কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত

স্থানাঙ্ক: ২১°২৪′৫১″ উত্তর ৯১°৫৯′০০″ পূর্ব / ২১.৪১৪৩° উত্তর ৯১.৯৮৩২° পূর্ব / 21.4143; 91.9832
উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
কক্সবাজার
সমুদ্র সৈকত
Cox's Bazaar Sunset Sep2019.jpg
Cox's Bazaar After Sunset Sep2019.jpg
Cox's Bazaar in daylight Sep2019.jpg
উপর থেকে: সূর্যাস্তের সময় কক্সবাজার,
সূর্যাস্তের পর কক্সবাজার,
দিনের আলোয় কক্সবাজার
স্থানাঙ্ক: ২১°২৪′৫১″ উত্তর ৯১°৫৯′০০″ পূর্ব / ২১.৪১৪৩° উত্তর ৯১.৯৮৩২° পূর্ব / 21.4143; 91.9832
দেশ বাংলাদেশ
বিভাগচট্টগ্রাম বিভাগ
জেলাকক্সবাজার জেলা
সরকার
 • শাসককক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ
মাত্রা
 • দৈর্ঘ্য১৫০ কিলোমিটার (৯০ মাইল)
দূর থেকে কক্সবাজার সৈকত

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত বাংলাদেশের কক্সবাজারে অবস্থিত একটি সৈকত। ১২০ কিলোমিটার (৭৫ মাইল) দীর্ঘ এই সৈকত পৃথিবীর দীর্ঘতম প্রাকৃতিক সমুদ্র সৈকত।[১][২][৩][৪][৫][৬] তবে ব্রাজিলের ২১২ কিলোমিটার (১৩২ মাইল) দীর্ঘ প্রাইয়া দো কাসিনো এবং অস্ট্রেলিয়ার ১৫১ কিলোমিটার (৯৪ মাইল) দীর্ঘ নব্বই মাইল সমুদ্র সৈকত যথাক্রমে বিশ্বের প্রথম ও দ্বিতীয় দীর্ঘতম সৈকত, যদিও অস্ট্রেলিয়ার সৈকতটির কিছু অংশ মনুষ্যসৃষ্ট।[৭][৮] কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় পর্যটন আকর্ষণ।[৯][১০] প্রতিদিন অসংখ্য পর্যটক এই সৈকতে আসেন।

ভূগোল[সম্পাদনা]

কক্সবাজার সৈকত গড়ে ভরা জোয়ারে ২০০ মিটার (৬৬০ ফুট) আর নিম্ন জোয়ারে ৪০০ মিটার (১,৩০০ ফুট) প্রশস্থ।[১০] ভাটার সময়ে চোরাবালি জেগে উঠে বিধায় বিপদজনক হয়ে উঠে।[১১]

ইতিহাস[সম্পাদনা]

নবম শতাব্দীর গোড়ার দিক থেকে ১৬১৬ সালে মুঘল অধিগ্রহণের আগে পর্যন্ত কক্সবাজার-সহ চট্টগ্রামের একটি বড় অংশ আরাকান রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত ছিলো। মুঘল সম্রাট শাহ সুজা পাহাড়ী রাস্তা ধরে আরাকান যাওয়ার পথে কক্সবাজারের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে মুগ্ধ হন এবং এখানেই ক্যাম্প স্থাপনের আদেশ দেন। তার যাত্রাবহরের প্রায় একহাজার পালঙ্কী কক্সবাজারের চকরিয়ার ডুলাহাজারা নামের স্থানে অবস্থান নেয়। ডুলহাজারা অর্থ হাজার পালঙ্কী। মুঘলদের পরে ত্রিপুরা এবং আরকান তার পর পর্তুগিজ এবং ব্রিটিশরা এই এলাকার নিয়ন্ত্রণ নেয়।

কক্সবাজার নামটি এসেছে ক্যাপ্টেন হিরাম কক্স নামে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির এক অফিসারের নাম থেকে। কক্সবাজারের আগের নাম ছিল পালংকি। ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি অধ্যাদেশ, ১৭৭৩ জারি হওয়ার পর ওয়ারেন্ট হোস্টিং বাংলার গভর্নর হিসেবে নিয়োগ প্রাপ্ত হন। তখন হিরাম কক্স পালংকির মহাপরিচালক নিযুক্ত হন। ক্যাপ্টেন কক্স আরাকান শরণার্থী এবং স্থানীয় রাখাইনদের মধ্যে বিদ্যমান হাজার বছরের পুরোনো সংঘাত নিরসনের চেষ্টা করেন এবং শরণার্থীদের পুনর্বাসনে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি সাধন করেন কিন্তু কাজ পুরোপুরি শেষ করার আগেই মারা (১৭৯৯) যান। তার পুনর্বাসন অবদানকে স্মরণীয় করে রাখতে একটি বাজার প্রতিষ্ঠা করা হয় এবং এর নাম দেয়া হয় কক্স সাহেবের বাজার। কক্সবাজার থানা প্রথম প্রতিষ্ঠিত হয় ১৮৫৪ সালে এবং পৌরসভা গঠিত হয় ১৮৬৯ সালে।

সৈকতের অংশগুলো[সম্পাদনা]

কলাতলী পয়েন্ট[সম্পাদনা]

দিনের বেলায় কলাতলী পয়েন্ট

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের একটি মূল অংশ হচ্ছে কলাতলী পয়েন্ট যা কক্সবাজার শহরের ডলফিনের মোড়ের দিকে অবস্থিত। অনেক হোটেল ও রেস্টুরেন্ট কলাতলীর আশেপাশে অবস্থিত। কক্সবাজারগামী সকল বাস শহরের কলাতলী পয়েন্টের কাছে থামে। আগে বাসগুলো কক্সবাজারের কলাতলী সৈকতে সরাসরি থেমে যেতো। সরকার কর্তৃক নিষেধাজ্ঞা জারি করার পর এখন বাস কলাতলীর কাছে ডলফিনের মোড়ে থামে।

সুগন্ধা পয়েন্ট[সম্পাদনা]

কলাতলী পয়েন্ট থেকে দূরে উত্তর দিকে সুগন্ধা পয়েন্ট অবস্থিত। এখানে অবস্থিত জনপ্রিয় বার্মিজ মার্কেট। অতীতে এখানে অনেক সামুদ্রিক-মাছের তৈরি খাবারের রেস্টুরেন্ট ছিলো কিন্তু সরকার পরে সেগুলো উচ্ছেদ করে।[১২]

লাবনী পয়েন্ট[সম্পাদনা]

লাবনী পয়েন্টে হর্সরাইডিং

কক্সবাজার সৈকতের সবচাইতে পরিচিত অংশ লাবনী পয়েন্ট। পর্যটকরা মূলত এখানে বেশি সমাবেত হয়। লাবনী পয়েন্ট সার্ফিং, জগিং, সাইকেলিং ও সাঁতার কাটার জন্য ভালো।

দরিয়ানগর সৈকত[সম্পাদনা]

হিমছড়ি জাতীয় পার্কের কাছে দরিয়ানগর সৈকত অবস্থিত। দরিয়ানগর সৈকতের মধ্য দিয়ে জলপথ প্রবাহিত হয়ে থাকে।

ইনানী সৈকত[সম্পাদনা]

ইনানী সৈকত

ইনানী সৈকত ১৮-কিলোমিটার দীর্ঘ (১১-মাইল) যা কক্সবাজার জেলার উখিয়া উপজেলায় অবস্থিত।[১৩] এটি কক্সবাজার শহর থেকে প্রায় ২৮ কি.মি দক্ষিণে অবস্থিত। এই সৈকতে রয়েছে সবুজ ও কালো বর্ণের অনেক প্রবাল পাথর।[১৪]

টেকনাফ সৈকত[সম্পাদনা]

টেকনাফ সৈকত

কক্সবাজার জেলার টেকনাফ উপজেলায় টেকনাফ সৈকত অবস্থিত। এই অংশটা কক্সবাজারের অন্যান্য অংশ থেকে ভিন্নতর। গাছগাছালিতে পরিপূর্ণ টেকনাফ ম্যানগ্রোভের তীরে অবস্থিত টেকনাফ সৈকত। এই সৈকত বিভিন্ন ভাগে বিভক্ত। উল্লেখযোগ্য ভাগগুলো হলো -

  • শ্যামলাপুর সৈকত (বাহারছড়া সৈকত)
  • শিলাখালী সৈকত
  • হাজামপাড়া সৈকত[১৫]

চিত্রশালা[সম্পাদনা]

আরো দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. http://www.coxsbazar.gov.bd/site/tourist_spot/56378492-2147-11e7-8f57-286ed488c766/%E0%A6%95%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%B8%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%9C%E0%A6%BE%E0%A6%B0%20%E0%A6%B8%E0%A6%AE%E0%A7%81%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%B0%20%E0%A6%B8%E0%A7%88%E0%A6%95%E0%A6%A4
  2. এথিরাজান, আনবারাসান (২৬ ডিসেম্বর ২০১২)। "Bangladesh's Cox's Bazar: A paradise being lost?"বিবিসি ওয়ার্ল্ড। সংগ্রহের তারিখ ২৯ জানুয়ারি ২০১৫ 
  3. "Bangladesh: Tourism"দ্য ইউরোপা ওয়ার্ল্ড ইয়ার বই (ইংরেজি ভাষায়)। টেইলর অ্যান্ড ফ্রান্সিস। ২০০৩। পৃষ্ঠা ৬৭৯। আইএসবিএন 978-1-85743-227-5 
  4. "Cox's Bazar, Bangladesh - the World's Longest Beach 120km" (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ১০ জানুয়ারি ২০০৮ 
  5. "World's longest beach hidden in Bangladesh"দ্য সিডনি মর্নিং হেরাল্ড (ইংরেজি ভাষায়)। রয়টার্স। ৩১ জানুয়ারি ২০০৭। সংগ্রহের তারিখ ১০ জানুয়ারি ২০০৮ 
  6. IMF Country Report 05/410 Bangladesh: Poverty Reduction Strategy Paper (ইংরেজি ভাষায়)। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল। ২৩ ডিসেম্বর ২০০৫। পৃষ্ঠা ১১৬। আইএসবিএন 978-1-4527-0752-5 
  7. নোগুয়েইরা, কিকো (২০০৭)। Guia Quatro Rodas Praias 2007 (পর্তুগিজ ভাষায়)। সাও পাওলো: এদিতরা আব্রিল 
  8. Ocean: The Definitive Visual Guide (ইংরেজি ভাষায়)। ডর্লিং কিন্ডার্সলি লিমিটেড। ১ সেপ্টেম্বর ২০১৪। পৃষ্ঠা ১১১। আইএসবিএন 978-0-241-18703-6 
  9. কে. ডান্ডা, অজিত (২০০৩)। Asia, Land and People। কলকাতা: এশিয়াটিক সোসাইটি। পৃষ্ঠা ১২০। আইএসবিএন 9788172361402 
  10. মারিয়াম হোয়াইট এবং জুই লিন ইয়ং, Bangladesh, পৃষ্ঠা ১৩৬, মার্শাল ক্যাভেনডিশ, ২০১০, আইএসবিএন ৯৭৮০৭৬১৪৪৪৭৫৬
  11. "সাগর উত্তাল, তবুও সৈকতে লাখো পর্যটক"প্রথম আলো। সংগ্রহের তারিখ ২৫ নভেম্বর ২০২০ 
  12. "কক্সবাজার সৈকতের সেই ৫২টি স্থাপনা উচ্ছেদে বাধা নেই"সময় টিভি। সংগ্রহের তারিখ ২৫ নভেম্বর ২০২০ 
  13. তৌহিদ হোসেন চৌধুরী (২০১২)। "উখিয়া উপজেলা"। ইসলাম, সিরাজুল; মিয়া, সাজাহান; খানম, মাহফুজা; আহমেদ, সাব্বীর। বাংলাপিডিয়া: বাংলাদেশের জাতীয় বিশ্বকোষ (২য় সংস্করণ)। ঢাকা, বাংলাদেশ: বাংলাপিডিয়া ট্রাস্ট, বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটিআইএসবিএন 9843205901ওএল 30677644Mওসিএলসি 883871743 
  14. "A luxury resort opens in Cox's Bazar"দ্য ডেইলি স্টার (ইংরেজি ভাষায়)। ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৫। সংগ্রহের তারিখ ৩ এপ্রিল ২০১৭ 
  15. "টেকনাফ সমুদ্র সৈকত"গো কক্সবাজার। ৭ ডিসেম্বর ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৭ নভেম্বর ২০২০ 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]