আব্দুল মাজেদ দরিয়াবাদি

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
মাওলানা

আব্দুল মাজেদ দরিয়াবাদি
ব্যক্তিগত
জন্ম(১৮৯২-০৩-১৬)১৬ মার্চ ১৮৯২
মৃত্যু৬ জানুয়ারি ১৯৭৭(1977-01-06) (বয়স ৮৪)
ধর্মইসলাম
জাতীয়তাভারতীয়
আখ্যাসুন্নি
ব্যবহারশাস্ত্রহানাফি
ধর্মীয় মতবিশ্বাসমাতুরিদি
প্রধান আগ্রহকুরআন অনুবাদ, শিক্ষা
উল্লেখযোগ্য কাজতাফসীর-ই-মাজিদি, দ্য সাইকোলজি অফ লিডারশিপ
কাজঅ্যাকাডেমিক
মুসলিম নেতা
এর শিষ্যমাওলানা আশরাফ আলী থানভী

মাওলানা আব্দুল মাজেদ দরিয়াবাদি (১৬ মার্চ ১৮৯২ – ৬ জানুয়ারি ১৯৭৭) ছিলেন একজন ভারতীয় মুসলিম লেখক, যিনি কুরআন সম্পর্কে বিশিষ্ট ছিলেন। দরিয়াবাদি সক্রিয়ভাবে খিলাফত আন্দোলনের; রয়্যাল এশিয়াটিক সোসাইটি, লন্ডন; আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়, আলিগড়; দারুল উলুম নদওয়াতুল উলামা, লখনউ; শিবলী একাডেমি, আজমগড়, সহ অন্যান্য বেশ কয়েকটি প্রধান ইসলামী ও সাহিত্য সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ইংরেজিতে কুরআনের উপর বিস্তৃত ভাষ্য প্রদানের পাশাপাশি, দরিয়াবাদি উর্দুতে একটি স্বাধীন তাফসীরও লিখেছেন যা তাফসির মাজিদি (ইসলামী গবেষণা ও প্রকাশনা একাডেমি, লখনউ) নামে প্রকাশিত।[১] তিনি ১৯৫০ সালে হাকীম-উল-উম্মত গ্রন্থ রচনা করেন।[২] ১৯৪৩ সালে তিনি মুহাম্মদ আলী জাতীর ডায়েরি নামক একটি জীবনীও রচনা করেন।[৩]

প্রাথমিক জীবন এবং শিক্ষা[সম্পাদনা]

মাওলানা আব্দুল মাজেদ দরিয়াবাদি উর্দু লাইব্রেরি, বেগমগঞ্জ, বড়বাঁকী

তিনি ভারতের বড়বাঁকী জেলার দারিয়াবাদের কিদওয়াই পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার দাদা মুফতি মাজহার করিমকে আন্দামান দ্বীপপুঞ্জে ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে ফতোয়া দেয়ার জন্য দণ্ডিত করা হয়েছিল।

তিনি ১৯১২ সালে লখনউ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দর্শনে বিএ (অনার্স) অর্জন করেন। তাঁর শিক্ষাজীবনে তিনি উর্দু সাপ্তাহিক সাচ এবং তারপর সিডক (১৯২৫-৭৬) সম্পাদনা করেন। ভারতীয় উপমহাদেশের আরেক মুসলিম পণ্ডিত আমিন আহসান ইসলাহি, তার সাপ্তাহিক সংবাদপত্র সাচ-এ তার সাথে কাজ করেছিলেন। উচ্চতর অধ্যয়ন, এমএ দর্শনের জন্য তিনি তৎকালীন এমএও কলেজে ভর্তি হোন এবং তারপর দিল্লির সেন্ট স্টিফেন কলেজে পড়েন, কিন্তু আর্থিক সংকটের কারণে তিনি লেখাপড়া সম্পূর্ণ করতে পারেননি। ইংরেজিতে তার প্রথম বই, দ্য সাইকোলজি অফ লিডারশিপ, লুই ফিশার, লন্ডন দ্বারা ১৯১৩ সালে প্রকাশিত হয়।

শৈশব থেকেই, তার বিভিন্ন ধরণের বই পড়া এবং নিবন্ধ লেখার আগ্রহ ছিল। তার প্রথম নিবন্ধটি উর্দু দৈনিক ওয়াকিল অমৃতসরে প্রকাশিত হয়েছিল যখন তার বয়স ছিল নয় বছর। দর্শন, যুক্তি এবং মনোবিজ্ঞান ছিল তাঁর প্রিয় বিষয়। তিনি প্রাচ্যবিদদের বেশ কয়েকটি বই অধ্যয়ন করেছিলেন এবং তাদের প্রভাবের অধীনে ধর্ম নিয়ে অবিশ্বাসী হয়ে উঠে এবং নিজেকে “যুক্তিবাদী” বলে অভিহিত করে। প্রায় নয় বছর ধরে তিনি ধর্ম থেকে দূরে ছিলেন কিন্তু অনুতপ্ত হয়েছিলেন এবং একজন ধর্মপ্রাণ মুসলমান হয়েছিলেন।

তিনি মুসলিম পণ্ডিত শিবলী নোমানীর সংস্পর্শে এসে সিরাত-উন-নবী’র রচনায় তাকে সাহায্য করেন। তিনি মাওলানা আবুল কালাম আজাদ, সৈয়দ সুলাইমান নদভী, মুহাম্মদ আলী জোহর, আকবর আল্লাহবাদী এবং অনেক বিশিষ্ট সাহিত্যিকের সাথে বন্ধুত্ব গড়ে তোলেন। তিনি কুরআন, মুহাম্মদের জীবনী, ভ্রমণকাহিনী, দর্শন এবং মনোবিজ্ঞানের উপর পঞ্চাশেরও বেশি বই লিখেছেন। তিনি জীবনী, সাহিত্য ও সমালোচনামূলক প্রবন্ধ লিখেছেন, রেডিও আলোচনার আয়োজন করেছেন এবং লখনউ স্কুল অব রাইটিং অনুসারে শুদ্ধভাবে উর্দুতে বেশ কয়েকটি বই অনুবাদ করেছেন।

কর্ম[সম্পাদনা]

দ্য ইউনিভার্সাল ডিজিটাল লাইব্রেরিতে তালিকাভুক্ত দরিয়াবাদির বইয়ের তালিকা নিচে দেওয়া হল:[৪]

  • ফালসাফা ই ইজতিমা ইয়ানি জামাত কি দিমাগী জিন্দেগী কি তামসিল ওয়া তাশরীহ
ভাষা: উর্দু, বছর: ১৯১৫, বিষয়: দর্শন, মনোবিজ্ঞান, ২৫৮ পৃষ্ঠা
  • ফলসফা ই জাজবত
ভাষা: উর্দু, বছর: ১৯২০, বিষয়: দর্শন, মনোবিজ্ঞান, ২৬৪ পৃষ্ঠা
  • ফীহ মা ফীহ মালফুজাত মুহাম্মদ জালালুদ্দীন রুমি ওয়া তবসিরা
ভাষা: ফার্সি, বছর: ১৯২৮, বিষয়: ধর্ম, ধর্মতত্ত্ব, ৩০২ পৃষ্ঠা
  • মারদৌন কি সামিই
ভাষা: উর্দু, বছর: ১৯৪৩, বিষয়: ভাষা, ভাষাতত্ত্ব, সাহিত্য, ৩১০ পৃষ্ঠা
  • মাজামীন আব্দুল মজিদ দরিয়া বাদি
ভাষা: উর্দু, বছর: ১৯৪৩, বিষয়: ভাষা, ভাষাতত্ত্ব, সাহিত্য, ২৬০ পৃষ্ঠা
  • মুহাম্মদ আলী জাতীর ডায়েরি
ভাষা: উর্দু, বছর: ১৯৪৩, বিষয়: ভূগোল, জীবনী, ইতিহাস, ১৯৪ পৃষ্ঠা
  • তাফসীর ই কুরআন (তাফসীর ই মাজিদি) ১ম খন্ড
ভাষা: উর্দু, বছর: ১৯৬৮, বিষয়: ধর্ম, ধর্মতত্ত্ব, ৮১০ পৃষ্ঠা
  • তাফসীর ই কুরআন (তাফসীর ই মাজিদি) ২য় খন্ড
ভাষা: উর্দু, বছর: ১৯৯৬, বিষয়: ধর্ম, ধর্মতত্ত্ব, ৮৬০ পৃষ্ঠা
  • তাফসীর ই কুরআন (তাফসীর ই মাজিদি) ৩য় খন্ড
ভাষা: উর্দু, বছর: ২০০০, বিষয়: ধর্ম, ধর্মতত্ত্ব, ৫৩০ পৃষ্ঠা
  • মুহাম্মদ আলী জাতীর ডায়েরি
ভাষা: উর্দু, বছর: ১৯৪৩, বিষয়: ধর্ম, ধর্মতত্ত্ব, ১৯২ পৃষ্ঠা
  • ওয়াফিয়াত ই মাজদী ইয়া নাশরি মারসিয়ে
ভাষা: উর্দু, বছর: ১৯৭৫, বিষয়: ভাষা, ভাষাতত্ত্ব, সাহিত্য, ২৫০ পৃষ্ঠা

'ইসলামিক বুকস লাইব্রেরিতে' তালিকাভুক্ত দরিয়াবাদি কর্তৃক রচিত বইয়ের তালিকা:

  • তাফসীর – ই – মাজিদি
  • তাফসীর – ই – মাজিদি – ইংরেজী
  • বাশরিয়াত –ই– আম্বিয়া [এ.এস]
  • হাকিম –উল– উম্মত
  • আপ বীতি

অন্যান্য লেখা:

  • মুতালা-ই-কুরআন: বিসউইন সাদি ম্য
ভাষা: উর্দু, বিষয়: ধর্ম, কুরআন

পরে মূল্যায়ন[সম্পাদনা]

আপ বীতি দরিয়াবাদির একটি আত্মজীবনী।

আবদুল কাভি দেসনাভী নয়া দৌড় নামক একটি উর্দু মাসিক সাময়িকীতে লখনউ সংস্করণে দরিয়াবাদির ব্যাপারে একটি বিশেষ সংখ্যা প্রকাশ করেছিলেন। ভলিউম ৫১ - ৭নং; ১৯৮০ সালে তিনি সাহির বোম্বে প্রকাশিত মাসরিনে দরিয়াবাদি সম্পর্কে একটি পর্যালোচনাও প্রকাশ করেছিলেন।[৫]

২০০৮ সালে মোঃ শামস আলম মাদ্রাজ বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি, ফারসি ও উর্দু বিভাগের একজন গবেষক দরিয়াবাদিকে নিয়ে একটি গবেষণাপত্র প্রকাশ করেন যার শিরোনাম ছিল মাওলানা আব্দুল মাজেদ দরিয়াবাদী কি ইলমি ওয়া আদাবি খিদমাত[৬]

ব্যক্তিগত জীবন[সম্পাদনা]

দরিয়াবাদী কিদওয়াই পরিবারভুক্ত ছিলেন যা আধুনিক ভারতের উচ্চ শিক্ষিত এবং বিশিষ্ট মুসলিম পরিবারগুলির মধ্যে একটি। ব্রিটিশ ভারতের অধীনে যুক্ত প্রদেশ আইনসভার উচ্চকক্ষ আইন পরিষদের সদস্য খান বাহাদুর শেখ মাসুদ-উজ-জামান তার শ্যালক ছিলেন।[৭][৮][৯] কাউন্সিলের বিলুপ্ত হওয়ার আগে তিনিই হন সর্বশেষ নির্বাচিত ডেপুটি প্রেসিডেন্ট। হায়দ্রাবাদ হাইকোর্টের বিচারপতি হায়দ্রাবাদ রাজ্যের নবাব নাজির ইয়ার জঙ্গের সঙ্গে তার বোনের বিয়ে হয়েছিল। তার ভাগ্নী (নাজির ইয়ার জঙ্গের মেয়ে) ছিলেন হামিদা হাবিবুল্লাহ, জেনারেল এনায়েথ হাবিবুল্লাহর স্ত্রী এবং আওধের সৈয়দানপুর তালুকার ওয়াজহাত হাবিবুল্লাহর মা। তার জামাতা হাকিম আব্দুল কাবি দরিয়াবাদি (১৯১৭-১৯৯২) ছিলেন একজন স্বনামধন্য উর্দু সাংবাদিক,[১০] তার জামাতা এবং ভাতিজা ডাঃ মুহাম্মদ হাশিম কিদওয়াই (১৯২১-২০১৭), ছিলেন একজন দক্ষ লেখক, শিক্ষাবিদ, এমপি এবং এএমইউ অনুষদ[১১][১২][১৩][১৪] তার নাতিরাও সুপরিচিত শিক্ষাবিদ। প্রফেসর সালিম কিদওয়াই, জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালযয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক। প্রফেসর আব্দুর রহিম কিদওয়াই, আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজির অধ্যাপক এবং কুরআন ও ইসলাম বিষয়ক অনেক কাজের জন্য একজন সুপরিচিত লেখক।[১৫] ডাঃ শাফী কিদওয়াই, উর্দুর জন্য সাহিত্য অ্যাকাডেমি পুরস্কার এবং ইকবাল সম্মাননা পুরস্কারপ্রাপ্ত, সুপরিচিত দ্বিভাষিক সমালোচক এবং আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ বিভাগের অধ্যাপক। রাশেদ কিদওয়াই একজন প্রখ্যাত রাজনৈতিক বিশ্লেষক, সাংবাদিক এবং লেখক। নাফায়ে কিদওয়াই (১৯৫৮-২০১৪) ছিলেন একজন সুপরিচিত কলামিস্ট এবং সাংবাদিক যিনি ইউপি উর্দু অ্যাকাডেমির সর্বোচ্চ পুরস্কার পেয়েছিলেন।[১৬]

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Shaykh Abdul Majid Daryabadi (r.a)। Tafseer -e- Majidi By Shaykh Abdul Majid Daryabadi (r.a) 
  2. Shaykh Abdul Majid Daryabadi (r.a)। Hakeem -ul- Ummat By Shaykh Abdul Majid Daryabadi (r.a) 
  3. "Universal Digital Library"web.archive.org। ২০১৪-০৪-০৮। সংগ্রহের তারিখ ২০২১-০৭-৩১ 
  4. "Universal Digital Library"archive.is। ২০১৩-০৪-১৬। সংগ্রহের তারিখ ২০২১-০৭-৩১ 
  5. "Abdul Qavi Desnavi Biography, photograph, Video::Bihar Urdu Youth For…"archive.is। ২০১৩-০৪-১৬। সংগ্রহের তারিখ ২০২১-০৭-৩১ 
  6. "Welcome to University of Madras"www.unom.ac.in। সংগ্রহের তারিখ ২০২১-০৭-৩১ 
  7. Indian Annual Register (ইংরেজি ভাষায়)। Annual Register Office.। ১৯৩৯। 
  8. Council, Uttar Pradesh (India) Legislature Legislative (১৯৫০)। Kāryavāhī: adhikṛta vivaraṇa (ইংরেজি ভাষায়)। Adhīkshaka, Rājakīya mudra na Eṃ va Lekhana-Sm ̄grī.। 
  9. Legislature, United Provinces of Agra and Oudh (India) (১৯৩৯)। Proceedings of the Joint Sitting of the Two Chambers of the United Provinces Legislature: Official Report (ইংরেজি ভাষায়)। Superintendent, Printing and Stationery, United Provinces, India। 
  10. "Hakeem Abdul Qavi Daryabadi Archives » QuranWaHadith"QuranWaHadith (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০২১-০৭-৩১ 
  11. "Dr. Muhammad Hashim Kidwai"aligarhmovement.com। সংগ্রহের তারিখ ২০২১-০৭-৩১ 
  12. admin (২০১৭-০১-১০)। "Author, academician and MP Dr. Muhammad Hashim Kidwai passes away at Delhi"Muslim Mirror (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০২১-০৭-৩১ 
  13. "Aligarh Muslim University - AMU News"www.amu.ac.in। সংগ্রহের তারিখ ২০২১-০৭-৩১ 
  14. "VP releases Dr. Hashim Kidwai's auto-biography"The Milli Gazette — Indian Muslims Leading News Source (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০২১-০৭-৩১ 
  15. "Aligarh Muslim University - Department of K.A. Nizami Centre for Quranic Studies"www.amu.ac.in। সংগ্রহের তারিখ ২০২১-০৭-৩১ 
  16. "Mr. Nafay Kidwayi passed away in Lucknow"World News (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০২১-০৭-৩১ 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]