উবায়দুল হক

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
মাওলানা উবায়দুল হক
জন্ম২ মে ১৯২৮
সিলেট জেলার জকিগঞ্জ থানার বারোঠাকুরি গ্রামে[১]
মৃত্যু৬ অক্টোবর ২০০৭
জাতীয়তাবাংলাদেশী
নাগরিকত্ববাংলাদেশী
শিক্ষাদারুল উলূম দেওবন্দ
নিয়োগকারীবায়তুল মোকাররম
যে জন্য পরিচিতখতিব
আদি শহরজকিগঞ্জ, সিলেট
পিতা-মাতা
  • মাওলানা জহরুল হক (পিতা)
  • মুসাম্মাৎ আয়েশা বেগম (মাতা)

মাওলানা উবায়দুল হক একজন বাংলাদেশী মুহাদ্দিস,মুফাসসিরশিক্ষাবীদ। তিনি ছিলেন বাংলাদেশের জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের তৃতীয় খতীব (১৯৮৪-২০০৭), বিশিষ্ট ইসলামী ব্যক্তিত্ব এবং বহু উচ্চ মানসম্পন্ন ইসলামী গ্রন্থাবলীর রচয়িতা ও সংকলক।[২]

জন্ম ও পারিবারিক পরিচিতি[সম্পাদনা]

মাওলানা উবায়দুল হক ১৯২৮ সালের ২ মে সিলেট জেলার জকিগঞ্জ থানার বারোঠাকুরি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। মাওলানা জহরুল হক হলেন খতিব মাওলানা উবায়দুল হকের পিতা। তিনি ১৩৩৫ হিজরিতে দারুল উলুম দেওবন্দ থেকে হাদিসের সর্বোচ্চ ডিগ্রি অর্জন করে ১৩৩৬ হিজরিতে হাকিমুল উম্মাত মাওলানা আশরাফ আলী থানভী (র.) এর কাছ থেকে খেলাফতি লাভ করেছিলেন। খতিব মাওলানা উবায়দুল হকের মা মুসাম্মাৎ আয়েশা বেগম একজন অত্যন্ত পরহেজগার, কর্তৃত্বশীলা, পর্দানশীলা এবং সুন্দরী মহিলা ছিলেন। তিন ভাইয়ের মধ্যে খতিব সাহেব ছিলেন দ্বিতীয়, প্রথম ছিলেন মাওলানা আহমদুল হক ছিলেন একজন প্রবীণ গ্রন্থ ব্যবসায়ী। সিলেট শহরের জিন্দাবাজারে স্বাধীনতাপূর্ব সময়ে দীর্ঘদিন আশরাফিয়া কুতুবখানা নামে তাঁর একটি বইয়ের দোকান ছিলো। তৃতীয় ছেলে মাওলানা আব্দুল হক। তিনি দীর্ঘদিন ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসার সিনিয়র শিকের দায়িত্ব পালন করে অবসর নেওয়ার পর বর্তমানে একটি কওমী মাদ্রাসায় হাদিসের শিক্ষকের দায়িত্বে আছেন। মুসাম্মাৎ আমাতুল্লাহ, মুসাম্মাৎ সাঈদা, মুসাম্মাৎ আবিদা এবং মুসাম্মাৎ হামিদা এই তাঁর মোট চার বোন।

শিক্ষাজীবন[সম্পাদনা]

ঘুংগাদি মাদ্রাসায় একজন শিক্ষক মাওলানা শামসুল হক (র.) কাছে ফার্সি, মিজান-মনশাইব ইত্যাদি প্রাথমিক কিছু কিতাব পড়েন। দুই বছর ছিলেন তিনি ঘুংগাদিতে। এরপর তিনি হবিগঞ্জে গিয়ে মাওলানা মুদ্দাস্সির আহমদ ও মাওলানা মুসির আলী (র.)এর কাছে কিছুদিন লেখা-পড়া করেন। ওরা দুজনই ছিলেন দারুল উলূম দেওবন্দ থেকে সনদপ্রাপ্ত বড় আলেম। অতঃপর ফিরে আসেন নিজ বাড়িতে এবং ভর্তি হোন পিতার প্রতিষ্ঠিত মুন্সিবাজার সংলগ্ন আয়ারগাঁও মাদ্রাসায়। কিছুদিন এখানে পড়ার পর।১৯৪২ খ্রিস্টাব্দে তিনি উচ্চ শিক্ষার জন্য চলে যান ভারতের উত্তর প্রদেশে অবস্থিত বিশ্ববিখ্যাত ইসলামি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দারুল উলূম দেওবন্দে। তিনি সেখানে ১৩৬২ হিজরি মোতাবেক ১৯৪২ খ্রিস্টাব্দে কাফিয়ার কাসে (বর্তমান বাংলাদেশের কওমি মাদ্রাসাগুলোর হিসেবে দশম শ্রেণী) ভর্তি হয়েছিলেন। নিজের ভাষ্যানুসারে তিনি কাস ছুওম পড়ে গিয়ে এই কাসেই আবার ভর্তি হয়েছেন। তিনি ১৯৪৭/৪৮ খ্রিস্টাব্দ শিক্ষাবর্ষে দাওরায়ে হাদিস, ১৯৪৮/৪৯ শিক্ষাবর্ষে দাওরায়ে তাফসির এবং ১৯৪৯/ ৫০ খ্রিস্টাব্দ শিক্ষাবর্ষে ফনূনাতের কিতাবসমূহ পড়েন এবং খোশকতের মশক করেন। উল্লেখ্য যে, তিনি দাওরায়ে হাদিসের বার্ষিক পরীক্ষায় প্রতি বিষয়ে সমস্ত প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রেকর্ড পরিমাণ নম্বর লাভ করে দারুল উলূম দেওবন্দের ইতিহাসে বাংগালি ছাত্রদের মুখ উজ্জল করেছিলেন।

কর্মজীবন[সম্পাদনা]

১৯৪৫ খ্রিস্টাব্দে তিনি তার শিক্ষক মাওলানা সাইয়েদ হোসাইন আহমদ মাদানী (রহ.) এর অনুমতিক্রমে মাদরাসা-ই আলিয়া ঢাকায় যোগ দেন। মাদরাসা-ই আলিয়া ঢাকায় তিনি ১৯৪৫ থেকে ১৯৬৪ সাল পর্যন্ত সহকারী শিক্ষক, ১৯৬৪ সাল থেকে ১৯৭১ পর্যন্ত হাদিস বিভাগের লেকচারার, ১৯৭১ সাল থেকে ১৯৭৩ পর্যন্ত তফসির বিভাগে সহকারী মওলানা, ১৯৭৩ থেকে ১৯৭৯ সাল পর্যন্ত এডিশনাল হেড মাওলানা এবং ১৯৮০ সাল থেকে ১৯৮৫ পর্যন্ত হেড মাওলানা পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন। ১৯৮৫ সালের ২ মে খতিব মাওলানা উবায়দুল হক সরকারি আলিয়া মাদরাসা থেকে অবসর গ্রহণ করেন। ১৯৮৫ সাল থেকে বেশ কয়েক বছর ফরিদাবাদ এমদাদুল উলুম মাদরাসায়, ১৯৮৬ এবং ’৮৭ সাল এ দুই বছর চট্টগ্রামের পটিয়া মাদরাসায় এবং ১৯৮৭ থেকে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত সিলেট কাসিমুল উলুম দরগাহে শাহজালাল (রহ.) মাদরাসায় শায়খুল হাদিসের দায়িত্বে ছিলেন। এছাড়া ১৯৮৫ সাল থেকে কয়েক বছর তিনি ঢাকার ইসলামপুর ইসলামিয়া মাদরাসায় মুহতামিমের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮৫ সাল থেকে মৃত্যু পর্যন্ত ঢাকা আজিমপুরের ফয়জুল উলুম মাদরাসার শায়খুল হাদিস ও মুহতামিমের দায়িত্বে ছিলেন। জামেয়া এমদাদিয়া কিশোরগঞ্জ এবং কুমিল্লা কাসিমুল উলুম মাদরাসার মজলিসে শূরার সভাপতি, সিলেট জামিয়া সিদ্দিকিয়ার উপদেষ্টা পরিষদের প্রধান, মঈনুল উলুম হাটহাজারী, পটিয়া মাদরাসা এবং সিলেট জামেয়া কাসিমুল উলুম দরগাহ মাদরাসাসহ আরও অনেক ইসলামী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মজলিসে শূরার সদস্য ছিলেন। ঢাকা আলিয়া মাদরাসার হেড মাওলানার দায়িত্বে থাকাকালীন তিনি ১৯৮৪ সালে বাংলাদেশের জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিবের দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং ২০০৭ সালের ৬ অক্টোবর আমৃত্যু এ দায়িত্বে ছিলেন।[৩]

প্রকাশিত গ্রন্থ[সম্পাদনা]

উবাইদুল হক (রহ.) এর প্রকাশিত বেশ কিছু গ্রন্থ রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য

  1. সিরাতে মোস্তফা, মূলগ্রন্থ উর্দু, এটা প্রিয়নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) এর জীবন ও চরিত্র নিয়ে রচিত।
  2. তাসহীলুল কাফিয়া; এটি আরবি ব্যাকরণের উচ্চতর গ্রন্থ কাফিয়ার উর্দু শরাহ।
  3. আযহারুর আযহার। নুরুল আনওয়ারের দ্বিতীয় অংশের উর্দু শরাহ।
  4. নসরু লফাওয়ায়িদ (শরাহ ও নোট শরহে আকাইদ, উর্দু)।
  5. আস সেক্বায়া। শরহে ওয়াক্বেয়া দ্বিতীয় খ-ের উর্দু অনুবাদ।
  6. শিয়া সুন্নি এখতেলাফ, মূলগ্রন্থ উর্দু, শিয়া-সুন্নি বিরোধ নামে বাংলায় অনুবাদ হয়েছে।
  7. শরহে শিকওয়া ও জওয়াবে শিকওয়া
  8. কোরআন বুঝিবার পথ (বাংলা)
  9. কোরআনে হাকীম আওর হামারী যিন্দেগী। রেডিও পাকিস্তানে পঠিত উর্দু কথিকা সমগ্র। এতি বাংলা অনুবাদ হয়েছে।[৩]

পুরস্কার ও সম্মননা[সম্পাদনা]

মৃত্যু[সম্পাদনা]

৬ অক্টোবর ২০০৭ সালে তিনি ইন্তেকাল করেন।

বহি:সংযোগ[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. ইসলামাবাদী, মাওলানা আজিজুল হক (২৯ জুন ২০১৬)। "জাতীয় ঐক্যের প্রতীক খতিব মাওলানা উবায়দুল হক"Naya Diganta। Naya Diganta। সংগ্রহের তারিখ ২০১৭-০৬-২১ 
  2. বেবী, ইমরানা হক (১১ জুলাই ২০১৫)। "খতিব উবায়দুল হক আমার বাবা"বাংলাদেশ প্রতিদিন। বাংলাদেশ প্রতিদিন। সংগ্রহের তারিখ ২০১৭-০৬-২১ 
  3. হুসাইন, এস এম সাখাওয়াত (অক্টোবর ৬, ২০১৬)। "জাতির ধর্মীয় অভিভাবক খতিব উবাইদুল হক (রহ.)"logo। আলোকিত বাংলাদেশ। সংগ্রহের তারিখ ২০১৭-০৬-২১