রেশমি রুমাল আন্দোলন

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন

রেশমি রুমাল আন্দোলন (তেহরিক-ই-রেশমি রুমাল) বলতে ব্রিটিশ শাসন থেকে ভারতকে মুক্ত করার উদ্দেশ্যে ১৯১৩ থেকে ১৯২০ সালের মধ্যে দেওবন্দি নেতাদের কর্তৃক সংগঠিত আন্দোলনকে বোঝায়। এতে উসমানীয় সাম্রাজ্য, জার্মান সাম্রাজ্যআফগানিস্তানের সহায়তা নেয়ার পরিকল্পনা করা হয়। আফগানিস্তানে দেওবন্দি নেতা উবাইদুল্লাহ সিন্ধির কাছ থেকে পারস্যে অন্য আরেকজন নেতা মাহমুদুল হাসানের কাছে পাঠানো চিঠি উদ্ধারের মাধ্যমে পাঞ্জাব সিআইডি পরিকল্পনার কথা জানতে পারে। চিঠিটি রেশমের কাপড়ের উপর লেখা হয়েছিল বলে এই নামে এর নামকরণ করা হয়।[১][২]

প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ১৯১৫ সালের অক্টোবর মাওলানা উবাইদুল্লাহ সিন্ধিদারুল উলুম দেওবন্দের প্রিন্সিপল মাওলানা মাহমুদুল হাসান কাবুলের দিকে যাত্রা করেন। ভারতের উপজাতীয় এলাকায় একটি মুসলিম বিদ্রোহ ঘটানোর পরিকল্পনা ছিল। এ উদ্দেশ্যে উবাইদুল্লাহ সিন্ধি আফগানিস্তানের আমির হাবিবুল্লাহ খানকে ব্রিটেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার জন্য প্রস্তাব করতে চেয়েছিলেন। অন্যদিকে মাহমুদুল হাসান জার্মান ও তুর্কি সাহায্য চান। মাহমুদুল হাসান হেজাজের দিকে অগ্রসর হন। এর মধ্যে উবাইদুল্লাহ সিন্ধি আফগানিস্তানের আমিরের সাথে সুসম্পর্ক স্থাপনে সক্ষম হন। তাকে তুরস্কে পৌছে দিতে তার সাথে আসা অনুসারী ছাত্রদের নিয়ে কাবুলে তিনি সিদ্ধান্ত নেন যে ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে প্যান-ইসলামি উদ্দেশ্য সর্বোত্তম ভূমিকা রাখতে পারবে। ব্রিটেনের বিরুদ্ধে খলিফার জিহাদে যোগদানের জন্য তিনি তুরস্ক যেতে ইচ্ছুক ছিলেন।[৩]

বার্লিন-ভারতীয় কমিটি (যা ১৯১৫ সালের পর ভারতীয় স্বাধীনতা কমিটি রূপ নেয়) ইন্দো-জার্মান-তুর্কি মিশনে রূপ নেয় যার আওতায় ইন্দো-ইরানি সীমান্তের উপজাতিগুলোকে ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে হামলা চালাতে উৎসাহ দেয়ার কথা ছিল।[৪][৫] এই গ্রুপ ১৯১৫ সালের ডিসেম্বরে কাবুলে দেওবন্দিদের সাথে মিলিত হয়। এই মিশন ভারতীয় আন্দোলনের কর্মীদের ভারতের সীমানায় নিয়ে আসার পাশাপাশি জার্মান সম্রাট, আনোয়ার পাশা ও মিশরের খেদিব আব্বাস হিলমির বার্তা নিয়ে আসে যাতে ভারতের বিরুদ্ধে অগ্রসরের কথা উল্লেখ ছিল।[৬][৭]

মিশনের তাৎক্ষণিক উদ্দেশ্য ছিল আফগানিস্তানের আমিরের ব্রিটিশ ভারতের বিরুদ্ধে অগ্রসর হওয়া[৬] এবং আফগান সরকারের কাছ থেকে চলাচলের উন্মুক্ত পথ লাভ করা।[৮] কিন্তু পরিকল্পনা ফাস হওয়ার পর শীর্ষ দেওবন্দি নেতারা গ্রেপ্তার হন। শাইখুল হিন্দ বলে পরিচিত মাহমুদুল হাসানকে মক্কা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাকে হুসাইন আহমেদ মাদানিসহ মাল্টায় নির্বাসন দেয়া হয়।

২০১৩ সালের জানুয়ারি ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে রেশমি রুমান আন্দোলনের স্মরণে স্মারক ডাকটিকেট প্রকাশ করেন।[৯]

Silk Letter Movement(PDF)

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Pan-Islam in British Indian Politics: A Study of the Khilafat Movement, 1918-1924.(Social, Economic and Political Studies of the Middle East and Asia). M. Naeem Qureshi. p79,80,81,82
  2. Sufi Saints and State Power: The Pirs of Sind, 1843-1947.Sarah F. D. Ansari.p82
  3. Ansari 1986, পৃ. 515
  4. Ansari 1986, পৃ. 514
  5. Strachan 2001, পৃ. 788
  6. Sims-Williams 1980, পৃ. 120
  7. Seidt 2001, পৃ. 1,3
  8. Ansari 1986, পৃ. 516
  9. http://pib.nic.in/newsite/PrintRelease.aspx?relid=91529
  • Muhammad Miyan /Muhammadullah Qasmi, Moulana (২০১৩), Silk Letter Movement (2013), Manak Publications, Pvt. Ltd. New Delhi, আইএসবিএন 978-93-7831-322-6 .
  • Ansari, K. H. (১৯৮৬), Pan-Islam and the Making of the Early Indian Muslim Socialist. Modern Asian Studies, Vol. 20, No. 3. (1986), pp. 509-537, Cambridge University Press .
  • Seidt, Hans-Ulrich (২০০১), From Palestine to the Caucasus-Oskar Niedermayer and Germany's Middle Eastern Strategy in 1918.German Studies Review, Vol. 24, No. 1. (Feb., 2001), pp. 1-18, German Studies Association, আইএসএসএন 0149-7952 .
  • Sims-Williams, Ursula (১৯৮০), The Afghan Newspaper Siraj al-Akhbar. Bulletin (British Society for Middle Eastern Studies), Vol. 7, No. 2. (1980), pp. 118-122, London, Taylor & Francis Ltd, আইএসএসএন 0305-6139 .
  • Strachan, Hew (২০০১), The First World War. Volume I: To Arms, Oxford University Press. USA, আইএসবিএন 0-19-926191-1 .
  • M .E. Yapp, "That Great Mass of Unmixed Mahomedanism": Reflections on the Historical Links between the Middle East and Asia, British Journal of Middle Eastern Studies, Vol. 19, No. 1. (1992), pp. 3–15.
  • M. Naeem Qureshi, The 'Ulamā' of British India and the Hijrat of 1920, Modern Asian Studies, Vol. 13, No. 1. (1979), pp. 41–59.