পীরগঞ্জ উপজেলা, ঠাকুরগাঁও
| পীরগঞ্জ | |
|---|---|
| উপজেলা | |
মানচিত্রে পীরগঞ্জ উপজেলা, ঠাকুরগাঁও | |
| স্থানাঙ্ক: ২৫°৫১′১৫″ উত্তর ৮৮°২১′৪৮″ পূর্ব / ২৫.৮৫৪১৭° উত্তর ৮৮.৩৬৩৩৩° পূর্ব | |
| দেশ | বাংলাদেশ |
| বিভাগ | রংপুর বিভাগ |
| জেলা | ঠাকুরগাঁও জেলা |
| আয়তন৮৭৪৭২.৮৫ একর | |
| • মোট | ৩৫৩.৩ বর্গকিমি (১৩৬.৪ বর্গমাইল) |
| জনসংখ্যা (২০২২) | |
| • মোট | ২,৬৫,১৫৯ |
| • জনঘনত্ব | ৭৫০/বর্গকিমি (১,৯০০/বর্গমাইল) |
| সাক্ষরতার হার | |
| • মোট | ৭৪.৭৭% |
| সময় অঞ্চল | বিএসটি (ইউটিসি+৬) |
| পোস্ট কোড | ৫১১০ |
| প্রশাসনিক বিভাগের কোড | ৫৫ ৯৪ ৮২ |
| ওয়েবসাইট | দাপ্তরিক ওয়েবসাইট |
পীরগঞ্জ উপজেলা বাংলাদেশের ঠাকুরগাঁও জেলার একটি প্রশাসনিক এলাকা। পীরগঞ্জ প্রশাসনিকভাবে থানা হিসেবে গঠিত হয় ১৮৭০ সালে এবং এটি ১৯৮৩ সালের ৭ নভেম্বর উপজেলা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।[১]
অবস্থান ও আয়তন
[সম্পাদনা]
পীরগঞ্জ উপজেলা ঠাকুরগাঁও জেলা হতে ২০ কি:মি: দক্ষিণে অবস্থিত। এটি আয়তন ও জনসংখ্যার দিক থেকে ঠাকুরগাঁও জেলার দ্বিতীয় বৃহত্তম উপজেলা। এটি ২৫৹৫৯' উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮৮৹১৫' ও ৮৮৹২২' পূর্ব দ্রাঘিমাংশের মধ্যে অবস্থিত। এর উত্তরে রয়েছে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা, দক্ষিণে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, পূর্বে দিনাজপুর জেলার বীরগঞ্জ ও বোচাগঞ্জ উপজেলা এবং পশ্চিমে রাণীশংকৈল উপজেলা।
নামকরণ
[সম্পাদনা]পীরগঞ্জ উপজেলার নামকরণ নিয়ে সুপ্রতিষ্ঠিত কোন ইতিহাস পাওয়া যায় না। তবে অধিকাংশ গবেষকের মতে এ জনপদে সুলতানি আমলে ইসলামপ্রচার এবং ইসলামি ধ্যানধারণার গোড়াপত্তন হয়েছিল বিশিষ্ট পীর ও সাধক পুরুষ সিরাজউদ্দিন আউলিয়ার মাধ্যমে। এছাড়া সমসাময়িক অনেক পীর আউলিয়া পীরগঞ্জে ধর্ম প্রচারের জন্য আসেন। তাদের মধ্যে অন্যতম হল, দুর্লভপুর গ্রামের পীর বাহারানা সৈয়দ, সাটিয়া গ্রামের পীর শাহজাহী, ভেলাতৈড় ভদ্রপাড়া গ্রামের পীর দরবগাজী ও পীরগঞ্জ সংলগ্ন গোগর গ্রামের বনপীর। পীর-মাশায়েখ ও আউলিয়াগণের পদচারণায় মুখরিত এই জনপদ সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধশালী হতে শুরু করে। পীর আউলিয়াগণের কারণে অঞ্চলটি পীরগঞ্জ (পিরের আবাস) নামে পরিচিতি পেতে থাকে। তবে এই নামকরণের বিষয়ে জনশ্রুতি ছাড়া সঠিক ইতিহাসের সন্ধান পাওয়া যায়না।
মুক্তিযুদ্ধ
[সম্পাদনা]১৯৭১ সালের ২৩ মার্চ পীরগঞ্জে পাকিস্তানি পতাকা পোড়ানো হয় এবং পাইলট হাইস্কুল প্রাঙ্গণস্থ শহীদ মিনারের সামনে বাংলাদেশের মানচিত্র খচিত পতাকা উত্তোলন করা হয়। ১৭ এপ্রিল পাকিস্তানি সেনাবাহিনী পীরগঞ্জে প্রবেশ করে।
প্রশাসনিক এলাকা
[সম্পাদনা]
১৮৫৯ সালে পীরগঞ্জে একটি থানা স্থাপিত হওয়ার পর এটি একটি প্রশাসনিক ইউনিট হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করে। এরপর সাবেক প্রেসিডেন্ট হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের আমলে ১৯৮৩ সালের ১১ জুলাই পীরগঞ্জ থানা উপজেলায় উন্নীত হয়। এছাড়াও পীরগঞ্জের ৭টি মৌজা রঘুনাথপুর, মিত্রবাটি, জগথা, পালিগাঁও, ভাকুরা, ভেলাতৈড় ও গুয়াগাঁও নিয়ে ১৯৮৯ সালে গঠিত হয় পীরগঞ্জ পৌরসভা। এ পৌরসভাসহ ১০ টি ইউনিয়ন: ভোমরাদহ, কোষারাণীগঞ্জ , খনগাঁও , সৈয়দপুর, পীরগঞ্জ, হাজীপুর, দৌলতপুর, সেনগাঁও, জাবরহাট, বৈরচুনা নিয়ে গঠিত হয় পীরগঞ্জ উপজেলা।
বর্তমান পীরগঞ্জ উপজেলার গ্রামের সংখ্যা ১৬৮, যাদের সম্মিলিত আয়তন ৩৫৩.৩ বর্গকিলোমিটার।
জনসংখ্যার উপাত্ত
[সম্পাদনা]বাংলাদেশের জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ অনুযায়ী, পীরগঞ্জ উপজেলার মোট জনসংখ্যা ২,৬৫,১৫৯ জন। এর মধ্যে ১,৩২,১৩৩ জন পুরুষ, ১,৩৩,০১৮ জন মহিলা এবং ৮ জন তৃতীয় লিঙ্গ (হিজড়া)। [২] এখানে মোট ভোটার: ১,৭৪,৪৫৫ জন। উপজাতিয় অধিবাসী ৩,৬১৪ জন।[৩]
২০১১ সালের আদমশুমারী অনুযায়ী এখানকার লোক সংখ্যা ২,৪৩,৫৩৫ জন; যার মধ্যে পুরুষ ১,২২,৫৫৩ জন এবং মহিলা ১,২০,৯৮২জন। এখানে মোট ভোটার: ১,৫৮,৮৯৪ জন। উপজাতিয় অধিবাসী ৩,৬১৪ জন।
লিঙ্গ বিভাজন
| লিঙ্গ | জনসংখ্যা | শতকরা হার |
| পুরুষ | ১,৩২,১৩৩ | ৪৯.৮৩% |
| মহিলা | ১,৩৩,০১৮ | ৫০.১৬% |
| তৃতীয় লিঙ্গ | ৮ | ০.০০১% |
| মোট | ২,৬৫,১৫৯ | ১০০% |
লিঙ্গ অনুপাত বিশ্লেষণে দেখা যায়, উপজেলায় পুরুষের তুলনায় মহিলার সংখ্যা সামান্য বেশি। প্রতি ১,০০০ জন পুরুষের বিপরীতে প্রায় ১,০০৭ জন মহিলা রয়েছেন।
ধর্মীয় জনগোষ্ঠী
উপজেলার জনগোষ্ঠী বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ে বিভক্ত। মুসলমান সম্প্রদায় সংখ্যাগরিষ্ঠ এবং হিন্দু সম্প্রদায় একটি উল্লেখযোগ্য অংশ গঠন করে। এ ছাড়া খ্রিষ্টান, বৌদ্ধ এবং অন্যান্য ধর্মাবলম্বীরাও এই উপজেলায় বসবাস করেন।[২]
| ধর্ম | জনসংখ্যা | শতকরা হার |
| ইসলাম | ১,৮৬,৮৩৫ | ৭০.৪৬% |
| হিন্দু | ৭৫,০৬৮ | ২৮.৩১% |
| খ্রিষ্টান | ২,৬৬১ | ১.০০% |
| বৌদ্ধ | ১২ | ০.০০% |
| অন্যান্য | ৫৮৩ | ০.২২% |
| মোট | ২,৬৫,১৫৯ | ১০০% |
ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীঃ
পীরগঞ্জ উপজেলায় বসবাসকারী ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মধ্যে সাঁওতাল ৩,১২৫ জন, মাহালী ২১৬ জন, মুশহর ২০৩ জন এবং কর্মকার ৭০ জন। সর্বমোট ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জনসংখ্যা ৩,৬১৪ জন।[৩]
| ক্রমিক | জাতি | জনসংখ্যা |
|---|---|---|
| 0১ | সাঁওতাল | ৩,১২৫ জন |
| 0২ | মাহালী | ২১৬ জন |
| 0৩ | মুশহর | ২০৩ জন |
| 0৪ | কর্মকার | ৭০ জন |
| সর্বমোট | ৩,৬১৪ জন | |
শিক্ষা
[সম্পাদনা]শিক্ষার হার
[সম্পাদনা]জনশুমারি ও গৃহগণনা-২০২২ অনুসারে পীরগঞ্জ উপজেলার শিক্ষার হার ৭৪.৭৭% ।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা
[সম্পাদনা]- প্রাথমিক বিদ্যালয়- ১৭৫;
- উচ্চ বিদ্যালয়-
- সরকারি গার্লস ১টি
- বেসরকারি ৮৩টি
- মাদ্রাসা-
- সিনিয়র মাদ্রাসা ৪টি
- দাখিল মাদ্রাসা ২২টি
- এবতেদায়ী মাদ্রাসা ১০টি
- কলেজ-
- সরকারি ১টি (পীরগঞ্জ সরকারি কলেজ)
- বেসরকারি ১১টি
- কারিগরি ৮টি
স্বাস্থ্য
[সম্পাদনা]- উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্র: ১ টি
- উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্র: ১ টি
- ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্র: ৭ টি
- কমিউনিটি ক্লিনিক: ২২ টি
- প্রাইভেট ক্লিনিক: ৩ টি
অর্থনীতি
[সম্পাদনা]শিল্প
[সম্পাদনা]প্রধান শিল্প কারখানা অটো রাইসমিল। এছাড়াও উপজেলায় ২৮১টি চাল ও আটাকল, ২৪টি স'মিল রয়েছে।
কৃষি
[সম্পাদনা]পীরগঞ্জ উপজেলার ভুমি বেলে, বেলে দোআঁশ ও এটেল দোআঁশ প্রকৃতির। এটেল দোআঁশ ও বেলে দোআঁশ নিচু জমিতে ইরি বোরো আমন এবং বেলে ও বেলে দোআঁশ-উঁচু জমিতে গম, ভুটা এবং শীত-গ্রীষ্মের শাক-সবজি, তৈলবীজ জাতীয় ফসল উৎপাদন হয় প্রচুর। পীরগঞ্জ উপজেলা সমুদ্রপৃষ্ঠ হতে ৫২ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত হওয়ায় এবং বার্ষিক ২ হাজার থেকে আড়াই হাজার মিঃমিঃ অর্থাৎ সুষম বৃষ্টিপাত হওয়ায় এ উপজেলায় বন্যা হয় না বললেই চলে। ভূমি, মৃত্তিকা, বৃষ্টিপাত, জলবায়ুর গতি-প্রকৃতির ভিত্তিতে দেশের কৃষি পরিবেশিক অঞ্চলকে যে ৩০টি ভাগে বিভক্ত করা হয়েছে তার মধ্যে পুরাতন হিমালয় পাদভূমি অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে পীরগঞ্জ উপজেলাসহ সমগ্র ঠাকুরগাঁও জেলা।
ভাষা
[সম্পাদনা]বাংলাদেশের অন্যান্য এলাকার মত পীরগঞ্জ উপজেলাতেও আঞ্চলিক ভাষার ঐতিহ্য রয়েছে। পীরগঞ্জের আঞ্চলিক ভাষায় রয়েছে সাধু ভাষার ক্রিয়াপদের একত্র উচ্চারণ কৌশল, উর্দু, হিন্দি, অসমিয়, উড়িয়া, নেপালী শব্দের সরাসরি বা কিছুটা বিকৃত উচ্চারণ। ফলে পীরগঞ্জের আঞ্চলিক ভাষা দেশের অন্যান্য আঞ্চলিক ভাষা থেকে ভিন্নতা পেয়েছে।
উপজেলার পাড়িয়া, মল্লিকপুর, করনাই, বড়বাড়ি, দস্তমপুর, বৈরচুনা, চক-বাসুদেবপুরসহ আরও বেশকিছু জায়গায় আদিবাসি সাঁওতালরা বসবাস করে। তারা সাঁওতালি ভাষায় কথা বলে। এছাড়াও এখানে কিছু সংখ্যক ওঁড়াও, মুন্ডা ও মুসোহর আদিবাসী রয়েছে। তারা তাদের নিজ নিজ ভাষায় কথা বলে।
সাহিত্য ও সংস্কৃতি
[সম্পাদনা]সমকাল সংস্কৃতিক গোষ্ঠী, পাঠচক্র, গীতবীথি সংগীত নিকেতন, উদীচী শিল্পী গোষ্ঠী, অন্তরঙ্গ শিল্পী গোষ্ঠী, নৃত্যের তালে তালে একাডেমী, মহসীনের নৃত্য গোষ্ঠী, আদিবাসী শিল্পী পরিষদ উল্লেখযোগ্য।
নদীসমূহ
[সম্পাদনা]
পীরগঞ্জ উপজেলায় ৩ টি নদী রয়েছে; সেগুলো হচ্ছে টাঙ্গন নদী, কাহালাই নদী ও লাচ্ছি নদী।[৪][৫]
উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিত্ব
[সম্পাদনা]- অধ্যাপক গোলাম মোস্তফা - শহীদ বুদ্ধিজীবী।
দর্শনীয় স্থান ও স্থাপনা
[সম্পাদনা]- রাজভিটা - হাটপাড়া, জাবরহাট ইউনিয়ন;
- ভিমটিয়া শিবমন্দির - ভিমটিয়া;
- পীরডাঙ্গী কবরস্থান;
- ফানসিটি শিশুপার্ক - পীরগঞ্জ পৌরসভা;
- শালবন - থুমনিয়া, সাগুনী ও জগন্নাথপুর;
- সাগুনী রাবার ড্যাম।
তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ "পীরগঞ্জের ইতিহাস ঐতিহ্য : দৈনিক ইত্তেফাক"। archive.ittefaq.com.bd। সংগ্রহের তারিখ ২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯।
- 1 2 ব্যুরো, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান। "জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ | পাতা | বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো"। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২৯ জুন ২০২৬।
{{সংবাদ উদ্ধৃতি}}:|শেষাংশ=প্যারামিটারে সাধারণ নাম রয়েছে (সাহায্য) - 1 2 "এক নজরে পীরগঞ্জ উপজেলা"। পীরগঞ্জ উপজেলা। ২১ অক্টোবর ২০২৫। সংগ্রহের তারিখ ২৯ জুন ২০২৬।
{{ওয়েব উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: ইউআরএল-অবস্থা (লিঙ্ক) - ↑ ড. অশোক বিশ্বাস, বাংলাদেশের নদীকোষ, গতিধারা, ঢাকা, ফেব্রুয়ারি ২০১১, পৃষ্ঠা ৩৩৫, আইএসবিএন ৯৭৮-৯৮৪-৮৯৪৫-১৭-৯।
- ↑ মানিক মোহাম্মদ রাজ্জাক, বাংলাদেশের নদনদী: বর্তমান গতিপ্রকৃতি, কথাপ্রকাশ, ঢাকা, ফেব্রুয়ারি, ২০১৫, পৃষ্ঠা ৬১৭, ISBN 984-70120-0436-4.
বহিঃসংযোগ
[সম্পাদনা]| এই নিবন্ধটি অসম্পূর্ণ। আপনি চাইলে এটিকে সম্প্রসারিত করে উইকিপিডিয়াকে সাহায্য করতে পারেন। |