হিন্দুধর্মে গৌতম বুদ্ধ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
সরাসরি যাও: পরিভ্রমণ, অনুসন্ধান
বিষ্ণুর অবতার রূপে বুদ্ধ

হিন্দুধর্মের বৈষ্ণব সম্প্রদায়গুলি গৌতম বুদ্ধকে বিষ্ণুর অবতার মনে করে। যদিও বুদ্ধ নিজের ঈশ্বরত্ব বা অবতারত্ব অস্বীকার করেছিলেন।[১] বুদ্ধ বেদ অস্বীকার করেছিলেন।[২] রক্ষণশীল হিন্দুসমাজ বৌদ্ধধর্মকে নাস্তিক দর্শন মনে করে।[৩]

পুরাণে উল্লেখ[সম্পাদনা]

টেমপ্লেট:Vaishnavism প্রধান পুরাণগুলি সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ হিন্দুশাস্ত্রে বুদ্ধের উল্লেখ পাওয়া যায়। মনে করা হয়, ‘সব কটি বইতে একই ব্যক্তির কথা বলা হয়নি: কোনো কোনো বইতে অন্য কোনো ব্যক্তির কথা বলা হয়েছে, আবার কোনো বইতে কোনো “বুদ্ধিমান” ব্যক্তিকে বুদ্ধ বলা হয়েছে।’ যদিও অধিকাংশই বিশেষভাবে বৌদ্ধধর্মের প্রতিষ্ঠাতার কথাই বলেছে।[৪] পুরাণ ও অন্যান্য শাস্ত্রে বুদ্ধের দুটি অবদানের কথা বলেছে। এগুলি হল: ধর্মসংস্থাপনের জন্য নাস্তিক্যবাদী বেদমতের প্রচার এবং পশুবলির সমালোচনা।[৫] যেসব প্রধান পুরাণে বুদ্ধের উল্লেখ আছে সেগুলি হল:

পৌরাণিক সাহিত্যে বুদ্ধকে সাধারণত বিষ্ণুর নবম অবতার বলা হয়েছে।

ঋষি পরাশর রচিত বৃহৎ পরাশর হোরা শাস্ত্র আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মগ্রন্থ যেখানে বুদ্ধকে বিষ্ণুর অবতার বলা হয়েছে।

হিন্দুশাস্ত্রে বুদ্ধকে যোগী বা যোগাচার্য এবং সন্ন্যাসী বলা হয়েছে। কোনো কোনো বইতে তাঁর বাবার নাম শুদ্ধোধন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এটি বৌদ্ধশাস্ত্রসম্মত মত। আবার কোনো কোনো বইতে তাঁর বাবার নাম অঞ্জন বা জিন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর বর্ণনায় তাঁকে সুদর্শন (‘দেবসুন্দররূপ’), হলুদ গায়ের রং-বিশিষ্ট এবং গৈরিক বা রক্তবস্ত্রধারী বলে উল্লেখ করা হয়েছে।[৮]

কোনো কোনো ধর্মগ্রন্থে বুদ্ধের পূজার উল্লেখ আছে। যেমন বরাহ পুরাণে বলা হয়েছে সৌন্দর্যকামনায় বুদ্ধের পূজা করতে হয়।[৯]

কোনো কোনো পুরাণে বলা হয়েছে, তিনি দৈত্যদের বিভ্রান্ত করতে জন্মগ্রহণ করেছিলেন:

মোহনার্থং দানবানাং বালরূপীপথিস্থিতঃ।
পুত্রং কল্পয়াং আস মূঢ়-বুদ্ধির্জিনাঃ স্বয়ম্‌।।
তথাঃ সম্মোহয়ং আস জিনায়াং অসুরাংশকান।
ভগবান বাগভিরুগ্রভির অহিংসা-আচিভির হরিঃ।। (ব্রহ্মাণ্ড পুরাণ)[১০]
অনুবাদ: দৈত্যদের মোহিত করতে তিনি [বুদ্ধ] পথে শিশুর বেশে দাঁড়ালেন। মূর্খ জিন (দৈত্য) তাঁকে নিজের সন্তান মনে করল। এইভাবে শ্রীহরি [বুদ্ধ-অবতার রূপে] সুচারুভাবে অহিংসার বাণীর দ্বারা সাঙ্গোপাঙ্গোসহ জিনকে সম্মোহিত করলেন।

ভাগবত পুরাণে বলা হয়েছে বুদ্ধ দেবগণকে ক্ষমতায় প্রতিষ্ঠিত করতে জন্মগ্রহণ করেছিলেন:

অনুবাদ: তারপর কলিযুগের শুরুতে দেবগণের শত্রুদের সম্মোহিত করতে, [তিনি] অঞ্জনের পুত্র রূপে বুদ্ধ নামে কীকতদের মধ্যে জন্ম নিলেন।[২]

অনেক পুরাণে বলা হয়েছে, বিষ্ণু বুদ্ধ অবতারে দৈত্য বা মানবজাতিকে বৈদিক ধর্মে দীক্ষিত করতে এসেছিলেন। ভবিষ্য পুরাণে বলা হয়েছে:

এই সময়, কলি যুগে, বিষ্ণু শাক্যমুনি গৌতম রূপে জন্মগ্রহণ করলেন। তিনি দশ বছর বৌদ্ধধর্ম শিক্ষা দিলেন। তারপর শুদ্ধোধন কুড়ি বছর রাজত্ব করলেন। তারপর শাক্যসিংহ কুড়ি বছর রাজত্ব করলেন। কলি যুগের প্রথম দিকে সকল বৈদিক পথ ধ্বংস হয়েছিল এবং সবাই বৌদ্ধ হয়ে গিয়েছিল। যাঁরা বিষ্ণুর পায়ে আশ্রয় চেয়েছিলেন তাঁরা বিভ্রান্ত হয়েছিলেন।[১১]

পাদটীকা[সম্পাদনা]

  1. [১]
  2. "Bhagavata Purana 1.3.24"। Srimadbhagavatam.com। সংগৃহীত ২০১২-০৮-১৪ 
  3. "In Sanskrit philosophical literature, 'āstika' means 'one who believes in the authority of the Vedas' or 'one who believes in life after death'. ('nāstika' means the opposite of these). The word is used here in the first sense." Satischandra Chatterjee and Dhirendramohan Datta. An Introduction to Indian Philosophy. Eighth Reprint Edition. (University of Calcutta: 1984). p. 5, footnote 1.
  4. Nagendra Kumar Singh (১৯৯৭)। "Buddha as depicted in the Purāṇas"Encyclopaedia of Hinduism, Volume 7। Anmol Publications PVT. LTD.। পৃ: 260–275। আইএসবিএন 978-81-7488-168-7 
  5. Singh, page 264.
  6. Motilal Banarsidass, Delhi 1982.
  7. Dhere Ramchandra Chintaman, Shri Vitthal: ek maha samanvaya, Shri Vidya Prakashan, Pune, 1984 (Marathi)
  8. Singh, pp. 262–264
  9. Singh, p.267
  10. Bhāgavatatātparya by Madhva, 1.3.28
  11. Wendy O'Flaherty, Origins of Evil in Hindu Mythology. University of California Press, 1976, page 203.

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]