মনজুর নোমানী

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
মুহাম্মদ মনজুর নোমানী
محمد منظور نعمانی
উপাধিনোমানী
ব্যক্তিগত
জন্মআনু. ১৫ ডিসেম্বর ১৯০৫
মৃত্যু৪/৫ মে ১৯৯৭ (বয়স ৯৩)
ধর্মIslam
জাতীয়তাভারতীয়
সন্তানসাইয়েদ খালিল রহমান সাজিদুর রাহমান
যেখানের শিক্ষার্থীদারুল উলুম দেওবন্দ

মুহাম্মদ মনজুর নোমানী (১৫ ডিসেম্বর ১৯০৫ – মে ১৯৯৭) ছিলেন একজন ভারতীয় দেওবন্দি ইসলামি পণ্ডিত। তার লিখিত রচনাগুলির মধ্যে প্রসিদ্ধ হল: মাআরেফুল হাদিস, ইসলাম কেয়া হায়? এবং খোমেনি ও ইরানী বিপ্লব

তিনি ১৯২৭ সালে দারুল উলুম দেওবন্দ থেকে স্নাতক হন। সেখানে তিনি আনোয়ার শাহ কাশ্মীরির অধীনে হাদীস অধ্যয়ন করেন। তিনি চার বছর দারুল উলূম নদওয়াতুল উলামায় শায়খুল হাদিসের পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন এবং আবুল হাসান আলী নদভীর ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন। ১৯৪১ সালে জামায়াতে ইসলামীর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে তিনি এই দলের উপ-আমির নির্বাচিত হন। তিনি আবুল আলা মওদূদীর দ্বিতীয় স্থানে ছিলেন। ১৯৪২ সালে মওদুদীর সাথে মতবিরোধের পরে তিনি সংগঠন থেকে পদত্যাগ করেন। এরপরে তিনি মুহাম্মদ ইলিয়াস কান্ধলভির তাবলীগী জামায়াতে যুক্ত হন। তিনি দারুল উলূম দেওবন্দের মজলিসে শূরা ও মজলিসে আমিলাহ (কার্যনির্বাহী পরিষদ) -এ দায়িত্ব পালন করেছিলেন এবং মুসলিম ওয়ার্ল্ড লীগের সদস্য ছিলেন।[১]

জীবনচরিত :[সম্পাদনা]

মানজুর নোমানী (রহ.) ১৮ শাওয়াল ১৩৩৩ হিজরীতে (১৫ ডিসেম্বর, ১৯০৫ খৃষ্টাব্দে ) ব্রিটিশ ভারতের সংযুক্ত প্রদেশের সামভালে জন্মগ্রহণ করেছেন। তাঁর বাবা সুফি মুহাম্মদ হোসেন ছিলেন একজন মধ্যবিত্ত ধনী ব্যবসায়ী এবং জমিদার। মনজুর নোমানী নিজশহর সামভালে সিরাজুল উলুম হিলালী সারাই মাদরাসায় প্রাথমিক শিক্ষা অর্জন করেছেন । পরে তিনি আজমগড়ের দারুল উলূম মাউতে পড়াশোনা করেছেন। অবশেষে তিনি দারুল উলূম দেওবন্দে ভর্তি হন যেখানে তিনি দুই বছর অবস্থান করেনছেন। তিনি ১৩৪৪ হিজরীতে (১৯২৭ খৃষ্টাব্দে )  দাওরা হাদিসের পরীক্ষায় সর্বোচ্চ নম্বর পেয়ে ফারেগ হন । দারুল উলূম দেওবন্দে তাঁর শিক্ষকদের মধ্যে ছিলেন  আনোয়ার শাহ কাশ্মীরি , মুফতি আজিজুর রহমান এবং সিরাজ আহমদ রশিদী ।

তিনি পড়াশোনা শেষ করে তিন বছর  আমরোহের চিলা মাদরাসায় শিক্ষকতা করেছিলেন। এরপরে চার বছর তিনি লাখনউর দারুল উলুম নদওয়াতুল উলামায় শায়খুল হাদিসের পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন। [২][৩]

1353 (1934) সালে তিনি একটি মাসিক পত্রিকা, আল ফুরকান, থেকে প্রতিষ্ঠিত বেরেলী । জার্নালটি পলিমিক্সের দিকে মনোনিবেশ দিয়ে শুরু হয়েছিল, তবে ১৩61১ (1942) এ এটি একাডেমিক এবং ধর্মীয় জার্নালে পরিণত হয়েছিল। [৪]

১৩৫৩ (১৯৩৪) সালে তিনি বেড়েলী মাসিক পত্রিকা আল-ফুরকান প্রতিষ্ঠা করেন। পত্রিকাটি তর্কশাস্ত্রের দিকে মনোনিবেশ দিয়ে শুরু হয়েছিল, তবে ১৩৬১ হিজরীতে (১৯৩৪ খৃষ্টাব্দে ) এ এটি একাডেমিক এবং ধর্মীয় পত্রিকায় পরিণত হয়েছিল।

মনজুর নোমানী (রহ.) জামায়াতে ইসলামীর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ছিলেন। ১৯৪১ সালের আগস্টে জামাতের প্রতিষ্ঠা অধিবেশনটিতে তিনি সাত সদস্যের কমিটির নেতৃত্ব দেন, যারা  সাইয়িদ আবুল আ'লা মওদূদীকে আমির হিসাবে প্রস্তাব করেছিল। তিনি নিজেই নায়েবে আমির (উপ-আমির) নির্বাচিত হয়েছিলেন। ছয় মাস পর, ১৯৪২ সালে নোমানী সেখানে স্থায়ীভাবে বসতি স্থাপনের অভিপ্রায়ে পাঠানকোটে জামায়াতের দারুল ইসলাম সম্প্রদায়ের কাছে উপস্থিত হন। তিনি দারুল ইসলামের প্রথম মুহতাসিব  হিসাবে নিযুক্ত হন। তবে মওদুদীর সাথে মতবিরোধের কারণে তিনি ১৩৬১ হিজরীতে শাবান মাসে (আগস্ট / সেপ্টেম্বর ১৯৪২তে ) জামায়াতে ইসলামী ত্যাগ করেন এবং সাম্ভালে ফিরে আসেন। মওদুদীর সাথে তাঁর সময় এবং জামায়াতে ইসলামী থেকে সরে আসার কারণ সম্পর্কে তিনি মাওলানা মওদূদী কে সাথ মেরি রিফকাত কি সরগুজাত আওর আব মেরা মাওকিফ নামে একটি বই লিখেছিলেন (১৯৮০)।

জামায়াতে ইসলামী ত্যাগের পরে তিনি এবং আবুল হাসান আলী নদভী (রহ.) তাবলীগী জামায়াতের  সাথে যুক্ত হন। মুহাম্মাদ ইলিয়াস (রহ.) এর  মালফুজাত (বাণীসমূহ) মনজুর নোমানী (রহ.) ১৯৪৩ সাল  থেকে ১৯৪৪ সাল পর্যন্ত সংকলন করেছিলেন।  বেশিরভাগই ইলিয়াস (রহ.) এর চূড়ান্ত অসুস্থতার সময়।

১৩৬২ হিজরীতে (১৯৪৩ খৃষ্টাব্দে ) তিনি দারুল উলূম দেওবন্দের মজলিসে শুরার সদস্য নিযুক্ত হন। তিনি নিয়মিতভাবে এর সভা এবং মাজলিসে -আমিলাহ (কার্যনির্বাহী পরিষদ) এর সভায় যোগ দিতেন।

মৃত্যু[সম্পাদনা]

তিনি ১৯৯৭ সালের ৪ বা ৫ই মে লাখনউতে মারা যান।

সাহিত্যিক কাজ[সম্পাদনা]

  • ইসলাম কিয়া হেয় (১৯৫২)
  • দ্বীন ও শরীয়ত ( ১৯৫৮)
  • কুরআন আপ সে কিয়া কেহতে হেয়?
  • মা’আরিফুল হাদীস ·     
  • কালিমায়ে তায়্যিবা কি হাকিকত ·     
  • নামাজ কি হাকিকত ·     
  • আপ হজ কেয়সে কারে ·     
  • বারাকাত এ রমাদান ·     
  • তাহকিকে মাসালায়ে ইসালে সাওয়াব ·     
  • তাসাউফ কিয়া হেয় ·     
  • তাযকিরায়ে ইমামে রাব্বানী (১৯৫৯) ·     
  • মালফুযাতে মাওলানা মুহাম্মাফ ইলিয়াস (রহ.) ·     
  • বাওয়ারিকুল গায়েব ·     
  • শাহ ইসমাইল শহীদ পার মুয়ানিদিন কি ইলযামাত (১৯৫৭) ·     
  • খাকসারে তাহরিক ·     
  • কুরআন ইলম কি রশ্নি মেয় ·     
  • ইসলাম আওর কুফুর কি হুদুদ ·     
  • কাদিয়ানি কিউ মুসুলমান নেহি ·     
  • সাইফে ইয়ামানী ·     
  • মাওলানা মওদূদী কে সাথ মেরি রিফকাত কি সরগুজাত আওর আব মেরা মাওকিফ ·     
  • শেখ মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল ওয়াহাব কে খেলাফ প্রোপাগান্ডা আওর উলামায়ে হক পার উসকে আসারাত ·     
  • ইরানী ইনকিলাব ,
  • ইমাম খুমাইনি ও শিয়াইয়াত (১৯৮৪)
  • আওর খোমেনি ও ইরানী বিপ্লব।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. আহমদ, মুবারক (২০১২)। এ স্টাডি অন এরাবিক প্রোস রাইটার্স ইন ইন্ডিয়া উইথ স্পেশ্যাল রেফারেন্স টু মাওলানা মুহাম্মদ রাবে হাসানী নদভী। পিএইচডি অভিসন্দর্ভ। ভারত: গুয়াহাটি বিশ্ববিদ্যালয়। পৃষ্ঠা ১১৩–১১৭। hdl:10603/115224 
  2. Syed Mehboob Rizwi (১৯৮১)। History of the Dar al-Ulum Deoband। Volume 2। Prof. Murtaz Husain F. Quraishi কর্তৃক অনূদিত। Idara-e Ihtemam, Dar al-Ulum Deoband, India। 
  3. "صاحب کتاب کا مختصر تعارف / Ṣāḥib-i kitāb kā muk͟htaṣar ta‘ārif". In Muḥammad Manzoor Nomānī (২০০৬)। Futūḥāt-i Nomānīyah فتوحات نعمانیہ (Urdu ভাষায়)। Lahore: Anjumān Irshādul Muslimīn। পৃষ্ঠা 876–880। 
  4. Syed Mehboob Rizwi (১৯৮১)। History of the Dar al-Ulum Deoband। Idara-e Ihtemam, Dar al-Ulum Deoband, India।  অজানা প্যারামিটার |শিরোনাম-সংযোগ= উপেক্ষা করা হয়েছে (সাহায্য)

গ্রন্থপঞ্জি[সম্পাদনা]

Syed Mehboob Rizwi (1981). History of the Dar al-Ulum Deoband. Volume 2. Translated by Prof. Murtaz Husain F. Quraishi. Idara-e Ihtemam, Dar al-Ulum Deoband, India.

صاحب کتاب کا مختصر تعارف / Ṣāḥib-i kitāb kā muk͟htaṣar ta‘ārif". In

Ghufrān al-Ḥaqq al-Swātī (September 2010). "نبذة من حياة الشيخ العلامة محمد منظور أحمد النعماني رحمه الله / Nubdhah min ḥayat ash-shaykh al-'allāmah Muḥammad Manzoor an-Nomānī raḥimahu'llāh". Al-Farooq Arabic (in Arabic). Karachi: Idārat al-Fārūq.

4. "Alumni". Madrasa Sirajul Uloom Sambhal.  5. Nomani, Muhammad Manzoor. "Preface". Malfoozat: Discourses of Moulana Ilyas. South Africa: Madrasah Arabia Islamia Azaadville.