কাদিয়ানী
| আহ্মদীয়া ধারাবাহিকের একটি অংশ |
|---|
কাদিয়ানী বা কাদিয়ানি (উর্দু: قادیانی, হিন্দি: क़ादियानी; উচ্চারণ [qäː.d̪ɪjäːniː]) হলো একটি ধর্মীয় লোকাভিধান, যা আহমদীয়া সম্প্রদায়ের অনুসারীদের বুঝাতে ব্যবহৃত হয়। শব্দটি পাকিস্তানে উদ্ভূত হলেও বর্তমান বাংলাদেশ, ভারত ও আফগানিস্তানসহ প্রায় প্রতিটি মুসলিম দেশে আহমদিয়া অনুসারীদের বুঝাতে ব্যবহৃত হয়।[১][২] এই শব্দটির উৎপত্তি হয় উত্তর ভারতের একটি ছোট শহর কাদিয়ান থেকে, যা ছিল আহ্মদীয়া আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রচারক মির্জা গোলাম আহমদের জন্মস্থান। যদিও আহমদীয়া সম্প্রদায়ের অনুসারীরা তাদের প্রতি সম্পৃক্ত করে এই শব্দের ব্যবহারকে অবমাননাকর মনে করে,[৩] তবুও তা পাকিস্তানের সরকারী নথিতে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। বর্তমান সুন্নি ও শিয়া উভয় ধারার ধর্মীয় সাহিত্যে আহমদিয়া সম্প্রদায়ের অনুসারীদের বুঝাতে 'কাদিয়ানি' শব্দটি ব্যবহার করা হয়।[৪]
পাকিস্তানে মুসলিম পরিচয় বহন করার কারণে কাদিয়ানীরা আনুষ্ঠানিকভাবে হয়রানি বা চাপপ্রয়োগের স্বীকার হতে হয় বলে অভিযোগ করা হয় এবং এই মতবাদের অনুসারীদের চিহ্নিত করার জন্য 'কাদিয়ানী' শব্দটি ব্যবহার করে। কারণ পাকিস্তানি সংবিধানের ২য় সংশোধনীতে আনুষ্ঠানিকভাবেই আহমদীয়াদের অমুসলিম হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।[৫] অধ্যাদেশ ২০ আনুষ্ঠানিকভাবে আহমদীয়াদের 'কাদিয়ানী হিসেবে চিহ্নিত করে এবং ইসলামি বিশ্বাসের কোনো ধর্মীয় বা সামাজিক অনুশীলনে তাদের নিষিদ্ধ করে।[৬] ১৯৮৪ সালে এই সম্প্রদায়ের চতুর্থ খলিফা মির্জা তাহির আহমদকে গ্রেপ্তারের হুমকির মুখে নির্বাসনে বাধ্য করা হয়, যার ফলে যুক্তরাজ্য, জার্মানি ও কানাডায় অনুসারীদের একটি বিশাল সংখ্যায় অভিবাসন শুরু হয়।[৭] আহমদীয়া সম্প্রদায়ের সদস্যরা পাকিস্তান ও প্রবাসে উভয় ক্ষেত্রেই সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিমদের হুমকির লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয় বলে অনেকে অভিযোগ করে।[৮]
তবে গবেষণাধর্মী রচনায় কখনো কখনো কাদিয়ানি শব্দটি মূলধারার আহমদিয়া সম্প্রদায়কে বুঝাতে ব্যবহৃত হয়। এই শব্দ দ্বারা মূলত তাদেরকে "লাহোরি আহমদিয়াদের" থেকে পৃথক বুঝানো হয়, যারা ইতোপূর্বে মূলধারার আহমদিয়া জামাত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।[৯]
আরও দেখুন
[সম্পাদনা]তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ অ্যান্টোনিও আর. গুয়ালতিয়েরি (১৯৮৯)। Conscience and Coercion: Ahmadis and Orthodoxy in Pakistan [বিবেক ও বলপ্রয়োগ: পাকিস্তানে আহমদিয়া ও প্রথাগত মতবাদ]। গুয়ের্নিকা এডিশনস। পৃ. ১৪। আইএসবিএন ৯৭৮-০-৯২০৭১৭-৪১-৭।
- ↑ "Meaning of qaadiyaanii in English, Hindi & Urdu" ['কাদিয়ানি' শব্দের ইংরেজি, হিন্দি ও উর্দু অর্থ]। রেখতা ডিকশনারি (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ১ এপ্রিল ২০২৩।
- ↑ ফারাহনাজ ইস্পাহানি (২ জানুয়ারি ২০১৭)। Purifying the Land of the Pure: A History of Pakistan's Religious Minorities [পবিত্র ভূমিকে বিশুদ্ধ করা: পাকিস্তানের ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ইতিহাস]। অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস। পৃ. ১০৫–। আইএসবিএন ৯৭৮-০-১৯-০৬২১৬৭-৪।
- ↑ "القادياني والقاديانية" [কাদিয়ানি ও কাদিয়ানিয়া]। আবুল হাসান আলী নদভী (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ১৬ নভেম্বর ২০২৫।
- ↑ "Constitution (Second Amendment) Act, 1974" [সংবিধান (দ্বিতীয় সংশোধনী) আইন, ১৯৭৪]। পাকিস্তানের সংবিধান। pakistani.org। ২৮ আগস্ট ২০০১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২১ জানুয়ারি ২০২০।
- ↑ বারবেরিয়ান, লিন্ডা জে. (১৯৮৭)। "Pakistan Ordinance XX of 1984: International Implications on Human Rights" [পাকিস্তান অধ্যাদেশ ২০ (১৯৮৪): মানবাধিকারের আন্তর্জাতিক প্রভাব]। লস অ্যাঞ্জেলেস ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড কম্পারেটিভ ল সঙ্কলন (লয়োলা)। ৯ (৩)। সংগ্রহের তারিখ ২১ জানুয়ারি ২০১৯।
- ↑ "Hadhrat Mirza Tahir Ahmad, Muslim Spiritual Leader,74" [হযরত মির্জা তাহির আহমদ, মুসলিম আধ্যাত্মিক নেতা, ৭৪]। দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস। ১৭ মে ২০০৩। সংগ্রহের তারিখ ২৪ জানুয়ারি ২০২০।
- ↑ টেইলর, জেরোম (২১ অক্টোবর ২০১০)। "Hardliners call for deaths of Surrey Muslims" [সারে অঞ্চলের মুসলমানদের মৃত্যুর আহ্বান জানাল উগ্রপন্থীরা]। দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট (যুক্তরাজ্য)। সংগ্রহের তারিখ ২০ জানুয়ারি ২০২০।
- ↑ খান, আদিল হুসেইন (২০১৫)। From Sufism to Ahmadiyya : a Muslim minority movement in South Asia [সূফিবাদ থেকে আহমদিয়া: দক্ষিণ এশিয়ার এক মুসলিম সংখ্যালঘু আন্দোলন]। ইন্ডিয়ানা ইউনিভার্সিটি প্রেস। আইএসবিএন ৯৭৮-০-২৫৩-০১৫২৯-৭। ওসিএলসি 907336796।