রাজারহাট উপজেলা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
রাজারহাট
উপজেলা
রাজারহাট বাংলাদেশ-এ অবস্থিত
রাজারহাট
রাজারহাট
বাংলাদেশে রাজারহাট উপজেলার অবস্থান
স্থানাঙ্ক: ২৫°৪৮′ উত্তর ৮৯°৩৩′ পূর্ব / ২৫.৮০০° উত্তর ৮৯.৫৫০° পূর্ব / 25.800; 89.550স্থানাঙ্ক: ২৫°৪৮′ উত্তর ৮৯°৩৩′ পূর্ব / ২৫.৮০০° উত্তর ৮৯.৫৫০° পূর্ব / 25.800; 89.550 উইকিউপাত্তে এটি সম্পাদনা করুন
দেশ বাংলাদেশ
বিভাগরংপুর বিভাগ
জেলাকুড়িগ্রাম জেলা
আয়তন
 • মোট১৬৫.৫৯ কিমি (৬৩.৯৩ বর্গমাইল)
জনসংখ্যা (২০১১)
 • মোট১,৯২,৬৮৯[১]
সময় অঞ্চলবিএসটি (ইউটিসি+৬)
পোস্ট কোড৫৬১০ উইকিউপাত্তে এটি সম্পাদনা করুন
প্রশাসনিক
বিভাগের কোড
৫৫ ৪৯ ৭৭
ওয়েবসাইটপ্রাতিষ্ঠানিক ওয়েবসাইট Edit this at Wikidata

রাজারহাট উপজেলা বাংলাদেশের কুড়িগ্রাম জেলার একটি প্রশাসনিক এলাকা।

অবস্থান ও আয়তন[সম্পাদনা]

এই উপজেলাটি জেলা সদর থেকে পশ্চিম দিকে ২৫’৩৮-২৫’৫৩ উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮৯’২৭-৮৯’৩৮ পুর্ব দ্রাঘিমা অংশের মধ্যে অবস্থিত। এ উপজেলার উত্তরে লালমনিরহাট জেলা,পশ্চিমে রংপুর জেলার, কাউনিয়া উপজেলা দক্ষিণে উলিপুর উপজেলা, এবং পুর্বে কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা। এই উপজেলার মোট আয়তন ১৬৫.৫৯ বর্গ কিলোমিটার।[২]

প্রশাসনিক এলাকা[সম্পাদনা]

  1. ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়ন
  2. ছিনাই ইউনিয়ন
  3. রাজারহাট ইউনিয়ন
  4. চাকিরপশার ইউনিয়ন
  5. বিদ্যানন্দ ইউনিয়ন
  6. উমরমজিদ ইউনিয়ন
  7. নজিমখাঁন ইউনিয়ন

ইতিহাস ও নামকরণ[সম্পাদনা]

রাজারহাটের নাম কেন রাজারহাট হলো, তা নিয়ে ব্যাপক মতভেদথাকা সত্বেও কেউই সঠিক কারণটি বের করতে পারেননি। অনেকে বলেন ১২শ শতকের প্রথম দিকে রংপুরে সেন বংশের শাসন শুরু হয় । সেন বংশের রাজা ছিলেন নীলধবজ চন্দ্র সেন ও নীলম্বর সেন । রাজা নীলাম্বর সেন ছিলেন খুব শক্তিশালী। তিনি অনেক যুদ্ধে জয়লাভ করেছিলেন। তার রাজধানী ছিল চতলা নামক স্থানে। এ চতলা বর্তমানে রাজারহাট উপজেলার বিদ্যানন্দ ইউনিয়নে অবস্থিত। এখানে ছিল শক্তিশালী রাজা নীলাম্বরের দুর্গ। ১৪১৮খ্রিষ্টাব্দে গৌড়ের সুলতান হোসেন শাহ আক্রমণ করেন নীলম্বরের রাজ্য। তিস্তানদীর পাড়ে উভয় পক্ষের তুমুল যুদ্ধ হয়েছিল। এ যুদ্ধে রাজা নীলম্বর পরাজিত হয়ে আসামে পালিয়ে যায়। ধবংসপ্রাপ্ত হয় নীলম্বরের রাজধানী। নীলম্বরের বিরুদ্ধে যুদ্ধ পরিচালনা করেন সুলতান সুলতান হোসেন শাহের পুত্র নাসিরউদ্দিন আবুল মোজাফফর নশরত শাহ্। স্থানীয় লোকজন রাজার স্মৃতি ধরে রাখার জন্য এ এলাকার নাম করণ করেছেন রাজারহাট।

আবার অনেকের মতে তৎকালীন সময়ে রাজারহাট বলে কোন স্থানের নাম ছিল না। বৃটিশ আমলে তৈরি রেল লাইন দিয়ে ধীরগতিতে চলাচল করত বাম্পীয় ইঞ্জিনবিশিষ্ট লেংটাগাড়ী। গাড়ী যে স্থানে থামত তার নাম ছিল পয়ামারী। এ পয়ামারীর পাশে ছিল দুই একটি দোকান। পাঙ্গা রাজ বংশের শেষ রাজা দেবেন্দ্র নারায়ন মেকুটারী মৌজার প্রজাদের সাথে কুশল বিনিময়ের জন্যমাঝে মাঝে আসতেন। রাজা দেবেন্দ্র নারায়ণ আসার কারণে সেখানে দোকান পাট বাড়তে থাকে। তার ফলে পাঙ্গা রাজার খাস জমিতে হাটটি লাগানো হয়। জায়গাটি পাঙ্গা রাজার তাই হাটটির নাম করণ করা হয়েছে রাজারহাট । রাজারহাটের নামকরণ ও ইতিহাস প্রসঙ্গে এই মতবাদটি আলোচিত ও সার্বজনীন ।

পূর্বে রাজারহাট ছিল একটি ইউনিয়ন মাত্র। তদানিন্তন সময়ে পুলিশ প্রশাসনের প্রয়োজন হেতু পাকিস্তান সরকার এখানে একটি পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন করে। সত্তরের আন্দোলনের সময়ে সেটি উঠিয়ে দেয়া হয়।স্বাধীনতার ৭ বছর পর তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ট্রেন যোগে কুড়িগ্রাম সফরকালে অত্র এলাকার জন সাধারণের কথা বিবেচনা করে এ ইউনিয়নটিকে থানায় উন্নীত করনের প্রতিশ্রুতি প্রদান করেন। পরে উলিপুর থানার অধিনস্ত ৪টি ইউনিয়ন ও লালমনিরহাট থানার ৩টি ইউনিয়নসহ মোট ৭টি ইউনিয়নের সমন্বয়ে রাজারহাট থানা ঘোষণা হয়। পরবর্তী সময়ে রাজারহাট উপজেলা ঘোষণা হয় এবং ১৯৮৩ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর রাজারহাট উপজেলা কার্যক্রম শুরু হয় ও একটি দ্বিতল ভবন নির্মাণ করা হয়।[৩]

জনসংখ্যার উপাত্ত[সম্পাদনা]

ভাষা ও ভাষাগত বৈশিষ্ট্য[সম্পাদনা]

বর্তমান কুড়িগ্রাম জেলার রাজারহাট উপজেলা বৃহত্তর রংপুর অঞ্চলের(বিভাগ) একটি উপজেলা। উপজেলা হিসেবে রাজারহাটে আত্মপ্রকাশ অধুনা হলেও এ অঞ্চলের ভাষার ঐতিহ্য সুপ্রাচীন। বাংলা ভাষার আদি নিদর্শন ৬৫০ থেকে ১২০০ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে রচিত চর্যাপদ। এর ভাষা-ভঙ্গি বিশ্লেষণে বলা হয়ে থাকে যে, বাংলা ভাষার উৎপত্তি ঘটেছে গৌড়ীয় প্রাকৃত থেকে গৌড়ীয় অপভ্রংশের মধ্যদিয়ে বঙ্গ-কামরূপী আদি স্তরহতে। চর্যাপদের ভাষায় রাজারহাট উপজেলার ভাষা-ভঙ্গির অনেক নিদর্শন লক্ষ্য করা যায়। ঘিন, আইস,পসরি প্রভৃতিসহ চর্যাপদে ব্যবহৃত আরও অনেক শব্দ কুড়িগ্রাম জেলার লোকসমাজে এখনও প্রচলিত রয়েছে।

  • রাজারহাট উপজেলার লোকসমাজে প্রচলিত ভাষার লক্ষণীয় কিছু বিশেষ দিক নিম্নেপ্রদত্ত হলো-

০১. ক্রিয়াপদের আগে‘না’এর ব্যবহার। যেমন ; না খাওঁ (খাইনা), না যাওঁ (যাইনা)।

০২.‘র’বর্ণের স্থলে‘অ’বর্ণ ব্যবহারের প্রবণতা। যেমন ; অং (রং), অসূণ (রসূণ)।

০৩.‘ল’বর্ণের স্থলে‘ন’বর্ণ ব্যবহারের প্রবণতা। যেমন ; নাল (লাল), নাউ (লাউ)।

০৪. স্থানের নামের শেষের বর্ণে এ-কার থাকলে তা তুলে দিয়ে শব্দের শেষে‘ত’বর্ণ যুক্তকরণের প্রবণতা। যেমন; মাঠত (মাঠে),ঘাটত (ঘাটে), হাটত (হাটে)।

০৫. ভবিষ্যতে স্বয়ং কর্ম সম্পাদনের ক্ষেত্রে ক্রিয়াপদের শেষে‘ম’বর্ণ ব্যবহারের প্রবণতা। যেমন ; যাইম, খাইম, দেখিম।

০৬. সম্বোধনের ক্ষেত্রে ব্যবহুত কতিপয় শব্দের উদাহরণ হচ্ছে- মুঁই (আমি), হামরা (আমরা), তুঁই (তুমি), তোমরাগুলা (তোমরা), অঁয় (সে), ওমরা/ওমরাগুলা (তারা)।[৪]

সাহিত্য ও সংস্কৃতি[সম্পাদনা]

বাংলাদেশের অন্য সব অঞ্চলের মত রাজারহাটেরও ছিল নিজস্ব সংস্কৃতি । লোকসমাজে প্রচলিত ছড়া, ছেল্লক (ধাঁধাঁ বা ছিল্কা), প্রবাদ-প্রবচন,গীত, মন্ত্র, লোকসঙ্গীত প্রভৃতি লোক সাহিত্যের মূল্যবান উপাদান। এগুলোর মধ্যদিয়ে আবহমানকাল ধরে চলে আসা এ অঞ্চলের মানুষের রুচি, বিশ্বাস, আচার-আচরণ, সংস্কার, রসবোধ, সুখ-দুঃখ, উপদেশ, নিষেধ ইত্যাদির পরিচয় ফুটে ওঠে। যদিও আগের ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতিক আসরগুলো দেখা যায়না ।

  • লোকসঙ্গীত:

লোকসঙ্গীতের মধ্যে ভাওয়াইয়া, পল্লীগীতি এবং বাউল সঙ্গীতই প্রধান। এ ছাড়া লোকগান,কবিগান,পালাগান অনতম ।

এ ছাড়া মায়েদের ঘুমপাড়ানি গান, প্রবাদ প্রবচন ও লোককথা এই অঞ্চলের সমাজের প্রতিরূপ ।[৫]

শিক্ষা[সম্পাদনা]

অর্থনীতি[সম্পাদনা]

মোট আবাদী জমি: ৩০১০৯.৩০ একর

কৃতী ব্যক্তিত্ব[সম্পাদনা]

  • আব্দুল্লাহ্ সোহরাওয়ার্দ্দী (সাবেক গণপরিষদ ও সংসদ সদস্য)
  • আবু সাঈদ চৌধুরী (রাজনৈতিক
  • রাউফুন বসুনীয়া (সৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে শহীদ হওয়া ছাত্রনেতা)
  • জাহাঙ্গীর হোসেন চৌধুরী (রাজারহাট উপজেলা পরিষদের প্রথম চেয়ারম্যান)
  • হায়দার বসুনীয়া (কবি ও সাহিত্যিক)
  • ড. তুহিন ওয়াদুদ (বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক ও কলামিস্ট)
  • ভবানী পাঠক(ইংরেজ বিদ্রহী)

ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান[সম্পাদনা]

বিবিধ[সম্পাদনা]

ব্যাংকগুলো হচ্ছে:

 ১। সোনালী ব্যাংক লিমিটেড, রাজারহাট শাখা।
 ২। অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেড, রাজারহাট শাখা।
 ৩। রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, রাজারহাট শাখা।
 ৪। রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, সিংগারডাবড়ীহাট শাখা, ঘড়িয়ালডাঙ্গা, রাজারহাট, কুড়িগ্রাম।
 ৫। অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেড, নাজিমখাঁন শাখা, রাজারহাট, কুড়িগ্রাম।

দর্শনীয় স্থান[সম্পাদনা]

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "এক নজরে রাজারহাট উপজেলা"বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার। জুন ২০১৪। ১৬ জানুয়ারি ২০১৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২১ ডিসেম্বর ২০১৪ 
  2. জেলা উন্নয়ন পরিক্রমা। ২০০১-২০০৫, গণযোগাযোগ অধিদপ্তর, তথ্য মন্ত্রণালয়, ডিসেম্বর ২০০৫
  3. "রাজারহাট উপজেলার পটভূমি"। ১৬ জানুয়ারি ২০১৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ 
  4. বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন (জুন ২০১৪)। "রাজারহাট উপজেলা ভাষা ও সংস্কৃতি"। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার। ১৬ জানুয়ারি ২০১৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২১ ডিসেম্বর ২০১৪ 
  5. বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন (জুন ২০১৪)। "রাজারহাট উপজেলার ভাষা ও সংষ্কৃতি"। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার। ১৬ জানুয়ারি ২০১৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২১ ডিসেম্বর ২০১৪ 
  6. বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন (জুন ২০১৪)। "রাজারহাট উপজেলা কলেজের তালিকা"। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার। ১৫ জানুয়ারি ২০১৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২১ ডিসেম্বর ২০১৪ 
  7. বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন (জুন ২০১৪)। "রাজারহাট উপজেলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের তালিকা"। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার। ১৫ জানুয়ারি ২০১৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২১ ডিসেম্বর ২০১৪ 
  8. বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন (জুন ২০১৪)। "রাজারহাট উপজেলা মাদ্রাসার তালিকা"। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার। ১৫ জানুয়ারি ২০১৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২১ ডিসেম্বর ২০১৪ 
  9. বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন (জুন ২০১৪)। "রাজারহাট উপজেলা প্রথমিক বিদ্যালয়ের তালিকা"। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার। ১৬ জানুয়ারি ২০১৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২১ ডিসেম্বর ২০১৪ 
  10. বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন (জুন ২০১৪)। "রাজারহাট রাজারহাট উপজেলা প্রথমিক বিদ্যালয়ের তালিকা তালিকা"। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার। ১৬ জানুয়ারি ২০১৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২১ ডিসেম্বর ২০১৪ 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]