সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
সরাসরি যাও: পরিভ্রমণ, অনুসন্ধান
চিত্র:Sylhet News 10.12.14 (Monwar-1) (3).jpg
সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার

সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার হল বাংলাদেশের সিলেট মহানগরীর চৌহাট্টা এলাকায় অবস্থিত সিলেট জেলার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার।[১]

স্থপতি[সম্পাদনা]

সিলেটের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের মূল নকশাকার শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপত্য বিভাগের শিক্ষক শুভজিত চৌধুরী। এছাড়াও কৌশিক সাহা, সিপাউল বর চৌধুরী, ধীমান চন্দ্র বিশ্বাস ও জিষ্ণু কুমার দাস এটি নির্মাণে সহযোগী স্থপতি হিসেবে কাজ করেন।[১]

স্থাপত্য ও তাৎপর্য[সম্পাদনা]

সিলেটি ঐতিহ্যকে মিশিয়ে তৈরি করা হয়েছে এই শহীদ মিনার। সিলেটের চা বাগানের ফাঁক দিয়ে নতুন ভোরে নবদিগন্তে যেভাবে রক্তিম সূর্যের দেখা মেলে, সেই রূপ আর আবহমান বাংলার সংগ্রামী চেতনাকে প্রস্ফুটিত করে নির্মাণ করা হয়েছে এটি। সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকার আয়তন ৩৩ শতাংশ। এর মধ্যে ৮ শতাংশ জায়গার উপর স্থাপিত হয়েছে শহীদ মিনারটি। এতে সমতল ভূমি থেকে ১০০ ফুট চওড়া আন্দোলিত ভূমি তৈরি করা হয়েছে। এই আন্দোলিত ভূমিকে শহীদ মিনারের মুখ্য বিষয়বস্তু হিসেবে প্রকাশ করা হয়েছে। উক্ত ভূমি থেকে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে তিনটি স্তম্ভ। মাঝের স্তম্ভের উচ্চতা ৪৫ ফুট। আন্দোলিত ভূমির উপর ৪৫ ফুট উচ্চতার স্তম্ভটির মাধ্যমে আন্দোলিত ভূমি থেকে জেগে উঠা বাঙালির আবহমান সংগ্রামী চেতনাকে নির্দেশ করে। স্তম্ভ তিনটির সম্মিলিত প্রস্থ ৩০ ফুট। স্তম্ভগুলো কংক্রিট দিয়ে তৈরি করে এর উপর শ্বেত পাথর বসানো হয়েছে। মাঝের স্তম্ভটিতে বসানো হয়েছে রক্তিম সূর্য। সূর্যোদয়ের মাধ্যমে নতুন দিনের কথা জানাতে সূর্যটি স্তম্ভটিতে স্থাপন করা হয়েছে। স্টিলের তৈরি লাল রঙের এই সূর্যের ব্যাস সাড়ে পাঁচ ফুট। মাঝের স্তম্ভের ডানে-বাঁয়ে যে দুটি স্তম্ভ রয়েছে, সেগুলোতে জানালার মতো চারটি অংশ রয়েছে। এসব জানালায় বাঙালির মুক্ত জীবনকে প্রতীকীভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।[১]

ইতিহাস[সম্পাদনা]

১৯৮৮ সালে সিলেট মহানগরীর চৌহাট্টা এলাকায় মুক্তিযোদ্ধা মরহুম ইয়ামিন চৌধুরী বীরবিক্রম, ইফতেখার হোসেন শামীম, ছদরউদ্দিন চৌধুরী ও মোঃ শওকত আলীর উদ্যোগে শহীদ মিনারটি নির্মিত হয়। শুরুতে এটি সাধারণ শহীদ মিনার হিসেবে ব্যাবহৃত হলেও পরবর্তীকালে এটি সিলেটের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের মর্যাদা লাভ করে।[১] ২০১৩ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ভাংচুর চালায় একদল বিক্ষোভকারী। এতে শহীদ মিনারটি ক্ষতিগ্রস্থ হয়।[২] এরপর তৎকালীন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের উদ্যোগে সিলেট সিটি করপোরেশনের ব্যবস্থাপনায় তিন কোটি টাকা ব্যয়ে শহীদ মিনারটি পুনর্নির্মিত হয়।[১][২] ২০১৪ সালের ১০ ডিসেম্বর, বুধবার সন্ধ্যা সোয়া ৬টায় পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এর উদ্বোধন করেন।[১]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]