বামন
| বামন | |
|---|---|
| দশাবতার গোষ্ঠীর সদস্য | |
চিত্র: বামন, বিষ্ণুর এক অবতার যিনি বলিকে নিজের পায়ের চাপে পাতালে পাঠিয়ে দেন। রাজা রবি বর্মা কর্তৃক অঙ্কিত চিত্র। | |
| অন্তর্ভুক্তি | বৈষ্ণব সম্প্রদায় |
| আবাস | বৈকুণ্ঠ, পাতাল |
| মন্ত্র | ওম্ ত্রিবিক্রমায় বিদ্মহে বিশ্বরূপায় চ ধীমহি তন্নো বামন প্রচোদয়াৎ॥ |
| প্রতীক | কমণ্ডলু এবং ছাতা। |
| উৎসব | বলিপ্রতিপদ, বামন দ্বাদশী। |
| ব্যক্তিগত তথ্য | |
| মাতাপিতা | |
| সঙ্গী | লক্ষ্মীর অবতার 'কীর্তি' অথবা পদ্মা অথবা কমলা। |
| সন্তান | 'বৃহৎ শ্লোক' |
| দশাবতার | |
|---|---|
| পূর্বসূরি | নৃসিংহ |
| উত্তরসূরি | পরশুরাম |
বামন (সংস্কৃত: वामन),[১] এছাড়াও ত্রিবিক্রম,[২] উরুক্রম,[৩] উপেন্দ্র,[৪][৫] দধিবামন[৬] এবং বলিবন্ধন (বলিকে বন্ধন বা হত্যাকারী)[৭][৮] নামে পরিচিত) হলেন হিন্দু দেবতা বিষ্ণুর দশাবতারের মধ্যে পঞ্চম অবতার এবং নৃসিংহের পর ত্রেতাযুগের প্রথম অবতার। [৯]
সর্বপ্রথম বেদ থেকে উদ্ভুত বামন হলেন হিন্দু মহাকাব্য এবং পুরাণে সবচেয়ে বেশি আলেচিত চরিত্র যেখানে বামন, দৈত্যরাজ বলির কাছ থেকে ত্রিপাদ স্থানের বিনিময়ে তিন লোক বা ত্রিলোক পুনরুদ্ধার করেন। এতে ত্রিজগতে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়[১০] তিনি আদিত্যদের মধ্যে সর্বকনিষ্ট এবং ঋষি কশ্যপ ও মাতা অদিতির পুত্র। বামন পুরাণ অষ্টাদশ হিন্দুপুরাণের অন্যতম এবং একটি গুরুত্বপূর্ণ হিন্দু ধর্মগ্রন্থ। এই পুরাণটি বিষ্ণুর বামন অবতারের নামে নিবেদিত এবং বামন অবতারের কাহিনি উক্ত হয়েছে।

| হিন্দুধর্ম |
|---|
| ধারাবাহিকের অংশ |
হিন্দু পৌরাণিক কাহিনী মতে
[সম্পাদনা]ত্রেতাযুগে আবির্ভুত বিষ্ণুর প্রথম অবতার। দৈত্যরাজ বলিকে দমন করার জন্য বিষ্ণু বামনরূপে অবতীর্ণ হয়েছিলেন। পুরাণে বামনাবতার নামেও পরিচিত।
মৎস্য পুরাণের মতে− অসুরদের দ্বারা দেবতারা পরাজিত হয়ে আশ্রয়হীন হলে, দেবমাতা অদিতি পুনরায় শক্তিশালী পুত্রের জন্য বিষ্ণুর আরাধনা করেন। আরাধনায় সন্তুষ্ট হয়ে, বিষ্ণু তাঁকে জানান যে, তিনি (বিষ্ণু) কশ্যপের ঔরসে অদিতির গর্ভে জন্মগ্রহণের অঙ্গীকার করেন। এরপর যথাসময়ে অদিতির গর্ভে বিষ্ণুর আবির্ভাব হলে, অসুরেরা ক্রমে নিস্তেজ হয়ে পড়ে। যথাসময়ে বিষ্ণু বামন রূপে জন্মগ্রহণ করেন।
সেই সময়ের অসুর অধিপতি বলি একটি যজ্ঞের আয়োজন করলে, বামনরূপী বিষ্ণু উক্ত যজ্ঞানুষ্ঠানে গিয়ে ত্রিপাদ-ভূমি (তিন পা রাখার মতো ভূমি) প্রার্থনা করেন। বলি সম্মত হয়ে ভূমি দান করলে, বিষ্ণু তাঁর দেহবর্ধিত করে বিশাল আকার ধারণ করেন। বিষ্ণু স্বর্গে-মর্তে দুই পা রেখে নাভি থেকে তৃতীয় পা বের করেন। এই তৃতীয় পা কোথায় রাখবেন তা বলিকে জিজ্ঞাসা করলে, বলি তাঁর মাথা নত করে তৃতীয় পা রাখার অনুরোধ করেন। বিষ্ণু তৃতীয় পদ বলির মাথায় রাখার সাথে সাথে বলি বিষ্ণুর স্তব করতে থাকেন। এমন সময় প্রহ্লাদ এসে বলির বন্ধন মুক্তির জন্য অনুরোধ করলে, বিষ্ণু বলিকে মুক্তি দেন এবং বলি সত্য রক্ষার জন্য বহুকষ্ট স্বীকার করেছেন বলে, বিষ্ণু দেবতাদের দুষ্প্রাপ্য রসাতলকে তাঁর বাসের জন্য দান করেন।[১১]
তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ "Sanskrit Dictionary for Spoken Sanskrit: 'Vamana'"। spokensanskrit.org। সংগ্রহের তারিখ ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০।[স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]
- ↑ "Sanskrit Dictionary for Spoken Sanskrit: 'Trivikrama'"। spokensanskrit.org। সংগ্রহের তারিখ ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০।[স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]
- ↑ "Sanskrit Dictionary for Spoken Sanskrit: 'Urukrama'"। spokensanskrit.org। সংগ্রহের তারিখ ১০ মার্চ ২০২০।[স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]
- ↑ "Monier-Williams Sanskrit-English Dictionary: 'Upendra'"। faculty.washington.edu। ৩ জুন ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০।
- ↑ "Sanskrit Dictionary for Spoken Sanskrit: 'Upendra'"। spokensanskrit.org। সংগ্রহের তারিখ ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০।[স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]
- ↑ www.wisdomlib.org (১৩ জুন ২০১৮)। "Dadhivamana, Dadhivāmana, Dadhi-vamana: 4 definitions"। www.wisdomlib.org (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২৭ নভেম্বর ২০২২।
- ↑ "Monier-Williams Sanskrit-English Dictionary: 'balibandhana'"। faculty.washington.edu। ২৫ মার্চ ২০১৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২০।
- ↑ Vaswani, J. P. (২২ ডিসেম্বর ২০১৭)। Dasavatara (ইংরেজি ভাষায়)। Jaico Publishing House। পৃ. ১২–১৪। আইএসবিএন ৯৭৮-৯৩-৮৬৮৬৭-১৮-৬।
- ↑ Ph.D, James G. Lochtefeld (১৫ ডিসেম্বর ২০০১)। The Illustrated Encyclopedia of Hinduism, Volume 1 (ইংরেজি ভাষায়)। The Rosen Publishing Group, Inc। পৃ. ১৭৫। আইএসবিএন ৯৭৮-০-৮২৩৯-৩১৭৯-৮।
- ↑ "Monier-Williams Sanskrit-English Dictionary: 'Triloka'"। faculty.washington.edu। ৬ আগস্ট ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০।
- ↑ মৎস্যপুরাণ। ২৪৪-২৪৬ অধ্যায়। বেদব্যাস। অনুবাদ পঞ্চানন তর্করত্ন। নবভারত পাবলিশার্স। ১৪০৬।