েছি। মুক্তাঞ্চলের জনগণের নিরাপত্তার জন্য নাগেশ্বরী থানার সুবলপাড় বন্দরে এবং মাদারগঞ্জে মুক্তিযোদ্ধাদের ছোট ছোট ঘাঁটি স্থাপন করা হয়েছিল।বাংলাদেশের সাবেক ইপিআর বাহিনীর ক্যাপ্টেন নওয়াজেশ-এর অধীনস্থ সাহেবগঞ্জ ঘাঁটির গেরিলাযোদ্ধা এবং ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর আসাম সীমান্তের সোনাহাট গাঁটির গেরিলা মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে ভারতীয় সেনাবাহিনীর সৈন্যদের এক যৌথ অভিযানের পর ১৭ই নভেম্বর ভূরুঙ্গামারী মুক্ত হয়। এর পরপরই অত্র থানার আন্ধারীঝাড় বাজার থেকে পাক বাহিনী তাদের গোলন্দাজ বাহিনী সরিয়ে পিছু হটে গেলে ভূরুঙ্গামারী থানা শত্রুমুক্ত হয়। এই এলাকা মুক্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ভারতে আশ্রিত জনগণ বিধ্বস্ত ভূরুঙ্গামারীতে দলে দলে প্রবেশ করতে থাকে। মাতৃর্ভুমিতে পা দিয়েই জনগণের আনন্দ-উল্লাস সবাইকে অভিভূত করে। ডিসেম্বরে সারা বাংলাদেশের মুক্তির সাথে সাথে জনগণ এক অভূতপূর্ব আনন্দে উল্লাসিত হয়েছে।

দর্শনীয় স্থান[সম্পাদনা]

  • পাটেশ্বরী/সোনাহাট ব্রিজ।
  • মীর জুমলা প্রাচীন মসজিদ
  • সোনাহাট স্থলবন্দর ।
  • মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর বাড়ি।
  • জয়মনিরহাট জমিদার বাড়ি।
  • জয়মনিরহাট জামে মসজিদ।
  • বাগভান্ডার স্লুইস গেইট।
  • বগনির পাড় জামে মসজিদ।
  • দেওয়ানের খামার জামে মসজিদ।
  • প্রেম ব্রিজ
  • সুনিলের কুড়া
  • লাল পুল

বিবিধ[সম্পাদনা]

  • মসজিদ: ৩৪১টি
  • মন্দির: ১৪টি
  • গীর্জা: ১টি
  • পাবলিক লাইব্রেরী: ১টি
  • পাঠাগার: ১টি
  • প্রেস ক্লাব: ১টি
  • তফশীল অফিস: ১০টি
  • কমিউনিটি সেন্টার: ৮টি
  • সিনেমা হল: নাই
  • ডাকবাংলো/রেষ্টহাউজ: ১টি
  • দ্রুত সুবিধা প্রাপ্ত মৌজা : ২৭টি(আংশিক)
  • এনজিও: ১৪টি
  • সমাজকল্যাণ সংখ্যা: ২৩টি
  • এতিমখানারসংখ্যা: ৯টি

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "এক নজরে ভূরুঙ্গামারী উপজেলা"বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার। জুন ২০১৪। ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২১ ডিসেম্বর ২০১৪ 
  2. জেলা উন্নয়ন পরিক্রমা। ২০০১-২০০৫, গণযোগাযোগ অধিদপ্তর, তথ্য মন্ত্রণালয়, ডিসেম্বর ২০০৫

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]