দিলারা জামান

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
সরাসরি যাও: পরিভ্রমণ, অনুসন্ধান
দিলারা জামান
জন্ম (১৯৪৩-০৬-১৯) ১৯ জুন ১৯৪৩ (বয়স ৭৪)
বর্ধমান জেলা, বেঙ্গল প্রেসিডেন্সি, ব্রিটিশ ভারত (বর্তমান পশ্চিমবঙ্গ)
বাসস্থান ঢাকা, বাংলাদেশ
জাতীয়তা বাংলাদেশী
জাতিসত্তা বাঙালি
শিক্ষা ইডেন মহিলা কলেজ
পেশা অভিনেত্রী
উল্লেখযোগ্য কাজ চন্দ্রগ্রহণ
ধর্ম ইসলাম
দাম্পত্য সঙ্গী ফখরুজ্জামান চৌধুরী
সন্তান তানিয়া (কন্যা)
যুবায়রা (কন্যা)
পিতা-মাতা রফিকউদ্দিন আহমেদ (পিতা)
সিতারা বেগম (মাতা)
পুরস্কার একুশে পদক (১৯৯৩)
জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার (২০১০)

দিলারা জামান (জন্মঃ ১৯ জুন, ১৯৪৩) হলেন বাংলাদেশী নাট্য ও চলচ্চিত্র অভিনেত্রী।[১] তাঁর অভিনয়ের শুরু ১৯৬৬ সালে ত্রিধরা নাটক দিয়ে। পরে সকাল সন্ধ্যা ধারাবাহিক নাটকে অভিনয় করেন। নাটকের পাশাপাশি তিনি চলচ্চিত্রেও অভিনয় করেন। ১৯৯০ এর দশকে তিনি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র চাকা (১৯৯৩) এবং আগুনের পরশমণি (১৯৯৪) চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। ১৯৯৩ সালে শিল্পকলায় অবদানের জন্য তিনি বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক প্রদত্ত সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান একুশে পদকে ভূষিত হন।

২০০০ এর দশকে তিনি ব্যাচেলর (২০০৪), মেড ইন বাংলাদেশ (২০০৭), চন্দ্রগ্রহণ (২০০৮), প্রিয়তমেষু (২০০৯), ও মনপুরা (২০০৯) চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। ২০০৮ সালের চন্দ্রগ্রহণ চলচ্চিত্রে ময়রা মাসী চরিত্রে অভিনয়ের জন্য তিনি শ্রেষ্ঠ পার্শ্ব অভিনেত্রী বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন।

প্রাথমিক জীবন[সম্পাদনা]

দিলারা ১৯৪৩ সালের ১৯ জুন[২] তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির (বর্তমান পশ্চিমবঙ্গ) বর্ধমান জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম রফিকউদ্দিন আহমেদ এবং মাতার নাম সিতারা বেগম। তার জন্মের কিছুদিন পরে তার পরিবার আসানসোল জেলায় চলে যান। ১৯৪৭ সালে ভারত বিভাগের পর তারা যশোর জেলায় চলে আসে। তিনি ঢাকার বাংলাবাজার সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়াশুনা করেন। স্কুলে তিনি প্রথম মঞ্চ নাটকে অভিনয় করেন। পরে তিনি ইডেন মহিলা কলেজে ভর্তি হন। সেখানে তিনি নুরুল মোমেনের ছাত্রী ছিলেন।

কর্মজীবন[সম্পাদনা]

দিলারা জামানের কর্মজীবন শুরু হয় শিক্ষকতা দিয়ে।[৩] তার প্রথম টেলিভিশনে অভিনয় করেন ১৯৬৬ সালে ত্রিধরা নাটকে।[৪] এই নাটকে তার মায়ের চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন নাট্যকার মুনীর চৌধুরীর স্ত্রী লিলি চৌধুরী। তার অভিনীত প্রথম ধারাবাহিক নাটক সকাল সন্ধ্যা। ১৯৯৩ সালে তিনি মোরশেদুল ইসলাম পরিচালিত স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র চাকা-এ অভিনয় করেন। তার অভিনীত প্রথম চলচ্চিত্র হুমায়ূন আহমেদ পরিচালিত বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র আগুনের পরশমণি[৫] ২০০৮ সালে তিনি মুরাদ পারভেজ পরিচালিত চন্দ্রগ্রহণ চলচ্চিত্রে ময়রা মাসী চরিত্রে অভিনয় করেন। এই চরিত্রে অভিনয়ের জন্য তিনি একই চলচ্চিত্রের তার সহশিল্পী চম্পার সাথে যৌথভাবে শ্রেষ্ঠ পার্শ্ব অভিনেত্রী বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন।[৬]

২০১৪ সালে বিশ্ব ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে নির্মিত চয়নিকা চৌধুরী নির্দেশিত ভোরের ফুলরেদওয়ান রনি নির্দেশিত ভালোবাসা ১০১ নাটকে অভিনয় করেন। এছাড়া মুরাদ পারভেজ পরিচালিত বৃহন্নলা চলচ্চিত্রে গ্রামের এক বুড়ি চরিত্রে অভিনয় করেন।[৭] ২০১৬ সালে তিনি সাদাত হোসাইন পরিচালিত প্রযত্নে শীর্ষক স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন।[৮] এছাড়া থ্রি সিস্টার্স ও ফেরদৌস হাসান রানার নির্দেশনায় ফুল আর কাঁটা টিভি নাটক, গুগল সব জানে ও মাতিয়া বানু শুকুর নির্দেশনায় কালো আল্পনা ধারাবাহিক নাটকে অভিনয় করেন, এবং নির্মাণাধীন রয়েছে তৌকীর আহমেদের পরিচালনায় হালদানূরুল আলম আতিকের পরিচালনায় লাল মোরগের ঝুঁটি[৫][৯]

ব্যক্তিগত জীবন[সম্পাদনা]

দিলারা জামান ফখরুজ্জামান চৌধুরীর সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। ফখরুজ্জামান বাংলা একাডেমি পুরস্কারপ্রাপ্ত কথাসাহিত্যিক। তাদের দুই কন্যা - তানিয়া ও যুবায়রা।[৭] । দুই কন্যার মধ্যে তানিয়া ডাক্তার এবং যুবায়রা পেশায় আইনজীবি। [১০] তাছাড়া দিলারা জামানের একজন পালক ছেলে সন্তান রয়েছে, যার নাম আশফাক। [১১]

চলচ্চিত্রের তালিকা[সম্পাদনা]

চলচ্চিত্র[সম্পাদনা]

বছর চলচ্চিত্রের শিরোনাম চরিত্র পরিচালক টীকা
১৯৯৩ চাকা মোরশেদুল ইসলাম
১৯৯৪ আগুনের পরশমণি হুমায়ূন আহমেদ
২০০৪ ব্যাচেলর শাম্মার মা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী
২০০৭ মেড ইন বাংলাদেশ গিয়াসউদ্দিন আহমেদের স্ত্রী মোস্তফা সরয়ার ফারুকী
২০০৮ চন্দ্রগ্রহণ ময়রা মাসী মুরাদ পারভেজ বিজয়ী: জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার শ্রেষ্ঠ পার্শ্ব অভিনেত্রী
২০০৯ মনপুরা পরীর দাদী গিয়াস উদ্দিন সেলিম
প্রিয়তমেষু নিশাদের মা মোরশেদুল ইসলাম
২০১২ তুমি আসবে বলে আশরাফুর রহমান
২০১৪ বৃহন্নলা বুড়ি, তুলসীর মা মুরাদ পারভেজ
২০১৭ হালদা তৌকির আহমেদ নির্মাণাধীন
লাল মোরগের ঝুঁটি নূরুল আলম আতিক নির্মাণাধীন

টেলিভিশন[সম্পাদনা]

  • ত্রিধরা (১৯৬৬)
  • এইসব দিনরাত্রি (১৯৮৫)
  • অয়োময় (১৯৮৮)
  • আজ আমাদের ছুটি (১৯৯২)
  • হিমু (১৯৯৪)
  • সমুদ্রবিলাস প্রাইভেট লিমিটেড (১৯৯৯)
  • ভোরের ফুল (২০১৪)
  • ভালোবাসা ১০১ (২০১৪)
  • থ্রি সিস্টার্স (২০১৬)
  • ফুল আর কাঁটা (২০১৬)
  • গুগল সব জানে (২০১৬)
  • কালো আল্পনা (২০১৬)

পুরস্কার[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. মনসুর (৮ এপ্রিল, ২০১৭)। "অভিনয়ের প্রতি ভালোবাসা থাকাটা জরুরি: দিলারা জামান"দৈনিক ইত্তেফাক। সংগৃহীত ১১ মে, ২০১৭ 
  2. Liza, Nusrat Sharmin (৯ আগস্ট ২০১৩)। "একজন নিঃসঙ্গ মায়ের ঈদ"প্রিয়.কম। সংগৃহীত ১১ মে, ২০১৭ 
  3. "বেঁচে থাকার জন্য যুদ্ধ করতে হচ্ছে: দিলারা জামান"প্রিয়.কম। সংগৃহীত ২০১৭-১০-১২ 
  4. সাহা, জয়ন্ত (২৪ নভেম্বর, ২০১৪)। "ফারুকীর সঙ্গে কাজ নয়: দিলারা জামান"বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম। সংগৃহীত ১১ মে, ২০১৭ 
  5. "দিলারা জামান একাল আর সেকাল"দৈনিক যুগান্তর। ১০ মার্চ, ২০১৬। সংগৃহীত ১১ মে, ২০১৭ 
  6. "National Film Award winners’ reactions"দ্য ডেইলি স্টার। ১২ এপ্রিল, ২০১০। সংগৃহীত ১১ মে, ২০১৭ 
  7. "'নিজের জন্য সময় নেই'"যায়যায়দিন। ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৪। সংগৃহীত ১১ মে, ২০১৭ 
  8. "স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রে দিলারা জামান"দৈনিক প্রথম আলো। ২৫ ডিসেম্বর, ২০১৬। সংগৃহীত ১১ মে, ২০১৭ 
  9. কিবরিয়া, মারুফ (৩০ ডিসেম্বর, ২০১৬)। "দিলারা জামান এই সময়ে"দৈনিক মানবজমিন। সংগৃহীত ১১ মে, ২০১৭ 
  10. "বেঁচে থাকার জন্য যুদ্ধ করতে হচ্ছে: দিলারা জামান"প্রিয়.কম। সংগৃহীত ২০১৭-১০-১২ 
  11. "বেঁচে থাকার জন্য যুদ্ধ করতে হচ্ছে: দিলারা জামান"প্রিয়.কম। সংগৃহীত ২০১৭-১০-১২ 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]