নাগেশ্বরী উপজেলা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
নাগেশ্বরী
উপজেলা
নাগেশ্বরী বাংলাদেশ-এ অবস্থিত
নাগেশ্বরী
নাগেশ্বরী
বাংলাদেশে নাগেশ্বরী উপজেলার অবস্থান
স্থানাঙ্ক: ২৫°৫৮′৫৪″ উত্তর ৮৯°৪২′২৩″ পূর্ব / ২৫.৯৮১৬৭° উত্তর ৮৯.৭০৬৩৯° পূর্ব / 25.98167; 89.70639স্থানাঙ্ক: ২৫°৫৮′৫৪″ উত্তর ৮৯°৪২′২৩″ পূর্ব / ২৫.৯৮১৬৭° উত্তর ৮৯.৭০৬৩৯° পূর্ব / 25.98167; 89.70639 উইকিউপাত্তে এটি সম্পাদনা করুন
দেশ বাংলাদেশ
বিভাগরংপুর বিভাগ
জেলাকুড়িগ্রাম জেলা
আয়তন
 • মোট৪১৭.৫৭ কিমি (১৬১.২২ বর্গমাইল)
জনসংখ্যা (২০০১)
 • মোট৪,০২,১০১[১]
সময় অঞ্চলবিএসটি (ইউটিসি+৬)
পোস্ট কোড৫৬৬০ উইকিউপাত্তে এটি সম্পাদনা করুন
প্রশাসনিক
বিভাগের কোড
৫৫ ৪৯ ৬১
ওয়েবসাইটপ্রাতিষ্ঠানিক ওয়েবসাইট Edit this at Wikidata

নাগেশ্বরী উপজেলা বাংলাদেশের কুড়িগ্রাম জেলার একটি প্রশাসনিক এলাকা।

ইতিহাস[সম্পাদনা]

নাগেশ্বরীর ইতিবৃত্ত:- নাগেশ্বরী বিলের নাম অনুযায়ী এই এলাকার নাম হয় নাগেশ্বরী। এই বিলের নামকরণ নিয়ে দুটি মত প্রচলিত আছে। কথিত আছে, নাগেশ্বরী বিলের তীরে অবস্থিত মন্দিরে দুর-দুরান্ত থেকে নাগা সন্ন্যাসীরা এসে পুজা দিত। এ থেকে এ বিলের নাম হয় নাগেশ্বরী। আবার কেউ কেউ মনে করেন, এ বিলে বিভিন্ন প্রজাতির নাগ বা সাপ যেমন- শীষ নাগ, কাল নাগ, পঙ্খীরাজ নাগ, দুধ নাগ ইত্যাদি থাকতো। তাই এ বিলের নাম নাগেশ্বরী। আর এ নাগেশ্বরী বিলের নাম অনুযায়ী মৌজার নাম, ইউনিয়নের নাম এবং থানার নাম। ৪১৫.৮০ বঃকিঃমি আয়তনের এই উপজেলার উত্তরে ভূরুঙ্গামারী উপজেলা ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের কুচবিহার জেলা, পূর্বে আসামের গোয়ালপাড়া জেলা, পশ্চিমে ফুলবাড়ী উপজেলা এবং দক্ষিণে কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা অবস্থিত। এই উপজেলা ২৫ ডিগ্রি ৫১ উত্তর অক্ষাংশ ও ২৬ ডিগ্রি ০৪ দক্ষিণ অক্ষাংশে অবস্থিত এবং ৮৯ ডিগ্রি ০৬ ও ৮৯ ডিগ্রি ৫৩ পূর্ব দ্রাঘিমাংশে অবস্থিত ২০০১ সালের আদমশুমারী অনুযায়ী এই উপজেলার মোট লোকসংখ্যা ৩,২২,১৩৪ জন।

এ উপজেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত দুধকুমর, ফুলকুমর, ব্রহ্মপুত্র নদ, গঙ্গাধর, সংকোষ ও অসংখ্য গিড়াই নদী। তাছাড়া এ এলাকায় সর্বত্রই ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে অসংখ্য জলাশয়। তার মধ্যে গোর্দ্ধার, নাগেশ্বরী, মসলিয়া, চতলা, ভোসতুলি, নকাইঝাড়, মাদারের কুড়া, হাড়াগিলা, বড়মানি, ছোটমানি, মন্নেয়ারকুড়া, কুমড়িয়া, শিবেরহাট, ভেলকারদহ, ভেলাকোবা, শিতলয়া, শুটকিয়া, কালাপাঠের কুড়া, কাশিরডারা, সাতকুড়া, কালাপানি ও আসমিতা, অন্তাই, বোয়ালেরডারা, কোটলডাঙ্গা, ফুলকুড়া, নরশিংডাঙ্গা, রায়গঞ্জ খাসবিল, পয়ড়াডাঙ্গা, মতিরছড়া, লটবিল, সারিসুরি, বুড়িরছড়া, বাগডাঙ্গা, সতিবাড়ি, নাওডাঙ্গা, ধরকা, নিমকুর্শা, ছোটধানী, বড়ধানী ও মাধাইখাল বিল প্রভৃতি জলাশয় অন্যতম। কিন্তু সরেজমিনে অনেক জলাশয় তার জৌলুস হারিয়ে বসেছে । নদ,নদী গুলোতেও আগের মত নাব্যতা নেই ।

ঊনবিংশ শতকের প্রথম দশক পর্যন্ত ইংরেজরা স্বাধীন বঙ্গপুর দখল করার জন্য দীর্ঘদিন যুদ্ধ পরিচালনা করে। এ যুদ্ধ মোকাবেলা করার জন্য নবাব নুরুলদ্দীন বঙ্গপুর রাজ্য কে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অংশে বিভক্ত করে।

ঊনবিংশ শতকের প্রথম দশকে রঙ্গপুর রাজ্যের পতন হয় এবং নাগেশ্বরী থানা এ দেশের ইংরেজ কর্তৃক অধিকৃত সর্বশেষ স্বাধীন থানা/এলাকা। লর্ড কর্ণ ওয়ালিশ কোড অনুযায়ী ইংরেজরা বাংলাদেশের অন্যান্য স্থানে পুলিশ স্টেসন স্থাপিত করলেও নাগেশ্বরী থানা স্থাপিত হয় ১৮১০ সালের কাছাকাছি সময়ে। উল্লেখ্য যে, ইংরেজরা এ উপজেলা দখল করার পর, নাগেশ্বরী থানাকে পয়ড়াডাঙ্গায় পূর্ণ প্রতিষ্ঠা না করে পয়ড়াডাঙ্গার তিন মাইল উত্তরে হলদিকুড়া ব্রিজের নিকট থানা স্থানান্তর করা হয়। এরশাদ সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রশাসনিক ইউনিট হিসেবে থানাকে মান উন্নীত থানায় রূপান্তর করা হয়। এসব মান উন্নীত থানাকে পরবর্তীতে উপজেলা হিসেবে নামকরণ করা হয়। ১৪ এপ্রিল ১৯৮৪ সালে নাগেশ্বরী থানাকে উপজেলায় উন্নীত করা হয়।

মুক্তিযুদ্ধে নাগেশ্বরী:-১৫ মাচ ১৯৭১ জনাব মোজাহার হোসেন চৌধুরীর নেতৃত্বে নাগেশ্বরীতে থানা সংগ্রাম কমিটি গঠিত হয়। তাদের নেতৃত্বে তৈরি করা হয় ১১০ টি বাংলাদেশের মানচিত্র খচিত পতাকা। ঐ দিন তাঁরা তহশিল অফিস সংলগ্ন পাবলিক ক্লাবের সামনে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করেন। ২৮ নভেম্বর দক্ষিণ ব্যাপারী হাটে পাক সেনাদের সাথে মুক্তিবাহিনী ও ভারতীয় সেনাদের সম্মলিত বাহিনীর যুদ্ধ হয়। ঐ দিন স্বাধীন হয় নাগেশ্বরী।

ইতিহাস থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী অতীতে নাগেশ্বরী উপজেলা প্রাচীন কামরূপ বা প্রাক-জ্যোতিষপুর রাজ্যের অধীন ছিল। ১২০৬ সালে গৌড়ের শাসনকর্তা গিয়াস উদ্দিন খিলজী কামরূপ দখল করেন। এসময় ব্রহ্মপুত্র উপত্যকা (সমগ্র নাগেশ্বরী) তাঁর হস্তগত হয়। কিন্তু অতিবৃষ্টি, দুর্গম পথ, পাহাড়ী ঢল এবং গুপ্ত বাহিনীর চোরা আক্রমণের শিকার হয়ে এক লক্ষ অশ্বরোহী থাকা সত্ত্বেও তিনি সুবিধা করতে পারেননি। ত্রয়োদশ শতাব্দীতে অহোমগণ ব্রহ্মপুত্রের পূর্বাংশ গোয়ালপাড়া জেলা ব্যতিত সমগ্র আসাম দখল করে এর নাম দেন অহম রাজ্য। এসময় কামরূপ রাজ্যের পশ্চিম সীমানায় কামতাপুর নামে এক নতুন পৃথক রাজ্য গঠিত হয়। গৌড়ের সুলতান মুবারক শাহ এর সেনাপতি শাহ ইসমাঈল গাজী ১৪৭৪ সালে কামরূপ জয় করেন। এই কামরূপ ছাড়াও বৃহত্তম রংপুর অঞ্চল তার হস্তগত হয়। নাগেশ্বরী সন্তোষপুর ইউনিয়নে শাহ ইসমাইল গাজীর সাথে কামরূপের অধিপতি কামেশ্বরের যে যুদ্ধ হয় তা কামেশ্বরের যুদ্ধ বলে ধারণা করা হয়। পঞ্চদশ শতাব্দীতে কামতাপুর রাজ্যের সেন বংশীয় হিন্দু রাজারা কিছুকালের জন্য রাজত্ব করেন। ১৫০৬ সালে তবারক খাঁ নাগেশ্বরী তথা কামতাপুর রাজ্য দখল করতে বিশাল নৌবহর নিয়ে ব্রহ্মপুত্র নদ দুয়ে আগমন করেন, কিন্তু ব্যর্থ হয়ে ফিরে যান। পরবর্তীতে আলাউদ্দিন হোসেন শাহ'র দুর্বল উত্তোরাধীকারীদের সুযোগে বিষ্ণু নামক একজন কোচ সর্দার আফগান শাসনের অবসান ঘটিয়ে তখনকার বৃহত্তর রংপুরের একাংশ দখল করে এর নামকরণ করেন কোচ বিহার। এসময় নাগেশ্বরী কোচ বিহারের অন্তর্ভুক্ত হয়। দীর্ঘ দিন কোচবিহার স্বাধীন রাজ্য হিসেবে বিরাজমান ছিল।

অবস্থান ও আয়তন[সম্পাদনা]

এই উপজেলাটি [২] বাংলাদেশের উত্তরে ও কুড়িগ্রাম জেলার উত্তরদিকে অবস্থিত

  • আয়তন: ৪১৫.৮০ বর্গ. কি. মি

প্রশাসনিক এলাকা[সম্পাদনা]

গ্রাম ৩৬৭ টি। সংসদীয় এলাকা: ১টি, নাম ও এলাকা- কুড়িগ্রাম - ১ (নাগেশ্বরী, ভুরুংগামারী)। পৌরসভা- নাগেশ্বরী পৌরসভা। ইউনিয়ন ১৪টি। ইউনিয়নগুলোর মধ্যে সন্তোষপুর ইউনিয়ন বিখ্যাত।

ইউনিয়নের তালিকা-

  • রামখানা
  • রায়গঞ্জ
  • সন্তোষপুর
  • বামনডাঙ্গা
  • নেওয়াশী
  • হাসনাবাদ
  • ভিতরবন্দ
  • নুনখাওয়া
  • কালীগঞ্জ
  • বেরুবাড়ী
  • কেদার
  • কচাকাটা
  • বল্লভেরখাস
  • নারায়নপুর

জনসংখ্যার উপাত্ত[সম্পাদনা]

জনসংখ্যার উপাত্ত:-ক) বর্তমান জনসংখ্যাঃ মোট ৩,২২,৩৯৯ জন।পুরুষ ১,৬১,৮০০ জন।মহিলা ১,৬০,৫৩৯ জন। ( সুত্রঃ ২০০১ এর আদম শুমারী) খ) জনসংখ্যা বিভাজনঃ মুসলমান ৩,০৫,০১১ জন।হিন্দু ১৬,৯২১ জন।বৌদ্ধ ৫৬ জন।খ্রিস্টান ১০১ জন।উপজাতি ১৪ জন ( কোচ) । গ) জনসংখ্যা ঘনত্বঃ প্রতি বর্গ কিলোমিটারে ৭৭৫ জন।জন্মের হার ১.৪৮ জন।মৃত্যুর হার ০.২৬ জন।

বর্তমান-

  • জনসংখ্যা: মোট ৩২২৪৬০, পুরুষ- ১৬২৫৬০ জন, মহিলা- ১৫৯৯০০ জন
  • ভোটার সংখ্যা: মোট- ২০২০৪৭ জন, পুরুষ- ১০২০০৬ জন, মহিলা- ১৪১০৪১ জন

শিক্ষা[সম্পাদনা]

  • শিক্ষার হার: ৩০.২৯%
  • কলেজ: ১২টি
  • হাইস্কুল: ৫৬টি
  • মাদ্রাসা: ৩৯টি
  • সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়: ৯৫টি
  • বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়: ৭৭টি

অর্থনীতি[সম্পাদনা]

  • পাকা রাস্তা: ৭২ কি. মি.
  • কাচা রাস্তা: ১২৮০ কি. মি.
  • মোট আবাদী জমি: ৭৫৫০০ একর
  • অর্থকরী ফসল: ধান, পাট, গম প্রভৃতি
  • শিল্প প্রতিষ্ঠান: নাই

কৃতী ব্যক্তিত্ব[সম্পাদনা]

ধর্মীয় উপাসনালয়[সম্পাদনা]

  • মসজিদ: ৬৫৭টি
  • মন্দির: ১৬টি

দর্শনীয় স্থান[সম্পাদনা]

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "এক নজরে নাগেশ্বরী"বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার। জুন ২০১৪। ২৬ নভেম্বর ২০১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২১ ডিসেম্বর ২০১৪ 
  2. জেলা উন্নয়ন পরিক্রমা। ২০০১-২০০৫, গণযোগাযোগ অধিদপ্তর, তথ্য মন্ত্রণালয়, ডিসেম্বর ২০০৫

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]