নাজিব আলী চৌধুরী

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
নাজিব আলী চৌধুরী
উপাধিমাওলানা
ব্যক্তিগত
জন্ম
বাগবাড়ি, করিমগঞ্জ, সিলেট
সমাধিস্থলরাউথগ্রাম,করিমগঞ্জ জেলা, আসাম, ভারত
ধর্মইসলাম
সন্তানগুলাম রব চৌধুরী
যুগআধুনিক
আখ্যাচিশতিয়া
আন্দোলনদেওবন্দি
পেশাইসলামী পণ্ডিত ও শিক্ষক
আত্মীয়আবদুল মুনিম চৌধুরী (বড় নাতি)
মুসলিম নেতা
শিক্ষকইমদাদুল্লাহ মুহাজিরে মাক্কি
পেশাইসলামী পণ্ডিত ও শিক্ষক

নাজিব আলী চৌধুরী ছিলেন উনিশ শতকের ভারতীয় ইসলামী পণ্ডিত এবং শিক্ষক। তিনি দক্ষিণ আসাম-গ্রেটার সিলেট অঞ্চলের প্রথম মাদ্রাসা মদিনাতুল উলূম বাগবাড়ী প্রতিষ্ঠার জন্য উল্লেখযোগ্য ছিলেন।

জীবনী[সম্পাদনা]

প্রাথমিক জীবন ও বংশ পরিচয়[সম্পাদনা]

তিনি ভারতের বর্তমান আসামের করিমগঞ্জ জেলার কাছে বাগবাড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তারর পৈতৃক নিবাস সম্পর্কে মতানৈক্য রয়েছে। তার পরিবার হয়ত মুঘল আমলে আফগানিস্তানের ঘোর প্রদেশ থেকে অভিবাসিত হয়েছিল, অথবা সুফি সাধু শাহ জালালের ৩৬০ জন সঙ্গীর একজন শাহ উমর ইয়ামেনীর সাথে আগমন করেছিল।[১]

শিষ্যত্ব[সম্পাদনা]

তিনে চিশতীয়া তরীকার সুফি পণ্ডিত ইমদাদুল্লাহ মুহাজিরে মক্কির শিষ্য হন। ১৮৫৭ সালের বৃহত্তর ভারতীয় বিদ্রোহের অন্যতম অংশ শামলীতে ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহে তিনি মাক্কির সাথে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন বলে জানা যায়। বিদ্রোহের ব্যর্থতার পর উভয় পুরুষই ভারতীয় উপমহাদেশ ত্যাগ করে মক্কায় চলে আসেন।[১][২]

ঐতিহাসিকদের মতে মক্কায় থাকাকালীন তিনি স্বপ্ন দেখেন যে, তিনি ইসলামী নবী মুহাম্মদের সাথে দেখা করেছেন, যিনি তাকে ভারতে ফিরে যেতে এবং ইসলাম প্রচার এবং ইসলামী শিক্ষা প্রদানের নির্দেশ দেন। ১৮৭৩ সালে তিনি তার নিজের বাড়িতে "মদিনাতুল উলুম বাগবাড়ী নাজিবিয়া আলিয়া মাদ্রাসা" নামে একটি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন। পরবর্তিতে তিনি নামটি সংক্ষিপ্ত করে মদিনাতুল উলুম বাগবাড়ি রাখেন।[১] তার অনুকরণে দারুল উলুম দেওবন্দ প্রতিষ্ঠিত হয়। এটি বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলের প্রথম সত্যিকারের মাদ্রাসা হিসেবে বিবেচনা করা হয়, যা পূর্বে বিদ্যমান অনানুষ্ঠানিক প্রতিষ্ঠানের বিপরীতে একটি প্রমিত ধর্মীয় শিক্ষা প্রদান করে।[৩] এটি বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলে আরবি ভাষার পণ্ডিত তৈরিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, যা বর্তমানেও বিখ্যাত।[১]

তিনি আধ্যাত্মিক শক্তির অধিকারী হওয়ার ব্যাপারে বিভিন্ন কাহিনী রচিত হয়েছে। তার মৃত্যুর পর তার কবরকে মাজার বানানো হয়, যা বর্তমানে করিমগঞ্জ জেলার রাউথগ্রামে অবস্থিত।[৪][৫]

তিনি ছিলেন মাওলানা গুলাম রব চৌধুরীর পিতা, নিজের অধিকারে একজন বিশিষ্ট ইসলামী পণ্ডিত এবং আসামের প্রাক্তন সংসদ সদস্য আব্দুল মুনিম চৌধুরীর প্রপিতামহ।[৪]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "Rahman, Md. Matiur; Bhuiya, Abdul Musabbir (2009). Teaching of Arabic language in Barak Valley: a historical study (14th to 20th century)" (PDF)shodhganga.inflibnet.ac.in। ৮ অক্টোবর ২০২০। সংগ্রহের তারিখ ৮ অক্টোবর ২০২০ 
  2. Pickthall, Marmaduke William; Asad, Muhammad (১৯৮২)। Islamic Culture (ইংরেজি ভাষায়)। Islamic Culture Board। 
  3. "Madrasa Education System in South Assam"The Milli Gazette — Indian Muslims Leading News Source (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-১০-০৮ 
  4. Barbhuiya, Atiqur Rahman (২০২০-০১-২৭)। Indigenous People of Barak Valley (ইংরেজি ভাষায়)। Notion Press। আইএসবিএন 978-1-64678-800-2 
  5. "Talukdar, Dilwar Hussain (2015). "A study on Sufi Saints in Karimganj District of Assam (1346-1947)" (PDF)। ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০ তারিখে মূল (PDF) থেকে আর্কাইভ করা।