পাটগ্রাম উপজেলা
| পাটগ্রাম | |
|---|---|
| উপজেলা | |
মানচিত্রে পাটগ্রাম উপজেলা | |
| স্থানাঙ্ক: ২৬°২১′ উত্তর ৮৯°১′ পূর্ব / ২৬.৩৫০° উত্তর ৮৯.০১৭° পূর্ব | |
| দেশ | বাংলাদেশ |
| বিভাগ | রংপুর বিভাগ |
| জেলা | লালমনিরহাট জেলা |
| সংসদীয় আসন | লালমনিরহাট-১ |
| সরকার | |
| • ধরন | উপজেলা পরিষদ |
| • শাসক | পাটগ্রাম উপজেলা পরিষদ |
| • চেয়ারম্যান | পদ শূন্য |
| আয়তন | |
| • মোট | ২৪৬.৮৫ বর্গকিমি (৯৫.৩১ বর্গমাইল) |
| জনসংখ্যা (২০২২)[১] | |
| • মোট | ২,৬২,৫৭৬ |
| • জনঘনত্ব | ১,১০০/বর্গকিমি (২,৮০০/বর্গমাইল) |
| সাক্ষরতার হার | |
| • মোট | ৫৫% |
| সময় অঞ্চল | বিএসটি (ইউটিসি+৬) |
| প্রশাসনিক বিভাগের কোড | ৫৫ ৫২ ৭০ |
| ওয়েবসাইট | দাপ্তরিক ওয়েবসাইট |
পাটগ্রাম বাংলাদেশের লালমনিরহাট জেলার অন্তর্গত একটি উপজেলা।
অবস্থান ও আয়তন
[সম্পাদনা]লালমনিরহাট জেলা সদর থেকে প্রায় ৯০ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে এই উপজেলার অবস্থান। এই উপজেলার স্থানাঙ্ক ২৬°২১′ উত্তর ৮৯°০১′ পূর্ব / ২৬.৩৫০° উত্তর ৮৯.০১৭° পূর্ব। এই উপজেলাটির উত্তর, পূর্ব ও পশ্চিমে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, দক্ষিণে হাতীবান্ধা উপজেলা ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গের অংশ।
প্রশাসনিক এলাকা
[সম্পাদনা]

এই উপজেলায় একটি পৌরসভা ও আটটি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। এগুলো হলো-
ইতিহাস
[সম্পাদনা]পাটগ্রামের ইতিহাসের অন্যতম ঘটনা হচ্ছে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তান সেনাবাহিনী এখানে প্রবেশ করতে পারেনি, পাটগ্রামের বীরজনতার বীরত্বের কারণে। মুক্তিযুদ্ধের সময় পাটগ্রাম উপজেলা ছিল মুক্তাঞ্চল। এখানে কোন যুদ্ধ হয়নি। সারা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সংগঠকদের অভয়ারণ্য ছিল পাটগ্রাম উপজেলা। মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম এবং প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ এখানে অনেকবার এসেছিলেন। অস্থায়ী সরকারের প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ মুক্তাঞ্চল পাটগ্রাম এলে এক জনসভার আয়োজন করা হয়। উক্ত জনসভায় উপস্থাপনা করেছিলেন মরহুম আনোয়ারুল ইসলাম নাজু। এই সভায় সভাপতিত্ব করেছিলেন সংগ্রাম কমিটির সভাপতি আবেদ আলী।

এই উপজেলার বুড়িমারী ইউনিয়নের হাসরউদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ে স্থানে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল স্বাধীনতাযুদ্ধের ০৬নং সেক্টরের হেডকোয়ার্টার, এর সেক্টর কমান্ডার ছিলেন এম. কে বাসার।
জনসংখ্যার উপাত্ত
[সম্পাদনা]২০১১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী, পাটগ্রাম উপজেলায় মোট ৪৭,৮৯৩টি পরিবার এবং জনসংখ্যা ছিল ২,১৮,৬১৫ জন। এর মধ্যে ৫৯,২৭০ জন বা ২৭.১১% ছিল ১০ বছরের কম বয়সী।
পাঠগ্রামে ৭ বছর বা তার বেশি বয়সীদের গড় সাক্ষরতার হার ছিল ৪৬.১২%। এই হার জাতীয় গড় ৫১.৮%-এর চেয়ে কম। পুরুষ প্রতি নারী অনুপাত ছিল প্রতি ১০০০ জন পুরুষে ৯৭৫ জন নারী। মোট জনসংখ্যার ২৯,৬৬৫ জন বা ১৩.৫৭% শহরাঞ্চলে বসবাস করতেন।[৩][৪]
১৯৯১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী, তখন পাটগ্রাম উপজেলার জনসংখ্যা ছিল ১,৫৫,৯১৩ জন। এর মধ্যে পুরুষের হার ছিল ৫১.৫২% এবং নারীর হার ৪৮.৪৮%। ওই সময়ে ১৮ বছর ও তদূর্ধ্ব জনগোষ্ঠীর সংখ্যা ছিল ৭৫,১৩৪ জন।
পাটগ্রামের গড় সাক্ষরতার হার ছিল ২৫.২%। এটি জাতীয় গড় সাক্ষরতার হার ৩২.৪%-এর তুলনায় কম ছিল।[৫]
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো কর্তৃক প্রকাশিত আদমশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ অনুযায়ী পাটগ্রাম উপজেলার মোট জনসংখ্যা ২৬২,৫৭৬ জন।[৬]
এদের মধ্যে—
- পুরুষ: প্রায় ১,৩১,৩৯০ জন
- নারী: প্রায় ১,৩১,১৮৬ জন
- মোট পরিবার: প্রায় ৬৪,০০০টি
জনসংখ্যার ঘনত্ব প্রতি বর্গকিলোমিটারে প্রায় ১,০৭৮ জন।
শিক্ষা
[সম্পাদনা]উচ্চ বিদ্যালয়
- ইসলামী আদর্শ বিদ্যানিকেতন উচ্চ বিদ্যালয়
- বুড়িমারী হাশর উদ্দিন দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়
- পাটগ্রাম হুজুরউদ্দিন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়
- ধবলসতী উচ্চ বিদ্যালয়
- পাটগ্রাম তারক নাথ (টিএন) স্কুল এন্ড কলেজ
- পাটগ্রাম আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়
- বাউরা পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয়
- জগতবেড় উচ্চ বিদ্যালয়
- পাটগ্রাম এপি সিনিয়র মাদ্রাসা
- বাউরা আরেফা খাতুন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়
- পৌর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়
- মির্জারকোট উচ্চ বিদ্যালয়
- ধবলগুড়ি উচ্চ বিদ্যালয়
- আমানতুল্যা প্রধান মাধ্যমিক বিদ্যালয়
- আলিমুদ্দিন ছুবুরউদ্দিন গালর্স উচ্চ বিদ্যালয়
- জোংড়া ন্যাশনাল উচ্চ বিদ্যালয়
- কাউয়ামারী আপ্তার উদ্দিন প্রধান উচ্চ বিদ্যালয়।
- রসুলপুর আব্দাল হোসেন বসুনিয়া উচ্চ বিদ্যালয়
- পানবাড়ি উচ্চ বিদ্যালয়
- মহাবিদ্যালয়
- সরকারি জসমুদ্দিন কাজী আব্দুল গনি কলেজ
- পাটগ্রাম আদর্শ ডিগ্রি কলেজ
- পৌর টেকনিক্যাল এন্ড বিএম কলেজ
- বি এম কলেজ
- পাটগ্রাম টেকনিক্যাল এন্ড বি এম কলেজ।
- পাটগ্রাম মহিলা ডিগ্রি কলেজ।
- নাসিরউদ্দিন কলেজ
অর্থনীতি
[সম্পাদনা]বালু ও নুড়ি পাথরের জন্য বিখ্যাত এই উপজেলা, তামাক উৎপাদনেও শ্রেষ্ঠত্বের দাবীদার। আবাদ যোগ্য ২৪,৭০৫ হেক্টর জমির মধ্যে ২১,৩৫২ হেক্টর জমিতে আবাদ করা হয়। মোট আবাদী জমির ১১.৩৫% জমি তে-ফসলী, ৬২.৬২% জমি দো-ফসলী এবং ২৩% জমি এক-ফসলী। জনপ্রতি মোট জমির পরিমাণ ০.১৩ হেক্টর আর মোট জমির ৪৭% জমিতে ইরি ধান আবাদ করা হয়ে থাকে। এখন প্রধান অর্থকারী ফসলের মধ্যে ভুট্টা প্রথমে রয়েছে। এই উপজেলার অর্থনীতির পট পরিবর্তন করে দিয়েছে একমাত্র ভুট্টা। নিশ্চিত ভাবে একমাত্র লাভবান হওয়া ফসলের নাম বলতে ভুট্টা বোঝানো হয়। এ উপজেলার উৎপাদিত ভুট্টার এক তৃতীয়াংশ ভুট্টার আবাদ হয় পাটগ্রাম শহরের দক্ষিণ- পূর্বের,ধরলা নদীর উপত্যকায় অবস্থিত ধবলগুড়ি গ্রামে।
যোগাযোগ
[সম্পাদনা]
এই উপজেলার বুড়িমারীর সাথে ভারতের চেংরাবান্ধা সীমান্তে একটি স্থলবন্দর রয়েছে।
সাংস্কৃতিক
[সম্পাদনা]পাটগ্রাম উপজেলা ঐতিহাসিক ভাবে একটি সাংস্কৃতিক ভাবে সমৃদ্ধ অঞ্চল। সারা উপজেলায় প্রায় পঞ্চাশটির মতো সাংস্কৃতিক সংগঠন রয়েছে। এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে প্রাণের-৭১, পাটগ্রাম নৃত্যকলা একাডেমি, রংতুলি একাডেমি, করডর থিয়েটার, স্পৃহা, ধরলা সংগীত নিকেতন, ভোটার উৎসাহ টিম, টিম ৭১ উল্লেখযোগ্য। উপজেলার সব সাংস্কৃতিক সংগঠন গুলোকে নিয়ন্ত্রণ করে পাটগ্রাম উপজেলা সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট।
উল্লেখযোগ্য ব্যক্তি
[সম্পাদনা]- আবিদ আলী - রাজনীতিবিদ
- হাসানুজ্জামান হাসান - রাজনীতিবিদ
- কাজী নুরুজ্জামান - রাজনীতিবিদ
- হাসান রাজিব প্রধান - রাজনীতিবিদ
- মুসফিক হাসান - ক্রিকেটার
দর্শনীয় স্থান
[সম্পাদনা]নদ-নদী
[সম্পাদনা]- ধরলা
- সানিয়াজান নদী
- সিংগিমারী নদী
- চেনাকাটা
তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন (জুন ২০১৪)। "এক নজরে পাটগ্রাম"। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার। ২১ এপ্রিল ২০১৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৩১ ডিসেম্বর ২০১৪।
- ↑ জনসংখ্যা ও গৃহগণনা ২০২২ - জেলা প্রতিবেদন: লালমনিরহাট (পিডিএফ)। জেলা সিরিজ। ঢাকা: বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো। জুন ২০২৪। আইএসবিএন ৯৭৮-৯৮৪-৪৭৫-২৫৩-৫। ৭ অক্টোবর ২০২৪ তারিখে মূল থেকে (পিডিএফ) আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৭ আগস্ট ২০২৫।
- ↑ "Bangladesh Population and Housing Census 2011 Zila Report – Lalmonirhat" (পিডিএফ)। bbs.gov.bd। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো। ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২২ তারিখে মূল থেকে (পিডিএফ) আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৭ আগস্ট ২০২৫।
- ↑ "Community Tables: Lalmonirhat district" (পিডিএফ)। bbs.gov.bd। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো। ২০১১। ২৭ এপ্রিল ২০১৯ তারিখে মূল থেকে (পিডিএফ) আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৭ আগস্ট ২০২৫।
- ↑ "Population Census Wing, BBS."। ২৭ মার্চ ২০০৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১০ নভেম্বর ২০০৬।
- ↑ "Population and Housing Census 2022: National Report, Volume-3"। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো। সংগ্রহের তারিখ ১৮ আগস্ট ২০২৫।