আবুল হাসান আলী নদভী

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
সৈয়দ
আবুল হাসান আলী আল-হাসানী আল-নদভী
আবুল হাসান আলী আল হাসানী আন নাদভী.jpg
জন্মআবুল হাসান আলী
ডিসেম্বর ৫, ১৯১৩
রায়বেরেলি, সাহারানপুর, ব্রিটিশ ভারত
মৃত্যু৩১ ডিসেম্বর ১৯৯৯(1999-12-31) (বয়স ৮৬)
রায়বেরেলি, সাহারানপুর, ভারত
মৃত্যুর কারণবার্ধক্যজনিত অসুস্থতায়
সমাধি স্থানরায়বেরেলি, সাহারানপুর, ভারত
জাতীয়তাভারতীয়
যুগবিংশ শতাব্দী
অঞ্চলভারত
পেশাশিক্ষকতা, রচনা
মাজহাবহানাফী
আন্দোলনদেওবন্দি
মূল আগ্রহইতিহাস
লক্ষণীয় কাজ
শিক্ষায়তনদারুল উলুম নাদওয়াতুল উলামা

দারুল উলুম দেওবন্দ

লখনৌ বিশ্ববিদ্যালয়
সুফি তরিকাচিশতিয়া, কাদেরিয়া
পুরষ্কারবাদশাহ ফয়সাল আন্তর্জাতিক পুরস্কার[১]
সুলতান ব্রুনাই আন্তর্জাতিক পুরস্কার
ওয়েবসাইটhttp://abulhasanalinadwi.org/

আবুল হাসান আলী আল হাসানী আন নদভী (উর্দু: سیّد ابوالحسن علی حسنی ندوی; ৫ ডিসেম্বর ১৯১৩ — ৩১ ডিসেম্বর ১৯৯৯, আলী মিঁয়া নামেও পরিচিত) বিংশ শতাব্দীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ ইসলামি পণ্ডিত, চিন্তাবিদ, ঐতিহাসিক, লেখক সাহিত্যিক ও নন্দিত বক্তা। তিনি দারুল উলুম নাদওয়াতুল উলামার মহাপরিচালক, অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ডের সভাপতি, বিশ্ব মুসলিম লীগের সদস্য, বিশ্ব ইসলামি সাহিত্যের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, দারুল উলুম দেওবন্দের মজলিসে শূরার সভাপতি, অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক সেন্টারের পরিচালক, মদিনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিলর ও সিন্ডিকেট সদস্য, আন্তর্জাতিক ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় মালয়েশিয়ার রুকন ছাড়াও অসংখ্য ধর্মীয়, সামাজিক প্রতিষ্ঠানের উপদেষ্টা ছিলেন। তিনিই প্রথম ভারতীয় আলেম ছিলেন যাকে অনারবদের তুলনায় আরবরা বেশি জানত এবং তিনিই ভারতের প্রথম আলেম, যাকে সৌদি আরবের রাজ পরিবার ১৯৫১ সালে হজ্জের সময় মক্কার চাবি হস্তান্তর করেন এবং যে কাউকে সঙ্গে নেয়ার অনুমতি দেন। তার রচনাবলির সংখ্যা ৫ শতকেরও অধিক। তার কিছু রচনা বিশ্বের প্রায় সব ভাষায় অনূদিত হয়েছে এবং কিছু বই বাংলাদেশ, পাকিস্তানসহ আরব বিশ্বের প্রায় ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাঠ্যসূচির অন্তর্ভুক্ত। তার মুসলমানদের পতনে বিশ্ব কী হারালো ? বইটি প্রকাশের পর তিনি আরব বিশ্বে প্রসিদ্ধি লাভ করেন। তিনি অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়, ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়, আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়, মদিনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, আলীগড়, কায়রো, দামেস্ক, লন্ডন, গ্লাসগো, কলম্বিয়া সহ অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে লেকচার প্রদান করেছেন। ইসলাম ধর্মে অবদানের স্বীকৃত স্বরূপ তিনি সৌদি আরবের বাদশাহ ফয়সাল আন্তর্জাতিক পুরস্কার, সুলতান ব্রুনাই আন্তর্জাতিক পুরস্কার সহ অসংখ্য পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। [২][৩][৪][৫][৬][৭]

সংক্ষিপ্ত তথ্য[সম্পাদনা]

  • ১৯৩৪ সালে তিনি দারুল উলুম নাদওয়াতুল উলামার শিক্ষক নিযুক্ত হন।
  • ১৯৩৯ সালে দ্বীনী মারকাজসমূহ সম্পর্কে জানার জন্য সফর করেন।
  • ১৯৪৩ সালে তিনি আঞ্জুমানে তালীমাতে কুরআন নামে একটি সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন।
  • ১৯৪৫ সালে নদওয়াতুল উলামার ব্যবস্থাপনা পরিষদের রােকন নির্বাচিত হন।
  • ১৯৫১ সালে সুলায়মান নদভীর অনুমতিতে সহকারী পরিচালক নিযুক্ত হন।
  • ১৯৫৪ সালে সুলায়মান নদভীর মৃত্যুর পর সর্বসম্মতিক্রমে শিক্ষাসচিব নিযুক্ত হন।
  • ১৯৫৯ সালে মজলিসে তাহকীকাত ও নাশরিয়াতে ইসলাম প্রতিষ্ঠা করেন।
  • ১৯৬১ সালে বড় ভাই ডাক্তার আবদুল আলীর মৃত্যুর পর নদওয়াতুল উলামার মহাপরিচালক নিযুক্ত হন।
  • ১৯৫৭ সালে দামেস্কের মাজমাউল লুগাতিল আরাবিয়া বা আরবী একাডেমীর সদস্য নির্বাচিত হন।
  • ১৯৬২ সালে রাবেতা আলমে ইসলামীর প্রতিষ্ঠা উপলক্ষে মক্কা মুকাররমাতে প্রথম সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। তাতে যােগদানের জন্য আমন্ত্রণ লাভ করেন। উক্ত সম্মেলনে তিনি ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পালন করেন।
  • ১৯৬২ সালে জামেয়া ইসলামিয়া মদীনা মুনাওয়ারা প্রতিষ্ঠার সময় তাকে মজলিসে শূরার সদস্য বানানাে হয়। মজলিসে শূরা কায়েম থাকা পর্যন্ত তিনি উক্ত পদে সমাসীন ছিলেন।
  • ১৯৮১ সালে জর্দানের মাজমাউল লুগাতিল আরাবিয়ার (জর্দানের আরবী একাডেমীর ) সদস্য করা হয়।
  • ১৯৮১ সালে কাশ্মীর ইউনিভার্সিটির পক্ষ থেকে তাকে সাহিত্যে সম্মানসূচক পি.এইচ.ডি. ডিগ্রী প্রদান করা হয়।
  • ১৯৮৩ সালে অক্সফোর্ডে ইসলামিক সেন্টার প্রতিষ্ঠার সময় তাকে আজীবন সভাপতিরূপে মনােনীত করা হয়।
  • ১৯৮৪ সালে রাবেতায়ে আদবে ইসলামী আল আলামী প্রতিষ্ঠার সময় তাকে আজীবন সভাপতি মনােনীত করা হয়।
  • ১৯৬৮ সালে সৌদী শিক্ষামন্ত্রণালয়ের দাওয়াতে শরীয়াহ অনুষদের পাঠ্যক্রম ও শিক্ষানীতি তৈরী করার জন্য রিয়াদ যান। তখন রিয়াদ বিশ্ববিদ্যালয় ও কুল্লিয়াতুল মুআল্লেমিনে (টিচার্স ট্রেনিং কলেজ) বক্তৃতা দেন।
  • ১৯৩২ সালে নদওয়াতুল উলামা থেকে আরবী পত্রিকা ‘আয-যিয়া’ ও ১৯৪০ সালে উর্দু পত্রিকা ‘আন-নদওয়া’ বের করার ব্যাপারে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
  • ১৯৪৮ সালে আঞ্জুমানে তা'লীমাতে ইসলামের পক্ষ থেকে ‘তামীরে হায়াত’ নামে উর্দু ভাষায় একটি পত্রিকা প্রকাশ শুরু করেন।
  • ১৯৫৮-৫৯ সালে দামেক থেকে প্রকাশিত ‘ আল-মুসলিমুন পত্রিকায় প্রবন্ধ লেখা শুরু করেন।
  • ১৯৬৩ সালে লাখনৌ থেকে নেদায়ে মিল্লাত প্রকাশ হওয়া শুরু হলে তিনি এর পৃষ্ঠপােষক হন।
  • ১৯৫৫ সালে নদওয়া থেকে প্রকাশিত আরবী পত্রিক ও ১৯৫৯ সালে প্রকাশিত আরবী পত্রিকা “আর-রায়েদ এবং ১৯৬৩ সালে উর্দু পত্রিকা পাক্ষিক তামীরে হায়াতের প্রধান পৃষ্ঠপােষক ছিলেন।
  • ১৯৬১ সালের ৮ ই জুন দারুল উলূম নদওয়াতুল উলামার নাযেম নির্বাচিত হন।
উল্লেখযোগ্য সম্মাননা
  • ১৯৮০ সালের ১২ই ফেব্রুয়ারী রিয়াদে অনুষ্ঠিত এক অনুষ্ঠানে নদভীকে শাহ ফয়সাল এওয়ার্ড প্রদান করা হয়।
  • তার ভূমিকায় সীরাত গ্রন্থ পাকিস্তান পাকিস্তান থেকে প্রকাশিত হলে প্রেসিডেন্ট জিয়াউল হক তাকে একলাখ রূপী সম্মানী প্রদান করেছিলেন।
  • ১৯৯৯ সালে দুবাইয়ে এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে ইসলামী বিশ্বের মহান ব্যক্তিত্বের এওয়ার্ড প্রদান করা হয়।
  • ১৯৯৯ সালে অক্সফোর্ড ইসলামী সেন্টারের পক্ষ থেকে ব্রুনাই ইন্টারন্যাশনাল এওয়ার্ড পুরস্কার পান।
উল্লেখযোগ্য দায়িত্ব
  • সভাপতি - দ্বীনী তালীমী কাউন্সিল, উত্তর প্রদেশ।
  • সভাপতি - অল ইন্ডিয়া মুসলিম পারসনাল ল বাের্ড।
  • সভাপতি - মজলিসে এন্তেজামী ও মজলিসে আমেলা, দারুল মুছাফিীন আযমগড়।
  • সভাপতি - ইসলামিক সেন্টার , অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি লন্ডন।
  • সভাপতি - ফাউন্ডেশন ফর স্টাডিজ এন্ড রিসার্চ লুক্সেমবার্গ।
  • সভাপতি - মজলিসে তাহকীকাত ও নাশরিয়াতে ইসলাম লাখনৌ।
  • সভাপতি - রাবেতা আদবে ইসলামী আল - আলামী।
  • সদস্য - মুয়াসসাসাহ আল-বাইত, আম্মান, জর্দান।
  • প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি - তাহরিকে পায়ামে ইনসানিয়্যাত , লাখনৌ।
  • প্রতিষ্ঠাতা সদস্য - রাবেতা আলমে ইসলামী , মক্কা মুকাররমা।
  • সদস্য - মজলিসে শুরা , জামেয়া ইসলামিয়া মদীনা মুনাওয়ারা।
  • সদস্য - আরবী একাডেমী, দামেশক, কায়রাে ও জর্দান।
  • সদস্য - একাডেমী অফ লেবারারস, দামেক ইউনিভার্সিটি, দামেশক।
  • সদস্য - মজলিসে আমেলা, মুতামার আলমে ইসলামী বৈরুত।
  • সদস্য - মজলিসে ইনতেজামী, ইসলামিক সেন্টার, জেনেভা।
  • সদস্য - মাজমাউল ফিকহিল ইসলামী, রাবেতা আলমে ইসলামী, মক্কা মুকাররমা।
  • সদস্য ও মজলিসে শূরা, দারুল উলুম দেওবন্দ।
  • সদস্য ও মজলিসে আমেলা, ইসলামিক ইউনিভার্সিটিজ ফেডারেশন, মরক্কো।
  • সদস্য - একাডেমী অব আরবী ল্যাঙ্গুয়েজ, ওমান।
  • সদস্য - ন্যাশনাল ফাউন্ডেশন ফর ট্রানস্লেশন রিসার্চ এন্ড স্টাডিজ, তিউনিসিয়া।
  • ভিজিটিং প্রফেসর - দামেশক ইউনিভার্সিটি।
ভ্রমণ
  • ১৯২৯ সালে দূর পথের প্রথম সফর করেন লাহাের। সেখানে কবি ড. ইকবালের সাথে সাক্ষাৎ করেন।
  • ১৯৩৫ সালে দলিত নেতা ডঃ আম্বেদকরকে ইসলামের দাওয়াত দেওয়ার জন্য বােম্বে সফর করেন।
  • ১৯৪৭ সালে হজ্জ উপলক্ষে প্রথম সফর করেন এবং কয়েকমাস হেজায়ে অবস্থান করেন । এটাই তার প্রথম বিদেশ সফর।
  • ১৯৫০ সালে হজ্জের দ্বিতীয় সফর করেন। এ বছর মিসর , সুদান , সিরিয়া ও জর্দান সফর করেন।
  • ১৯৫১ সালে মিসরে প্রথম সফর ছিল। উক্ত সফরে ফিলিস্তিন, বায়তুল মুকাদ্দাস ও মসজিদে আকসা যিয়ারতে গিয়েছিলেন। ফেরার পথে জর্দানের আমীর শাহ আবদুল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ হয়।
  • ১৯৫৬ সালে প্রথম তুরস্ক সফর করেন। এ বছর লেবাননও সফর করেন।
  • ১৯৬০ সালে বার্মা সফর করেন।
  • ১৯৬২ সালে প্রথম কুয়েত সফর করেন। অতঃপর উপসাগরীয় দেশসমূহ সফর করেন। জর্দান ও ইয়ামনও সফর করেন।
  • ১৯৬৩ সালে ইউরােপে প্রথম সফর করেন। এ সফরে তিনি লন্ডন, প্যারিস, কেমব্রিজ, অক্সফোর্ড ও স্পেনের গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলাে সফর করেন।
  • ১৯৭৬ সালে মসজিদে আকসা সফর করেন।
  • ১৯৭৭ সালে আমেরিকায় প্রথম সফর করেন। এখানে দুই মাস দশ দিন অবস্থান করেন।
  • ১৯৭৭ সালে আফগানিস্তান, ইরান, ইরাক ও লেবানন সফরে রাবেতা আলমে ইসলামী প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন।
  • ১৯৮৫ সালে বেলজিয়াম।
  • ১৯৮৭ সালে তাশক, সমরকন্দসহ অন্যান্য শহর।
  • ১৯৭৩ ও ১৯৮৪ সালে জর্দান।
  • ১৯৭৩ সালে স্পেন, ১৯৭৩ সালে আফগানিস্তান এবং ১৯৭৪, ৭৬, ৮৩, ৮৮, ৯৩ ও সর্বশেষ ১৯৯৯ সালের সংযুক্ত আরব আমিরাত।
  • ১৯৭৭ ও ১৯৯৩ সালে উত্তর আমেরিকা।
  • ১৯৬৩, ৬৪, ৬৯, ৮৩, ৮৬, ৮৭, ৮৯, ৯২ ও ১৯৯৩ সালে ইউরােপ।
  • ১৯৭৩ সালে ইরান।
  • ১৯৫৯, ৬৪, ৭৮, ৮৪ ও ১৯৮৬ সালে পাকিস্তান।
  • ১৯৮৬ সালে বুখারা।
  • ১৯৬৩ ও ১৯৮৫ সালে ব্রিটেন।
  • ১৯৮৪ ও ৯৪ সালে বাংলাদেশ।
  • ১৯৫৬, ৬৪, ৮৬, ৮৯, ৯৩ ও ১৯৯৬ সালে তুরস্ক।
  • ১৯৮২ ও ১৯৮৬ সালে আলজেরিয়া।
  • ১৯৪৭, ৫১, ৬২, ৬৫, ৬৭ ও ১৯৬৯ সালে হেজায। এরপর আরাে অনেকবার।
  • ১৯৭৯ ও ১৯৯৫ সালে কাতার।
  • ১৯৭৬ ও ৮৬ সালে মরক্কো।
  • ১৯৮২ সালে শ্রীলঙ্কা।
  • ১৯৯৩ সালে সমরকন্দ।
  • ১৯৫১ সালে সুদান।
  • ১৯৫১, ৫৬, ৬৪ ও ১৯৭৩ সালে সিরিয়া।
  • ১৯৫৬ ও ১৯৭৩ সালে ইরাক।
  • ১৯৫১, ৭৩, ৮৪ ও ১৯৯৮ সালে ওমান।
  • ১৯৫১ সালে ফিলিস্তিন।
  • ১৯৬২, ৭৮, ৮৩ ও ১৯৮৭ সালে কুয়েত।
  • ১৯৫৬ ও ১৯৭৩ সালে লেবানন।
  • ১৯২৯ সালে লাহাের।
  • ১৯৮২ ও ১৯৮৭ সালে মালয়েশিয়া।
  • ১৯৮৪ সালে ইয়ামান সফর করেন।

জন্ম ও শৈশবকাল[সম্পাদনা]

তিনি ১৯১৩ খ্রিষ্টাব্দের ৫ ডিসেম্বর ভারতের রায়বেরেলি নামক স্থানে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম আবদুল হাই এবং মাতার নাম খায়রুন্নেসা। তারঁ পিতা-মাতা উভয়েই মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নাতি হাসান রাযিআল্লাহু আনহুর বংশধর ছিলেন।[৮] ১৯২৩ খ্রিষ্টাব্দে মাত্র ১০ বছরেরও কম বয়সে তিনি পিতৃহারা হন। এমতাবস্থায় বড় ভাই মাওলানা আব্দুল আলী আল হাসানী এবং মা খাইরুন্নেসা তার শিক্ষার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। শৈশবে মায়ের কাছেই আলী মিয়াঁ কোরআন, আরবিউর্দূ ভাষার প্রাথমিক শিক্ষা লাভ করেন। আলী মিয়াঁ ১৯২৪ সালে শায়খ খলীল বিন মুহাম্মদ আল আনসারীর কাছে আরবি ভাষা শেখা শুরু করেন এবং এই ভাষায় ব্যুৎপত্তি অর্জন করেন। এছাড়া তিনি তার দুই চাচা শায়খ আযীযুর রহমান এবং শায়খ মুহাম্মদ তালহার কাছেও আরবি ভাষা ও সাহিত্য পড়েন।পরবর্তীতে ১৯৩০ সালে নদওয়াতুল উলামাতে ড: তাকীউদ্দীন হেলালীর কাছে আরবি ভাষা ও সাহিত্যে সর্বোচ্চ শিক্ষা সমাপন করেন। ১৯২৬ সনে তিনি কানপুরের নদওয়াতুল উলামাতে ভর্তি হন। এ সময়ে আরবি ভাষায় পারদর্শিতার কারণে তিনি সবার কাছে পরিচিতি লাভ করেন। এবং আরবদেশ থেকে আগত মেহমানদের সাথে দোভাষী হিসেবে তিনি বিভিন্ন জায়গায় সফর করেন। ১৯২৭ সালে তিনি লখনৌ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন এবং সেখান থেকে উর্দূ ভাষা ও সাহিত্যে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন।১৯২৮ সাল থেকে ১৯৩০ সাল পর্যন্ত তিনি ইংরেজি ভাষা অধ্যয়ন করেন। যা ইসলাম সম্পর্কে লিখিত ইংরেজি বই থেকে সরাসরি তথ্য সংগ্রহে তার সহায়ক হয়। ১৯২৯ সালে তিনি আবার নদওয়াতুল উলামায় ভির্তি হন এবং তিনি একনিষ্ঠভাবে আল্লামা মুহাদ্দিস হায়দার হোসেন খানের দরসে অংশগ্রহণ করেন এবং তার কাছেই সাহিহাইন,সুনানে আবু দাউদ এবং তিরমিজি শরিফ সমাপ্ত করেন। তার কাছে আলী মিয়াঁ তাফসীরে বায়জাভীরও কিছু অংশ পড়েন। আলী মিয়াঁ তার শিক্ষক খলীল বিন মুহাম্মদের কাছেই নির্বাচিত কিছু সুরার তাফসির পড়েন। এছাড়া আব্দুল হাই আল ফারুকীর কাছেও তিনি কোরআনের কিছু অংশের তাফসির পড়েন। তবে মাদ্রাসার সুনির্দিষ্ট পাঠ্যসূচী অনুযায়ী তিনি সম্পূর্ণ কোরআনের তাফসির অধ্যয়ন করেন ১৯৩২ সালে লাহোরে আল্লামা মুফাসসির আহমাদ আলী লাহোরীর কাছে। এ বছরই তিনি দেওবন্দে শায়খুল ইসলাম আল্লামা হুসাইন আহমাদ মাদানীর কাছে কয়েক মাস থাকেন এবং তার সহীহ বুখারী ও সুনানে তিরমিজির দরসে উপস্থিত থাকেন। আলী মিয়াঁ তার কাছে উলুমুল কোরআন এবং তাফসিরও পড়েন। এছাড়া আলী মিয়াঁ শায়খ ইজাজ আলীর কাছে ফিকহ এবং ক্বারী আসগর আলীর কাছে তাজবীদ শেখেন।[৭]

সংক্ষিপ্ত জীবনী[সম্পাদনা]

১৯৩৪ সালে তিনি দারুল উলুম নদওয়াতুল উলামায় শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন এবং তাফসির,হাদীস,যুক্তিবিদ্যা,আরবি সাহিত্য ও ইতিহাসের শিক্ষা দেন। ১৯৩৪সালে তিনি বিয়ে করেন। ১৯৩৯ সালে তিনি ভারতের বিভিন্ন জায়গায় সফর করেন। এই সফরের মাঝেই তিনি মাওলানা শায়খ আবদুল কাদির রায়পুরী এবং বিশিষ্ট ইসলাম প্রচারক মাওলানা মুহাম্মাদ ইলয়াস কান্ধলভীর সাথে সাক্ষাৎ করেন এবং তাদেরকে নিজের কর্মজীবনের পরামর্শদাতারূপে গ্রহণ করেন। প্রথমোক্ত ব্যক্তির কাছে তিনি তাযকিয়াহ তথা আত্মশুদ্ধি বিষয়ক পরামর্শ গ্রহণ করতেন এবং দ্বিতীয় ব্যক্তির কাছে তিনি ধর্মপ্রচার ও সমাজ-সংস্কার বিষয়ক পরামর্শ গ্রহণ করতেন। সারা জীবন তিনি তাদের সাথে যোগাযোগ অব্যাহত রাখেন। শেষ জীবন পর্যন্ত তিনি ভারত ও পৃথিবীর অনেক দেশে সফর করেন। ১৯৪৩ সালে দীনি শিক্ষার জন্য তিনি “আন্জুমানে তা’লীমাতে দীন” নামক একটি এ্যসোসিয়েশন প্রতিষ্ঠা করেন। সেখানে তিনি কোরআন ও হাদিসের ওপর বেশকিছু বক্তৃতা প্রদান করেন, যা আধুনিক শিক্ষিত সমাজে সাড়া ফেলে। ১৯৪৫ সালে তিনি নদওয়াতুল উলামার প্রশাসনিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৫১ সালে নদওয়াতুল উলামার তৎকালীন শিক্ষা বিভাগের পরিচালক সৈয়দ সুলাইমান নদভীর অনুরোধে তিনি শিক্ষা বিভাগের উপপরিচালকের পদ গ্রহণ করেন এবং ১৯৫৪ সালে সুলাইমান নদভীর ইন্তেকালের পর তিনি শিক্ষা বিভাগের পরিচালক নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে ১৯৬৫ সালে বড় ভাই আব্দুল আলী আল হাসানীর মৃত্যুর পর তিনি নদওয়াতুল উলামার মহাসচিব নির্বাচিত হন। ১৯৫১ সালেই তিনি তার বিখ্যাত আন্দোলন “পায়ামে ইনসানিয়্যাত” শুরু করেন। ১৯৫৫ সালে তিনি আরবি পত্রিকা “আল-বাস” এবং ১৯৫৯ সালে “আর-রায়ীদ”এর সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৫৬ সালে আলী মিয়াঁ দামেশকে ‘আরবি ভাষা ইনস্টিটিউট’এর সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৫৯ সালে তিনি লখনৌতে “ইসলামিক গবেষণা ও প্রকাশনা সংস্থা” প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৬২ সালে মক্কায় সৌদি আরবের গ্র্যান্ড মুফতি শায়খ মুহাম্মদ বিন ইবরাহীমের অনুপস্থিতিতে আলী মিয়াঁ “রাবেতাতুল ইসলাম”এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন। উক্ত অনুষ্ঠানে সৌদি আরবের শাসক সাউদ বিন আবদুল আজিজ, লিবিয়ার শাসক ইদরীস সেনুসীসহ আরো অনেক গণ্যমান্য ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন। এই অনুষ্ঠানেই তিনি “ সাম্প্রদায়িকতার ঊর্ধ্বে ইসলাম” শীর্ষক প্রবন্ধ পাঠ করেন। ১৯৬২ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই তিনি মদিনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরামর্শ কমিটির একজন সদস্য ছিলেন। ১৯৬৮ সালে সৌদি শিক্ষামন্ত্রীর পক্ষ থেকে রিয়াদ বিশ্ববিদ্যালয়ের শরিয়াহ বিভাগের পাঠ্যসূচী প্রণয়নে পরামর্শ দেয়ার জন্য তাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। ১৯৮০ সালে জর্দান আরবি একাডেমির একজন সদস্য নির্বাচিত হন। এই বছরই তিনি ইংল্যান্ডের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক সেন্টারের সভাপতি নির্বাচিত হন। ১৯৮৪ সালে তিনি "বিশ্ব ইসলামি সাহিত্য সংগঠন"এর মহাপরিচালক নির্বাচিত হন। [৯] ১৯৮৪ সালে এবং ১৯৯৪ সালে তিনি বাংলাদেশ সফর করেন।[৮]

পুরস্কার ও সম্মাননা[সম্পাদনা]

১৯৮০ খ্রিস্টাব্দে আলী নদভী তাঁর রচিত গ্রন্থ মা যা খাসিরাল 'আলামু বিনহিতাতিল মুসলিমীন (মুসলামানদের পতনে বিশ্ব কী হারালো?)-এর জন্য মুসলিম বিশ্বের নোবেল হিসেবে খ্যাত বাদশাহ ফয়সাল আন্তর্জাতিক পুরস্কার লাভ করেন। পুরস্কারের নগদ দুই লাখ রিয়ালের অর্ধেক তিনি আফগান শরণার্থীদের জন্য এবং বাকী অর্ধেক মক্কার দুটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে (একটি হিফজখানা এবং মাদরাসা আল-সাওলতিয়াহ)দান করে দেন। ১৯৮১ খ্রিস্টাব্দে কাশ্মীর বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে তাকে সাহিত্যে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি প্রদান করা হয়। ১৯৯৯ খ্রিস্টাব্দে ৭ খণ্ডে রচিত উর্দু ইতিহাস গ্রন্থ তারীখে দাওয়াত ওয়া আযীমত (সংগ্রামী সাধকদের ইতিহাস)-এর জন্য অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক সেন্টারের পক্ষ থেকে আলী নদভীকে সুলতান ব্রুনাই এ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়। যার মূল্য ছিল বিশ লক্ষাধিক ভারতীয় রুপি। আলী নদভী পুরস্কারের সমস্ত অর্থ বিভিন্ন দাতব্য প্রতিষ্ঠান ও অসহায়দের মধ্যে বিতরণ করে দেন। ১৯৯৯ খ্রিস্টাব্দে আলী নদভী দুবাইয়ে তিনি বর্ষসেরা আন্তর্জাতিক ইসলামী ব্যক্তিত্ব নির্বাচিত হন। দুবাইয়ের যুবরাজ এবং আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী শেখ মুহাম্মাদ ইবনে রুশদের হাত থেকে গ্রহণ করা প্রায় এক কোটি পঁচিশ লক্ষ ভারতীয় রুপি সমমূল্যের এ পুরস্কারের পুরোটা তিনি বিভিন্ন দাতব্য কাজে ব্যয় করেন।[১০]

রচনাবলী[সম্পাদনা]

১৯৩১ সালে মাত্র ১৭ বছর বয়সে সৈয়দ রশিদ রেজা সম্পাদিত মিসরের আল মানার পত্রিকায় আলী মিয়াঁর সর্বপ্রথম প্রবন্ধ ছাপা হয়। প্রবন্ধের বিষয় ছিল শহীদ আহমাদ বিন ইরফানের কর্ম। ১৯৩৮ সালে উর্দূতে “সীরাতে আহমাদ শহীদ”নামে তাঁর সর্বপ্রথম বই প্রকাশিত হয়। ১৯৪০ সালে তিনি “মুখতারাত মিন আদাবিল আরব” কিতাবটি সংকলন করেন। ১৯৪২-১৯৪৪ সালের মাঝে “ক্বাসাসুন নাবিয়্যীন” এবং “আল ক্বিরাআতুর রাশিদাহ”নামে দু’টি শিশুতোষ সিরিজ লেখেন। ১৯৪৪ সালে তিনি তাঁর প্রসিদ্ধ গ্রন্থ “মুসলমানদের পতনে বিশ্ব কী হারালো ?[১১] লেখা শুরু করে ১৯৪৭ সালে শেষ করেন।১৯৫৮ সালে তিনি শায়খ আহমাদ রায়পুরীর অণুরোধে কাদীয়ানীদের সম্পর্কে “কাদীয়ানী ও কাদীয়ানিয়্যাত” নামে একটি বই লেখেন।১৯৬৭ সালে তিনি “আরকানে আরবাআ’হ” এবং ১৯৮৮ সালে আলী রাদিয়াল্লাহুর জীবনী “মুরতাজা” রচনা করেন।[১২] তার বেশির ভাগ বই বাংলায় অনূদিত হয়েছে[১৩]

  • সংগ্রামী সাধকদের ইতিহাস
  • মুসলমানদের পতনে বিশ্ব কী হারালো?
  • আলোর রাজপথ (ছোটদের ইতিহাসের গল্প)
    • অনুবাদ : অধ্যক্ষ মুহাম্মদ রওশন আলী
  • আমার আম্মা
    • অনুবাদ : আবু সাঈদ মুহাম্মদ ওমর আলী
  • আরকানে আরবাআহ
    • অনুবাদ : আবু তাহের মিসবাহ
  • আল্লাহর পথের ঠিকানা
    • অনুবাদ : শরীফ মুহাম্মদ
  • নবীয়ে রহমত
    • অনুবাদ : আবু সাঈদ মুহাম্মদ ওমর আলী
  • ইসলামের বৈপ্লবিক অবদান
  • ইসলামের রাজনৈতিক ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ
    • অনুবাদ : আবদুল্লাহ আল ফারুক
  • ইসলাম ধর্ম সমাজ সংস্কৃতি
    • অনুবাদ : আবু সাঈদ মুহাম্মদ ওমর আলী
  • ইসলাম ও অন্যান্য সংস্কৃতি
  • ইসলাম ও পাশ্চাত্য সভ্যতার সংঘাত
    • অনুবাদ : মাওলানা জুলফিকার নদভী
  • ইসলামী আন্দোলন পথ ও পাথেয়
    • অনুবাদ : মাওলানা লিয়াকত আলী
  • ইসলামী জাগরণের রূপরেখা
    • অনুবাদ: মাওলানা কবীর আহমাদ আশরাফী
  • ইসলামী জীবন বিধান
  • নয়া খুন
  • নারীদের দীনী খিদমাত
    • অনুবাদ: মাওলানা হাসান মুহাম্মাদ সানাউল্লাহ
  • ইলিয়াস রহ-এর দাওয়াতী চিঠিপত্র
    • অনুবাদ : মাসুম আবদুল্লাহ
  • নতুন দাওয়াত নতুন পয়গাম
  • নতুন পৃথিবীর জন্ম দিবস
  • নতুন প্রজন্মের শিক্ষা ভাবনা
    • অনুবাদ : আবদুল্লাহ মোকাররম
  • পথের পাড়ের পরশ পাথর (ইলিয়াস রহ এর জীবনী)
    • অনুবাদ : শফিউল্লাহ কুরাইশী
  • ঈমানের দাবী
  • ঈমান যখন জাগল
    • অনুবাদ : আবু সাঈদ মুহাম্মদ ওমর আলী
  • ঈমানদীপ্ত কিশোর কাহিনী
  • প্রাচ্যের উপহার
    • অনুবাদ : ওমর আলী র. মাওলানা আবু তাহের মিসবাহ ও মাওলানা ইসমাঈল ইউসুফ
  • পশ্চিমা বিশ্বের নামে খোলা চিঠি
    • অনুবাদ : মাওলানা জুলফিকার নদভী
  • উলামা-তালাবা
  • ভারতবর্ষে মুসলমানদের অবদান
  • মদীনার পথে
  • মধ্যপ্রাচ্যের ডায়েরি
    • অনুবাদ : মাওলানা সিরাজুল ইসলাম
  • মাওলানা আবদুল কাদের রায়পুরী রহ
    • অনুবাদ : আবদুল আলীম হুসাইনী
  • মাওলানা ইলয়াস রহ এবং তার দ্বীনি দাওয়াত
    • অনুবাদ : মাওলানা আবু তাহের মিসবাহ
  • মুসলমানদের পতনে বিশ্বমানবতা কী হারালো
    • অনুবাদ : মাওলানা আবদুল মজীদ
    • অনুবাদ : আবু তাহের মিসবাহ
  • মুসলিম লেখক ও প্রাচ্যবিদদের ইসলাম বিষয়ক গবেষণামূলক মূল্যায়ন ও পর্যালোচনা
    • অনুবাদ : মুহাম্মদ সাদিক হুসাইন
  • শাইখুল হাদিস যাকারিয়া রহ জীবন ও কর্ম
    • অনুবাদ: মাওলানা আব্দুল আলীম
  • কাবুল থেকে ইয়ারমুক
  • কারওয়ানে মদীনা
  • কাদিয়ানী মতবাদ, তত্ত্ব ও ইতিহাস
    • অনুবাদ : জুবাইর আহমদ আশরাফ
  • কাদিয়ানি মতবাদ, ইসলাম ও নবিজির বিপক্ষে বিদ্রোহ
    • অনুবাদ : মাওলানা মুহাম্মদ আব্দুল আলীম
  • কুরআন অধ্যয়নের মূলনীতি
  • খুতুবাতে আলী মিয়া নাদাবী রহ. (৫ খণ্ড)
  • সভ্যতা ও সংস্কৃতিতে ইসলামের অবদান
    • সম্পাদনা : মাওলানা লিয়াকত আলী
  • সংগ্রামী সাধকদের ইতিহাস (১-৭)
    • অনুবাদ : আবু সাঈদ মুহাম্মদ ওমর আলী
  • সাত যুবকের গল্প
  • সীরাতে রাসূলে আকরাম সা.
    • অনুবাদক : আবু সাঈদ মুহাম্মদ ওমর আলী
  • হযরত আলী রা.
    • অনুবাদ : আবু তাহের মিসবাহ
  • দ্বীনি দাওয়াত : গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা
    • অনুবাদ : আবদুল্লাহ আল ফারুক
  • বিধ্বস্ত মানবতা (আমেরিকা ও কানাডা সফরে প্রদত্ত ভাষণ)
    • অনুবাদ : মুজাহিম
  • বিধ্বস্ত মানবতা
  • তারুণ্যের প্রতি হৃদয়ের তপ্ত আহ্বান
    • অনুবাদ : মুহাম্মদ সাদিক হুসাইন
  • তাজা ঈমানের ডাক
    • অনুবাদ : মুহাম্মদ যাইনুল আবিদীন
  • ছোটদের সীরাতুন্নবী
    • অনুবাদ : মাওলানা ইবরাহিম খলিল
  • তালিবে ইলমের জীবন পথের পাথেয়
    • অনুবাদ : মাওলানা আবু তাহের মিসবাহ
  • দাওয়াত ও তাবলীগের অলৌকিক পদ্ধতি
    • অনুবাদ : মাওলানা আবু তাহের রহমান
  • দাওয়াত ও তাবলীগ
  • ফেকাহ সংকলন : প্রাসঙ্গিক কিছু কথা
    • অনুবাদ :আবদুল্লাহ আল ফারুক
  • কে তুমি নারী? কী তোমার পরিচয়?
  • ধর্ম ও কৃষ্টি
    • অনুবাদ : মাওলানা লিয়াকত আলী
  • ধর্মত্যাগের নয়া রূপ
    • অনুবাদ : সাদিক হুসাইন

মৃত্যু[সম্পাদনা]

আলী মিয়াঁ ১৯৯৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর, আরবি ১৪২০ হিজরির রমজান মাসের ২২ তারিখ, শুক্রবার জুমআর পূর্বে সুরা ইয়সীনের ১১ নং আয়াত তিলাওয়াত করা অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। এ সময় তার বয়স হয়েছিল ৮৬ বছর। তাকে রায়বেরেলিতেই দাফন করা হয়।[৭]

উত্তরাধিকার[সম্পাদনা]

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "King Faisal International Prize" [স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]
  2. Hasanuzzaman, Hazrat (২০১১)। "Socio_historical aspects in the writings of Abul Hasan Ali Nadwi with special reference to Ma_Dha Khasira Al_Aalam Bi_Inhitatil Muslimeen"Assam University 
  3. Noorul Ameen, Mohamood VN (২০১৩)। "Philosophical and educational thoughts in the works of Abul Hassan Ali Nadvi"Kannur University 
  4. Samee-Ullah, Bhat (২০১০)। "Syed Abul Hasan Ali Nadwis Contribution to Islamic History A Study with Special Reference to his Tarikh i Dawat o Azimat"University of Kashmir 
  5. "সংরক্ষণাগারভুক্ত অনুলিপি"। ২৪ অক্টোবর ২০১৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৩ নভেম্বর ২০১১ 
  6. "মুসলিম উম্মাহর দরদী দাঈ সাইয়্যিদ আবুল হাসান আলী নদবী"যুগান্তর। সংগ্রহের তারিখ ২০২১-০১-০৩ 
  7. "সংরক্ষণাগারভুক্ত অনুলিপি"। ২০ অক্টোবর ২০১০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১০ 
  8. "সংরক্ষণাগারভুক্ত অনুলিপি"। ৮ জানুয়ারি ২০০৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৭ নভেম্বর ২০১১ 
  9. "সংরক্ষণাগারভুক্ত অনুলিপি"। ২৪ অক্টোবর ২০১৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৩ নভেম্বর ২০১১ 
  10. "Sheikh Muhammad"। ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০ এপ্রিল ২০১৪ 
  11. AmaderBoi.com। "বই-মুসলামনদের পতনে বিশ্ব কি হারালো ?"। মুহাম্মদ ব্রাদারস। [স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]
  12. "সংরক্ষণাগারভুক্ত অনুলিপি"। ২৪ অক্টোবর ২০১৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৩ নভেম্বর ২০১১ 
  13. AmaderBoi.com। "আবুল হাসান আলী আল হাসানী আন নদভী বাংলা বুক লিস্ট"। AmaderBoi.com। [স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]

আরও পড়ুন[সম্পাদনা]