আরশাদ মাদানি

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
আরশাদ মাদানি
জন্ম১৯৪১
ভারত
জাতীয়তাভারতীয়
শিক্ষাদারুল উলুম দেওবন্দ
মাতৃশিক্ষায়তনদারুল উলুম দেওবন্দ
পেশাইসলামি মনীষী
কর্মজীবন১৯৬৪ - বর্তমান
ওয়েবসাইটhttp://www.jamiatulamaihind.com/home.html

সাইয়্যিদ আরশাদ মাদানি (জন্ম ১৯৪১) জমিয়ত উলামায়ে হিন্দের প্রেসিডেন্ট। তার পিতার নাম হুসাইন আহমদ মাদানি। ২০০৬ সালের ৮ই ফেব্রুয়ারি বড় ভাই আসআদ মাদানির পর তিনি জমিয়ত উলামায়ে হিন্দের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছিলেন।[১][২]

শিক্ষাজীবন[সম্পাদনা]

মাত্র ৮ বছর বয়সে মাওলানা সাইয়্যিদ আরশাদ মাদানি গোটা কুরআন মুখস্ত করে ফেলেছিলেন। তারপর দারুল উলুম দেওবন্দের নিয়ম অনুযায়ী তিনি পাঁচ বছর ফার্সি ভাষার ওপর পড়াশোনা করেন। এরপর ১৯৫৫ সালে তিনি আরবী পড়া শুরু করেন এবং ১৯৫৯ সালে দারুল উলুম দেওবন্দে ভর্তি হন। ১৯৬৩ সালে তিনি দাওরায়ে হাদিস শেষ করেন।[৩]

শিক্ষকমণ্ডলী[সম্পাদনা]

তার শিক্ষকগণের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকজন হলেন ক্বারী আসগার আলী, মাওলানা সৈয়দ ফখরুদ্দীন মুরাদাবাদী, মাওলানা ইজাজ আলী, আল্লামা মোহাম্মাদ ইব্রাহিম বলিয়াভী, মাওলানা জলীল আহমেদ কিরানভি, মাওলানা আখতার হুসাইন দেওবন্দি এবং মাওলানা ওয়াহেদুজ্জামান কিরানভি প্রমুখ। এছাড়া তিনি সৌদি আরবের মদীনায় থাকাকালীন অনেক আরব বিদ্বানদের কাছে জ্ঞানচর্চা করেন।

কর্মজীবন[সম্পাদনা]

আরশাদ মাদানি কর্মজীবন শুরু করেন ১৯৬৫ সালে বিহার প্রদেশের প্রসিদ্ধ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জামিয়া কাসিমিয়া গয়ায় শিক্ষক হিসাবে যোগদানের মাধ্যমে। ১৯৬৯ সালে দারুল উলূম দেওবন্দের শাইখুল হাদীস এবং তৎকালীন জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের সভাপতি সায়্যিদ ফখরুদ্দীনের হুকুমে জামিয়া কাসিমিয়া মাদরাসা শাহী মুরাদাবাদে মুদাররিস পদে যোগদান করেন। ১৯৭১ সালে মাওলানা ফখরুদ্দীন তার শিক্ষাগত যোগ্যতা ও পরিচালনার দক্ষতা দেখে শিক্ষা কমিটির কনভেনার এবং ১৯৭২ সালে সহকারী শিক্ষা সচিব হিসাবে নিয়োগ দেন। তখন মাওলানা ফখরুদ্দীন নিজেই শিক্ষা সচিব ছিলেন। ১৯৮২ সালে দারুল উলূম দেওবন্দের মজলিসে শুরার আহবানে তিনি মুহাদ্দিস পদে যোগদান করেন। ১৯৯৬-২০০৮ সাল পর্যন্ত দারুল উলূম দেওবন্দের শিক্ষা সচিব ছিলেন। তিনি তার দায়িত্ব পালনকালে হিফয বিভাগ, ক্বিরায়াত বিভাগও প্রথমিক আরবী বিভাগসমূহ অতুলনীয়ভাবে সফলতা লাভ করে। বর্তমানে তিরমিযি শরিফ অধ্যাপনায় নিয়োজিত আছেন। ২০১২ সালে রাবেতায়ে আলম আল ইসলামি এর সদস্য পদ লাভ করেন।[৪]

আধ্যাত্মিকতা[সম্পাদনা]

শিক্ষা জীবন শেষ করার পরপরই তিনি আধ্যাত্মিক সাধনা শুরু করেন। তার বড় ভাই আসআদ মাদানি র নিকট বাইআত হন। যেহেতু তার পিতা হুসাইন আহমদ মাদানির কাছ থেকে শৈশবে আধ্যাত্মিক জ্ঞান লাভ করেছেন, তাই অতি অল্প সময়ে তিনি স্বীয় লক্ষ্য অর্জন করেন। তিনি দীর্ঘ ১৪ মাস সৌদি আরবের মদীনায় অবস্থান করে ইসলামী জ্ঞান লাভ করেন। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে তার মুরিদ তথা আধ্যাত্মিক শিষ্য রয়েছে।

রাজনৈতিক কর্মকান্ড[সম্পাদনা]

তিনি ভারতের বিভেদনীতির একজন কড়া সমালোচক ছিলেন। তার মতামত হলো এই বিভেদনীতির জন্য ১৯৪৭ সালে ভারত ভাগ হয়েছে। তিনি বলেন, নরেন্দ্র মোদী ভারতের সব মুসলিমের কাছে গ্রহণযোগ্য না। [৫][৬][৭][৮]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "Jamiat-Ulama-i-Hindi, Maulana Arshad Madani, 1 Bahadur Shah Zafar Marg, New Delhi, India"www.jamiatulamaihind.com। ১৪ জুলাই ২০১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৩ জুলাই ২০১৭ 
  2. "CO10029 | Darul Uloom Deoband: Stemming the Tide of Radical Islam in India | RSIS"www.rsis.edu.sg (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০২১-০১-২১ 
  3. "Shaykh Maulana Arshad Madani (DB)- India - Masjid Al-Baqi : Muslims On Long Island"www.masjidalbaqi.org। সংগ্রহের তারিখ ২৩ জুলাই ২০১৭ 
  4. https://www.kaiciid.org/who-we-are/governance/shaikh-syed-arshad-madani
  5. "Narendra Modi is not aceptable to all Muslims, says Arshad Madani - India Videos - - India Today Video"indiatoday.intoday.in। সংগ্রহের তারিখ ২৩ জুলাই ২০১৭ 
  6. "Modi govt trying to divide Muslims, says Maulana Syed Arshad Madani"indiatoday 
  7. "Modi is not aceptable to all Muslims: Arshad Madani"indiatoday 
  8. "Declare Your Government's Policy Towards Minorities: Maulana Syed Arshad Madani To PM"ndtv