দারুল উলুম দেওবন্দ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
দারুল উলুম দেওবন্দ
دارالعلوم دیوبند
দারুল উলুম দেওবন্দ
ধরনকওমি মাদ্রাসা
স্থাপিত৩১ মে ১৮৬৬; ১৫৪ বছর আগে (1866-05-31)
আচার্যমজলিসে শুরা
অবস্থান, ,
ওয়েবসাইটwww.darululoom-deoband.com
দারুল উলুম দেওবন্দের লোগো.png

দারুল উলুম দেওবন্দ (হিন্দি: दारुल उलूम देवबन्द, আরবিউর্দু: دارالعلوم دیوبند‎‎) হল ভারতের একটি মাদরাসা। এখান থেকে দেওবন্দি আন্দোলনের সূত্রপাত হয়। উত্তর প্রদেশের সাহারানপুর জেলার দেওবন্দ নামক স্থানে এই মাদ্রাসার অবস্থান। ১৮৬৬ সালে বেশ কয়েকজন বিশিষ্ট ইসলামি পণ্ডিত এটির প্রতিষ্ঠা করেন। মাওলানা মুহাম্মদ কাসেম নানুতুবি তাদের প্রধান ছিলেন। অন্যান্যদের মধ্যে ছিলেন মাওলানা রশীদ আহমেদ গাঙ্গুহী ও হাজী সাইদ আবিদ হুসাইন।এটি পৃথিবীর একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এই মাদ্রাসার ছাত্র পুরো পৃথিবীতে অবদান রাখছে।

সূচনা[সম্পাদনা]

দেওবন্দ ছিল মুহাম্মদ কাসেম নানুতুবির শ্বশুরালয়। সেখানে গেলে তিনি সাত্তা মসজিদে নামাজ আদায় করতেন। হাজী আবেদ হোসেন ছিলেন সাত্তা মসজিদের ইমাম। মাওলানা জুলফিকার আলীমাওলানা ফজলুর রহমান অত্র এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। এসব ব্যক্তিবর্গ নামাযান্তে হাজী আবেদ হোসেনের হুজরায় প্রায় সমবেত হতেন। দেশের এহেন পরিস্থিতি তাদেরকেও ভাবিয়ে তুলেছিল ভীষণভাবে। তারা সবচেয়ে বেশি ভাবতেন ইসলামী শিক্ষার ভবিষ্যৎ নিয়ে! কিন্তু বিকল্প কোন পথ কেউ খুঁজে পাচ্ছিলেন না। দীর্ঘ ৬/৭ বছর এভাবে কেটে গেল। ১৮৬৬ সালে মাওলানা কাসেম নানুতুবী দেওবন্দের দেওয়ান মহল্লায় স্বীয় শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে আসেন। বাড়ি সংলগ্ন সাত্তা মসজিদের ইমাম হাজী আবিদ হোসানের সাথে মাদরাসা শিক্ষা নিয়ে দীর্ঘক্ষণ আলোচনা হওয়ার পর সেখানেই একটি মাদরাসা প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে অভিমত ব্যক্ত করেন।[১]

একদিন সাত্তা মসজিদের ইমাম হাজী আবেদ হোসেন ফজরের নামাজান্তে ইশরাকের নামাজের অপেক্ষায় মসজিদে মোরাকাবারত ছিলেন। হঠাৎ তিনি ধ্যানমগ্নতা ছেড়ে দিয়ে নিজের কাঁধে রুমালের চার কোণ একত্রিত করে একটি থলি বানালেন এবং তাতে নিজের পক্ষ থেকে তিন টাকা রাখলেন। অতঃপর তা নিয়ে তিনি রওয়ানা হয়ে গেলেন মাওলানা মাহতাব আলীর কাছে। তিনি সোৎসাহে ৬ টাকা দিলেন এবং দোয়া করলেন। মাওলানা ফজলুর রহমান দিলেন ১২ টাকা, হাজী ফজলুল হক দিলেন ৬ টাকা। সেখান থেকে উঠে তিনি গেলেন মাওলানা জুলফিকার আলীর নিকট। জ্ঞানানুরাগী এই ব্যক্তিটি দিলেন ১২ টাকা। সেখান থেকে উঠে এই দরবেশ সম্রাট “আবুল বারাকাত” মহল্লার দিকে রওয়ানা হলেন। এভাবে ২০০ টাকা জমা হয়ে গেল এবং সন্ধ্যা পর্যন্ত জমা হল ৩০০ টাকা। এভাবে বিষয়টি লোকমুখে চর্চা হতে বেশ টাকা জমে যায়। জনগণের উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখে তিনি মিরাটে কর্মরত মাওলানা কাসেম নানুতুবির নিকট এই মর্মে পত্র লিখেন যে, আমরা মাদ্রাসার কাজ শুরু করে দিয়েছি আপনি অনতিবিলম্বে চলে আসুন। চিঠি পেয়ে নানুতুবী মোল্লা মাহমুদকে শিক্ষক নিযুক্ত করে পাঠিয়ে দিলেন এবং তার মাধ্যমে মাদ্রাসার কাজ চালিয়ে যাওয়ার কথা উল্লেখ করে চিঠি লিখে দিলেন। এভাবেই গণচাঁদার উপর ভিত্তি করে ছোট্ট একটি ডালিম গাছের নিচে দেওবন্দ মাদ্রাসার গোড়াপত্তন হয়। মোল্লা মাহমুদ সর্বপ্রথম শিক্ষাদান করেন সর্বপ্রথম ছাত্র মাহমুদকে। যিনি পরবর্তীতে শায়খুল হিন্দ মাহমুদুল হাসান দেওবন্দী নামে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন।[২][৩]

প্রতিষ্ঠাতা[সম্পাদনা]

দারুল উলুম দেওবন্দের প্রতিষ্ঠাতা ৬ জন।[৪]

নামকরণ[সম্পাদনা]

প্রতিষ্ঠাকালীন বিশেষ কোনো নাম নির্ধারণ করা হয়নি দারুল উলুম দেওবন্দের ৷ লোকমূখে তখন মাদরাসাটি দেওবন্দ আরবী মাদরাসা নামে পরিচিত হয়ে এটিই মাদরাসার নাম হয়ে যায়। ১২৯৬ হিজরিতে তৎকালীন সদরুল মুদাররিসীন ( প্রধান শিক্ষক ) মাওলানা ইয়াকুব নানুতুবীর প্রস্তাবে মাদরাসার নামকরণ করা হয় ‘‘দারুল উলুম দেওবন্দ’’[৫]

মূলনীতি[সম্পাদনা]

দেওবন্দ মাদ্রাসা পরিচালনার ক্ষেত্রে ৮ টি মূলনীতি অনুসরণ করা হয়। এগুলোকে একসাথে ‘উসূলে হাশতেগানা’ বলা হয়। দেওবন্দের আদলে পরিচালিত সকল মাদ্রাসায় এই নীতিগুলো কঠোরভাবে পালন করা হয়। পরাধীন ভারতে ধ্বসে পড়া ইসলামি শিক্ষাকে পুনরুজ্জীবিত ও সুপ্রতিষ্ঠিত করার মহান লক্ষ্যকে সামনে নিয়ে তৎকালীন দেওবন্দ মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠিতা প্রধান মাওলানা কাসেম নানুতুবি রাষ্ট্রীয় অনুদানের প্রাচীন ধারার পরিবর্তে গণচাঁদার বিষয়টির প্রতি অধিক গুরুত্বারোপ করে এই ৮টি মূলনীতি প্রণয়ন করেন। এগুলো হলঃ[৬][৭][৮][৯]

  • যথাসম্ভব মাদরাসার কর্মচারী ও কর্মকর্তাদেরকে অধিকহারে চাঁদা আদায়ের বিষয়টির প্রতি লক্ষ্য রাখতে হবে। নিজেও এর জন্য চেষ্টা করতে হবে, অন্যের মাধ্যমেও চেষ্টা করাতে হবে। মাদরাসার হিতাকাঙ্খীদেরও এ বিষয়ের প্রতি লক্ষ্য রাখতে হবে।
  • যেভাবেই হোক মাদরাসার ছাত্রদের খানা চালু রাখতে হবে বরং ক্রমান্বয়ে তা উন্নত করার ব্যাপারে হিতাকাঙ্খী ও কল্যাণকামীদের সর্বদা সচেষ্ট থাকতে হবে।
  • মাদরাসার উপদেষ্টাগণকে মাদরাসার উন্নতি, অগ্রগতি এবং সুষ্ঠু ও সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনার দিকে সর্বদা লক্ষ্য রাখতে হবে। নিজের মত প্রতিষ্ঠার একগুঁয়েমী যাতে কারো মাঝে না হয় এ দিকেও লক্ষ্য রাখতে হবে। আল্লাহ না করুন যদি এমন অবস্থা দেখা দেয় যে, উপদেষ্টাগণ নিজ নিজ মতের বিরোধিতা কিংবা অন্যের মতামতের সমর্থন করার বিষয়টি সহনশীলভাবে গ্রহণ করতে না পারেন তাহলে এ প্রতিষ্ঠানের ভিত্তিমূল নড়বড়ে হয়ে পড়বে। আর যথাসম্ভব মুক্ত মনে পরামর্শ দিতে হবে এবং মাদরাসার শৃঙ্খলা রক্ষার বিষয়টি লক্ষ্যণীয় হতে হবে।  নিজের মত প্রতিষ্ঠার মনোবৃত্তি না থাকতে হবে। এ জন্য পরামর্শদাতাকে মতামত প্রকাশের ক্ষেত্রে তার মতামত গ্রহণীয় হওয়ার ব্যাপারে অবশ্যই আশাবাদী না হতে হবে। পক্ষান্তরে শ্রোতাদেরকে মুক্তমন ও সৎ উদ্দেশ্য নিয়ে তা  শুনতে হবে। অর্থাৎ এরূপ মনোবৃত্তি রাখতে হবে যে, যদি অন্যের মত যুক্তিযুক্ত ও বোধগম্য হয়, তাহলে নিজের মতের বিপরীত হলেও তা গ্রহণ করে নেওয়া হবে। আর মুহতামিম বা পরিচালকের জন্য পরামর্শ সাপেক্ষে সম্পাদন যোগ্য বিষয়ে উপদেষ্টাগণের সাথে পরামর্শ করে নেওয়া অবশ্যই জরুরী। তবে মুহতামিম নিয়মিত উপদেষ্টাদের থেকেও পরামর্শ করতে পারবেন কিংবা তাৎক্ষণিকভাবে উপস্থিত এমন কোন বিদগ্ধ জ্ঞানী আলেম থেকেও পরামর্শ গ্রহণ করতে পারবেন যিনি সকল দ্বীনী প্রতিষ্ঠানের জন্য হিতাকাঙ্খী ও কল্যাণকামী। তবে যদি ঘটনাক্রমে উপদেষ্টা পরিষদের সকল সদস্যের সাথে পরামর্শ করার সুযোগ না হয় এবং প্রয়োজনমাফিক উপদেষ্টা পরিষদের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সদস্যের সাথে পরামর্শক্রমে কাজ করে ফেলা হয়, তাহলে কেবল এ জন্য অসন্তুষ্ট হওয়া উচিত হবে না যে, ‘আমার সাথে পরামর্শ করা হল না কেন?’ কিন্তু যদি মুহতামিম কারো সঙ্গেই পরামর্শ না করেন, তাহলে অবশ্যই উপদেষ্টা পরিষদ আপত্তি করতে পারবে।
  • মাদরাসার সকল শিক্ষককে অবশ্যই সমমনা ও একই চিন্তা চেতনার অনুসারী হতে হবে। সমকালীন (দুনিয়াদার) আলেমদের ন্যায় নিজ স্বার্থ প্রতিষ্ঠা ও অন্যকে হেয় প্রতিপন্ন করার দুরভিসন্ধিতে লিপ্ত না হতে হবে। আল্লাহ না করুন যদি কখনো এরূপ অবস্থা দেখা দেয়, তাহলে মাদরাসার জন্য এটি মোটেও কল্যাণকর হবে না।
  • পূর্ব থেকে যে পাঠ্যসূচী নির্ধারিত রয়েছে কিংবা পরবর্তীতে পরামর্শের ভিত্তিতে যে পাঠ্যসূচী নির্ধারণ করা হবে, তা যাতে সমাপ্ত হয়; এই ভিত্তিতেই পাঠদান করতে হবে। অন্যথায় এ প্রতিষ্ঠান সুপ্রতিষ্ঠিতই হবে না, আর যদি হয়ও তবু তা ফায়দাজনক হবে না।
  • এ প্রতিষ্ঠানের জন্য যতদিন পর্যন্ত কোন স্থায়ী আয়ের ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হবে; ততদিন পর্যন্ত আল্লাহর প্রতি নির্ভরশীলতার শর্তে তা এমনিভাবেই চলতে থাকবে ইনশাআল্লাহ। কিন্তু যদি স্থায়ী আয়ের কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়, যেমন কোন জায়গীর লাভ, ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান, মিল ফ্যাক্টরী গড়ে তোলা কিংবা বিশ্বস্ত কোন আমীর উমারার অনুদানের অঙ্গীকার ইত্যাদি, তাহলে এরূপ মনে হচ্ছে যে, আল্লাহর প্রতি ভয় ও আশার দোদুল্যমান অবস্থা; যা মূলতঃ আল্লাহমুখী হওয়ার মূল পুঁজি, তা হাত ছাড়া হয়ে যাবে এবং গায়েবী সাহায্যের দ্বার রুদ্ধ হয়ে যাবে। তদুপরি প্রতিষ্ঠানের কর্মী ও কর্মচারীগণের মাঝে পারস্পরিক বিদ্বেষ ও কলহ বিবাদ দেখা দিবে। বস্তুতঃ আয় আমদানি ও গৃহাদি নির্মাণের বিষয়ে অনেকটাই অনাড়ম্বরতা ও উপায় উপকরণহীন অবস্থা বহাল রাখার প্রতি লক্ষ্য রাখতে হবে।
  • সরকার ও আমীর উমারাদের সংশ্লিষ্টতাও এ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে মারাত্মক ক্ষতির কারণ হবে বলে মনে হচ্ছে।
  • যথা সম্ভব এমন ব্যক্তিদের চাঁদাই প্রতিষ্ঠানের জন্য অধিক বরকতময় হবে বলে মনে হচ্ছে; যাদের চাঁদাদানের মাধ্যমে সুখ্যাতি লাভের প্রত্যাশা থাকবে না। বস্তুতঃ চাঁদাদাতাগণের নেক নিয়ত প্রতিষ্ঠানের জন্য অধিক স্থায়ীত্বের কারণ হবে বলে মনে হয়।

দরসে নেজামী[সম্পাদনা]

দারুল উলুম দেওবন্দে পঠিত সিলেবাস বিশ্ব জুড়ে দরসে নেজামী নামেই প্রসিদ্ধ৷ দরসে নেজামীর প্রতিষ্ঠা হয় ১১০০ শতাব্দীর পরে৷ ১১০০ শতাব্দীর পূর্ব পর্যন্ত শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাপকহারে থাকলেও তা কোনো সিলেবাসভিত্তিক বা কারিকুলামের আলোকে ছিল না। ১১০৫ হিজরিতে মোল্লা নিজামুদ্দীন সাহলাভী ইসলামী শিক্ষাকে কিছুটা ঢেলে সাজান। তিনিই দরসে নেজামী আকারে মাদরাসা শিক্ষা পদ্ধতি চালু করেন। তিনি ছিলেন একাধারে দ্বীনের সুদক্ষ আলেম, ফিকাহ শাস্ত্রবিদ, দার্শনিক, ভাষ্যকার এবং একজন শিক্ষাবিদ। তিনি উত্তর ভারতের সাহালী শহরে ১০৮৮/৮৯ মোতাবেক ১৬৭৭-৭৮ সালে জন্মগ্রহণ করেন।

হিরাতের প্রসিদ্ধ শিক্ষাবিদ শায়খ আব্দুল্লাহ আনসারী ছিলেন তাঁর পূর্বপুরুষ। শায়খ নিজামুদ্দীন সাহালীতে ইসলামী শিক্ষা কেন্দ্রের সূচনা করেন। তারই প্রপৌত্র শায়খ হাফিজের জ্ঞানসাধনায় মুগ্ধ হয়ে সম্রাট আকবর তাকে ঐ এলাকায় ভালো একটি জায়গীর প্রদানের নির্দেশ দেন। ফলে শায়খ ও তাঁর পুত্রগণ নিশ্চিন্তে তালীমের কাজে মগ্ন থাকেন। ছাত্রদের খাদ্য ও বাসস্থানের সুষ্ঠু ব্যবস্থাও করেন। ইসলামের শত্রুরা ১১০৩ হিজরি মোতাবেক ১৬৯১ সালে মোল্লা নিজামুদ্দীনের পিতা মোল্লা কুতুবুদ্দীনকে শহীদ করে তার শিক্ষা উপকরণসমূহ জ্বালিয়ে দেন। ফলে মোল্লা নিজামুদ্দীন তার চার ভাইসহ ভারতের উত্তর প্রদেশের রাজধানী লাখনৌ চলে যান।

সম্রাট আওরঙ্গজেব এই পরিবারের শিক্ষার অবদানের কথা বিবেচনা করে লাখনৌর প্রসিদ্ধ মহল্লা ফিরিঙ্গী মহলে একস্থানে সরকারি আদেশবলে জায়গীর দান করেন। মোল্লা নিজামুদ্দীন এখানে দ্বীনি শিক্ষার কাজ চালিয়ে যান, এমন সময় এটাই মাদরাসায়ে নিজামিয়া নামে সুপরিচিতি লাভ করে। এই ফিরিঙ্গী মহলে এসেই তিনি ১১০৫ হিজরি সনে দরসে নেজমী প্রণয়ন করেন৷ তিনি গঠনমূলকভাবে অত্যন্ত বিচক্ষণতার সাথে প্রায় ১১টি বিষয়ের সমন্বিত সিলেবাসটি প্রণয়ন করেন। ইতিহাসে এটাই দরসে নেজামী নামে পরিচিত। দারুল উলুম দেওবন্দ প্রতিষ্ঠার পরে উক্ত দরসে নেজামীই মাদরাসার নেসাবভুক্ত করা হয়৷ আজ অবধি এই দরসে নেজামীই বিদ্যামান রয়েছে দারুল উলুম দেওবন্দের নেসাবে৷[১০][১১][১]

আচার্যবৃন্দ[সম্পাদনা]

দারুল উলুম দেওবন্দের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে এ পর্যন্ত ১০ জন আচার্যের দায়িত্ব পালন করেছেন। দারুল উলুম দেওবন্দের বর্তমান আচার্য আবুল কাসেম নোমানী[১২][১৩]

নং চিত্র নাম কার্যকাল
হাজী আবেদ হোসেন ১৮৬৬ ১৮৬৭
রফি উদ্দিন উসমানী ১৮৬৭ ১৮৬৮
(১) হাজী আবেদ হোসেন ১৮৬৯ ১৮৭১
(২) রফি উদ্দিন উসমানী ১৮৭২ ১৮৮৮
(১) হাজী আবেদ হোসেন ১৮৮৮ ১৮৯৩
হাজী ফজল হক ১৮৯৩ ১৮৯৪
মুহাম্মদ মুনির নানুতুবি ১৮৯৪ ১৮৯৫
হাফেজ মুহাম্মদ আহমদ ১৮৯৫ ১৯৩০
হাবিবুর রহমান উসমানি ১৯২৮ ১৯২৯
কারী মুহাম্মদ তৈয়ব.jpg কারী মুহাম্মদ তৈয়ব ১৯২৮ ১৯৮০
মারগুবুর রহমান.jpeg মারগুবুর রহমান বিজনুরী ১৯৮২ ২০১০
গোলাম মুহাম্মদ বাস্তনবী ১০ জানুয়ারি ২০১১ ২৪ জুলাই ২০১১
১০ আবুল কাসেম নোমানী ২০১১ বর্তমান

শিক্ষাক্রম[সম্পাদনা]

দেশ ভাগের বিরোধিতা[সম্পাদনা]

দারুল উলুম দেওবন্দের পণ্ডিতদের একটি বড় অংশ ভারত ভাগ করে দুই রাষ্ট্রব্যবস্থার বিরোধিতা করেন। [১৪][১৫][১৬] মাওলানা হুসাইন আহমেদ মাদানি পাকিস্তান ধারণার বিরোধিতাকারী পণ্ডিতদের অন্যতম ছিলেন। এ সময় তিনি মাদরাসার শায়খুল হাদিস হিসেবে কর্মরত ছিলেন এবং আলেমদের সংগঠন জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের নেতৃত্ব দেন।

স্বদেশিকতা[সম্পাদনা]

মুসলিম মহিলাদের নেল পলিশ পরা বা নখে বড় না রেখে তার বদলে মেহেন্দি পরা উচিত বলে দাবি দারুল উলমের।[১৭] সরকারি কোন আইন যদি জনসাধারনের সেফটির জন্য বানানো হয়, এবং তা শরিয়াহ বিরোধী না হয় তাহলে তা কোনভাবে অমান্য করা যাবে না।

উল্লেখযোগ্য শিক্ষার্থী[সম্পাদনা]

আরো দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. প্রতিবেদক, মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী (২৮ অক্টোবর ২০১৬)। "কওমী মাদরাসার ইতিহাস ঐতিহ্য ও অবদান"DailyInqilabOnline 
  2. আবুল ফাতাহ মুহাম্মদ ইয়াহিয়া। "যেভাবে সূচনা হল দেওবন্দ মাদ্রাসার"। দেওবন্দ আন্দোলন: ইতিহাস, ঐতিহ্য ও অবদান (১৯৯৮ সংস্করণ)। আল আমীন রিসার্চ একাডেমি বাংলাদেশ। পৃষ্ঠা ১৫৯। সংগ্রহের তারিখ ৫ জুলাই ২০২০ 
  3. উইলিয়াম ক্যাসলার জ্যাকসন। A Subcontinent's Sunni Schism: The Deobandi-Barelvi Rivalry and the Creation of Modern South Asia the Creation of Modern South Asiasurface.syr.edu। সিরাকিউজ বিশ্ববিদ্যালয়। পৃষ্ঠা ৯০। সংগ্রহের তারিখ ২৭ জুন ২০২০ 
  4. "THE SIX GREAT ONES(Page one)"Darululoom Deoband 
  5. দারুল উলুম দেওবন্দ প্রতিষ্ঠা, মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী (২৮ অক্টোবর ২০১৬)। "কওমী মাদরাসার ইতিহাস ঐতিহ্য ও অবদান"দৈনিক ইনকিলাব 
  6. আবুল ফাতাহ মুহাম্মদ ইয়াহিয়া। "উশূলে হাশতে গানা ও বর্তমানে তার প্রেক্ষাপটে তাঁর কার্যকারিতা"। দেওবন্দ আন্দোলন: ইতিহাস, ঐতিহ্য ও অবদান (১৯৯৮ সংস্করণ)। আল আমীন রিসার্চ একাডেমি বাংলাদেশ। পৃষ্ঠা ১৭৭-১৭৯। সংগ্রহের তারিখ ৫ জুলাই ২০২০ 
  7. "Constitution of Darul Uloom Deoband"Darululoom Deoband 
  8. "দেওবন্দের নীতি বিসর্জন দিয়ে সরকারি অনুদান গ্রহণ করতে পারে না কওমি মাদরাসা"দৈনিক নয়া দিগন্ত। ১ মে ২০২০। 
  9. "Eight Principles by the Founder"dud.edu.in 
  10. Zaman, Muhammad Qasim (1999/04)। "Religious Education and the Rhetoric of Reform: The Madrasa in British India and Pakistan"Comparative Studies in Society and History (ইংরেজি ভাষায়)। 41 (2): 294–323। আইএসএসএন 1475-2999ডিওআই:10.1017/S0010417599002091  এখানে তারিখের মান পরীক্ষা করুন: |তারিখ= (সাহায্য)
  11. "Dars Nizami Course – Al-Karam" (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৭-০৬ 
  12. সৈয়দ মাহবুব রিজভি। "আরবাব-ই-এহতেমাম"। হিস্টোরি অব দ্য দার আল-উলুম দেওবন্দ (২য় খণ্ড) (PDF)। অধ্যাপক মুরতাজ হুসাইন এফ. কুরাইশী কর্তৃক অনূদিত (১৯৮১ সংস্করণ)। ইদারা-ই-এহতেমাম, দারুল উলুম দেওবন্দ। পৃষ্ঠা ১৬৪—১৭৮। সংগ্রহের তারিখ ৯ মে ২০২০ 
  13. "Chancellors of Darul Uloom Deoband"Darululoom Deoband 
  14. Abdus-Sattar Ghazzali ISLAMIC PAKISTAN: ILLUSIONS & REALITY
  15. A History of Pakistan and Its Origins By Christophe Jaffrelot, Gillian Beaumont, p. 224, আইএসবিএন ১-৮৪৩৩১-১৪৯-৬.
  16. Barelvi Islam. globalsecurity.org
  17. "Wear Mehndi" 

গ্রন্থপঞ্জি[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]


স্থানাঙ্ক: ২৯°৪১′৩২″ উত্তর ৭৭°৪০′৩৯″ পূর্ব / ২৯.৬৯২২২° উত্তর ৭৭.৬৭৭৫০° পূর্ব / 29.69222; 77.67750