তাকওয়া

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
ডায়ুয়ান জেলার তাইওয়ান-এ অবস্থিত একটি মসজিদের নামকরণ করা হয়েছে তাকওয়ার নামে

তাকওয়া (আরবি: تقوى‎‎) হল, ঈশ্বরের ভয় বা আল্লাহর ভয় এবং এটি একটি ইসলামী শব্দ। এটি প্রায়ই কুরআনে পাওয়া যায়।[১] আল-মুত্তাকিন (আরবি: لِّلْمُتَّقِينَ‎‎) বলতে তাকওয়া অনুশীলনকারীদের বা ইবনে আব্বাসের ভাষায় বোঝায় - "ঈমানদার তারা যারা আল্লাহর সাথে শিরক এড়িয়ে যায় এবং যারা তাঁর আনুগত্যে কাজ করে।"[২]

তাত্ত্বিক ব্যাখ্যা[সম্পাদনা]

তাফসির ইবনে কাসির এর মতে তাকওয়ার মূল অর্থ হল কোনটি আল্লাহ অপছন্দ করেন তা এড়ানো। উমর বিন খাত্তাব(রা), উবাই ইবনে কাব(রা) কে তাকওয়ার বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে উনি জাবাবে বললেন, "আপনি কি কখনো এমন পথে হেঁটেছেন যেখানে কাঁটা বিছানো রয়েছে?" উমর বললেন, হ্যাঁ। উবাই জিজ্ঞাসা করলেন, "তখন আপনি কি করেছেন?" এর উত্তরে উমর বললেন, "আমি আমার হাত কাটেছি এবং লড়াই করেছি।" উবাই বলেন, "এটিই তাকওয়া, জীবনের বিপজ্জনক যাত্রার মধ্য দিয়ে নিজেকে পাপ থেকে রক্ষা করা, যাতে পাপের দ্বারা ছড়িয়ে পড়া যাত্রা সফলভাবে শেষ করা যায়"।[৩]

তাকওয়া এবং ফিকহ[সম্পাদনা]

ফিকহ (ইসলামী আইনশাস্ত্র) এর কমপক্ষে একটি জনপ্রিয় রচনায় "তাকওয়ার বই", যা হারাম (নিষিদ্ধ) বিষয় সম্পর্কে নিষেধ করেছে, মাকরুহ (নিরুৎসাহিত) এবং "ইসলামের স্তম্ভগুলি" এর বাইরে বিষয়গুলিও নিষিদ্ধ হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে: খাবার, পোশাক, যৌনতার সাথে সম্পর্কিত জিনিসগুলি ("ব্যক্তিগত বিষয়গুলি"), সংগীত, পরনিন্দা, খারাপ কথা, খারাপ সঙ্গ, দাড়ি ছাঁটাই ইত্যাদি।[৪]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "তাকওয়া",ইসলামে এনসাইক্লোপিডিয়া (২০১২).
  2. "আল-মুত্তাকিন এর মানে"কুরআন তাফসির ইবন্ কাথির। সংগ্রহের তারিখ ৪ আগস্ট ২০১৫ 
  3. আবদুর-রহমান, মুহাম্মদ সাঈদ (২০০৯)। মহিমান্বিত কুরআনের অর্থ ও ব্যাখ্যা। এমএসএ পাব্লিকেশন লিমিটেড। পৃষ্ঠা ৬৩। সংগ্রহের তারিখ ১৩ জুলাই ২০১৫ 
  4. ফিকহের প্রয়োজনীয় হানাফী হাতবই, মাওলানা ইউসুফ তালাল আলী আল-আমরিকির রচিত 'কাজী থানা উল্লাহর মা লা বুদা মিনহু' এর একটি অনুবাদ, (কাজী পাবলিকেশনস, লাহোর, পাকিস্তান), পাতা ১৫০-১৬৮