কাওয়ালি

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
সরাসরি যাও: পরিভ্রমণ, অনুসন্ধান

কাওয়ালি এক প্রকার আধ্যাত্মিক প্রেমবিষয়ক ভক্তিমূলক গান।[১][২] বিশেষজ্ঞদের মতে, কাওয়ালি জাতীয় গান থেকেই কালক্রমে খেয়াল নামক উচ্চাঙ্গ সংগীতের শ্রেণীটির উৎপত্তি হয়েছে।[৩]

ব্যুৎপত্তি[সম্পাদনা]

‘কওল’ শব্দটি থেকে কাওয়ালি শব্দটির উৎপত্তি ঘটেছে বলে মনে করা হয়।[২] আবার অনেকের মতে, দিল্লির পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে বসবাসকারী কাওয়াল নামক যাযাবর সম্প্রদায় কর্তৃক গীত সাধারণ ভক্তিমূলক গানকে কাওয়ালি বলে চহ্নিত করা হয়।[৩]

ইতিহাস[সম্পাদনা]

প্রখ্যাত সঙ্গীতজ্ঞ আমীর খসরু 'কাওয়ালি' ধারার সঙ্গীতের প্রবর্তক বলে স্বীকৃত;[২] তিনিই কাওয়ালি গানের সংস্কার করেন এবং এটিকে একটি প্রথাবদ্ধ রূপদান করেন।[৩] বাংলাদেশে কবি কাজী নজরুল ইসলামই এই সঙ্গীত ধারাটিকে জনপ্রিয় করে তোলেন।[৪]

বৈশিষ্ট্য[সম্পাদনা]

গঠন[সম্পাদনা]

এ গানের স্থায়ী ও অন্তরার মধ্যে তাল বন্ধ রেখে প্রতিবার বিভিন্ন প্রকার রাগ ব্যবহার করা হয়। একজন মূল গায়ক ও কয়েকজন সহযোগীর সমন্বয়ে গঠিত এক একটি দল কাওয়ালি পরিবেশন করে যাতে মূল গায়ক গান পরিবেশ করেন এবং সহযোগীগণ ধুয়া ধরেন।[২]

যন্ত্র[সম্পাদনা]

কাওয়ালি গানে যন্ত্র হিসেবে প্রধানতঃ ঢোলক ব্যবহৃৎ হয় এবং সমবেতভাবে হাততালি দিয়ে এর তাল রক্ষা করা হয়।[২]

রাগ ও তাল[সম্পাদনা]

যে সকল রাগ আধ্যাত্মিক প্রেমভাব প্রকাশ করে সেসব রাগে কাওয়ালি গাওয়া হয়।[২] কাওয়ালি উত্তর ভারতীয় সঙ্গীত পদ্ধতির একটি ৮ মাত্রা বিশিষ্ট সমপদী তাল, যা ৪ । ৪ । ছন্দো-বিভাজন যুক্ত এবং এটি একটি তালি ও একটি ফাঁক বিশিষ্ট।[৫] সাধারণতঃ এটি দাদরা, ধূমালি, রূপক, পশ্তু ইত্যাদি তাল দ্বারা সৃষ্ট।[২] কাওয়ালির তালটির একটি ঠেকা নিম্নরূপঃ

   +                     ০
   ধা    ধিন্    ধাধা    ধিন্  ।  তা    তিন্    ধাধা    ধিন্
   ১     ২     ৩     ৪     ৫     ৬     ৭     ৮

পরিবেশনা[সম্পাদনা]

কাওয়ালি গানের শিল্পীদের ‘কাওয়াল’ বলা হয়।[২][৬] এটি একটি ভক্তিমূলক গান যা মূলতঃ সুফি সাধকরা নৃত্য ঢং-এ গেয়ে থাকেন।[১][৭] এই গানগুলো সাধারণতঃ ফারসি ও উর্দু ভাষায় রচিত হয়ে থাকে,[২] তবে বাংলা ভাষায়ও কাওয়ালি গান রচিত হয়।[৮]

শ্রোতা[সম্পাদনা]

কাওয়ালি গান মূলতঃ মুসলমান সম্প্রদায়ের মধ্যেই অধিক প্রচলিত।[২] তবে, হিন্দু ধর্মীয় 'কুম্ভমেলা'-তেও এর পরিবেশনা লক্ষ্য করা যায়।[৯] পুরান ঢাকার আদিবাসীদের মধ্যে বিভিন্ন জলসা, বিবাহ ইত্যাদি অনুষ্ঠান উপলক্ষে এ গানের প্রচলন রয়েছে।[২] বাংলা কাওয়ালি গানের শ্রোতা এক সময় কেবল পুরান ঢাকা ও নির্দিষ্ট কিছু অঞ্চলে সীমাবদ্ধ থাকলেও এখন দেশের সাধারণ তরুণরাও কাওয়ালি গানের ভক্ত হয়ে উঠেছে।[৮]

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "ঢাকার ৪০০ বছর উপলক্ষে কাওয়ালী আসর"। বাংলাদেশনিউজ২৪x৭.কম। সংগৃহীত : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৫ 
  2. "কাওয়ালি"। বাংলাপিডিয়া। সংগৃহীত : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৫ 
  3. "কাওয়ালি থেকে খেয়াল"। dainikdestiny.com। সংগৃহীত : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৫ 
  4. "নজরুলের কাওয়ালি নিয়ে লীনা তাপসী"। The Jaijaidin। সংগৃহীত : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৫ 
  5. "কাওয়ালি"। onushilon.org। সংগৃহীত : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৫ 
  6. "চাঁদ রাতে বিশেষ কাওয়ালী"। একুশে টেলিভিশন। সংগৃহীত : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৫ 
  7. "ভালোবাসা নিয়ে ভারতবর্ষ থেকে ‘কাওয়ালি’ ট্রুপ রাশিয়ায় এসেছে"। রেডিওরাশিয়া। সংগৃহীত : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৫ 
  8. "কাওয়ালি গানের ভক্ত এখন তরুণরাও"। Amader Konthosor। সংগৃহীত : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৫ 
  9. "‘কুম্ভমেলা’য় কাওয়ালি, তরুণের ফ্যাশন"। Associate News of Bengal। সংগৃহীত : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৫ 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]