বিষ্ণুধর্মোত্তর পুরাণ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন

বিষ্ণুধর্মোত্তর পুরাণ (সংক্ষেপে বিষ্ণুধর্মোত্তর) হল একটি বিশ্বকোষ-তুল্য হিন্দু ধর্মগ্রন্থ। পৌরাণিক কাহিনি ছাড়াও এই গ্রন্থে বিশ্বতত্ত্ব, সৃষ্টিতত্ত্ব, ভূগোল, জ্যোতির্বিজ্ঞান, জ্যোতিষ, কাল-বিভাজন, প্রতিকূল গ্রহ ও নক্ষত্রের আনুকূল্য লাভের জন্য কৃত্য শান্তিস্বস্তয়নের পদ্ধতি, বংশলতিকা (প্রধানত রাজা ও ঋষিগণের), আদর্শ আচরণবিধি ও রীতিনীতি, শাস্তিবিধান, বৈষ্ণবের কর্বত্য, আইন ও রাজনীতি, যুদ্ধকৌশল, মানুষ ও পশুর রোগচিকিৎসা প্রণালী, খাদ্যবিধি, ব্যাকরণ, ছন্দ ও অলংকারশাস্ত্র, শব্দার্থ, নাট্যকলা, নৃত্য, কণ্ঠ ও যন্ত্রসংগীত এবং শিল্পকলা নিয়েও আলোচনা করা হয়েছে।[১] এই গ্রন্থটিকে বিষ্ণুপুরাণ গ্রন্থের "খিল" অর্থাৎ পরিশিষ্টভাগ বলে মনে করা হয়। বৃহদ্ধর্ম পুরাণে (এক. ২৫. ২৩-২৬) উল্লিখিত আঠারোটি উপপুরাণের তালিকায় এই পুরাণটির নামও পাওয়া যায়। [২]

বিষয়বস্তু[সম্পাদনা]

বিষ্ণুধর্মোত্তর পুরাণের যে পুথিগুলি আজ পাওয়া যায়, সেগুলি তিনটি খণ্ডে বিভক্ত। প্রথম খণ্ড ২৬৯টি, দ্বিতীয় খণ্ড ১৮৩টি এবং তৃতীয় খণ্ড ১১৮টি অধ্যায়ে বিভক্ত।

তৃতীয় খণ্ড[সম্পাদনা]

তৃতীয় খণ্ডের প্রথম অধ্যায়ে আলোচিত হয়েছে মূর্তিনির্মাণের উৎস এবং শিল্পকলার পারস্পরিক নির্ভরতার কথা। ২য়-১৭শ অধ্যায়ে আলোচিত হয়েছে ব্যাকরণ, শব্দার্থ, ছন্দ ও অলংকারশাস্ত্র। ১৮শ ও ১৯শ অধ্যায়ে কণ্ঠ ও যন্ত্রসংগীতের কথা আলোচিত হয়েছে। ২০শ-৩৪শ অধ্যায়ে নৃত্যকলা ও নাট্যকলার কথা বর্ণিত হয়েছে। ৩৫শ-৪৩শ অধ্যায়ে আলোচিত হয়েছে ভারতীয় চিত্রকলার বিভিন্ন শাখা, পদ্ধতি ও আদর্শগুলি। এই আলোচনা শুধুমাত্র ধর্মীয় পরিপ্রেক্ষিতেই করা হয়নি, বহুলাংশে তা ধর্মনিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গি নিয়েও করা হয়েছে। এখানে "দৃশ্য ও কল্পিত বস্তুর রং, আকৃতি ও চিত্রন যে আনন্দ উৎপাদন করে তা ঘোষিত হয়েছে।"[৩] ৪৪শ-৮৫শ অধ্যায়ে "প্রতিমালক্ষণ" বা মূর্তিকল্প ব্যাখ্যা আলোচিত হয়েছে। ৮৬শ-৯৩ অধ্যায়ে মন্দির নির্মাণ-সংক্রান্ত আলোচনা অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। ৯৪শ-১০৮শ অধ্যায়ে "আবাহন" বা বিগ্রহে দেবতাকে অধিষ্ঠান করানোর বিষয়টি বর্ণিত হয়েছে। ১০৯শ-১১৮শ অধ্যায়ে সংস্কারকার্য ও অনুষ্ঠানবিধি আলোচিত হয়েছে।

স্টেলা ক্র্যামরিশ বলেছেন যে, বিষ্ণুপুরাণের রচনাকাল অন্যূনপক্ষে খ্রিস্টীয়। ৪র্থ শতাব্দীর দ্বিতীয়ার্ধ। কিন্তু বিষ্ণুধর্মোত্তর পুরাণে যে সকল চিত্রকলার কথা আলোচিত হয়েছে সেগুলি খ্রিস্টীয় ৭ম শতাব্দীর সৃষ্টিকর্ম।[৪]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Hazra, R.C. (1962, reprint 2003). The Upapuranas in S. Radhakrishnan (ed.) The Cultural Heritage of India, Vol.II, Kolkata:The Ramakrishna Mission Institute of Culture, আইএসবিএন ৮১-৮৫৮৪৩-০৩-১, pp.277-8
  2. Hazra, R.C. (1962, reprint 2003). The Upapuranas in S. Radhakrishnan (ed.) The Cultural Heritage of India, Vol.II, Kolkata:The Ramakrishna Mission Institute of Culture, আইএসবিএন ৮১-৮৫৮৪৩-০৩-১, p.272
  3. Kramrisch, Stella. The Vishnudharmottara Part III: A Treatise On Indian Painting And Image-Making. Second Revised and Enlarged Edition, Calcutta: Calcutta University Press, 1928, p.3. Quote. It "proclaims the joy that colours and forms and the representation of things seen and imagined produce".
  4. Kramrisch, Stella. The Vishnudharmottara Part III: A Treatise On Indian Painting And Image-Making. Second Revised and Enlarged Edition, Calcutta: Calcutta University Press, 1928, p.5.

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]