শিবলী নোমানী

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
শামসুল উলামা, তমঘায়ে মজিদি
আল্লামা

শিবলী নোমানী

রহমাতুল্লাহি আলাইহি
شبلی نعمانی
Shibli Nomani.jpg
অধ্যাপক, মোহামেডান অ্যাংলো ওরিয়েন্টাল কলেজ
কাজের মেয়াদ
১৮৮২ – ১৯৯৮
শিক্ষাসচিব, দারুল উলুম নদওয়াতুল উলামা
কাজের মেয়াদ
১৯০৫ – ১৯১৩
ব্যক্তিগত বিবরণ
জন্ম(১৮৫৭-০৬-০১)১ জুন ১৮৫৭
আজমগড়, উত্তরপ্রদেশ, ব্রিটিশ ভারত
মৃত্যু১৮ নভেম্বর ১৯১৪(1914-11-18) (বয়স ৫৭)
জাতীয়তাব্রিটিশ ভারতীয়
দাম্পত্য সঙ্গীমাজিদুন্নেসা (বি. ১৮৭৬)
সন্তান
ওয়েবসাইটshibliacademy.org
ব্যক্তিগত
পিতামাতা
  • শায়খ হাবিবুল্লাহ (পিতা)
  • মুকিমা খাতুন (মাতা)
আখ্যাসুন্নি
বংশরাজপুত
ব্যবহারশাস্ত্রহানাফি
আন্দোলন
প্রধান আগ্রহদর্শন, ইতিহাস, সাহিত্য, রাজনীতি
উল্লেখযোগ্য কাজ
শিক্ষক
ঊর্ধ্বতন পদ
সাহিত্যকর্মসীরাতুন নবী (১৯১৪)

শিবলী নোমানী (উর্দু: شبلی نعمانی‎‎; ১ জুন ১৮৫৭ – ১৮ নভেম্বর ১৯১৪; শিবলী নামে পরিচিত[১]) ছিলেন বিভাগপূর্ব ভারতের একজন কবি, দার্শনিক, ইতিহাসবেত্তা, প্রাবন্ধিক, জীবনীকার, সাহিত্য সমালোচক, বাগ্মী এবং ইসলামি পণ্ডিত। তিনি আধুনিক উর্দু ইতিহাসের জনক[২][৩] এবং তাকে উর্দু সাহিত্যের পঞ্চভিত্তির একজন ধরা হয়। উর্দু সাহিত্যে তিনিই প্রথম ঐতিহাসিক সমালোচক। সাহিত্যের সকল শাখায় তার পদচারণা রয়েছে। আলিগড় কলেজে অধ্যাপনা জীবনের শুরুতে সৈয়দ আহমদ খানের চিন্তাধারায় প্রভাবিত হয়ে তিনি আলিগড় আন্দোলনকে ত্বরান্বিত করেন। পরবর্তীতে তিনি এই আন্দোলন থেকে সরে গিয়ে নদওয়াতুল উলামার সাথে যুক্ত হন।[৪] তিনি ইসলামের অতীত ঐতিহ্যকে ঠিক রেখে আধুনিক চিন্তাধারার সাথে সমন্বয়ের প্রয়াস পেয়েছিলেন। ১৯১০ থেকে ১৯৩৫ পর্যন্ত উর্দুতে যে ইসলামি সাহিত্য সৃষ্টি হয় অনেকাংশেই তা শিবলীর প্রাচীন ও আধুনিকের সমন্বয় সাধনের ফল।[৫] শেষজীবনে রচিত সীরাতুন নবী তার সর্বশ্রেষ্ঠ রচনা। বিদ্যাবত্তার স্বীকৃতি স্বরুপ উসমানি খেলাফত তাকে ‘তমঘায়ে মজিদি’ এবং ব্রিটিশ সরকার ‘শামসুল উলামা’ উপাধি প্রদান করে।

তিনি ১৮৫৭ সালে আজমগড়ে জন্মগ্রহণ করেন। শিক্ষাজীবনে কয়েকটি মাদ্রাসায় পড়ার পাশাপাশি তিনি আহমদ আলী সাহারানপুরির নিকট হাদিস অধ্যয়ন করেছেন। ১৮৮২ সালে আলিগড় কলেজে তার অধ্যাপনা জীবনের শুরু। অধ্যাপনা জীবনে সৈয়দ আহমদ খানটমাস ওয়াকার আর্নল্ডের সাথে সুসম্পর্কের কারণে তিনি উপকৃত হয়েছিলেন। ১৮৮৩ সালে তিনি একটি জাতীয় স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন যা পরবর্তীতে শিবলী জাতীয় কলেজে রূপান্তরিত হয়। ১৮৮৮ সাল থেকে প্রবন্ধকবিতা রচনার মাধ্যমে তার সাহিত্য সাধনা শুরু হয়। ১৮৯২ সালে তিনি তুরস্ক সহ কয়েকটি মুসলিম দেশ ভ্রমণ করেন। ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত তিনি আলিগড়ে অধ্যাপনা করেছেন। এসময়ে তিনি আল মামুন, সীরাতুন নোমান, আল ফারুকের মত জীবনী সাহিত্য সৃষ্টি করেন। সৈয়দ আহমদ খানের মৃত্যুর পর তিনি আলিগড়ের অধ্যাপনা ছেড়ে দেন। ১৯০১ সালে তিনি দাইরাতুল মাআরিফ নামক গবেষণা কেন্দ্রের তত্ত্বাবধায়ক নিযুক্ত হন। একইসাথে তিনি আঞ্জুমানে তারাক্কিয়ে উর্দুর মহাসচিব ছিলেন। আল গাজ্জালি, ইলমুল কালাম সহ পাঁচটি গ্রন্থ রচনা করেন এখানে। সেখানে তিনি একটি প্রাচ্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনাও সম্পন্ন করেছিলেন। হায়দ্রাবাদের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির কারণে ১৯০৫ সালে তিনি দারুল উলুম নদওয়াতুল উলামায় চলে এসে শিক্ষা সচিব হিসেবে যোগদান করেন। তার আমলে নদওয়ার শিক্ষা ব্যবস্থায় ব্যাপক সংস্কার আনয়ন করেন। ১৯০৬ সালে তিনি তার বিখ্যাত ফার্সি কাব্যগ্রন্থ শেরুল আজিম রচনা করেন। এসময়ে তিনি আন নদওয়া নামক একটি উচ্চমানের সাহিত্য পত্রিকাও প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯১৩ সালে নদওয়া থেকে পদত্যাগ করে তিনি মাদরাসাতুল ইসলাহদারুল মুসান্নিফীন প্রতিষ্ঠা করেন। এসময়ে তিনি সীরাতুন নবী রচনার কাজ শুরু করেন। ২ খণ্ড রচনার পর ১৯১৪ সালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার অন্তিম ইচ্ছানুসারে তারই ছাত্র সুলাইমান নদভী ৭ খণ্ডে এটি সমাপ্ত করেন। সর্ব-ইসলামবাদের সমর্থক হিসেবে তিনি উসমানি খেলাফতের সমর্থন করতেন। ভারতীয় রাজনীতিতে হিন্দু-মুসলিমের ঐক্য প্রত্যাশী হিসেবে তিনি কংগ্রেসের সমর্থক এবং মুসলিম লীগের সমালোচক ছিলেন। ১৯৯২ সালে তার সম্মানে পাকিস্তান সরকার একটি স্মারক ডাকটিকিট প্রকাশ করেছে।

প্রারম্ভিক জীবন[সম্পাদনা]

জন্ম ও বংশ[সম্পাদনা]

শিবলী নোমানীর জন্ম ১৮৫৭ সালের ১ জুন। তিনি ব্রিটিশ ভারতের উত্তরপ্রদেশের আজমগড় জেলার বিন্দুল নামক গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। তিনি শিওরাজ সিং-এর বংশধর ছিলেন যিনি পরবর্তীতে ইসলাম গ্রহণ করে সিরাজ উদ্দিন নাম ধারণ করেন।[৬] তার বংশধররা রোতারাহ নামে পরিচিতি লাভ করে। তার পিতা হাবিবুল্লাহ একজন জমিদার ও উকিল ছিলেন।

শিক্ষাজীবন[সম্পাদনা]

ছয় বছর বয়সে গ্রামের পাঠশালায় তার শিক্ষার হাতেখড়ি হয়। কুরআনফার্সি কিতাব পড়ার পর তিনি জৌনপুরের মাদ্রাসায়ে হানাফিয়ায় কিছুদিন পড়াশোনা করেছেন। এরপর তিনি ভর্তি হন আজমগড় শহরের পূর্ব দিকে ঘুসি নামক গ্রামে অবস্থিত মাদ্রাসা নাসেরুল উলুমে। এখানে পড়াশোনার সমাপ্তির পর তার পিতা তাকে মাদ্রাসা চশমায়ে রহমত, গাজীপুরে পাঠিয়ে দেন।[৭] পরবর্তীতে তার পিতা ও অন্যান্য প্রভাবশালী ব্যক্তির সহায়তায় প্রতিষ্ঠিত হয় মাদ্রাসায়ে আরাবিয়া আজমগড়। তিনি এই মাদ্রাসায় চলে আসেন। এই মাদ্রাসায় শিক্ষাকালীন সময়ে তিনি গবেষণায় মনোযোগ দেন এবং ফার্সি ভাষা ও সাহিত্যে ব্যুৎপত্তি অর্জন করেন।[৮] এরপর তিনি রামপুর সফর করেন এবং এরশাদ হোসেন মুজাদ্দেদির কাছে ফিকহ ও উসূলে ফিকহের শিক্ষা অর্জন করেন।[৯] এরপর তিনি লাহোর গমন করে ওরিয়েন্টাল কলেজের অধ্যাপক ফয়জুল হাসান সাহারানপুরির কাছে আরবি সাহিত্যে ব্যুৎপত্তি অর্জন করেন। সর্বশেষ তিনি আহমদ আলী সাহারানপুরির নিকট হাদিস অধ্যয়ন করেছেন।[১০]

মধ্যজীবন[সম্পাদনা]

১৮৭৬ সালে ১৯ বছর বয়সে তিনি পিতার সাথে হজ্জে চলে যান।[১১] হজ্জ থেকে ফেরার পর ১৮৭৯ সালে তিনি উকালতি পরীক্ষা দেন। কিন্তু আইন বিষয়ে আগ্রহ না থাকায় অকৃতকার্য হন। ১৮৮০ সালে দ্বিতীয়বারের পরীক্ষায় তিনি উত্তীর্ণ হন। ১৮৮১ সালে তিনি আজমগড়ে ওকালতি শুরু করেন। এই পেশা বাদ দিয়ে ১৮৮২ সালে তিনি প্রথমে আদালতে কালেক্টরির দলিল নকল লেখক হিসেবে কাজ করেন। কিছুদিন বাজেয়াপ্ত জমিজমার আমিনের কাজও করেছেন। এরপর তার পিতার নীল কারখানার দায়িত্ব দেওয়া হয়। এটাও ছেড়ে দিয়ে তিনি জনৈক মাওলানার সাথে গ্রামে চলে যান এবং কিছুদিন উকালতি করেন।[১২] ১৮৮৩ সালের ১ জানুয়ারি তিনি মোহামেডান অ্যাংলো ওরিয়েন্টাল কলেজের প্রাচ্য ভাষা বিভাগে অধ্যাপনা শুরু করেন। কাব্য রচনার মধ্য দিয়ে তিনি শিক্ষকদের মধ্যে জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। ওই সময় তার কয়েকটি উল্লেখযোগ্য কাব্য হল:[১৩]

  1. মুরসিয়া সর সালার জংগ (১৮৮৩)
  2. কসিদায়ে ঈদিয়া (১৮৮৩)
  3. মুসনবী সুবহে উমিদ (১৮৮৫)
  4. মুরসিয়া মাওলানা ফয়জুল হাসান (১৮৮৭) ইত্যাদি

কাব্য রচনার পাশাপাশি তিনি সৈয়দ আহমদ খানের কাছে আরবের ইতিহাস ও ভূগোলের উপর রচিত বইসমূহ অধ্যায়ন করেন। ফলে ইতিহাসের প্রতি তার নতুন আগ্রহ সৃষ্টি হয়। এছাড়া টমাস ওয়াকার আর্নল্ডের সাথেও তার সুসম্পর্ক ছিল। সৈয়দ আহমদের সাহচার্য ও আলিগড়ে অবস্থান তাকে জাতীয় পর্যায়ে অবদান রাখতে উৎসাহ জোগায়। আলিগড়ে থাকাকালীন তিনি কিছু প্রবন্ধ রচনা করেন। তার প্রথম প্রবন্ধ ‘মুসলমানদের উচিত শিক্ষা’, যা ১৮৮৭ সালে মোহামেডান এডুকেশনাল কনফারেন্স, লখনউতে পঠিত হয়।[১৪]

এসময় তিনি কিছু ঐতিহাসিক জীবনীগ্রন্থ রচনা করেন। আল মামুন ১৮৮৯ সালে রচিত প্রথম জীবনীগ্রন্থ। এরপর ১৮৯০ সালে রচনা করেন সীরাতুন নোমানআল ফারুকও এই সময়ে রচনা করেন যা ১৮৯৯ সালে প্রকাশিত হয়। ১৮৯২ সালে তিনি কয়েকটি মুসলিম দেশ সফর করেন। ১৮৯৩ সালে প্রকাশিত সফরনামায়ে রোম মিশর ও শাম গ্রন্থে এই ভ্রমণকাহিনী লিপিবদ্ধ করেন।[১৪]

কর্মজীবনের সূচনালগ্নে তিনি সৈয়দ আহমেদ খানের আলিগড় আন্দোলনের প্রচার-প্রসারে অতি উৎসাহের সাথে অংশগ্রহণ করেন। কিন্তু পরবর্তীতে আধুনিক শিক্ষিতদের দুরবস্থা অনুধাবন করে তার চিন্তাধারায় পরিবর্তন আসে। ১৮৯৩ সালে প্রকাশিত ভ্রমণকাহিনীতে তার চিন্তা-চেতনার ভিন্নতা প্রকাশ পায়। এই বইয়ে তিনি তাগিদ দিয়েছেন যে, শুধু আধুনিকতার ফলাফল হতাশাব্যাঞ্জক এবং শুধু পুরােনােত্বের মধ্যে কোন উৎকর্ষ নেই। এজন্য পুরােনাে ও আধুনিকতার সমন্বয়ে যুগপৎ ব্যবস্থা আমাদের সমস্যা সমাধানের উত্তম পথ। ১৮৯৪ সালে তার বিদ্যাবত্তার স্বীকৃতিস্বরূপ ব্রিটিশ সরকার তাকে শামসুল উলামা উপাধিতে ভূষিত করেন।[১৪]

সৈয়দ আহমদ খান ও তার মাঝে মতাদর্শের এই ভিন্নতার দিন দিন বাড়তে থাকে। ১৮৯৮ সালে সৈয়দ আহমেদ খানের মৃত্যুর পর তিনি কলেজ থেকে অবসর গ্রহণ করেন।[১৪]

শেষজীবন[সম্পাদনা]

১৮৯৮ থেকে ১৯০১ পর্যন্ত তার জীবন ছিল বিপর্যস্ত। এ সময় তিনি সার্বক্ষণিক অসুস্থতা ও নিঃসঙ্গতায় ভূগছিলেন। আল ফারুকের শেষ পৃষ্ঠা তিনি এই সময়ে রচনা করেন। ১৯০১ সালে তিনি হায়দ্রাবাদ চলে যান। এপ্রিলে থাকে ‘মদদগার মুতামাদ উমুরে মাজহাবি’-এর দায়িত্ব অর্পণ করা হলেও তিনি এটি গ্রহণে অস্বীকৃতি জানান। মে মাসে তিনি ‘সরেরেশতায়ে তালিম ওয়া ফুনুন’-এর ব্যবস্থাপক পদে নিয়োগ লাভ করেন, ১৯০৫ সাল পর্যন্ত তিনি হায়দ্রাবাদে অবস্থান করেন। এ সময় তিনি পাঁচটি গ্রন্থ রচনা করেন:[১৫]

হায়দ্রাবাদের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির কারণে ১৯০৫ সালে তিনি দারুল উলুম নদওয়াতুল উলামায় চলে আসেন এবং শিক্ষকতা চালিয়ে যান। ১৯০৬ সালে তিনি মোয়াজেনা আনিস ওয়াদাবির গ্রন্থের নতুন বিন্যাসের কাজ শুরু করেন এবং শেরুল আজিম লেখনীতে মনোযোগী হন। ১৯০৭ সালের মে মাসে তিনি ফেরদৌসীর জীবনী লেখা শুরু করেছিলেন। কিন্তু এসময় পায়ের অসুস্থতায় তার টাকনু পর্যন্ত কেটে ফেলা হয়। ১৯০৮ সালে তিনি রচনা করেন দস্তায়েগুলবুয়েগুল। ১৯১২ সালে তিনি সীরাতুন নবী রচনার কাজ শুরু করেন।[১৬]

নদওয়ায় শিক্ষকতাকালীন তিনি কিছু উন্নয়নমূলক সংস্কার সাধন করেন। সিলেবাস পরিবর্তন করেন। ইংরেজি শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করেন। ঐচ্ছিক ভাষা হিসেবে হিন্দি এবং সংস্কৃত শিক্ষা চালু করেন। আধুনিক আরবি ভাষায় বক্তব্য ও লেখনিতে জোর দেন। মেধাবী ছাত্রদের একটি অংশকে নিজ দায়িত্বে নিয়ে নেন। শিক্ষার মান উন্নয়নে নতুন শ্রেণি চালু করেন। নিয়মিতভাবে এম.এ শ্রেণির ক্লাস শুরু করেন। নদওয়ায় কুতুব খানার বইগুলােকে দ্বিগুণ করে দেন। ‘আন নদওয়া’ নামক একটি পত্রিকার প্রচলন করেন। নদওয়া পরিচালনার জন্য চিরস্থায়ী আয়ের পথ তৈরী ও ভূমির বন্দোবস্ত করেন। ধারাবাহিকভাবে বার্ষিক মাহফিলের ভিত্তি স্থাপন করেন এবং বহু শ্রেণি কক্ষ নির্মাণ করেন। এছাড়াও নদওয়াতুল উলামার সভা ও মঞ্চ থেকে কল্যাণমূলক কিছু প্রস্তাবনা তৈরী করেন।[১৬]

শেষের দিকে নদওয়ার অন্য সদস্যদের সাথে মতপার্থক্য দেখা দিলে জুলাই ১৯১৩ সালে তিনি পদত্যাগ করেন। ১৯১৪ সালের আগষ্ট মাসে তার বড় ভাইয়ের অসুস্থতার খবরে তিনি এলাহাবাদ চলে যান। দুই সপ্তাহ পর তার ভাই মৃত্যুবরণ করেন। এরপর তিনি আজমগড়ে চলে যান। সেখানে তিনি দারুল মুসান্নিফীনের প্রাথমিক ধারণা উদ্ভাবন করেন। ১৯১৪ সালের ১৮ নভেম্বর তিনি মৃত্যুবরণ করেন।[১৭]

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. শারমা, অরবিন্দ (২০১৮)। এনসাক্লোপিডিয়া অব ইন্ডিয়ান রিলিজিয়ন : ইসলাম, ইহুদিবাদ এবং জরাথ্রুস্টবাদ (ইংরেজি ভাষায়)। ডর্ড্রেকট: স্প্রিংগার নেদারল্যান্ডস। পৃষ্ঠা ৬৩৫–৬৩৬। আইএসবিএন 978-94-024-1266-6ডিওআই:10.1007/978-94-024-1267-3_100532 
  2. রেড্ডি, কে. কৃষ্ণ (২০০৬)। জেনারেল স্টাডিজ হিস্টোরিনতুন দিল্লি শাখা: এমসি গ্রা হিল এডুকেশন। পৃষ্ঠা সি–১৪৪। আইএসবিএন 978-0070604476এএসআইএন 0070604479 
  3. এস্পোসিতো, জন এল. (২০০৩)। "মুহাম্মদ শিবলী নোমানী"। দ্য অক্সফোর্ড ডিকশনারী অব ইসলাম (ইংরেজি ভাষায়)। অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস। আইএসবিএন 978-0-19-512558-0 
  4. মেটকাল্ফ, বারবারা ডি. (২০০৫)। ইসলামিক রিভাবল ইন ব্রিটিশ ইন্ডিয়া : দেওবন্দ, ১৮৬০-১৯০০ (ইংরেজি ভাষায়)। নতুন দিল্লি: অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস। পৃষ্ঠা ৩৪১–৩৪২। আইএসবিএন 978-0-19-566049-4ওসিএলসি 634860270 
  5. পরিষদ, সম্পাদনা (জুন ১৯৮২)। সংক্ষিপ্ত ইসলামি বিশ্বকোষ ২য় খণ্ড। শেরেবাংলা নগর, ঢাকা: ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ। পৃষ্ঠা ৩৮৩, ৩৮৪। আইএসবিএন 954-06-022-7 
  6. সুহায়ল ১৯৩৬, পৃ. ৫২।
  7. সুলাইমান নদভী ১৯৪৩, পৃ. ৭৫।
  8. মিনহাজ উদ্দীন মাহমুদ ২০১৬, পৃ. ১১।
  9. সুলাইমান নদভী ১৯৪৩, পৃ. ৭৯–৮০।
  10. মিনহাজ উদ্দীন মাহমুদ ২০১৬, পৃ. ১২।
  11. সুলাইমান নদভী ১৯৪৩, পৃ. ১৮।
  12. সুলাইমান নদভী ১৯৪৩, পৃ. ১১১, ১১২।
  13. মিনহাজ উদ্দীন মাহমুদ ২০১৬, পৃ. ১৩।
  14. মিনহাজ উদ্দীন মাহমুদ ২০১৬, পৃ. ১৪।
  15. মিনহাজ উদ্দীন মাহমুদ ২০১৬, পৃ. ১৫।
  16. মিনহাজ উদ্দীন মাহমুদ ২০১৬, পৃ. ১৬।
  17. মিনহাজ উদ্দীন মাহমুদ ২০১৬, পৃ. ১৭।

গ্রন্থপঞ্জি[সম্পাদনা]

পত্রিকা[সম্পাদনা]

বই[সম্পাদনা]

সাময়িকী[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]