হরিপুর উপজেলা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

স্থানাঙ্ক: ২৫°৫০′০৩″উত্তর ৮৮°০৭′০৭″পূর্ব / ২৫.৮৩৪৩° উত্তর ৮৮.১১৮৬° পূর্ব / 25.8343; 88.1186

হরিপুর উপজেলা
BD Districts LOC bn.svg
Red pog.svg
পীরগঞ্জ
বিভাগ
 - জেলা
রাজশাহী বিভাগ
 - ঠাকুরগাঁও জেলা
স্থানাঙ্ক ২৫°৫০′০৩″উত্তর ৮৮°০৭′০৭″পূর্ব / ২৫.৮৩৪৩° উত্তর ৮৮.১১৮৬° পূর্ব / 25.8343; 88.1186
আয়তন ২০১.০৬ বর্গকিমি
সময় স্থান বিএসটি (ইউটিসি+৬)
জনসংখ্যা (২০১১)
 - ঘনত্ব
 - শিক্ষার হার
১,৪৬,৭২৬জন[১]
 - 
 - %
ওয়েবসাইট: উপজেলা প্রশাসনের ওয়েবসাইট

হরিপুর বাংলাদেশের ঠাকুরগাঁও জেলার অন্তর্গত একটি উপজেলা

অবস্থান ও আয়তন[সম্পাদনা]

সীমানাঃ পূর্বে রানীশংকাইল উপজেলা, পশ্চিমে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, উত্তরে, রানীশংকাইল উপজেলা এবং দক্ষিণে ভারত। এই উপজেলার মোট আয়তন ২০১.০৬ বর্গ কিলোমিটার।

প্রশাসনিক এলাকা[সম্পাদনা]

এই উপজেলা ছয়টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। ইউনিয়নগুলো হলো ১. গেদুড়া ২. আমগাও ৩. বকুয়া ৪. ডাঙ্গীপাড়া ৫. হরিপুর ও ৬. ভাতুরিয়া। নির্বাচনী এলাকা ৪-ঠাকুরগাঁও-২। ইউনিয়ন ০৬ টি। মৌজা ৭৫ টি। গ্রাম ১৮৯টি। সরকারী হাসপাতাল ০১ টি। স্বাস্থ্যকেন্দ্র/ ক্লিনিক ০১ টি। নদ-নদী ০২ টি, নাগর নদী ও কুলিক নদী। হাট বাজার ১৮ টি এবং ব্যাংক ০৫ টি।

ইতিহাস[সম্পাদনা]

রাণীশনকৈল থানা থেকে বিছিন্ন হয়ে জন্ম নেয়া হরিপুর উপজেলা প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত। মাত্র ৭৬ বর্গ মাইল আয়তন বিশিষ্ট উপজেলাটি পূর্বে ও পশ্চিমে দুই উপনদী কুলিক ও নাগরের মেখলা বেষ্টিত এবং উচু বেলে দোঁ-আশ মাটি বন্যরেখা বর্হিভূত জেলা মৃত্তিকা স্তরে বিভক্ত। পৌরণিক হরিপুর ছিল অরণ্যক আর অপেক্ষাকৃত অনুর্বর, এর জনগোষ্ঠী ছিল আয়েশী, শ্রমবিমুখ ও উদ্বেগহীন।

ভূতাত্তিক উৎপত্তি ও গুণাগুণের নিরীখে তিস্তার পল্লী অঞ্চল হিসেবে পরিগণিত হলেও বিহারের শুষ্ক মরু অঞ্চলের সঙ্গে এর ভূ-প্রাকৃতিক সাদৃশ্য চমকপ্রদ। হরিপুরের মাটি অধিকাংশ স্থানেই বেলে এবং দো-আশ। আবহাওয়া নাতিশীতোষ্ণ। বনাঞ্চল নেই বলে বৃষ্টিপাত স্বল্প। এ অঞ্চলটি খোলড়া পরগনার অন্তর্গত ছিল। এ অঞ্চলের নামকরণ হিসেবে লোকশ্রত আছে। তা নিম্নরুপ- শালবাড়ি পরগণার জামুন গ্রামে নাশকি জমিদার ছিলেন কামরুন নাহার নামের এক মহিলা। তিনি ছিলেন বিধবা ও অপুত্রক। তার জমিদারি দেখাশুনার জন্য পার্শ্ববর্তী ভৈষা গ্রামের হরিমোহন ছিলেন তার নায়েব। এই হরিমোহন পরে উক্ত নাশকি জমিদারির মালিক হন এবং নতুন জমিদারি স্টেটের নামকরণ করেন হরিমহন স্টেট। পরবর্তীতে হরিমোহনপুর থেকে হরিপুর নাম পরিচিতি লাভ করে। ১৮৬৫ সালে ব্রিটিশ সরকার হরিপুরকে থানা এবং ১৯৮৩ সালে উপজেলায় রূপান্তরিত হয়।[২]

মুক্তিযুদ্ধ[সম্পাদনা]

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় হরিপুর অঞ্চল ছিল ৭ নং সেক্টরের অধীন। এ সময় হরিপুরের কামার পুকুরে, ভাতুরিয়ায়, ডাঙ্গীপাড়ায় ও গেদুড়ায় মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে পাকসেনাদের লড়াই সংঘটিত হয়। মুক্তিযুদ্ধে এ উপজেলার মোঃ ইসমাইল, ডাঃ ইসমাইল, ডাঃ আজিজসহ ২০ জন মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন এবং ২৩ জন আহত হন। ১ ডিসেম্বর এ উপজেলা শত্রুমুক্ত হয়। [৩]

উপজেলা পরিষদ[সম্পাদনা]

২০১৪ সালে অনুষ্ঠিত চতুর্থ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের পরে ১৭ এপ্রিল ২০১৪ থেকে বর্তমানে এই উপজেলার চেয়ারম্যান মো: নুরুল ইসলাম, ভাইস চেয়ারম্যান মো: রফিকুল ইসলাম এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মোছা: নাজমা পারভীন দায়িত্ব পালন করছেন।

জনসংখ্যার উপাত্ত[সম্পাদনা]

১,৪৬,৭২৬জন (২০১১আদমশুমারী অনুযায়ী)। পুরুষ- ৭৩,৫২০ জন; মহিলা-৭৩,২০৬ জন।

শিক্ষা[সম্পাদনা]

গড় হার ৩৪.১%; পুরুষ ৪০.৩%, মহিলা ২৭.৫%। সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ৩৮টি; নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় ০৮টি; মাধ্যমিক বিদ্যালয় ৩২টি; কলেজ ১০টি; মাদ্রাসা ১৫টি। হরিপুর উপজেলার সবচেয়ে পুরোনো কলেজটির নাম মোসলেম উদ্দিন মহাবিদ্যালয়। অন্যান্য কলেজগুলো হচ্ছে। যাদুরানী মহাবিদ্যালয়, যাদুরাণী আদর্শ কলেজ, দামোল আদর্শ কলেজ, হরিপুর আদর্শ মহিলা কলেজ, হরিপুর মহিলা কলেজ, কাঁঠালডাঙ্গী কৃষি কলেজ, কাঠালডাঙ্গী মহিলা কলেজ, মেদনীসাগর টেকনিক্যাল এন্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজ, কে.বি. ডিগ্রী কলেজ।

অর্থনীতি[সম্পাদনা]

কৃষিই অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি। কৃষকদের মধ্যে ভূমিমালিক ৫৮.১২%, ভূমিহীন ৪১.৮৮%। প্রধান কৃষি ফসল ধান, গম, ভুট্টা, আলু, ডাল, শাকসবজি। বিলুপ্ত বা বিলুপ্তপ্রায় ফসলাদি কাউন, খেসারি, ছোলা, আউশ ধান, অড়হর, মাষকলাই। প্রধান ফল-ফলাদি আম, কাঁঠাল, লিচু, পেয়ারা, তরমুজ, সুপারি, কলা, পেঁপে। মৎস্য, গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগির খামার -গবাদিপশু ৮, হাঁস-মুরগি ৪৮, হ্যাচারি ১। ক্ষুদ্র কুটির শিল্পের মধ্যে রয়েছে হস্তচালিত-৩৩টি, ধানমারাই কল-৩৮৭টি, এবং কুমর-২২টি। বৃহৎ শিল্প নেই। ব্যবসা বাণিজ্য পরিচালনায় হরিপুরে গড়ে উঠেছে অসংখ্য ছোট-বড় ক্ষুদ্র শিল্প। এসব ক্ষুদ্র শিল্পের সংখ্যা প্রায় ১২৪টি (চাতালসহ ধানের মিল)। এছাড়া ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে হরিপুর উপজেলায় ইজারাকৃত ছোট-বড় হাট-বাজার সর্বমোট ১৮(আঠার)টি রয়েছে।[৪] হাট-বাজার সমূহের নাম হ’ল।

০১. যাদুরাণী হাট ০২. আটঘরিয়া হাট ০৩. মন্নাটলি হাট ০৪. জামুন হাট ০৫. ফুটানি হাট ০৬. ধীরগঞ্জ হাট ০৭. পীর হাট ০৮. চাপধা হাট ০৯. চৌরঙ্গী হাট ১০. হরিপুর নতুন হাট ১১. কালিগঞ্জ হাট ১২. কাঁঠালডাঙ্গী হাট ১৩. আমগাঁও হাট ১৪. তোররা হাট ১৫. মশানগাঁও হাট ১৬. ভাতুরিয়া হাট ১৭. শিহিপুর হাট ১৮. নুরপুর হাট।

ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান[সম্পাদনা]

মসজিদ ৩৩১, মন্দির ২৩, গির্জা ২, মাযার ৫। উল্লেখযোগ্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান: হরিপুর জামে মসজিদ, বালিহারা জামে মসজিদ, জাদুরাণী হারামাই জামে মসজিদ, হাগড়ী মসজিদ (খলড়া), মেদনি সাগর শাহী মসজিদ।

সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান[সম্পাদনা]

লাইব্রেরি ১, সিনেমা হল ১, ক্লাব ৩০, মহিলা সংগঠন ৯৬, খেলার মাঠ ১০।

কৃতি ব্যক্তিত্ব[সম্পাদনা]

আলহাজ্ব হামিদুর রহমান চৌধুরী এই উপজেলায় জন্ম গ্রহণকারী একজন বিশিষ্ট সমাজসেবক, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সদস্য ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। তিনি ছিলেন অসামান্য প্রতিভাধর একজন ব্যক্তি, যার বাংলা ও ইংরেজি ভাষার উপর ছিল বিশেষ দক্ষতা। তিনি হরিপুরের ইতিহাস বিষয়ক 'হরিপুরের ইতিহাস' নামে একটি পুস্তক রচনা করেন।

এই উপজেলায় জন্মগ্রহণকারী কৃতি ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন মোঃ আবদুল ওদুদ। তিনি ১৯৬৫ সালের ১৭ আগস্ট দামোল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি পীরগঞ্জ সরকারি কলেজ থেকে ১৯৮৩ সালে বিজ্ঞান বিভাগে এইচএসসি এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৮৯ সালে দর্শন শাস্ত্রে এমএ ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি 'ধর্মদর্শন', সমাজদর্শন', রাষ্ট্রদর্শন', 'সমকালীন সমাজদর্শন', 'সমকালীন মুসলিম চিন্তা' 'পাশ্চাত্য দর্শনের ইতিহাস', 'আধুনিক ও সমকালীন রাষ্ট্রচিন্তা', 'প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের সমাজ ও রাষ্ট্রের দার্শনিক চিন্তা', 'প্রায়োগিক নীতিবিদ্যা', রাজনৈতিক তত্ত্বের পরিচিতি'সহ বেশ কিছু বই লিখেছেন।[৫]

বিবিধ[সম্পাদনা]

হরিপুর উপজেলার দর্শনীয় স্থানগুলোঃ-

  • নাগর নদী এ নদীর অবস্থান গেদুড়া, বকুয়া, ডাঙ্গীপাড়া ও হরিপুর ইউনিয়নে। হরিপুরের নাগর নদী ভারত হতে উৎপন্ন হয়ে পঞ্চগড় জেলা দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে এবং পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলা থেকে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায় প্রবেশ করে ঠাকুরগাঁওয়ের পশ্চিম সীমান্ত দিয়ে প্রবাহিত হয়ে অবশেষে হরিপুর উপজেলা হয়ে পুনরায় ভারতে প্রবেশ করেছে। তীরনই নদী এবং নোনাখাল, যমুনা খাল ও জালুই খাল নামে কিছু উল্লেথযোগ্য খাল এই নদীতে মিশেছে। এদের মিলিত স্রোতধারা জেলার পশ্চিমাংশ দিয়ে প্রবাহিত হয়ে থাকে।
  • বাংলাদেশের ৪র্থ বৃহত্তম হাট, যাদুরাণী, বসে প্রতি মঙ্গলবার (আমগাঁও ইউনিয়নে)
  • হযরত শাহ মখদুমজালাল (আঃ) এর মাজার, বহরমপুর (বকুয়া ইউনিয়নে)
  • মেদনীসাগর জামে মসজিদ
  • গেদুড়া জামে মসজিদ
  • বীর গড় (বিলুপ্ত প্রায়)
  • নোনা খাল (আমগাঁও, ডাঙ্গীপাড়া ও হরিপুর ইউনিয়ন)
  • হরিপুর রাজবাড়ি, হরিপুর উপজেলার কেন্দ্রস্থলে হরিপুর রাজবাড়ি। এই রাজবাড়ি ঘনশ্যাম কুন্ডুর বংশধরদের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত। মুসলিম শাসনামলে আনুমানিক ১৪০০ খ্রিস্টাব্দে ঘনশ্যাম কুন্ডু নামক একজন ব্যবসায়ী এন্ডি কাপড়ের ব্যবসা করতে হরিপুরে আসেন। সেই সময়ে মেহেরুন্নেসা নামে এক বিধবা মুসলিম মহিলা অত্র অঞ্চলের জমিদার ছিলেন। তাঁর বাড়ি মেদিনীসাগর গ্রামে। এই জমিদারির খাজনা দিতে হতো তাজপুর পরগনার ফৌজদারের নিকট। খাজনা অনাদায়ের কারণে মেহেরুন্নেসার জমিদারির কিছু অংশ নিলাম হয়ে গেলে ঘনশ্যাম কুন্ডু কিনে নেন। ঘনশ্যামের পরবর্তী বংশধরদের একজন রাঘবেন্দ্র রায় উনবিংশ শতাব্দীর মধ্যভাগে বৃটিশ আমলে হরিপুর রাজবাড়ির কাজ শুরু করেন। কিন্তু তাঁর সময়ে রাজবাড়ির কাজ শেষ হয়নি। রাঘবেন্দ্র রায়ের পুত্র জগেন্দ্র নারায়ণ রায় উনবিংশ শতাব্দীর শেষদিকে রাজবাড়ির নির্মাণ কাজ সমাপ্ত করেন। এসময় তিনি বৃটিশ সরকার কর্তৃক রাজর্ষি উপাধিতে ভূষিত হন। জগেন্দ্র নারায়ণ রায়ের সমাপ্তকৃত রাজবাড়ির দ্বিতল ভবনে লতাপাতার নকশা এবং পূর্ব দেয়ালের শীর্ষে রাজর্ষি জগেন্দ্র নারায়ণের চৌদ্দটি মূর্তি আছে। তাছাড়া ভবনটির পূর্বপাশে একটি শিবমন্দির এবং মন্দিরের সামনে নাট্যশালা রয়েছে। রাজবাড়িতে ছিল একটি বড় পাঠাগার যার অস্তিত্ব এখন নেই। রাজবাড়িটির যে সিংহদরজা ছিল সেটিও নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। ১৯০০ সালের দিকে ঘনশ্যামের বংশধররা বিভক্ত হয়ে গেলে হরিপুর রাজবাড়িও দুটি অংশে বিভক্ত হয়ে যায়। রাঘবেন্দ্র-জগেন্দ্র নারায়ণ রায় কর্তৃক নির্মিত রাজবাড়িটি বড় তরফের রাজবাড়ি নামে পরিচিত। এই রাজবাড়ির পশ্চিমদিকে নগেন্দ্র নারায়ণ রায় চৌঃ ও সিরিজা নারায়ণ চৌঃ ১৯০৩ সালে আরেকটি রাজবাড়ি নির্মাণ করেন যার নাম ছোট তরফ। ছোট তরফের রাজবাড়ির সামনে অর্থাৎ দক্ষিণ দিকে আনুমানিক ৪০০ বছরের পুরাতন একটি শিবমন্দির আছে। জোড়বাংলা পদ্ধতিতে মন্দিরটি তৈরি। মন্দিরটির চারদিকের দেয়ালে রয়েছে টেরাকোটা নকসা। মন্দিরটির দক্ষিণে একটি দরজা এবং পুর্ব ও পশ্চিম দেয়ালে একটি করে ক্ষুদ্রাকৃতির জানালা আছে। অনুমান করা হয় যে শিব মন্দিরটি ঘন-শ্যাম কুণ্ডু বা তার নিকটবর্তী বংশধরদের দ্বারা নির্মিত।[৬]
  • গড় ভবানীপুর হরিপুর থানা হতে ০৬ মাইল পূর্বে গড় ভবানীপুর গ্রামটি অবস্থিত। অনেকের ধারণা গড়টি ভাতুরিয়া পরগণার অন্তর্গত ছিল। ১৪১৪-১৪১৮ খ্রিস্টাব্দে রাজা গণেশ নিজে এই গড় স্থাপন করেন। গৌড়ের সিংহাসনে বসার পূর্বে এই গড়টি স্থাপিত হয়। সিংহাসন লাভের আগে তিনি তাঁর অঞ্চলের প্রতাপশালী জমিদার ছিলেন। রাজা গণেশের মৃত্যুর পর তাঁর হিন্দু বংশধররা ভাতুরিয়া গ্রামে বসবাস করতেন। এই গড় ভবানীপুরের স্থাপিত হয়েছিল গড়ভবানীপুর দূর্গা নামে। যার দৈর্ঘ্য ১.৫ মাইল এবং প্রস্থ ০.৫ মাইল দূর্গের চারদিকে তা এখনো ৫/৬ ফুট উচু মাটির প্রাচীর দেখা যায়। হরিপুরের অন্যতম বৃহৎ তমিদিঘির অবস্থান গড়ের মধ্যবর্তী স্থানে। এর পূর্ব ও দক্ষিণ দিকে কুলিক নদী প্রবাহিত। নদী এবং জলাশয় দিয়ে দূর্গটি এককালে সুরক্ষিত ছিল। আবার এমন ধারণা প্রচলিত আছে যে, রাজা গণেশের রাজ কর্মচারী দাহির কর্তৃক এই গড়টি নির্মিত ও গড়ভবানী নামে পরিচিত। রাম, মাধব, গোপাল ও যাদব নামে দাহিরের চার পুত্র ছিল। ভাতুরিয়া ইউনিয়নের মাধবপুর, রামপুর, গোপালপুর ও যাদবপুর প্রভৃতি গ্রামগুলি তাঁদের স্মৃতি বহন করছে।[৭]

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]

১. হরিপুর উপজেলার সরকারি ওয়েবসাইট

তথ্যসুত্র[সম্পাদনা]

  1. বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন (জুন, ২০১৪)। "এক নজরে হরিপুর"। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার। সংগৃহীত ৬ জুন, ২০১৫ 
  2. সেনুয়া, নবম সংখ্যা, ডিসেম্বর, ২০০৭।
  3. http://bn.banglapedia.org
  4. http://haripur.thakurgaon.gov.bd
  5. প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের সমাজ ও রাষ্ট্রের দার্শনিক চিন্তা, মনন পাবলিকেশন, ISBN 984-30-0000712-6
  6. সেনুয়া, চতুর্থ সংখ্যা, পৃষ্ঠা_ ২১; ডিউস্যাট এর প্রকাশনা; মার্চ ২০০২।
  7. সেনুয়া, চতুর্থ সংখ্যা, পৃষ্ঠা_ ২৫; ডিউস্যাট এর প্রকাশনা; মার্চ ২০০২।
ঠাকুরগাঁও জেলা Flag of Bangladesh.svg
উপজেলা: রানীশংকৈল  • বালিয়াডাঙ্গী  • হরিপুর  • পীরগঞ্জ  • ঠাকুরগাঁও সদর