আহমদ আলী সাহারানপুরি

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

আহমদ আলী সাহারানপুরি
ব্যক্তিগত
জন্ম১৮১০
মৃত্যু১৭ এপ্রিল ১৮৮০(1880-04-17) (বয়স ৬৯–৭০)
ধর্মইসলাম
আখ্যাসুন্নি
ব্যবহারশাস্ত্রহানাফি
আন্দোলনদেওবন্দি
প্রধান আগ্রহহাদিস
মুসলিম নেতা

আহমদ আলী সাহারানপুরি (১৮১০ – ১৭ এপ্রিল ১৮৮০) একজন ব্রিটিশ ভারতীয় হাদিস পণ্ডিত যিনি ভারতে হাদিস সাহিত্য প্রকাশে মুখ্য ভূমিকা পালন করেছিলেন। তিনি মাজাহির উলুম, সাহারানপুরের প্রথম দিকের শিক্ষক ছিলেন। মাদ্রাসাটির উন্নয়নে তার অবদানের জন্য তাকে প্রতিষ্ঠাতা হিসেবেও কৃতিত্ব দেওয়া হয়। তার ছাত্রদের মধ্যে রয়েছেন: মুহাম্মদ কাসেম নানুতুবিশিবলী নোমানী

জীবনী[সম্পাদনা]

আহমদ আলী ১৮১০ সালে সাহারানপুরে জন্মগ্রহণ করেছিলেন।[২] তিনি মিরাটে কুরআন মুখস্থ ও সাহারানপুরের সাদাত আলী ফকীহের কাছে আরবি ভাষার প্রাথমিক বইগুলো পড়েছিলেন। তারপর তিনি দিল্লি গমন করে মামলুক আলী নানুতুবির অধীনে অধ্যয়ন করেন।[৩] তিনি ওয়াজিহুদ্দিন সিদ্দিকীর কাছে সহিহ বুখারীর কিছু অংশ এবং ১২৬১ হিজরিতে মক্কায় শাহ মুহাম্মদ ইসহাক দেহলভির কাছে পরিপূর্ণ হাদিস অধ্যয়ন শেষ করেন। ভারতীয় শিক্ষাবিদ সৈয়দ আহমদ খানের মতে, তিনি সিহাহ সিত্তাহ সহ হাদিসের সকল গ্রন্থ মুহাম্মদ ইসহাকের কাছে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত অধ্যয়ন করেছিলেন।[৪] আবু সালমান শাহজাহানপুরী সৈয়দ আহমদ খানের এই বক্তব্যের সাথে দ্বিমত পোষণ করেন। তার মতে আহমদ আলী মুহাম্মদ ইসহাকের কাছে সহিহ বুখারী পড়েন নি। সৈয়দ মেহবুব রিজভী আহমদ আলীর বরাত দিয়ে লিখেছেন যে, তিনি সাহারানপুরের ওয়াজিহুদ্দিন সিদ্দিকীর কাছে সহিহ বুখারীর বেশিরভাগ অংশ পড়েছিলেন এবং তারপরে মক্কার মুহাম্মদ ইসহাকের কাছে আবার এটি অধ্যয়ন করেছিলেন।[৫]

আহমদ আলী ১৮৪৫ সালে ভারতে ফিরে এসে হাদিস সাহিত্য প্রকাশের জন্য দিল্লিতে “আহমদি প্রেস” স্থাপন করেন।[৫] তিনি সিহাহ সিত্তাহ ও হাদিসের পাণ্ডুলিপি প্রকাশ করেছিলেন।[৬] তিনি সহিহ বুখারীর ২৫টি অধ্যায়ের ব্যাখ্যা রচনা করেছিলেন। সিপাহী বিদ্রোহের সময়ে তার প্রেস ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তখন তিনি এটি মিরাটে স্থানান্তরিত করেন।[৭] তিনি দশ বছর কলকাতায় হাফেজ জামালউদ্দিন মসজিদে ধর্মীয় বক্তৃতা প্রদান করেন।[২] ১২১৯ হিজরিতে তিনি সাহারানপুরে ফিরে এসে মাজাহির উলুমে শিক্ষকতা করেন।[৮] সাদাত আলী ফকিহের মৃত্যুর পরে তাকে মাদ্রাসার উপ-রেক্টর নিযুক্ত করা হয় এবং ১২৯৪ হিজরিতে মাজহার নানুতুবির অনুপস্থিতিতে তিনি অধ্যক্ষ নিয়োগ হন। মাদ্রাসাটির প্রাথমিক উন্নয়নে তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার জন্য প্রায়শই তাকে মাজাহির উলুমের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে কৃতিত্ব দেওয়া হয়।[৯] তার ছাত্রদের মধ্যে রয়েছেন: মুহাম্মদ কাসেম নানুতুবি, মুহাম্মদ ইয়াকুব নানুতুবি, আহমদ হাসান আমরোহি, আহসান নানুতুবি এবং শিবলী নোমানী[১০]

আহমদ আলী ১৮৮০ সালের ১৭ এপ্রিল সাহারানপুরে মৃত্যুবরণ করেন।[১১][৬] সৈয়দ আহমদ খান তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছিলেন।

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

উদ্ধৃতি[সম্পাদনা]

  1. আজমী, নূর মুহাম্মদ (২০০৮)। হাদিসের তত্ত্ব ও ইতিহাস। বাংলাবাজার, ঢাকা: এমদাদিয়া পুস্তকালয়। পৃষ্ঠা ১৬৩। 
  2. শহিদ সাহারানপুরী। জ্ঞান ও লেখালেখিতে উলামায়ে মাজাহেরুল উলুমের অবদান (২০০৫ সংস্করণ)। পৃষ্ঠা ৮৩। 
  3. সৈয়দ মেহবুব রিজভীসাওয়ানেহ উলামায়ে দেওবন্দ। পৃষ্ঠা ২৪৩। 
  4. খান, সৈয়দ আহমদ। তাজকেরায়ে খানওয়াদায়ে ওয়ালিউল্লাহ। পৃষ্ঠা ২৯১। 
  5. সৈয়দ মেহবুব রিজভীসাওয়ানেহ উলামায়ে দেওবন্দ। পৃষ্ঠা ২৪৪। 
  6. নিজামুদ্দিন আসির আদ্রাভিতাজকেরায়ে মাশাহিরে হিন্দ: কারওয়ানে রাফতা (উর্দু ভাষায়) (২ এপ্রিল ২০১৬ সংস্করণ)। দারুল মুআল্লিফীন। পৃষ্ঠা ২২–২৩। 
  7. সৈয়দ মেহবুব রিজভীসাওয়ানেহ উলামায়ে দেওবন্দ। পৃষ্ঠা ২৪৫। 
  8. শহিদ সাহারানপুরী। জ্ঞান ও লেখালেখিতে উলামায়ে মাজাহেরুল উলুমের অবদান (২০০৫ সংস্করণ)। পৃষ্ঠা ৮৪। 
  9. শহিদ সাহারানপুরী। জ্ঞান ও লেখালেখিতে উলামায়ে মাজাহেরুল উলুমের অবদান (২০০৫ সংস্করণ)। পৃষ্ঠা ৭০–১০৮। 
  10. খান, সৈয়দ আহমদ। তাজকেরায়ে খানওয়াদায়ে ওয়ালিউল্লাহ। পৃষ্ঠা ২৯৫। 
  11. সৈয়দ মেহবুব রিজভীসাওয়ানেহ উলামায়ে দেওবন্দ। পৃষ্ঠা ২৫১। 

গ্রন্থপঞ্জি[সম্পাদনা]

  • মুনতাসির জামান। ভারত উপমহাদেশে হাদিস বৃত্তি : আহমদ আলী সাহরানপুরি এবং উপনিবেশিক যুগে হাদিস সাহিত্য। কুরতুবা বুকস। আইএসবিএন 978-1-9160232-4-6 
  • শহিদ সাহারানপুরি। জ্ঞান ও লেখালেখিতে মাজাহির উলুমের অবদান (উর্দু ভাষায়) (২০০৫ সংস্করণ)। মাকতাবায়ে ইয়াদগারে শায়খ। পৃষ্ঠা ৮৩–৯৫। 
  • সৈয়দ মেহবুব রিজভী। "হযরত মাওলানা আহমদ আলী মুহাদ্দিস সাহারানপুরি"। সাওয়ানেহ উলামায়ে দেওবন্দ (উর্দু ভাষায়) (জানুয়ারি ২০০০ সংস্করণ)। নওয়াজ পাবলিকেশন্স। পৃষ্ঠা ২৪৩–২৫৫। 
  • খান, সৈয়দ আহমদ। "জনাব মাওলানা আহমদ আলী সাহেব মরহুম"। তাজকেরায়ে খানওয়াদে ওয়ালিউল্লাহ (উর্দু ভাষায়)। সিন্ধু বিশ্ববিদ্যালয়। পৃষ্ঠা ২৮৯–২৯৬। 
  • খাতুন, আয়েশা (২০১৭)। স্বাধীনতার পর হাদিস সাহিত্যে ভারতের অবদান। ভারত: সুন্নি ধর্মতত্ত্ব বিভাগ, আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়। পৃষ্ঠা ৭৭–৭৮। hdl:10603/54426