ডিমলা উপজেলা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
ডিমলা
উপজেলা
ডিমলা বাংলাদেশ-এ অবস্থিত
ডিমলা
ডিমলা
বাংলাদেশে ডিমলা উপজেলার অবস্থান
স্থানাঙ্ক: ২৬°৭′২৮″ উত্তর ৮৮°৫৫′৪৭″ পূর্ব / ২৬.১২৪৪৪° উত্তর ৮৮.৯২৯৭২° পূর্ব / 26.12444; 88.92972স্থানাঙ্ক: ২৬°৭′২৮″ উত্তর ৮৮°৫৫′৪৭″ পূর্ব / ২৬.১২৪৪৪° উত্তর ৮৮.৯২৯৭২° পূর্ব / 26.12444; 88.92972 উইকিউপাত্তে এটি সম্পাদনা করুন
দেশ বাংলাদেশ
বিভাগরংপুর বিভাগ
জেলানীলফামারী জেলা
আয়তন
 • মোট৩২৬.৮০ কিমি (১২৬.১৮ বর্গমাইল)
উচ্চতা[১]৫৫ মিটার (১৮০ ফুট)
জনসংখ্যা (২০১১)[২]
 • মোট২,৮৩,৪৩৮
 • জনঘনত্ব৮৭০/কিমি (২২০০/বর্গমাইল)
স্বাক্ষরতার হার
 • মোট৪২.৮৬%
সময় অঞ্চলবিএসটি (ইউটিসি+৬)
ওয়েবসাইটপ্রাতিষ্ঠানিক ওয়েবসাইট Edit this at Wikidata

ডিমলা বাংলাদেশের নীলফামারী জেলার অন্তর্গত একটি উপজেলা

অবস্থান[সম্পাদনা]

ডিমলা নীলফামারী জেলাধীন উত্তর সীমামত্মবর্তী একটি অবহেলিত উপজেলা। উপজেলার উত্তরে ভারতের কুচবিহার জেলা, পূর্বে লালমনিরহাট জেলার হাতীবান্ধা উপজেলা, দক্ষিণে জলঢাকা উপজেলা ও পশ্চিমে ডোমার উপজেলা

ডিমলা উপজেলার পূর্ব দিক দিয়ে তিস্তা নদী, মধ্যবর্তী স্থান দিয়ে নাউতারা নদী, পশ্চিম প্রান্তে বুড়ি তিস্তা নদী প্রবাহিত। তিস্তা নদী এ উপজেলার ৫ টি ইউনিয়নের আংশিক এলাকার উপর দিয়ে প্রবাহিত। দেশের সর্ববৃহৎ সেচ প্রকল্প ‘তিস্তা সেচ প্রকল্প’ এ উপজেলায় বিদ্যমান। এছাড়া বুড়িতিস্তা নদীতেও একটি ক্ষুদ্র সেচ প্রকল্প রয়েছে।

প্রশাসনিক এলাকা[সম্পাদনা]

জেড৫০৫৪ ডোমার-ডিমলা সড়ক

ইউনিয়ন সমূহ:

ইতিহাস[সম্পাদনা]

অতীত ইতিহাস ও নামকরণ[সম্পাদনা]

নামকরণ সম্পর্কে তিনটি জনশ্রুতি আছে। এগুলো হলো-

  • ডিমলা মৌজায় তেলস্নাই নামক এটি বিল আছে। বহুকাল পূর্বে এবিলে দেশ বিদেশ হতে বহু অতিথি পাখি আসতো এবং অসংখ্য ডিম দিত। কথিত আছে যে,এসব হাঁস ও ডিমের আকর্ষণে দুর দূরান্ত হতে অনেক সওদাগর আসতো। ডিমের প্রতুলতার কারণে স্থানের নাম দিয়েছিলেন ডিমলা।
  • বৃটিশ ভারত শাসনামলে অত্র এলাকায় মহারাজা ছিলেন শ্রী জানকি বল্লব সেন। তার ডিম্বাকৃতির একটি সুরম্য অট্টালিকা ছিল। ডিম্বাকৃতির অট্টালিকার আকার অনুসারে এলাকার নাম হয় ডিমলা।
  • কিংবদমিত্ম আছে যে-বহু পূর্বে অত্র এলাকা একটি সাঁওতাল পরগনা ছিল। পাশর্ববর্তী থানা ডোমার এলাকা ছিল ‘‘ডোম রাজা’’। সাঁওতাল পরগনার রাজা ছিলেন ডিমল সাঁই । ডিমল সাঁই এক সুন্দরী এক দুহীতা ছিলো কমলাফুলি। কথিত আছে যে, কমলাফলিকে অপহরণ করে ডোমারের ডোমরাজা একদা ঘোড়ার কোচগাড়ীতে করে পশ্চিমবঙ্গের ‘‘ কোচবিহারে’’ বিহার করেন। ফলে সে স্থনের নাম করণ হয় কুচবিহার। এঘটনার পর হতে ডিমলসাই এর নামানুসারে অত্র এলাকার নাম হয় ডিমলা।

ঐতিহাসিক তেভাগা আন্দোলন[সম্পাদনা]

ঐতিহাসিক তেভাগা আন্দোলন ডিমলা উপজেলা থেকে সংঘটিত হয়। যার নেতৃত্বে ছিলেন তন্বারায়ন রায়, জামশেদ আলী চাটি প্রমূখ। এক পর্যায়ে আন্দোলনে তন্বারায়ন শহীদ হন। এ উপজেলায় নুরলদীনের সারাজীবন গ্রন্থের নুরলদীনের পদচারনা ছিল এবং তিনি তেভাগা আন্দোলনকে সংগঠিত করেছিলেন। নুরলদীন ডিমলা উপজেলায় তেভাগা আন্দোলনের অনুপ্রেরণা ছিল।

জনসংখ্যার উপাত্ত[সম্পাদনা]

  • জনসংখ্যা
মোট ২,৮০,০৭৬ জন
পুরুষঃ ১,৪২,০৫০ জন
মহিলাঃ১,৩৮,০২৬ জন
  • পরিবারের সংখ্যাঃ ৬২,৯৩৮ টি
  • শিক্ষার হারঃ ৪২.৮৬%
  • মোট ভোটার সংখ্যাঃ ১,৬৫,০৮৫ জন
পুরুষঃ ৮২,৫৪৪ জন
মহিলাঃ ৮২,৫৪১ জন

শিক্ষা[সম্পাদনা]

শিক্ষা সংক্রান্ত তথ্যঃ

  • সরকারী প্রাথ্যমিক বিদ্যালয়ঃ ৭২ টি
  • রেজিষ্টার্ড বেসরকারী প্রাথ্যমিক বিদ্যালয়ঃ ১০৯ টি
  • কমিউনিটি প্রাথ্যমিক বিদ্যালয়ঃ ০৩ টি
  • কেজি স্কুলঃ ১৮ টি
  • এজিও প্রাথ্যমিক বিদ্যালয়ঃ ১১০ টি
  • মাদ্রাসা ফাজিল / আলিম /দাখিলঃ ২৪
  • মাধ্যমিক বিদ্যালয়ঃ ২৮ টি ( ২ টি সরকরী )
  • নিমণ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ঃ ১৫ টি
  • মহাবিদ্যালয়ঃ ০৯ টি (ডিগ্রী-০৩, উচ্চ মাধ্যমিক-০৩, কারিগারি-০৩টি)

উল্লেখযোগ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান[সম্পাদনা]

অর্থনীতি[সম্পাদনা]

ডিমলা উপজেলার প্রধান অর্থকরী ফসল ভূট্টা, আলু ও মরিচ। এ উপজেলায় ভূট্টার ফলন প্রচুর হয়। এছাড়া মসলা জাতীয় শস্য যেমন আদা, রসুন, মরিচ ও হলুদের ফলনও বেশি হয়। এসব কৃষি পণ্যের উপর ভিত্তি করে এখানে ব্যবসা বাণিজ্য গড়ে উঠেছে। ধান ও বাশ এর উপর ভিত্তি করেও এখানে ব্যবসা বাণিজ্যের প্রসার ঘটেছে।

  • হাটবাজার

আরশাদগঞ্জ বাজার, কালীগঞ্জ বাজার, ঠাকুরগঞ্জ হাট, ডাংগার হাট, বাবুর হাট, খগার হাট, টুনির হাট, শুটি বাড়ীর হাট, রহমানগঞ্জ বাজার, ফুটানির হাট, চাপানীর হাট, শালহাটি হাট, কলোনির হাট, নাউতারার হাট, একতা বাবুপাড়া হাট ও ডালিয়া গোডাউনের হাট।

ডিমলা উপজেলার তিস্তা নদীতে পাথর সংগ্রহ করে বিক্রয়ের জন্য একত্রিত হয়েছে নদীরপাড়ে

প্রাকৃতিক সম্পদ[সম্পাদনা]

ডিমলা উপজেলার উল্লেখযোগ্য প্রাকৃতিক সম্পদ হল নুরি পাথর। এ উপজেলার তিস্তা নদীর পানির তলদেশে এবং কালিগঞ্জ, ছাতনাই কলোনি, ঝাড়সিংহেরশ্বর, কিসামত ছাতনাই, পশ্চিম খড়িবাড়ী, ডালিয়া মৌজার ১৫ - ২০ ফুট মাটির নিচে প্রচুর পরিমাণে নুরি পাথর মজুদ আছে। এ উপজেলার অন্য প্রাকৃতিক সম্পদ হল বালু।

কৃতী ব্যক্তিত্ব[সম্পাদনা]

নদ-নদী[সম্পাদনা]

ডিমলা উপজেলায় তিস্তা নদী, কুমলাল-নাউতারা নদী, বুড়িতিস্তা নদী, ও ধুম নদী রয়েছে।

বিবিধ[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "Geographic coordinates of Dimla, Bangladesh" (ইংরেজি ভাষায়)। DATEANDTIME.INFO। সংগ্রহের তারিখ ১৮ জানুয়ারি ২০১৭ 
  2. Population & Housing Census-2011 [আদমশুমারি ও গৃহগণনা-২০১১] (পিডিএফ) (প্রতিবেদন)। জাতীয় প্রতিবেদন (ইংরেজি ভাষায়)। ভলিউম ২: ইউনিয়ন পরিসংখ্যান। ঢাকা: বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো। মার্চ ২০১৪। সংগ্রহের তারিখ ২৫ফেব্রুয়ারি ২০১৭  এখানে তারিখের মান পরীক্ষা করুন: |সংগ্রহের-তারিখ= (সাহায্য)

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]

ডিমলা উপজেলা