সিলেট রেলওয়ে স্টেশন

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
সিলেট রেলওয়ে স্টেশন
রেলওয়ে স্টেশন
Sylhet Railway Station (23680901673).jpg
সিলেট রেলওয়ে স্টেশন
অবস্থানসিলেট
 বাংলাদেশ
স্থানাঙ্ক২৩°৪৩′৫৫″ উত্তর ৯০°২৫′৩৪″ পূর্ব / ২৩.৭৩২০° উত্তর ৯০.৪২৬২° পূর্ব / 23.7320; 90.4262স্থানাঙ্ক: ২৩°৪৩′৫৫″ উত্তর ৯০°২৫′৩৪″ পূর্ব / ২৩.৭৩২০° উত্তর ৯০.৪২৬২° পূর্ব / 23.7320; 90.4262
অন্য তথ্য
অবস্থাসক্রিয়
অবস্থান

সিলেট রেলওয়ে স্টেশন বাংলাদেশের তৃতীয় বৃহত্তম রেলওয়ে স্টেশন যেটি সিলেট শহরে অবস্থিত। ছাতক এবং ঢাকা, উভয় দিক থেকেই সিলেট রেলওয়ে স্টেশন মিটারগেজ রেলপথের সাথে সংযুক্ত।

সিলেট রেলওয়ে স্টেশনের নতুন প্লাটফর্মটি ২০০৪ সালে উদ্বোধন করা হয়। এই প্রকল্পে এ.কে. রফিক উদ্দিন আহমেদ, প্রধান স্থপতি হিসেবে প্রতিনিধিত্ব করেন।[১]

ইতিহাস[সম্পাদনা]

আসামে চা রোপণকারীদের দাবির প্রেক্ষিতে ১৮৯১ সালে আসাম বেঙ্গল রেলওয়ে বাংলার পূর্ব দিকে রেলপথ নির্মাণের কাজ শুরু করে। ধীরে ধীরে এই অঞ্চল রেল যোগাযোগ ছড়িয়ে পড়ে। ১৯১২-১৫ সালে কুলাউড়া-সিলেট ভাগ খোলা হলে সিলেট রেলওয়ে স্টেশন চালু হয়। পরে ১৯৫৪ সালে সিলেট-ছাতক বাজার লাইন নির্মাণ করা হয়,[২] এবং স্টেশনটির সাথে সংযুক্ত করা হয়।

অবস্থান[সম্পাদনা]

সিলেট রেলওয়ে স্টেশনটি সিলেট-ঢাকা মহাসড়ক এবং সিলেট বাইপাস সড়কের মধ্যখানে পড়েছে, ফলে চতুর্দিক থেকে অনায়াসে স্টেশনে আসা যায়। এটি সিলেটের কদমতলি বাস টার্মিনালের পাশেই অবস্থিত, যেখান থেকে সারা দেশে বাসেও ভ্রমণ করা যায়। সিলেটের অন্যতম দর্শনীয় এবং ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে পরিচিত, সুরমা নদীর ওপর নির্মিত ক্বীন ব্রীজ থেকে এই স্টেশনটি মাত্র আধা কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।

ট্রেন পরিষেবা[সম্পাদনা]

সিলেট রেলওয়ে স্টেশনে একটি পারাবত এক্সপ্রেস

পারাবত, জয়ন্তিকা এবং উপবন এক্সপ্রেসে করে এই স্টেশন থেকে সরাসরি ঢাকা গমন করা যায়।[৩] এগুলো ছাড়াও কালনী এক্সপ্রেস চলাচল করে ঢাকা-সিলেট রুটে। বন্দর নগরী চট্টগ্রামেও সিলেট রেলওয়ে স্টেশন থেকে ট্রেন চলাচল করে।[৪] চট্টগ্রাম-সিলেট রুটে চলাচল করে পাহাড়িকা এক্সপ্রেস। সিলেট রেলওয়ে স্টেশন আখাউড়া-কুলাউড়া-ছাতক লাইনের মাধ্যমে এ বিভাগের সাথে সারা দেশের রেল ব্যবস্থাকে জোরদার করেছে।

শৈলী[সম্পাদনা]

সিলেট রেলওয়ে স্টেশনের শৈলী কমলাপুর রেলস্টেশনের শৈলীর কিছুটা প্রতিফলন। এই পদ্ম-আকৃতির কাঠামো মূল ভবনকে ছাতার মত আচ্ছাদন করে। স্টেশন ২টি টিকেট কাউন্টার রয়েছে। স্টেশনে তিনটি প্ল্যাটফর্ম রয়েছে এবং টিকিট কাউন্টারের পাশে দুটি রেস্তোরাঁ রয়েছে। টিকেট কাউন্টারের কাছাকাছি কিছু ফাস্ট ফুডের দোকান রয়েছে।

বর্তমান অবস্থা[সম্পাদনা]

অনেক আন্তঃনগর এক্সপ্রেস ছাড়াও, স্থানীয় ট্রেনগুলি স্টেশন থেকে যাত্রী পরিবহন করে। রাত্রে গৃহহীন মানুষ স্টেশনে আশ্রয় নেয়। স্টেশনের নিজস্ব নিরাপত্তা রক্ষী, স্টেশন মাস্টার, একজন স্টেশন ব্যবস্থাপক রয়েছে। প্রতিদিন, হাজার হাজার মানুষ স্টেশনের মাধ্যমে আসা যাওয়া করে। মানুষ সরাসরি এই স্টেশন থেকে ঢাকা, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, ছাতক ইত্যাদিতে স্থানে যেতে পারে। ট্রেনগুলি এসে থামলে এবং যাত্রা শুরু করার আগে প্ল্যাটফর্মগুলি সর্বদা জনবহুল থাকে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য এবং এলাকার নিয়ন্ত্রণে স্টেশনের ভেতরে এবং বাইরে প্রচুর পুলিশ এবং রক্ষী বাহিনী রয়েছে। পুরাতন প্ল্যাটফর্মকে রেলওয়ে থানায় পরিণত করা হয়েছে।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "নবনির্মিত সিলেট রেলওয়ে স্টেশন আধুনিক সুযোগ সুবিধা প্রদান করবে"। নিউজ ফ্রম বাংলাদেশ। ৩ সেপ্টেম্বর ২০০৪। সংগ্রহের তারিখ ২০১১-১২-১৬ 
  2. "Brief History" (ইংরেজি ভাষায়)। বাংলাদেশ রেলওয়ে। ২০ ডিসেম্বর ২০১১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০১১-১২-১৬ 
  3. "নাজিমগড় রিসোর্ট"। ২০ নভেম্বর ২০১১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০১১-১২-১৬ 
  4. স্টুয়ার্ট বাটলার। "বাংলাদেশ"পৃ- ১৫০। লোনলি প্ল্যানেট/ গুগোল বই। সংগ্রহের তারিখ ২০১১-১২-১৬ 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]