শতপথ ব্রাহ্মণ
| হিন্দু ধর্মগ্রন্থ |
|---|
| আনুষঙ্গিক ধর্মগ্রন্থ |
শতপথ ব্রাহ্মণ (সংস্কৃত: शतपथ ब्राह्मण, অনুবাদ 'শত পথের ব্রাহ্মণ') হলো শুক্ল যজুর্বেদের সঙ্গে যুক্ত একটি গদ্য ধর্মগ্রন্থ। এটিতে বৈদিক আচার-অনুষ্ঠানের বর্ণনা রয়েছে।[১] এই ব্রাহ্মণটি দুটি শাখায় পাওয়া যায় – মধ্যণ্ডিন (বাজসনেয় মধ্যণ্ডিন শাখার) এবং কান্ব (কান্ব শাখার)। প্রথমটি ১৪টি খণ্ডে ১০০টি অধ্যায় ও ৭,৬২৪টি কাণ্ডিকে এবং দ্বিতীয়টি ১৭টি খণ্ডে ১০৪টি অধ্যায় ও ৬,৮০৪টি কাণ্ডিকে বিভক্ত
রচনাকাল
[সম্পাদনা]ভাষাতাত্ত্বিক গবেষণা থেকে জানা যায়, শতপথ ব্রাহ্মণ বৈদিক সংস্কৃতের (অর্থাৎ, মোটামুটিভাবে খ্রিস্টপূর্ব ৮ম থেকে ৬ষ্ঠ শতাব্দী, লৌহযুগীয় ভারত) ব্রাহ্মণ পর্যায়ের সর্বশেষ অংশে রচিত হয়।[২]
জন এন. ব্রামারের মতে এটির রচনাকাল খ্রিস্টপূর্ব ৭০০ অব্দের কাছাকাছি কোনো সময়ে।[৩] জুলিয়াস এগেলিঙের মতে, এই ব্রাহ্মণের সর্বশেষ সংস্করণটির রচনাকাল খ্রিস্টপূর্ব ৩০০ অব্দ। যদিও এর কোনো কোনো অংশ “অনেক প্রাচীনতর, যা অজ্ঞাত প্রাচীনকাল থেকে মুখে মুখে প্রচলিত ছিল।”[৪]
বিষয়বস্তু
[সম্পাদনা]এই ধর্মগ্রন্থের প্রধান আকর্ষণীয় দিকগুলির একটি হল এর পৌরাণিক অংশ। এখানে সৃষ্টি-সংক্রান্ত পুরাণকথা ও মনুর প্রলয়ের উল্লেখ আছে।[৫][৬] এই সৃষ্টি-সংক্রান্ত পুরাণকথার সঙ্গে অন্যান্য সৃষ্টি-সংক্রান্ত পুরাণের অনেক সাদৃশ্য আছে। যেমন, প্রাগৈতিহাসিক বন্যা (বাইবেলে যেমন পাওয়া যায়), আলো ও অন্ধকারের প্রসার, ভালো ও মন্দের বিভাজন এবং সময়ের ব্যাখ্যা। শতপথ ব্রাহ্মণে যজ্ঞবেদী নির্মাণ, যজ্ঞের উপকরণ, যজ্ঞে মন্ত্রোচ্চারণ ও সোমরস প্রস্তুতকরণের সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের প্রতীকী ব্যাখ্যার একটি বিস্তারিত বিবরণ পাওয়া যায়।
মধ্যণ্ডিন শাখার ১৪টি খণ্ডকে দুটি প্রধান অংশে ভাগ করা যায়। প্রথন নয়টি বই যজুর্বেদ সংহিতার প্রথম ১৮টি খণ্ডের পুথিগত টীকা দিয়েছে। এই টীকা স্থানে স্থানে পঙ্ক্তি ধরে ধরে দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী পাঁচটি বই অনুষ্ঠানে ব্যবহৃত নতুনতর দ্রব্য ও অন্যান্য দ্রব্যের বর্ণনা বর্ণনা দিয়েছে। ১৪শ এবং শেষ খণ্ডটি বৃহদারণ্যক উপনিষদ্ নামে খ্যাত।
মধ্যণ্ডিন শাখার শতপথ ব্রাহ্মণটিকে ১৯শ শতাব্দীর শেষ ভাগে জুলিয়াস এগলিং ইংরেজিতে অনুবাদ করেন। এটি সেক্রেড বুকস অফ দি ইস্ট গ্রন্থমালায় পাঁচ খণ্ডে প্রকাশিত হয়। কান্ব শাখার শতপথ ব্রাহ্মণ উইলিয়াম ক্যালান্ড তিন খণ্ডে ইংরেজিতে অনুবাদ করেছিলেন।
আরও দেখুন
[সম্পাদনা]পাদটীকা
[সম্পাদনা]- ↑ Jones, Constance (২০০৭)। Encyclopedia of Hinduism। New York: Infobase Publishing। পৃ. ৪০৪। আইএসবিএন ০৮১৬০৭৩৩৬৮।
- ↑ Keith, Aitareya Aranyaka, p. 38 (Introduction): "by common consent, the Satapatha is one of the youngest of the great Brahmanas"; footnotes: "Cf. Macdonell, Sanskrit Literature, pp. 203, 217. The Jaiminiya may be younger, cf. its use of aadi, Whitney, P.A.O.S, May 1883, p.xii."
- ↑ Jan N. Bremmer (২০০৭)। The Strange World of Human Sacrifice। Peeters Publishers। পৃ. ১৫৮–। আইএসবিএন ৯৭৮-৯০-৪২৯-১৮৪৩-৬। সংগ্রহের তারিখ ১৫ ডিসেম্বর ২০১২।
- ↑ The Satapatha Brahmana. Sacred Books of the East, Vols. 12, 26, 24, 37, 47, translated by Julius Eggeling [published between 1882 and 1900]
- ↑ Klaus K. Klostermaier (২০০৭)। A Survey of Hinduism। SUNY Press। পৃ. ৯৭। আইএসবিএন ০-৭৯১৪-৭০৮২-২।
- ↑ Sunil Sehgal (১৯৯৯)। Encyclopaedia of Hinduism: T-Z, Volume 5। Sarup & Sons। পৃ. ৪০১। আইএসবিএন ৮১-৭৬২৫-০৬৪-৩।
তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- Weber, The Catapatha-Brahmana, Berlin, 1949.
- Max Müller, The Satapatha-Brahmana, Madhyandina School,Vol. 12.Part1, Book 1 and 2, Clarendon Press, 1882; reprint by Motilal Banarsidass, 1972.
- Moriz Winternitz, A History of Indian Literature (Vol.I), Second edition 1972.
- W. P. Lehmann and H. Ratanajoti, Typological syntactical Characteristics of the Śatapathabrāhmaṇa, JIES 3:147-160.