মক্তব

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

মক্তব (আরবি: مكتب‎)[১] বা মাক্তাবিহ (আরবি: مكتبة‎)[২] বা মাক্তাবখানা (ফার্সি: مكتب، مکتبخانه) , আল কোত্তাব (আরবি: الكتَّابKottāb ) বলেও পরিচিত (আরবি: الكتَّابKottāb )[৩] হল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের আরবি প্রতিশব্দ। শিশুদের পড়া, লেখা, ব্যাকরণ ও ইসলামি বিষয়াদি শিক্ষাদান এর মূল কাজ হলেও অন্যান্য ব্যবহারিক ও তাত্ত্বিক বিষয়ও এর অন্তর্ভুক্ত। ২০ শতকের আগ পর্যন্ত মক্তব মুসলিম বিশ্বে জনশিক্ষার একমাত্র মাধ্যম ছিল।

আরবি শব্দ হলেও আফগানিস্তানে ফারসি ভাষায় প্রাথমিক ও এর উপরের স্তরের বিদ্যালয় বোঝাতে শব্দটি ব্যবহৃত হয়। ইবনে সিনাও একই অর্থে মক্তব শব্দটি ব্যবহার করেছেন।

মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোতে মক্তব একটি প্রাচীন শিক্ষাব্যবস্থা। এতে শিক্ষকরা তাদের সামনে মেঝেতে বসা ছাত্রদের শিক্ষাদান করতেন। ইসলামধ্রুপদি আরবি ভাষা পাঠ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত ছিল। তবে কুরআন মুখস্থ করানোর প্রতি মূল মনোযোগ দেয়া হত। আধুনিক স্কুলের সংখ্যাবৃদ্ধির সাথে সাথে মক্তবের সংখ্যা কমে গিয়েছে।

কোত্তাব অর্থ লেখক।Kuttāb, বহুবচনে কাতিব। (كتاتيب) এর উৎস বহু প্রাচীন।

আধুনিক আরবিতে মক্তব (আরবি: مكتب‎) ইংরেজি অফিস বোঝাতে ব্যবহৃত হয়। অন্যদিকে মাকতাবিহ (আরবি: مكتبة‎) দ্বারা গ্রন্থাগার বা পাঠের স্থান বোঝানো হয়। আল কোত্তাব (আরবি: الكتَّاب‎) দ্বারা বইয়ের বই অর্থও বোঝানো হয়।

[৪]

ইতিহাস[সম্পাদনা]

উসমানীয় মক্তবে শিক্ষক ও ছাত্র।

মধ্যযুগে মুসলিম বিশ্বে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোকে মক্তব বলা হত। এগুলোর সময়কাল ১০ শতক। উচ্চশিক্ষার জন্য প্রতিষ্ঠিত মাদ্রাসার মত মক্তবগুলোও মসজিদের সাথে সংযুক্ত থাকত।[৫] ১০ শতকে সুন্নি আইনবিদ ইবনে হাজার আল হায়তামি মক্তবের বিষয়ে আলোচনা করেন।[৬] এতিমদের জন্য পরিচালিত একটি মক্তবের পরিচালক অবসরপ্রাপ্ত একজন শিয়া মতাবলম্বী বিচারকের আবেদনের প্রেক্ষিত দেয়া তার একটি ফতোয়ায় তিনি মক্তবের রূপরেখা প্রণয়ন করেন যাতে এতিমদের কোনোরকমভাবে বঞ্চিত করার পথ রুদ্ধ করা হয়।[৭]

১১ শতকে বিখ্যাত মুসলিম দার্শনিক ও শিক্ষক ইবনে সিনা তার একটি বইয়ে মক্তবে কর্মরত শিক্ষকদের দিক নির্দেশনার জন্য একটি অধ্যায় রচনা করেন যার নাম ছিল "শিশুদের প্রশিক্ষণ ও বেড়ে তোলায় শিক্ষকের ভূমিকা"। তিনি লিখেছেন যে একজন শিশু ব্যক্তিগতভাবে গৃহশিক্ষকের চেয়ে শ্রেণীকক্ষে অধিক উত্তমভাবে শিক্ষালাভ করতে পারে। এর কারণ হিসেবে তিনি ছাত্রদের পারস্পরিক প্রতিযোগিতা এবং দলগত আলোচনা ও বিতর্কের গুরুত্বের কথা উল্লেখ করেন। ইবনে সিনা মক্তবের পাঠ্যক্রমও আলোচনা করেন। তিনি এর জন্য দুটি পর্যায়ের কথা উল্লেখ করেছেন।[৫]

প্রাথমিক শিক্ষা[সম্পাদনা]

ইবনে সিনা লিখেছেন যে শিশুদেরকে ৬ বছর বয়সে মক্তবে পাঠানো উচিত। তার মতে ১৪ বছর বয়স পর্যন্ত প্রাথমিক শিক্ষা দিতে হবে এবং এ সময়ের মধ্যে তাদের কুরআন, ইসলামী অধিবিদ্যা, ভাষা, সাহিত্য, ইসলামী নীতিবিদ্যা ও অন্যান্য দক্ষতা, যেমন বিভিন্ন ব্যবহারিক জ্ঞান শিক্ষা দেয়া হবে।[৫]

মাধ্যমিক শিক্ষা[সম্পাদনা]

ইবনে সিনা মক্তবের মাধ্যমিক শিক্ষাকে বিশেষায়িত সময় বলে উল্লেখ করেছেন যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের সামাজিক অবস্থানের আওতামুক্ত থেকে বিভিন্ন বিষয়ে দক্ষ হয়ে উঠবে। তিনি লিখেছেন যে ১৪ বছরের পর একজন শিশুকে শিক্ষার জন্য নিজের পছন্দের বিষয় বেছে নেয়ার সুযোগ দেয়া উচিত যাতে সে তার ভবিষ্যত কর্মজীবনের জন্য পথ খুজে নিতে পারে। তার মতে এটা একটি অন্তর্বর্তী অবস্থা এবং শিক্ষার্থীর মানসিক উন্নয়ন ও পছন্দের বিষয়কে হিসেব করতে বিধায় শিক্ষা সমাপ্তি সময় বয়সের কারণে সহজতা প্রদান করা উচিত।[৪]

স্বাক্ষরতা[সম্পাদনা]

মধ্যযুগে খিলাফতের সময় স্বাক্ষরতার হার অনেকাংশে বৃদ্ধি পায়। প্রাচীন এথেন্সের তুলনায় তা মধ্যযুগের সর্বাপেক্ষা অধিক স্বাক্ষরতার হার ছিল।[৮] মক্তব ও মাদ্রাসার পরিমাণ মধ্যযুগের মুসলিম বিশ্বে শিক্ষিতের পরিমাণ বৃদ্ধিতে মৌলিক ভূমিকা রাখে।[৯]

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Google Translator, "Maktab (Arabic: مكتب): Office", Google.com, সংগৃহীত নভেম্বর ১, ২০১৩ 
  2. Google Translator, "Maktabeh (Arabic: مكتبة): Library or (place of) Study", Google.com, সংগৃহীত নভেম্বর ১, ২০১৩ 
  3. Google Translator, "Al Kottab (Arabic: الكتَّاب): The Book", Google.com, সংগৃহীত নভেম্বর ১, ২০১৩ 
  4. ৪.০ ৪.১ M. S. Asimov, Clifford Edmund Bosworth (১৯৯৯), The Age of Achievement: Vol 4, Motilal Banarsidass, পৃ: 34–5, আইএসবিএন 81-208-1596-3 
  5. ৫.০ ৫.১ ৫.২ M. S. Asimov, Clifford Edmund Bosworth (১৯৯৯), The Age of Achievement: Vol 4, Motilal Banarsidass, পৃ: 33–4, আইএসবিএন 81-208-1596-3 
  6. Francis Robinson (২০০৮), "Review: Law and Education in Medieval Islam: Studies in Memory of Professor George Makdisi, Edited by Joseph E. Lowry, Devin J. Stewart and Shawkat M. Toorawa", Journal of the Royal Asiatic Society (Cambridge University Press) 18 (01): 98–100, ডিওআই:10.1017/S1356186307007912 
  7. R. Kevin Jaques (২০০৬), "Review: Law and Education in Medieval Islam: Studies in Memory of Professor George Makdisi, Edited by Joseph E. Lowry, Devin J. Stewart and Shawkat M. Toorawa", Journal of Islamic Studies (Oxford University Press) 17 (3): 359–62, ডিওআই:10.1093/jis/etl027 
  8. Andrew J. Coulson, Delivering Education (PDF), Hoover Institution, পৃ: ১১৭, সংগৃহীত ২০০৮-১১-২২ 
  9. Edmund Burke (জুন ২০০৯), "Islam at the Center: Technological Complexes and the Roots of Modernity", Journal of World History (University of Hawaii Press) 20 (2): 165–186 [178–82], ডিওআই:10.1353/jwh.0.0045 
  • Maktab Encyclopædia Britannica

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]