হুসাইন আহমদ মাদানি

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
(হুসাইন আহমেদ মাদানি থেকে পুনর্নির্দেশিত)
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
সাইয়্যেদ হুসাইন আহমাদ মাদানি
Husain Ahmad Madani 2012 stamp of India.jpg
উপাধিশাইখুল ইসলাম, শায়খুল আরব ওয়াল আজম
জন্ম১৮৭৯
মৃত্যু১৯৫৭
জাতিভুক্তভারতীয় মুসলিম
যুগআধুনিক যুগ
অঞ্চলমদীনা মুনাওয়ারাহভারত
শাখাসুন্নি মুসলিম
মূল আগ্রহহাদীসশাস্ত্র, তাফসির, ফিকহ

সাইয়্যেদ হুসাইন আহমাদ মাদানি (৬ অক্টোবর ১৮৭৯ - ১৯৫৭) ছিলেন হিন্দুস্তান উপমহাদেশের একজন ইসলামি পন্ডিত। হাদিস ও ফিকহে তার পান্ডিত্যের জন্য তাকে শাইখুল ইসলাম উপাধি দ্বারা সম্বোধন করা হয়।

প্রথম জীবন[সম্পাদনা]

হুসাইন আহমেদ মাদানি উত্তর প্রদেশের উন্নাও জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা সাইয়িদ হাবিবুল্লাহ একজন শিক্ষক ছিলেন।

শিক্ষাজীবন ও আধ্যাত্মিকতার শিক্ষা[সম্পাদনা]

১৮৯২ সালে তিনি দারুল উলুম দেওবন্দে ভর্তি হন। এখানে তিনি মাহমুদুল হাসানের অধীনে পড়াশোনা করেন। পড়াশোনা সমাপ্ত করে তিনি রশিদ আহমেদ গাঙ্গোহির শিষ্যত্ব গ্রহণ করেন। রশিদ আহমেদ গাঙ্গোহি ছিলেন মাহমুদুল হাসানের পীর। হুসাইন আহমেদ মাদানিকে মাহমুদুল হাসান রশিদ আহমেদের শিষ্য হওয়ার জন্য বলেছিলেন। তার মাধ্যমে হুসাইন আহমেদ মাদানির আধ্যাত্মিক শাখা আলাউদ্দিন সাবির কালিয়ারি পর্যন্ত পৌছায় যিনি চিশতি তরিকার চিশতি-সাবিরি শাখার মূল ছিলেন। তার আধ্যাত্মিক শাখা নকশবন্দি তরিকার সাথেও যুক্ত কারণ হুসাইন আহমেদের একজন পূর্ববর্তী পীর নকশবন্দি তরিকার অনুসারী সৈয়দ আহমেদ শহীদের শিষ্য ছিলেন। তাই হুসাইন আহমেদ নকশবন্দিয়া ও চিশতি উভয় তরিকার সাথে যুক্ত ছিলেন। তবে তিনি মূলত চিশতি-সাবিরি মতের সাথে যুক্ত ছিলেন।

কর্মজীবন[সম্পাদনা]

দারুল উলুম দেওবন্দ থেকে শিক্ষাজীবন সমাপ্ত করার পর হুসাইন আহমেদ তার পরিবারসহ মদিনায় যান। তিনি সেখানে আরবি ব্যাকরণ, উসুল আল ফকহ, উসুল আল হাদিস ও তাফসির শিক্ষাদান করতে থাকেন। তিনি ১৮ বছর ধরে মদিনায় বিভিন্ন বিষয়ে শিক্ষাদান করেছেন। তিনি মাসজিদে নববী তে শিক্ষা দান করেছেন ৷ তিনি ১৮ বছর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের রওজা মুবারকের পাশে হাদিস পড়িয়েছিলেন । এরপর তিনি সিলেট, কলকাতা সহ ভারতের অনেক জায়গায় শিক্ষকতা করেন ৷ তারপর তিনি দারুল উলুম দেওবন্দের প্রধান শিক্ষক এবং শাইখুল হাদিস নিযুক্ত হন। এই পদে তিনি প্রায় ২৮ বছর দায়িত্বপালন করেছেন।

স্বাধীনতায় অবদান[সম্পাদনা]

রেশমি রুমাল আন্দোলনে তার শিক্ষক মাহমুদুল হাসান দন্ডিত হয়ে মাল্টা দ্বীপে নির্বাসিত হলে হুসাইন আহমেদ মাদানি তার দেখাশোনার জন্য স্বেচ্ছায় তার সাথে যান। তিনি তিন বছরের জন্য কারারুদ্ধ ছিলেন।

মুক্তি পাওয়ার পর তিনি ভারতে ফিরে আসেন এবং ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের একজন সক্রিয় কর্মী হিসেবে কাজ করতে থাকেন। মুসলিমদের একটি অংশের উপর তার বড় প্রভাব ছিল বিশেষত উত্তর প্রদেশ ও বিহারের মুসলিমদের উপর। তিনি দ্বিজাতি তত্ত্বের বিরোধী ছিলেন।[১] তিনি জমিয়ত উলামায়ে হিন্দের প্রেসিডেন্ট হন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি এই পদে আসীন ছিলেন।

রচনাবলী[সম্পাদনা]

  • নকশে হায়াত
  • সালাসিলে তাবিয়্যাহ
  • মাকতুবাতে শায়খুল ইসলাম (৪খন্ড)
  • ফাতাওয়ায়ে শায়খুল ইসলাম
  • আসীরে মাল্টা *আশ্শিবাহুস্সাকিব
  • মুত্তাহেদায়ে ক্বাওমিয়া আওর ইসলাম
  • সিয়াসী মাক্বালাত (২ খন্ড)
  • তাক্বরিরে বোখারী
  • তাক্বরিরে তিরমিযি
  • মাকতুবাতে তাসাউফে মাদানী

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. How Indians see Jinnah. BBC News. Retrieved on August 19, 2009.
  • Al-E’tidaal Fi Maraatib ar-Rijaal (English Translation), Islamic Book Service, Pages 34–35
  • Aap Beeti (English Translation), Darul Isha’at, Pages 375-376

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]