এটিএম শামসুজ্জামান

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এটিএম শামসুজ্জামান
এটিএম শামসুজ্জামান.jpg
জন্ম
আবু তাহের মোহাম্মদ শামসুজ্জামান

(1939-09-10) ১০ সেপ্টেম্বর ১৯৩৯ (বয়স ৭৯)
জাতীয়তাবাংলাদেশী
জাতিসত্তাবাঙালি
নাগরিকত্ব বাংলাদেশ
যেখানের শিক্ষার্থীজগন্নাথ কলেজ
পেশাঅভিনেতা
চলচ্চিত্র প্রযোজক
পরিচালক
কাহিনীকার
নাট্যকার
কার্যকাল১৯৬১ – বর্তমান
সন্তান৬ ছেলে
পুরস্কারএকুশে পদক, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার (৫ বার)

এটিএম শামসুজ্জামান (জন্ম: ১০ সেপ্টেম্বর, ১৯৪১) বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেতা, পরিচালক, কাহিনীকার, চিত্রনাট্যকার, সংলাপকার ও গল্পকার। অভিনয়ের জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন পাঁচ বার। শিল্পকলায় অবদানের জন্য ২০১৫ সালে পেয়েছেন রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ সম্মাননা একুশে পদক[১]

প্রাথমিক জীবন[সম্পাদনা]

এটিএম শামসুজ্জামানের ১৯৪১ সালের ১০ সেপ্টেম্বর নোয়াখালীর দৌলতপুরে নানাবাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। গ্রামের বাড়ি লক্ষীপুর জেলার ভোলাকোটের বড় বাড়ি আর ঢাকায় থাকতেন দেবেন্দ্রনাথ দাস লেনে। পড়াশোনা করেছেন ঢাকার পগোজ স্কুল, কলেজিয়েট স্কুল, রাজশাহীর লোকনাথ হাই স্কুলে। পগোজ স্কুলে তার বন্ধু ছিল আরেক অভিনেতা প্রবীর মিত্র। ম্যাট্রিকুলেশন পাশ করেন ময়মনসিংহ সিটি কলেজিয়েট হাই স্কুল থেকে। তারপর জগন্নাথ কলেজে ভর্তি হন। তার পিতা নূরুজ্জামান ছিলেন নামকরা উকিল এবং শেরে বাংলা একে ফজলুল হকের সঙ্গে রাজনীতি করতেন। মাতা নুরুন্নেসা বেগম। পাঁচ ভাই ও তিন বোনের মধ্যে শামসুজ্জামান ছিলেন সবার বড়।[২]

চলচ্চিত্র জীবন[সম্পাদনা]

এটিএম শামসুজ্জামানের চলচ্চিত্র জীবনের শুরু ১৯৬১ সালে পরিচালক উদয়ন চৌধূরির বিষকন্যা চলচ্চিত্রে সহকারী পরিচালক হিসেবে। প্রথম কাহিনী ও চিত্রনাট্য লিখেছেন জলছবি চলচ্চিত্রের জন্য। ছবির পরিচালক ছিলেন নারায়ণ ঘোষ মিতা, এ ছবির মাধ্যমেই অভিনেতা ফারুকের চলচ্চিত্রে অভিষেক। এ পর্যন্ত শতাধিক চিত্রনাট্য ও কাহিনী লিখেছেন। প্রথম দিকে কৌতুক অভিনেতা হিসেবে চলচ্চিত্র জীবন শুরু করেন তিনি। অভিনেতা হিসেবে চলচ্চিত্র পর্দায় আগমন ১৯৬৫ সালের দিকে। ১৯৭৬ সালে চলচ্চিত্রকার আমজাদ হোসেনের নয়নমণি চলচ্চিত্রে খলনায়কের চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে আলোচনা আসেন তিনি।[৩] ১৯৮৭ সালে কাজী হায়াত পরিচালিত দায়ী কে? চলচ্চিত্রে অভিনয় করে শ্রেষ্ঠ অভিনেতা বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান। তিনি রেদওয়ান রনি পরিচালিত চোরাবালিতে অভিনয় করেন ও শ্রেষ্ঠ পার্শ্ব-চরিত্রে অভিনেতা বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান।[১]

প্রধান চরিত্রে[সম্পাদনা]

১৯৮৭ সালে কাজী হায়াত পরিচালিত দায়ী কে? চলচ্চিত্রে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করে শ্রেষ্ঠ অভিনেতা বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান।[১]

কৌতুক চরিত্রে[সম্পাদনা]

শামসুজ্জামানের চলচ্চিত্র জীবন শুরু হয় কৌতুক অভিনেতা হিসেবে। জলছবি, যাদুর বাঁশি, রামের সুমতি, ম্যাডাম ফুলি, চুড়িওয়ালা, মন বসে না পড়ার টেবিলে চলচ্চিত্রে তাকে কৌতুক চরিত্রে দেখা যায়।

খল চরিত্রে[সম্পাদনা]

তার অভিনয় জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয় আমজাদ হোসেনের নয়নমণি চলচ্চিত্রটি। এ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে তিনি আলোচনা আসেন। এর আগে নারায়ণ ঘোষ মিতার লাঠিয়াল চলচ্চিত্রে খল চরিত্রে অভিনয় করেন। এছাড়াও খল চরিত্রে তার কিছু উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্র হল - অশিক্ষিত, গোলাপী এখন ট্রেনে, পদ্মা মেঘনা যমুনা, স্বপ্নের নায়ক

পার্শ্ব-চরিত্রে[সম্পাদনা]

এছাড়াও বেশ কিছু চলচ্চিত্রে তিনি পার্শ্ব-চরিত্রে অভিনয় করেন। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে - অনন্ত প্রেম, দোলনা, অচেনা, মোল্লা বাড়ির বউ, হাজার বছর ধরে, চোরাবালি

পরিচালনা[সম্পাদনা]

১৯৬১ সালে পরিচালক উদয়ন চৌধূরির বিষকন্যা চলচ্চিত্রে সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ করেন। এছাড়াও খান আতাউর রহমান, কাজী জহির, সুভাষ দত্তদের সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ করেছেন। এরপর ২০০৯ সালে প্রথম পরিচালনা করেন শাবনূর-রিয়াজ জুটির এবাদত নামের ছবিটি।

চলচ্চিত্রের তালিকা[সম্পাদনা]

সাল চলচ্চিত্রের নাম পরিচালক সহ-শিল্পী টীকা
১৯৭৫ লাঠিয়াল নারায়ণ ঘোষ মিতা ফারুক, ববিতা
১৯৭৬ নয়নমনি আমজাদ হোসেন ফারুক, ববিতা
১৯৭৮ গোলাপী এখন ট্রেনে আমজাদ হোসেন ফারুক, ববিতা
অশিক্ষিত আজিজুর রহমান রাজ্জাক, অঞ্জনা রহমান, সুমন
১৯৭৯ সূর্যদীঘল বাড়ি শেখ নিয়ামত আলী ডলি আনোয়ার, রওশন জামিল
১৯৮০ ছুটির ঘন্টা আজিজুর রহমান রাজ্জাক, সুমন
১৯৮২ লাল কাজল শাবানা, প্রবীর মিত্র, উজ্জ্বল
১৯৮৩ পুরস্কার ববিতা
১৯৮৪ প্রিন্সেস টিনা খান আখতারুজ্জামান টিনা খান
১৯৮৫ রামের সুমতি ববিতা, প্রবীর মিত্র
১৯৮৬ ঢাকা ৮৬ শফিকুর রহমান রাজ্জাক, বাপ্পারাজ
১৯৮৭ দায়ী কে? কাজী হায়াত ইলিয়াস কাঞ্চন, অঞ্জু ঘোষ, রাজ
রাজলক্ষী শ্রীকান্ত রাজ্জাক, বুলবুল আহমেদ, শাবানা
১৯৯০ দোলনা আলমগীর, রোজিনা
১৯৯১ পদ্মা মেঘনা যমুনা ফারুক, ববিতা, চম্পা
১৯৯৬ অজান্তে দিলীপ বিশ্বাস সোহেল রানা, আলমগীর, সুচরিতা
১৯৯৭ স্বপ্নের নায়ক সালমান শাহ, শাবনুর, আমিন খান
১৯৯৯ তোমার জন্য পাগল
২০০২ চুড়িওয়ালা
২০০২ শ্বশুরবাড়ি জিন্দাবাদ রিয়াজ, শাবনুর
২০০৩ জামাই শ্বশুর রাজীব, রিয়াজ, পূর্ণিমা
আধিয়ার সাইদুল আনাম টুটুল
২০০৪ শাস্তি ইলিয়াস কাঞ্চন, চম্পা, রিয়াজ, পূর্ণিমা
মোল্লা বাড়ির বউ রিয়াজ, শাবনুর
২০০৫ হাজার বছর ধরে সুচন্দা রিয়াজ, শশী
আমার স্বপ্ন তুমি
২০০৯ চাঁদের মতো বউ
মন বসেনা পড়ার টেবিলে রিয়াজ, শাবনুর
এবাদাত এটিএম শামসুজ্জামান রিয়াজ, শাবনুর পরিচালনায় অভিষেক
২০১০ বিশ্বাস
পরান যায় জ্বলিয়ারে সোহানুর রহমান সোহান শাকিব খান, পূর্ণিমা, রুমানা [৪]
২০১১ কুসুম কুসুম প্রেম
গেরিলা জয়া আহসান, ফেরদৌস আহমেদ
২০১২ লাল টিপ ইমন, কুসুম শিকদার
চোরাবালি রেদওয়ান রনি জয়া আহসান, ইন্দ্রনীল [৫]
২০১৪ দুটি মনের পাগলামি জুলহাস চৌধুরী পলাশ রোমিও, নূপুর [৬]
২০১৫ দ্য স্টোরি অব সামারা রিকিয়া মাসুদ পিয়া, সিবা, সাঞ্জু [৭]
২০১৬ পাংকু জামাই শাকিব খান, অপু বিশ্বাস [৮]

টিভি নাটক[সম্পাদনা]

অভিনয় জীবনের শুরুতে ষাটের দশকে টিভি নাটকে অংশগ্রহন ছিল তার। তার উল্লেখযোগ্য টিভি নাটকসমূহ হল

পুরস্কার ও সম্মাননা[সম্পাদনা]

সাল পুরস্কার বিভাগ চলচ্চিত্র ফলাফল
১৯৮৮ জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার শ্রেষ্ঠ অভিনেতা দায়ী কে? (১৯৮৭) বিজয়ী
২০০০ শ্রেষ্ঠ কৌতুক অভিনেতা ম্যাডাম ফুলি (১৯৯৯) বিজয়ী
২০০৩ শ্রেষ্ঠ কৌতুক অভিনেতা চুড়িওয়ালা (২০০১) বিজয়ী
২০১০ শ্রেষ্ঠ কৌতুক অভিনেতা মন বসে না পড়ার টেবিলে (২০০৯) বিজয়ী
২০১৩ শ্রেষ্ঠ পার্শ্বচরিত্রে অভিনেতা চোরাবালি (২০১২) বিজয়ী
২০১৫ একুশে পদক শিল্পকলা বিজয়ী[১২]
ঢাকা মডেল এজেন্সি এ্যাওয়ার্ড আজীবন সম্মাননা বিজয়ী[১৩]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "কপালে থাকলে ঠেকায় কে"। দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন। সংগ্রহের তারিখ ২৫ জুন ২০১৫ 
  2. "এটিএম শামসুজ্জামানঃ চলচ্চিত্রের জীবন্ত কিংবদন্তি"। দৈনিক আমাদের সময়। ১৫ মার্চ ২০১৫। সংগ্রহের তারিখ ৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ 
  3. "এটিএম শামসুজ্জামান ও প্রবীর মিত্র চলচ্চিত্রের দুই বন্ধু"। দৈনিক যায় যায় দিন। ২১ মার্চ ২০১৫। সংগ্রহের তারিখ ৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ 
  4. "ঈদের দিনে নতুন ছবি"। ডয়েচে ভেলে। ১৭ নভেম্বর ২০১০। সংগ্রহের তারিখ ৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ 
  5. "চোরাবালি আড্ডায় জয়া ও এটিএম শামসুজ্জামান"। দৈনিক আমার দেশ। ২০ ডিসেম্বর ২০১২। সংগ্রহের তারিখ ৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ [স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]
  6. "ভিন্ন রূপে এটিএম শামসুজ্জামান"। দ্য রিপোর্ট। ২৫ এপ্রিল ২০১৪। সংগ্রহের তারিখ ৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ 
  7. "সায়েন্স-ফিকশন ছবিতে এটিএম শামসুজ্জামান"। দৈনিক প্রথম আলো। ১ আগস্ট ২০১৩। সংগ্রহের তারিখ ৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ 
  8. "বড় পর্দায় অপু বিশ্বাসের সাথে রোমান্স করবেন এটিএম শামসুজ্জামান"। দৈনিক কালের কণ্ঠ। ৬ জানুয়ারি ২০১৬। সংগ্রহের তারিখ ৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ 
  9. "অভিনয়ে ফিরছেন এটিএম শামসুজ্জামান"। দৈনিক মানবকণ্ঠ। ১৯ অক্টোবর ২০১৪। ২১ অক্টোবর ২০১৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ 
  10. "শত বর্ষে দাদাজান এটিএম শামসুজ্জামান!"। বাংলানিউজ টোয়েন্টিফোর.কম। ৬ আগস্ট ২০১৫। সংগ্রহের তারিখ ৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ 
  11. "শতবর্ষী এটিএম শামসুজ্জামান"। দৈনিক যুগান্তর। ৭ আগস্ট ২০১৫। 
  12. "একনজরে একুশে পদকপ্রাপ্ত এটিএম শামসুজ্জামান ও আবুল হায়াত"। নিউজনেক্সটবিডি.কম। ৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৫। ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ 
  13. "আজীবন সম্মাননায় ভূষিত এটিএম শামসুজ্জামান"। দৈনিক জনকণ্ঠ। ২২ মার্চ ২০১৫। সংগ্রহের তারিখ ৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]