জামিলুর রেজা চৌধুরী

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
জামিলুর রেজা চৌধুরী
Jamilur Reza Choudhury (18) (cropped).jpg
জামিলুর রেজা চৌধুরী (ঢাকা, ২০১৮)
জন্ম(১৯৪২-১১-১৫)১৫ নভেম্বর ১৯৪২
জাতীয়তাপাকিস্তান পাকিস্তানী (১৯৪৭-১৯৭১)
বাংলাদেশ বাংলাদেশী (১৯৭১-)
জাতিসত্তাবাঙালি
নাগরিকত্ববাংলাদেশ
পেশাতথ্য-প্রযুক্তিবিদ,[১] শিক্ষকতা
দাম্পত্য সঙ্গীসেলিনা নওরোজ চৌধুরী
সন্তানকারিশমা ফারহিন চৌধুরী (মেয়ে)
কাশিফ রেজা চৌধুরী (ছেলে)
পুরস্কারএকুশে পদক (২০১৭)[২]

অধ্যাপক ড. জামিলুর রেজা চৌধুরী (জন্ম: ১৫ নভেম্বর ১৯৪২) বাংলাদেশের একজন খ্যাতনামা প্রকৌশলী, গবেষক, শিক্ষাবিদ, বিজ্ঞানী, তথ্য-প্রযুক্তিবিদ ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা। তিনি বর্তমানে ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের উপাচার্য পদে কর্মরত।[৩] ২০১৮ সালের ১৯ জুন বাংলাদেশ সরকার তাকে জাতীয় অধ্যাপক হিসেবে নিয়োগ দেয়।[৪]

জন্ম ও শিক্ষাজীবন[সম্পাদনা]

ড. জামিলুর রেজা চৌধুরী ১৯৪২ সালের ১৫ নভেম্বর সিলেট শহরে জন্মগ্রহণ করেন ৷ তার বাবা প্রকৌশলী আবিদ রেজা চৌধুরী এবং মা হায়াতুন নেছা চৌধুরী ৷ তিন ভাই দুই বোনের মধ্যে তার অবস্থান তৃতীয় ৷ ড. জামিলুর রেজা চৌধুরীর শৈশবকাল বিচিত্র অভিজ্ঞতায় পরিপূর্ণ ৷ বাবার চাকরির সুবাদে দেশের বিভিন্ন জায়গায় তার শৈশবকাল কেটেছে ৷ তিন বছর বয়সে সিলেট ছেড়ে পরিবারের সঙ্গে চলে যান আসামের জোড়হাটে ৷ ১৯৪৭ সালের আগস্টে আবার সিলেটে ফিরে আসেন ৷ এরপর তার বাবা বদলি হয়ে ময়মনসিংহে চলে যান। সেন্ট গ্রেগরিজ স্কুল থেকে তিনি ১৯৫৭ সালে ম্যাট্রিক পরীক্ষা দেন ৷ এরপর ঢাকা কলেজ থেকে ১৯৫৯ সালে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেন ৷ এরপর ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার জন্য তিনি ভর্তি হন আহসানউল্লাহ ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে (বর্তমানে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়) ৷ ১৯৬৩ সালে তিনি প্রথম বিভাগে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং পাস করেন।

কর্মজীবন[সম্পাদনা]

বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ফলাফল প্রকাশের কয়েকদিন পর নিয়োগপত্র ছাড়াই বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস নেন তিনি। পরবর্তীতে ১৯৬৩ সালের নভেম্বর মাসে তিনি প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন পুরকৌশল বিভাগে ৷ এভাবেই তার শিক্ষকতা জীবন শুরু হল। ১৯৬৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে বার্মাশেল বৃত্তি নিয়ে চলে যান ইংল্যান্ডে ৷ এই বৃত্তি বছরে একটাই দেয়া হতো ৷ সাউদাম্পটন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি এমএসসি করেন, অ্যাডভান্স স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ৷ থিসিসের বিষয় ছিল, কংক্রিট বিমে ফাটল ৷ ১৯৬৮ সালে তিনি কম্পিউটার এইডেড ডিজাইন অব হাইরাইজ বিল্ডিং বিষয়ের উপর পিএইচডি করেন। পিএইচডি শেষ করে দেশে ফিরে তিনি বুয়েটের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে যোগ দেন ৷ এর পর ১৯৭৩ সালে সহযোগী অধ্যাপক ও ১৯৭৬ সালে অধ্যাপক হিসেবে পদোন্নতি পান ৷ ২০০১ সাল পর্যন্ত বুয়েটে অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত ছিলেন ৷ এর মধ্যে কখনো বিভাগীয় প্রধান ছিলেন, ডিন ছিলেন ৷ বুয়েটের কম্পিউটার সেন্টারের পরিচালক ছিলেন প্রায় ১০ বছর ৷ ১৯৭৯ সালে ব্যাংককে UNESCAP- এ কয়েক মাস পরামর্শক হিসেবে ছিলেন ৷ ১৯৭৪-১৯৭৫ সালে কমনওয়েলথ স্কলারশিপ নিয়ে তিনি যুক্তরাজ্যের সারে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিজিটিং এসোসিয়েট প্রফেসর ছিলেন ৷ ২০০১ সাল থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত তিনি ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন৷[৫] ১৯৯৭ থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত চট্টগ্রাম বিআইটির গভর্নিং বোর্ডের চেয়ারম্যান ছিলেন ৷ বাংলাদেশ শিল্প ব্যাংকের পরিচালক পর্ষদের চেয়ারম্যান ছিলেন ১৯৯৬ থেকে ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত ৷ তিনি ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন যুক্তরাজ্যের সিভিল ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের ফেলো ৷ যুক্তরাজ্যের একজন চার্টার্ড ইঞ্জিনিয়ার, বাংলাদেশ কম্পিউটার সোসাইটির ফেলো ৷ ১৯৯২ থেকে ১৯৯৩ পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশ ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের সভাপতি ছিলেন ৷ বাংলাদেশ আর্থকোয়েক সোসাইটি এবং বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা), বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াড কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন৷[৬][৭] অধ্যাপক চৌধুরী বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনের সফটওয়্যার রফতানি এবং আইটি সার্ভিস রপ্তানী-সংক্রান্ত টাস্ক ফোর্সের চেয়ারম্যান ছিলেন ১৯৯৭ থেকে ২০০২ সাল পর্যন্ত ৷ তিনি প্রধানমন্ত্রীর আইসিটি টাস্কফোর্সের একজন সদস্য ৷ এছাড়া তিনি আরো অসংখ্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেও জড়িত ৷ বর্তমানে তিনি ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের উপাচার্য হিসেবে কর্মরত। [৩]

প্রকাশনা[সম্পাদনা]

দেশে-বিদেশে বিভিন্ন অবদানের জন্য সমাদৃত জামিলুর রেজা চৌধুরীর ৬৫টি গবেষণা-প্রবন্ধ রয়েছে।

পারিবারিক জীবন[সম্পাদনা]

তার স্ত্রীর নাম সেলিনা নওরোজ চৌধুরী; তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফলিত পদার্থবিদ্যায় মাস্টার্স ডিগ্রিধারী৷ ব্যক্তিজীবনে তিনি দুই সন্তানের জনক; বড় সন্তান (মেয়ে) কারিশমা ফারহিন চৌধুরী পেশায় পুরকৌশলী এবং ছোট সন্তান (ছেলে) কাশিফ রেজা চৌধুরী ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ডিগ্রী করেছেন৷

পুরস্কার ও সম্মাননা[সম্পাদনা]

  • একুশে পদক (২০১৭)[৮]
  • শেলটেক পুরস্কার (২০১০) [৯]
  • বাংলাদেশ ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউশন স্বর্ণপদক (১৯৯৮)
  • ড. রশিদ স্বর্ণপদক (১৯৯৭)
  • রোটারি সিড অ্যাওয়ার্ড (২০০০)
  • লায়ন্স ইন্টারন্যাশনাল (ডিস্ট্রিক-৩১৫) স্বর্ণপদক
  • ম্যানচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি পেয়েছেন। তিনিই একমাত্র বাংলাদেশি, যিনি একটি ব্রিটিশ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকৌশল বিষয়ের ওপর এ ধরনের ডিগ্রি পেয়েছেন।[১০]
  • জাইকা রিকগনিশন অ্যাওয়ার্ড[১১][১২]

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. বাসস (২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৭)। "একুশে পদক প্রদান করলেন প্রধানমন্ত্রী"। বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাংলাদেশের জাতীয় সংবাদ সংস্থা)। ২০১৭-০২-২৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১০ জুন ২০১৭ 
  2. ইকবাল, দিদারুল (২২ ফেব্রুয়ারি ২০১৭)। "একুশে পদক প্রদান করেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী"। চীন আন্তর্জাতিক বেতার (সিআরআই)। সংগ্রহের তারিখ ১০ জুন ২০১৭ 
  3. দৈনিক প্রথম আলো
  4. "জাতীয় অধ্যাপক হলেন আনিসুজ্জামান, রফিকুল ইসলাম ও জামিলুর রেজা চৌধুরী"বাংলা ট্রিবিউন। সংগ্রহের তারিখ ২০১৮-০৬-১৯ 
  5. ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির এগিয়ে চলা আর্কাইভইজে আর্কাইভকৃত ১০ সেপ্টেম্বর ২০১২ তারিখে দৈনিক সমকাল
  6. বাংলাদেশের ক্ষুদে গণিতবিদরা নেদারল্যান্ড যাচ্ছে ১৫ জুলাই ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ৪ ডিসেম্বর ২০১১ তারিখে বিডিনিউজ ২৪ ডট কম
  7. কোয়ান্টাম
  8. একুশে পদক পাচ্ছেন ১৭ বিশিষ্টজন
  9. শেলটেক পুরস্কার পেলেন জামিলুর রেজা চৌধুরী
  10. জামিলুর রেজা চৌধুরী সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি পেলেন দৈনিক প্রথম আলো
  11. দৈনিক প্রথম আলো
  12. দ্য ডেইলি স্টার

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]