ইসমাঈল আলম

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

আবুল আযীজ মোহাম্মদ ইসমাইল আলী (১৮৬৮-১৯৩৭) একজন বাংলাভাষী মুসলিম উর্দু কবি, সুবক্তা, তার্কিকখিলাফত আন্দোলন-এর সক্রিয় কর্মী। তার কাব্যনাম আলমদিওয়ানে আলম কাব্যের জন্য তিনি কলকাতা আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯১০ সালে 'বাংলার তুতা' উপাধি প্রাপ্ত হন।[১]

আবুল আযীজ মোহাম্মদ ইসমাইল আলী
উপাধিআলম
জন্ম১৮৬৮
মৃত্যুনিজ বাড়ী, কানাইঘাট উপজেলা, সিলেট
জাতিভুক্তব্রিটিশ ভারত
মাজহাবহানাফি
শাখাসুন্নি
মূল আগ্রহহাদীস, কবিতা
লক্ষণীয় কাজওয়াজ নসিহত, ও কাব্য

জন্ম ও পারিবারিক পরিচিতি[সম্পাদনা]

আবুল আযীজ মোহাম্মদ ইসমাইল আলী ১৮৬৮ খ্রিস্টাব্দে সিলেট জেলার কানাইঘাট উপজেলার বাটইআইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।[২] [৩] তার পিতা মাওলানা আব্দুর রহমান কাদেরি ছিলেন একজন আলেম ও মুফতি। ইসমাইল আলম শাহ তকীউদ্দীন শাহ জালালের অন্যতম সফরসঙ্গী।[৪][৫][৬]

শিক্ষাজীবন[সম্পাদনা]

বাল্যকালে পিতা আব্দুর রহমান কাদরীর কাছে প্রাথমিকের পাঠ সমাপ্তির পর ইসমাঈল আলম ভর্তি হন তৎকালীন সিলেট তথা আসাম অঞ্চলের প্রাচীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ফুলবাড়ি আজিরিয়া মাদ্রাসায় । সেখানে আরবি-ফার্সিতে ভালো ফলাফল করে উচ্চশিক্ষার জন্যে ভর্তি হন কলকাতা আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয় এবং ১৮৯৭ সালে শিক্ষা সমাপ্তির পর দেশে ফিরেন।[৭]

ব্যক্তিত্ব[সম্পাদনা]

ইসমাঈল আলম আরবী, ফার্সি, উর্দু ভাষায় বক্তব্য দিতেন। ব্রিটিশবিরোধী খেলাফত আন্দোলনে ভুমিকা রাখেন এবং উজ্জীবনী অনেক সঙ্গিত রচনা করেন। তিনি বিচারিক কাজ করতেন।"[৮] তিনি আসামের গৌরপুরের মদীনাতুল উলুম, ঝিঙাবাড়ি মাদরাসা, সিলেট ও ঢাকার আলীয়া মাদরাসার হাদিস প্রভৃতি বিষয়ে শিক্ষাদান করেন।[৯] তিনি ফজলুর রহমান গঞ্জে মুরাদাবাদীর মুরিদ ছিলেন।[১০]

রচনাবলী[সম্পাদনা]

মাওলানা মোহাম্মদ ইসমাইল আলী উর্দু এবং ফার্সিতে কবিতা লিখেছেন। তিনি ছিলেন সহজাত কবি।[১১] তাঁর রচিত কেতাবের মধ্যে দিওয়ানে আলম অন্যতম। দিওয়ানে আলম কাব্যের জন্য কলকাতা আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়-এর তৎকালীন প্রিন্সিপাল উইলিয়াম হেমিল্টন হার্লি তাকে 'বাংলার তুতা' উপাধি প্রদান করেন।[১২] দিওয়ানে আলম-এর প্রকাশকাল: ১৩২৮ হিজরি, ১৯১০খ্রিস্টাব্দ; কাইয়ুমী, ওয়াকিয়ী মহল্লা, টিকাপুর, জেলা: কানপুর, উত্তরপ্রদেশ, ভারত থেকে। এ কাব্য ফারসি-উর্দুর সমন্বয়ে মহানবী (সঃ)-এর সীরাত ও উচ্চাঙ্গের না’ত সমৃদ্ধ। বাংলাভাষী উর্দু কবি মাওলানা আনজব আলী শওক বলেন "মাওলানা ইসমাঈল আলম আমার কাব্যগুরু”।[১৩] আলমের অনুদিত কাব্যরূপঃ

[১৪]

মৃত্যু[সম্পাদনা]

জীবনের শেষ তেরো বছর ইসমাঈল আলম অন্ধ ছিলেন। ১৩৪৪ বাংলা, ১৯৩৭ খ্রিস্টাব্দে নিভৃতচারী এ মনিষী ইন্তেকাল করেন।[১৫] মুরিদানের ভালবাসার দাবীতে নিজবাড়ী থেকে বিশ কিলোমিটার দূর সড়কেরবাজার (কানাইঘাট) সংলগ্ন ঈদগাহ-গোরস্তানে দাফন করা হয়।[১৬]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. স্মৃতির পাতায় জালালাবাদ, লেখক: শহিদ চৌধুরী, প্রকাশক: জালালাবাদ ফোরাম, জাপান, ১৯৯৪
  2. দৈনিক সিলেটের ডাক,২৬আগস্ট,২০০৮
  3. সিলহেট মে উর্দু, আবদুল জলিল বসমিল, আনজুমান-এ-তারাক্কি উর্দু, ১৯৮০-১৯৮১ করাচি
  4. হায়াতে তাইয়্যিবা, লেখক: মুফতি মোহাম্মদ রহমতুল্লাহ, প্রকাশকাল: ১৯৮৫
  5. মাসিক মদিনা, ফেব্রুয়ারি ২০০৯
  6. মাশায়েখে আসাম, লেখক: আব্দুল জলিল রাগবি, প্রকাশক: নুরি ইসলামিক ফাউন্ডেশন, নওয়াগাও, আসাম, ভারত
  7. মাসিক মদিনা, ফেব্রুয়ারি ২০০৯
  8. সিলহেট মে উর্দু, আনজুমান-এ-তারাক্কি উর্দু, ১৯৮০-১৯৮১ করাচি
  9. জালালাবাদের ইতিকতা, দেওয়ান নুরুল আনোয়ার চৌধুরী, প্রকাশক: বাংলা একাডেমী, ঢাকা
  10. সিলহেট মে উর্দু, আনজুমান-এ-তারাক্কি উর্দু, ১৯৮০-১৯৮১ করাচি
  11. সিলহেট মে উর্দু, আনজুমান-এ-তারাক্কি উর্দু, ১৯৮০-১৯৮১ করাচি
  12. মাসিক মদিনা, ফেব্রুয়ারি ২০০৯
  13. বাংলাদেশের সূফী সাধক, ড. গোলাম সাকলায়েন, ইসলামিক ফাউণ্ডেশন বাংলাদেশ, ঢাকা ১৯৮২, পৃৃ: ১১১-৪
  14. দৈনিক সিলেটের ডাক,২৯ এপ্রিল,২০১৮
  15. সিলহেট মে উর্দু, আনজুমান-এ-তারাক্কি উর্দু, ১৯৮০-১৯৮১ করাচি
  16. স্মৃতির পাতায় জালালাবাদ, সম্পাদক: শহীদ চৌধুরী, প্রকাশনায়: জালালাবাদ এসোসিয়েশন, জাপান