মুহাম্মদ সাদ কান্ধলভি

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

মুহাম্মদ সাদ কান্ধলভী (জন্ম: ১০-ই মে ১৯৬৫) একজন ভারতীয় মুসলিম পণ্ডিত এবং প্রচারক। তিনি তাবলিগ জামাতের প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ ইলিয়াস কান্ধলভীর প্রপৌত্র।[১][২] তিনি তাবলিগী জামাতের একটি অংশের প্রধান।[৩][৪]

মুহাম্মদ সাদ কান্ধলভী
তাবলিগ জামাতের আমির (নিজামউদ্দীন)
দায়িত্বাধীন
অধিকৃত কার্যালয়
১৬ নভেম্বর ২০১৫
পূর্বসূরীবর্তমান
ব্যক্তিগত
জন্ম১০ মে ১৯৬১
ধর্মইসলাম
জাতীয়তাভারতীয়
আখ্যাসুন্নি
যেখানের শিক্ষার্থীকাশিফুল উলুম মাদ্রাসা, নিজামউদ্দিন মারকাজ
কাজপ্রচারক
আত্মীয়সালমান মাজাহিরি (শ্বশুর)

প্রাথমিক জীবন[সম্পাদনা]

তিনি পশ্চিম-উত্তর প্রদেশের শামলী জেলার কান্ধলা শহরে ১৯৬৫ সালের ১৩ই মে (১৩৮৫ হিঃ)। তিনি তাবলিগ জামাতের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রাক্তন মুহাম্মদ ইলিয়াস কান্ধলভির প্রপৌত্র ও তবলিগ জামাতের প্রাক্তন আমীরের মুহাম্মদ ইউসুফ কান্ধলভীর নাতি।[২] তিনি ১৯৮৭ সালে নয়াদিল্লির নিজামউদ্দিন মারকাজের কাশিফুল উলূম মাদরাসা থেকে দরসে নিজামি পড়াশোনা শেষ করেন।[২][৫]

কর্মজীবন[সম্পাদনা]

তাবলীগ জামাতের সাবেক প্রধান ইনামুল হাসান কান্ধলভী ১৯৯৫ সালে তার মৃত্যুর আগে ১০ সদস্যের একটি আইন প্রণয়ন করেছিলেন এবং এই আইনটি (সাধারণভাবে শুরা) ২০১৫ সাল পর্যন্ত অক্ষত ছিল। জুবায়েরুল হাসান কান্ধলভী সহ এই দলের অধিকাংশ পণ্ডিত এই ২০ বছরে মারা যান। শুরা আইনের ফাঁকা স্থান পূরণের জন্য ১৬ নভেম্বর, ২০১৫ তারিখে রায়উইন্ড মারকাজে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয় এবং মুহাম্মদ আব্দুল ওয়াহ্হাবসহ ১৩ জন সদস্যকে নিয়ে একটি নতুন শুরা গঠিত হয়।এই শূরা গঠনের মাশোয়ারার সময় মাওলানা সাদ কান্ধলভী কে অংশিদারিত্ব না দেয়ায় এই শুরার সাথে মাওলানা সাদ সাহেব একমত হননি কারণ এনামূল হাসান সাহেবের বানানো শূরাদের মধ্যে একমাত্র তিনিই সুস্থ সবল এবং যুবক ছিলেন।আর তাকেই ওই মাশোয়ারায় অংশিদারিত্ব দেয়া হয়নি। তাই এই শূরা গঠণ করাটা পাকিস্তান রাইউন্ড মারকাজের একটি ষড়যন্ত্র বলে গণ্য করে মাওলানা সাদ কান্ধলভী।

সমালোচনা[সম্পাদনা]

তার কিছু বিবৃতি দেওবন্দি পণ্ডিতদের বিরুদ্ধে যায়। দক্ষিণ আফ্রিকার মুফতি ইব্রাহিম দেশাই তার ওয়েবসাইট আস্কইমাম-এ একটি ফতোয়া প্রকাশ করেন।[৬] ভারতের ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় দারুল উলুম দেওবন্দ তার নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলে তার বিরুদ্ধে ফতোয়া জারি করে।[৭][৮][৯]

দারুল উলুম নাদওয়াতুল উলামার জায়েদ মাজাহিরি তাবলীগ জামাত কা বাহামি ইখতেলাফ আউর ইত্তেহাদ-ও-ইত্তেফাক আউর সুলাহ-ও-সাফাই কি এক কৌশিশ (অনু. তাবলীগ জামাতের অভ্যন্তরীণ বিবাদ: পারস্পরিক ঐক্যবদ্ধ হওয়ার এবং সমঝোতার একটি প্রচেষ্টা) সহ এই বিষয়ে অনেক চুক্তি লিখেছেন। [১০] এই প্রতিক্রিয়া অনুসরণ করে ব্রিটিশ পণ্ডিত ইউসুফ মুতালা সাদ কান্ধলভির পক্ষে লিখেছেন এবং কথা বলেছেন।[১১]

২০২০ দিল্লিতে তাবলিগ জামাত করোনাভাইরাস হটস্পট[সম্পাদনা]

ভারতে কভিড-১৯ মহামারীর মধ্যে, নিজামুদ্দিন মারকাজের তাবলিগে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে বেশ কয়েকজন রোগী করোনাভাইরাসের পরীক্ষায় পজেটিভ ধরা পড়ে।[১২] যার ফলে দিল্লি সরকার মারকাজে একটি তাবলীগ জামাত ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজনের জন্য সাদ কান্ধলভীর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করে।[১৩][১৪][১৫][১৬][১৭] ২৫ মার্চে তারা কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ওই ভবন খালি করার জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে সাহায্য চেয়েছিল।[১৮]

পারিবারিক জীবন[সম্পাদনা]

সাদ কান্ধলভী হলেন সালমান মাজাহিরির জামাতা।[১৯]

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "Saad Kandhalvi"The Muslim 500 (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-১০-১৪ 
  2. "Saad Kandhalvi: The Indian preacher at the centre of Ijtema dispute"Dhaka Tribune। ২০১৮-০১-১২। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-১০-১৪ 
  3. "Tableeghi Jamaat in Britain splits into two factions"www.thenews.com.pk (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-১০-১৪ 
  4. "Global leadership split in Tablighi Jamaat echoes in San Francisco Bay Area"Countercurrents (ইংরেজি ভাষায়)। ২০১৮-১০-১২। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-১০-১৪ 
  5. "Saad Kandhalvi: The Indian preacher at the centre of Ijtema dispute"Dhaka Tribune। ২০১৮-০১-১২। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-১০-১৪ 
  6. "Public » Askimam"www.askimam.org। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-১০-১৪ 
  7. "Clarification of Darul Uloom Deoband about Ruju of Maulana Saad Kandhlawi"DEOBAND ONLINE (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-১০-১৪ 
  8. "Darul Uloom Deoband's Stand About Maulana Saad Kandhlawi of Tabligh"DEOBAND ONLINE (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-১০-১৪ 
  9. Iqbal, Sajid (২০১৮-০২-২৫)। "A HOUSE DIVIDED"DAWN.COM (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-১০-১৪ 
  10. Zaid Mazahiri Nadwi। "Tablighi Jamat Ka Bahami Ikhtelaf awr Ittehad-o-Ittefaq awr Sulah-o-Safaii Ki ek Koshish" (PDF)archive.org। সংগ্রহের তারিখ ৩০ মার্চ ২০২০ 
  11. "Letter to Moulana Yusuf Motala | Religion And Belief | Qur'an"Scribd (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-১০-১৪ 
  12. "India: 6 Tablighi Jamaat members test COVID-19 positive"archive.org। ১৪ অক্টোবর ২০২০। সংগ্রহের তারিখ ১৪ অক্টোবর ২০২০ 
  13. "Delhi government orders FIR against Nizamuddin Maulana"https://www.outlookindia.com/। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-১০-১৪  |ওয়েবসাইট= এ বহিঃসংযোগ দেয়া (সাহায্য)
  14. "Nizamuddin:Delhi govt. orders FIR against Maulana Saad Kandhalvi"The Siasat Daily (ইংরেজি ভাষায়)। ২০২০-০৩-৩০। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-১০-১৪ 
  15. India, Press Trust of (২০২০-০৩-৩০)। "Nizamuddin congregation: Arvind Kejriwal orders FIR against maulana"Business Standard India। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-১০-১৪ 
  16. DelhiMarch 30, Press Trust of India New; March 30, 2020UPDATED:; Ist, 2020 23:12। "Nizamuddin congregation: Arvind Kejriwal orders FIR against maulana"India Today (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-১০-১৪ 
  17. "Corona positive cases from Nizamuddin religious gathering spread across states, 6 dead in Telangana"https://www.outlookindia.com/। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-১০-১৪  |ওয়েবসাইট= এ বহিঃসংযোগ দেয়া (সাহায্য)
  18. Reporter, Staff (২০২০-০৩-৩১)। "Nizamuddin markaz had sought help from authorities for vacating premises"The Hindu (ইংরেজি ভাষায়)। আইএসএসএন 0971-751X। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-১০-১৪ 
  19. "بڑی خبر : مولانا سعد کاندھلوی کی کورونا رپورٹ نیگیٹیو!"Millat Times | A Leading Urdu English, Hindi News Portal and YouTube Channel। ২০২০-০৪-১৮। ২০২০-০৭-২১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-১০-১৪ 

গ্রন্থপঞ্জি[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]