বিষয়বস্তুতে চলুন

কাদিয়ানী সম্প্রদায়: তত্ত্ব ও ইতিহাস

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
কাদিয়ানী সম্প্রদায়: তত্ত্ব ও ইতিহাস
বাংলা সংস্করণের প্রচ্ছদ
লেখকআবুল হাসান আলী হাসানী নদভী
মূল শিরোনামআরবি: القادياني والقاديانية
দেশভারত
ভাষাআরবি
বিষয়আহ্‌মদীয়া
প্রকাশিত১৯৫৮
মিডিয়া ধরনশক্তমলাট
পৃষ্ঠাসংখ্যা১৬৭
ওসিএলসি৩৪০৫৭২৮
এলসি শ্রেণীবিপি১৯৫.এ৫ এন২৯৭ ১৯৬৭
ওয়েবসাইটabulhasanalinadwi.org

কাদিয়ানী সম্প্রদায়: তত্ত্ব ও ইতিহাস (আরবি: القادياني والقاديانية) আহ্‌মদীয়া সম্প্রদায় বা কাদিয়ানীদের নিয়ে রচিত ভারতীয় দেওবন্দি ইসলামি পণ্ডিত আবুল হাসান আলী হাসানী নদভীর একটি আরবি বই। আব্দুল কাদের রায়পুরীর নির্দেশে তিনি গ্রন্থটি রচনা করেন। এই গ্রন্থটির ভিত তৈরি হয়েছে বিতর্কসুলভ জোশের বদলে ঐতিহাসিক গাম্ভীর্য; তিরষ্কার-ভর্ৎসনার পরিবর্তে প্রমাণ ও সাক্ষ্যের উপর।[১][২]

প্রেক্ষাপট

[সম্পাদনা]

১৯৫৮ সালের জানুয়ারির শুরুর দিকে পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনায় লাহোরে একটি ইসলামি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এই সভায় বিশেষভাবে মধ্যপ্রাচ্যের নেতৃস্থানীয় আলেমগণ অংশগ্রহণ করেন। আমন্ত্রণ পাওয়া সত্ত্বেও ব্যস্ততার কারণে নদভী এই সভায় অংশগ্রহণ করতে পারেন নি। মিশর, সিরিয়া ও ইরাকের একাধিক আলেম ও চিন্তাবিদ আলোচনা সভায় অংশগ্রহণকারী হিন্দুস্তানি আলেমদের কাছে জানতে চাইলেন, কাদিয়ানি মতবাদের উপর আরবিতে এমন কোনো গ্রন্থ আছে কি, যার মাধ্যমে তার স্বরূপ ও ইতিহাস জানতে পারব? আলেমগণ এমন কোনো গ্রন্থ পেশ করতে পারেননি, যেটি আধুনিক মন-মস্তিষ্ককে সামনে রেখে মধুর ও সাহিত্যপূর্ণ সাবলীল আরবিতে লেখা হয়েছে। আব্দুল কাদের রায়পুরী সে সময় লাহোরে অবস্থানরত ছিলেন। পরবর্তীতে নদভী লাহোরে গেলে রায়পুরী তাকে এমন একটি গ্রন্থ রচনা করার জন্য সরাসরি আদেশ দেন। এর পূর্বে ১৯৫৩ সালে পাকিস্তানে খতমে নবুয়ত আন্দোলন চলাকালীন নদভী উক্ত বিষয়ে একটি নিবন্ধ লিখে মিশর, সিরিয়া ও ইরাকের বন্ধু ও বুযুর্গদের কাছে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন, যেগুলো তারা নিজ নিজ দেশে প্রচার করে দিয়েছিলেন। রাবেতা আলমে ইসলামিও নিবন্ধটি বিপুল সংখ্যায় প্রচার করেছিল।

লাহোরে অবস্থানকালীন নদভী পাঞ্জাবের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী সুফি আব্দুল হামিদের কুঠিতে দীর্ঘ এক মাস অবস্থান করে এই বিষয়ে পড়াশোনা করেন। প্রায় ২৩–২৪ দিনে তিনি গ্রন্থটি রচনা সমাপ্ত করেন। যার কয়েকটি সংস্করণ বোম্বাই, লখনৌ, জেদ্দা ও মদিনা থেকে বের হয়েছিল এবং আরব বিশ্বে তার ব্যাপক প্রচার হয়েছিল। এ কাজটি সম্পন্ন হয়েছিল ১৯৫৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে।[৩]

বৈশিষ্ট্য

[সম্পাদনা]

গ্রন্থটি রচনায় লেখক এ বিষয়টির প্রতি লক্ষ রেখেছেন, যে ক্ষোভ ও ঘৃণার প্রকাশ নিজের কলম থেকে হতে পারে, তা যেন পাঠকদের হৃদয়ে বইটির উপাদান থেকে আপনা আপনিই সৃষ্টি হয়।

কাদিয়ানিদের মুখপত্র আল ফজলে এই বইটির উপর পর্যালোচনা করে লিখেছিল, "স্বীকার না করে উপায় নেই, পুরো গ্রন্থটি (এ বিষয়ের অন্য সকল গ্রন্থের বিপরীতে) গম্ভীর ও মার্জিত ভাষায় লেখা হয়েছে। শুধু তার নামটা আপত্তিজনক ও উত্তেজনাকর।

আমিন আহসান ঈসলাহি ‘মিছাক’-এ গ্রন্থটির উপর পর্যালোচনা করতে গিয়ে লিখেছেন, "বিস্মিত হতে হয়, লেখকের যেখানে ক্ষোভ আসবার কথা ছিল, সেখানেও তার মনে কোনো ক্ষোভ আসেনি।"

বিষয়বস্তু

[সম্পাদনা]

গ্রন্থটির আলোচ্য বিষয়:

  • কাদিয়ানী সম্প্রদায় : সমকালীন পরিপ্রেক্ষিত ও কেন্দ্রীয় চরিত্র
  • মির্যা গোলাম আহমদ : বিশ্বাস ও দাবীসমূহের ক্রমধারা
    • মির্যা সাহেব : লেখক ও ইসলাম প্রচারক হিসেবে লেখালেখি এবং বিতর্ক সভার ময়দানে
    • মসীহ্ মওউদ হওয়ার দাবী মির্যা সাহেব ও হাকীম সাহেবের মাঝে সম্পর্ক
    • মসীহ মওউদের দাবী থেকে নবুওয়ত পর্যন্ত একটি গোছালো চিত্র
  • মির্যা সাহেবের জীবনীর উপর এক নম্বর
    • মির্যা সাহেবের জীবনাচার দাওয়াতের উন্নতি ও জনসাধারণের গমনাগমন আরম্ভ হওয়ার পর মির্যা সাহেবের প্রাথমিক অবস্থা
    • ইংরেজদের সহযোগিতা প্রদান ও জিহাদ নিষিদ্ধ ঘোষণা
    • মির্যা গোলাম আহমদ সাহেবের অভদ্রোচিত কথা ও গালিগালাজ
    • একটি ভবিষ্যদ্বাণী যা পূর্ণ হয়নি মোহাম্মদী বেগমের সাথে বিবাহের ভবিষ্যদ্বানী
  • কাদিয়ানী সম্প্রদায় : সমীক্ষা ও পুনর্বিবেচনা
    • এতটি স্বতন্ত্র ধর্ম ও দূরত্ব রক্ষাকারী একটি ভিন্ন সম্প্রদায়
    • নবুওয়তে মুহাম্মদীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ খতমে নবুওয়ত আল্লাহ তায়ালার পুরস্কার এবং উম্মতে মুসলেমার বৈশিষ্ট্য
    • কাদিয়ানী সম্প্রদায়ের লাহোরী শাখা ও তাদের আকীদা
    • কাদিয়ানী সম্প্রদায় মুসলিম জাহানকে কি দিয়েছে?

গ্রন্থটি রচনায় যেসব উৎসের সাহায্য নেওয়া হয়েছে:

  1. আল আরবাঈন, দ্বিতীয় সংস্করণ, ১৯২০
  2. ইযালাতুল আওহাম, তৃতীয় সংস্করণ, ১৯০২
  3. আসমানী ফয়সালা, জিয়াউল ইসলাম প্রকাশনী , কাদিয়ান , ১৯১৭
  4. এজাযে আহমদী, ১৯০২
  5. আঞ্জামে আথম, ১৮৯৭
  6. আনওয়ারে খেলাফত, ১৯১৬
  7. আয়নায়ে কামালাতে ইসলাম, দ্বিতীয় সংস্করণ, ১৯২৪
  8. এক গলতী কা ইযালাহ
  9. বারাহীনে আহমদিয়া, চতুর্থ সংস্কারণ, ১৯০৭
  10. বয়ানুল কুরআন, মৌলবী মুহাম্মদ আলী লাহোরী, প্রথম খণ্ড-১৯৪০, দ্বিতীয় খণ্ড-১৯৪১, তৃতীয় খণ্ড-১৯৪২, প্রকাশনা সংস্থা: করীমী প্রেস
  11. পয়গামে সোলহ, লাহোর
  12. তাবলীগে রেসালাত
  13. তুহফাতুন নদওয়াত, জিয়াউল ইসলাম প্রকাশনী, কাদিয়ান
  14. তেরইয়াকুল কুলুব, জিয়াউল ইসলাম প্রকাশনী, কাদিয়ান
  15. তাশহীযূল আযহান
  16. তাওযীহে মারাম, দ্বিতীয় সংস্করণ, ১৮৯৭
  17. হাকীকতুল ওহী, ১৯০৭
  18. হাকীকতুন নবুয়ত, ১৯১৫
  19. আল-হেকাম
  20. হায়াতে নাসের
  21. খুতবায়ে এলহামিয়া, ১৯০২
  22. দুররে ছামীন
  23. রদ্দে তাকফীরে আহলে কেবলা, মকবুলে আম প্রেস, লাহোর ১৯২৬
  24. রিভিউ অফ রেলিজেয
  25. সুরায়ে চশমে আরিয়া, প্রথম সংস্করণ, ১৮৮৬
  26. সীরাতুল মাহদী, ১ম ও ২য় খণ্ড, দ্বিতীয় সংস্করণ, ১৯৩৫; ৩য় খণ্ড, প্রথম সংস্করণ, ১৯৩৯
  27. শাহাদাতুল কুরআন, সেরন্দ প্রকাশনা, অমৃতসর
  28. ফাতহে ইসলাম, ১৮৯৪
  29. আল ফযল পত্রিকা
  30. কিতাবুল বারিয়্যাহ, দ্বিতীয় সংস্করণ, ১৯৩২
  31. কাশফুল এখতেলাফ, জিয়াউল ইসলাম প্রকাশনী, কাদিয়ান, ফেব্রুয়ারী ১৯২০
  32. কালেমাতুল ফল
  33. মিরকাতুল ইয়াকীন ফী হায়াতি নূরুদ্দীন, প্রকাশক আঞ্জুমান এশাআতে ইসলাম, আহমদিয়া বিল্ডিংস, লাহোর
  34. মিআরুল আখবার
  35. মকতুবাতে আহমদিয়া, পঞ্চম খণ্ড
  36. নাজমুল হুদা
  37. নুযুলুল মাসীহ, প্রথম সংস্কলণ, ১৯০৯
  38. নূরুল হক

আরও দেখুন

[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. আবদুল গফফার, প্রফেসর (২০০৪)। উর্দু ভাষা ও সাহিত্যে আবুল হাসান আলী নদভীর অবদান (গবেষণাপত্র) (উর্দু ভাষায়)। পিএইচডি অভিসন্দর্ভ। ভারত: উর্দু বিভাগ, শ্রী সংকরাচার্য সংস্কৃতি বিশ্ববিদ্যালয়। পৃষ্ঠা ৮২। ওসিএলসি 1015275663 
  2. জাওয়াহির, এম. নাফিল এম (২০০৮)। কম্পারেটিভ স্টাডি অন আবুল হাসান আলী নদভী’স পলিটিকাল টথ উইথ পার্টিকুলার রেফারেন্স টু হিজ কনটেমপোরারিস (গবেষণাপত্র) (ইংরেজি ভাষায়)। পিএইচডি অভিসন্দর্ভ। ওয়েলস বিশ্ববিদ্যালয়। পৃষ্ঠা ১৫-১৬। ওসিএলসি 757076445। ১৯ এপ্রিল ২০২২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৯ এপ্রিল ২০২২ 
  3. নদভী, আবুল হাসান আলী (২০১৫)। কারওয়ানে যিন্দেগী। বাংলাবাজার, ঢাকা: মুহাম্মদ ব্রাদার্স। পৃষ্ঠা ৪১৫–৪১৭। আইএসবিএন 978-984-91840-1-0 

বহিঃসংযোগ

[সম্পাদনা]