রৌমারী উপজেলা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

স্থানাঙ্ক: ২৫°৩৩′৪৫″উত্তর ৮৯°৫১′০০″পূর্ব / ২৫.৫৬২৫° উত্তর ৮৯.৮৫০০° পূর্ব / 25.5625; 89.8500

রৌমারী উপজেলা
BD Districts LOC bn.svg
Red pog.svg
রৌমারী
বিভাগ
 - জেলা
রংপুর বিভাগ
 - কুড়িগ্রাম জেলা
স্থানাঙ্ক ২৫°৩৩′৪৫″উত্তর ৮৯°৫১′০০″পূর্ব / ২৫.৫৬২৫° উত্তর ৮৯.৮৫০০° পূর্ব / 25.5625; 89.8500
আয়তন ১৯৭ বর্গকিমি
সময় স্থান বিএসটি (ইউটিসি+৬)
জনসংখ্যা (২০১১)
 - ঘনত্ব
 - শিক্ষার হার
২,০৩,৯৪৯জন[১]
 - ১০৩৫ বর্গকিমি
 - ৪৩%
ওয়েবসাইট: উপজেলা প্রশাসনের ওয়েবসাইট

রৌমারী বাংলাদেশের কুড়িগ্রাম জেলার অন্তর্গত একটি উপজেলা


অবস্থান[সম্পাদনা]

বাংলাদেশের উত্তরে। কুড়িগ্রাম জেলার দক্ষিণে। নামকরণঃ প্রাচীনকালে এ অঞ্চলে প্রচুর পরিমাণে রুই মাছ পাওয়া যেত, এ কারণে এ অঞ্চলের নাম রুইমারী থেকে কালক্রমে রৌমারী নামে রুপান্তরিত হয়।

  • আয়তন: ১৯৭.৮০ বর্গ কি. মি.

ভৌগোলিক অবস্থানঃ উত্তরে উলিপুর উপজেলা, দক্ষিণে চর রাজীবপুর উপজেলা, পূর্বে ভারতের আসাম রাজ্য, পশ্চিমে চর রাজীবপুর উপজেলা, চিলমারী উপজেলাউলিপুর উপজেলা

প্রশাসনিক এলাকা ও অন্যান্য[সম্পাদনা]

  • সংসদীয় এলাকা: ১টি. ২৮-কুড়িগ্রাম- ৪ (রৌমারী, রাজীবপুর)
  • উপজেলা: ১টি
  • মৌজাঃ ২৯টি
  • পৌরসভা: নাই
  • সরকারী হাসপাতালঃ ১টি
  • স্বাস্থ্য কেন্দ্র/ক্লিনিকঃ ২৬ টি
  • পোষ্ট অফিসঃ ১টি
  • প্রধান নদ-নদীঃ ব্রহ্মপুত্র,জিঞ্জিরাম,সোনাভরি হলহলিয়া
  • প্রধান হাট-বাজারঃ রৌমারী, দাঁতভাঙ্গা, কর্ত্তিমারী, বড়াইকান্দি হাট, খেয়ার চর হাট, গোয়ালগ্রাম হাট, চুলিয়ার চর হাট, চর শৌলমারী হাট
  • ব্যাংকঃ ৪টি, সোনালী ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক,ইসলামি বাঙ্ক,ন্যাসনাল ব্যাংক
  • ইউনিয়ন পরিষদ: ৬টি, রৌমারী, যাদুর চর, শৌ্লমারী, দাতভাঙ্গা, বন্দবেড়, চর শৌলমারী
  • গ্রাম: ১৯৮টি

ইতিহাস[সম্পাদনা]

১৯৪৭ সালের ভারত বিভাগের প্রাক্কালে আসামের মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠ গোয়ালপাড়া জেলা পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত করার দাবিতে রৌমারী সীমান্তের নিকট বড়াইবাড়ি নামক স্থানে মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী ও মানকাচরের আবদুল কাশেম মিয়া পাকিস্তান কেল্লা প্রতিষ্ঠা করেন এবং স্থানীয় যুবকদের সংঘবদ্ধ করে একটি মিলিশিয়া বাহিনী গঠন করেন। এই স্থানে একটি বিশাল মঞ্চ স্থাপন করে সাত দিন ধরে ঐ উঁচু মঞ্চে উঠে মওলানা ভাসানী লক্ষ লক্ষ মানুষের সমাবেশে ভাষণ দেন। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময় সেক্টর কামান্ডার মেজর জিয়াউর রহমান, কর্নেল তাহের, উইং কমান্ডার হামিদুল্লাহ খান এবং আরও অনেকে পর্যায়ক্রমে এখান থেকে ১১নং সেক্টরে গেরিলা যুদ্ধ সংগঠন ও পরিচালনা করেন। এখানে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হতো এবং এখান থেকে চিলমারী, উলিপুর ও গাইবান্ধা জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালানো হতো। রৌমারী হানাদার মুক্ত এলাকা।

জনসংখ্যার উপাত্ত[সম্পাদনা]

  • জনসংখ্যা: মোটঃ ২,০০,২৯৯ পুরুষ- ৫০.৬২%, মহিলা- ৪৯.৩৮%
  • ভোটার সংখ্যা: মোট: ১০১৩৫৯ জন, পুরুষ-৫০১৯৫ জন, মহিলা-৫১১৬৪ জন
  • ঘনত্বঃ ১০১৩ জন

শিক্ষা[সম্পাদনা]

  • শিক্ষার হার: ৩২.১০%
  • কলেজ: ৮টি
  • হাইস্কুল: ২৫টি
  • মাদ্রাসা: ১৬টি
  • সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়: ৩৯টি
  • বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়: ৫০টি

অর্থনীতি[সম্পাদনা]

  • মোট আবাদী জমি: ১৯৭৮৯ একর
  • অর্থকরী ফসল: ধান, গম, আলু, পাট, সরিষা, ভুট্টা, বাদাম প্রভৃত।
  • শিল্প প্রতিষ্ঠান: নাই
  • পাকা রাস্তা: ১২.৫৬ কি. মি.
  • কাঁচা রাস্তা: ৩৮৫.৩৭ কি. মি.

উল্লেখযোগ্য স্থান বা দর্শনীয় স্থান[সম্পাদনা]

২০০১ সালের ১৮ এপ্রিল রৌমারী উপজেলার বড়াইবাড়ী সীমান্তে ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বিএসএফ বড়াইবাড়ী গ্রামে ঢুকে নারকীয় তান্ডব চালায়। অকুতোভয় বিডিআর ও গ্রামবাসীদের মিলিত প্রতিরোধে পর্যুদস্থ হয় আগ্রাসনকারী বিএসএফ।দীর্ঘ ৪২ ঘণ্টা চলে এ যুদ্ধ। গুলি পাল্টা গুলির পর ২০ এপ্রিল যুদ্ধ থামে। শহীদ হয়েছিল ৩৩-রাইফেলস ব্যাটালীয়নের ল্যান্স নায়েক ওহিদুজ্জামান, সিপাহী মাহফুজার রহমান এবং ২৬-রাইফেলস ব্যাটালীয়নের সিপাহী আব্দুল কাদের। ভারতীয় পক্ষের নিহত হয় ১৬ জন বিএসএফ সদস্য। এ কারণে এই দিনটি রৌমারীবাসী পালন করে ‘‘বড়াইবাড়ী দিবস’’ হিসাবে। আর বড়াইবাড়ী পরিচিত হয় সারাবিশ্বে।

বিবিধ[সম্পাদনা]

  • মসজিদ: ৪৬৫টি
  • মন্দির: ৪টি
  • গির্জা: নাই

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন (জুন, ২০১৪)। "এক নজরে রৌমারী"। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার। সংগৃহীত ১০ জুলাই, ২০১৫ 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]


কুড়িগ্রাম জেলা Flag of Bangladesh.svg
উপজেলা: ভুরুঙ্গামারী • চর রাজীবপুর • চিলমারী • ফুলবাড়ী • কুড়িগ্রাম • নাগেশ্বরী • রাজারহাট  • রৌমারী • উলিপুর