বেদব্যাস

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
(ব্যাসদেব থেকে পুনর্নির্দেশিত)
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
ব্যাস
Vyasa.jpg
Veda Vyasa (modern painting)
আখ্যাতার জন্মদিনটি গুরু পূর্ণিমা হিসেবে পালন করা হয়
মহাভারত এর রচয়িতা

ব্যাসদেব হিন্দু পৌরাণিক কাহিনি মতে -- ঋষি বিশেষ । ইনি বশিষ্ঠের প্রপৌত্র, শক্তির পৌত্র, পরাশরের পুত্র শুকদেবের পিতা । ইনি হিন্দুধর্মের প্রাথমিক প্রত্যাদিষ্ট হিন্দুশাস্ত্র হিসেবে স্বীকৃত বেদের ব্যবহারিক-বিন্যাসকারী , পৌরাণিক মহাকাব্য মহাভারত , বেদান্তদর্শন , প্রভৃতির সংকলক , সম্পাদক ও অবশেষে সমন্বায়ক এক জ্ঞানান্বেষী ঋষি । যমুনানদীতে খেয়া নৌকার ভিতর পরাশর মুনি সত্যবতীর সাথে মিলিত হলে, সত্যবতী গর্ভবতী হন । পরে যমুনা'র একটি দ্বীপে এঁর জন্ম হয় । যমুনার দ্বীপে জন্মগ্রহণ করেন বলে এর নাম হয় দ্বৈপায়ন । এঁর গায়ের রং কালো ছিল বলে , পুরো নাম দাঁড়ায় কৃষ্ণ-দ্বৈপায়ন । এঁর মাথায় কপিল বর্ণের জটা ছিল । তার চোখ ছিল উজ্জ্বল ও মুখে পিঙ্গল বর্ণের দাড়ি ছিল। ইনি তপস্যাবলে মহর্ষিত্ব প্রাপ্ত হয়ে বেদকে চার ভাগে ভাগ করেছিলেন । এই কারণে ইনি বেদব্যাস বা 'ব্যাস' নামে পরিচিত হন । জন্মের পরপরই ইনি তার মায়ের অনুমতি নিয়ে তপস্যার জন্য যাত্রা করেন । এঁর তপস্যার স্থান ছিল বদরিকাশ্রম । এই কারণে ইনি বাদরায়ণ নামেও পরিচিত ছিলেন ।

বেদ বিভাগকর্তা[সম্পাদনা]

ইনি বেদকে শতশাখাযুক্ত চার ভাগে বিভক্ত করে বেদব্যাস নামে অভিহিত হয়েছেন । মহর্ষি বেদব্যাস বেদকে শুধুমাত্র লিপিবদ্ধ করেছেন এবং চার ভাগে বিভক্ত করেছেন।

মহাভারতব্রহ্মসূত্র রচনায় হিন্দুধর্মের শাস্ত্রীয় সমন্বয়[সম্পাদনা]

মহাভারত রচন[সম্পাদনা]

"যথাতে সংযোগ হয় বিয়োগ অবশ্য । শরীর অনিত্য জান মরণ অবশ্য।।" মহাভারতের এরকম হাজারও শ্লোকের রচরিতা ব্যাসদেব । মহাভারত হতে জানা যায় যে ইনি মহাভারত লিপিবদ্ধ করার জন্য ব্রহ্মার কাছে একজন লিপিকার নিয়োগের পরামর্শ গ্রহণ করতে গেলে ব্রহ্মা গণেশকে নিয়োগ করতে বলেন । গণেশ এই শর্তে লিপিকার হতে সম্মত হলেন যে, লিপিবদ্ধ করার সময় ইনি ক্ষণমাত্রও থামবেন না । ব্যাস তাতে রাজি হয়ে অপর একটি শর্ত জুড়ে দিয়ে বললেন যে , গণেশ কোনো বাক্যের অর্থ সম্পূর্ণ না বুঝে লিপিবদ্ধ করতে পারবেন না । এরপর গণেশ এই শর্তে রাজি হলে মহাভারত লিখা শুরু হয় । ব্যাসদেব তার শ্লোক রচনার মাঝে মাঝে কিছু জটিল শ্লোক রচনা করতেন -- গণেশ এই শ্লোকগুলির অর্থ বুঝে লিখতে যে সময় ব্যয় করতেন, সেই সময়ের মধ্যে ব্যাসদেব আরও অনেক শ্লোক বানিয়ে ফেলতেন।

এবং ব্রহ্মসূত্র[সম্পাদনা]

ক্ষীণাঙ্গী ৫৫৫ পংক্তিতে বেদব্যাস হিন্দুশাস্ত্রের প্রজ্ঞাসঙ্কলন চয়িত ক'রে নাম দিলেন সৃজকসূত্র যার পরতে পরতে প্রাচীন বেদের অভিজ্ঞতা ও পুরাণাদির অভিজ্ঞানের মহাকাব্যিক লিপায়ন মহাভারত-নির্যাস গীতার পরিশোধিত আত্মা যেমন উপলব্ধ তেমনি শ্রুতি-স্মতির সমুদ্রমন্থিত প্রজ্ঞা সুঅনুধাব্য । সৃজকসূত্র রচনে স্রষ্টাসৃষ্টি সম্পর্কিত তার যুক্তিপরম্পরা জ্ঞানান্বেষীকৌশলে স্রষ্টা-অন্বেষণকেই প্রাধাণ্য দিয়েছে ।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]