আবদুল হাকিম

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
আবদুল হাকিম
জন্ম১৬২০
মৃত্যু১৬৯০(1690-00-00) (বয়স ৬৯–৭০)
জাতীয়তাবাঙালি
পেশাকবি
পরিচিতির কারণকবিতা

আবদুল হাকিম (জন্ম : ১৬২০ - মৃত্যু : ১৬৯০) মধ্যযুগের বিখ্যাত বাঙালি কবি। তিনি তার রচিত বঙ্গবাণী কবিতার জন্য অধিক পরিচিত। তিনি বেশ কিছু ফার্সি কবিতার বঙ্গানুবাদ করেন। তিনি ফার্সি, আরবি ও সংস্কৃৃত ভাষায় পণ্ডিত ছিলেন।

জন্ম ও জীবনী[সম্পাদনা]

আবদুল হাকিম আনুমানিক ১৬২০ খ্রিষ্টাব্দে পর্তুগিজ শাসনাধীন চট্টগ্রামের সন্দ্বীপের সুধারামপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।[১] স্বদেশের ও স্বভাষার প্রতি তার ছিল অটুট ও অপরিসীম প্রেম। তার আটটি কাব্যের কথা জানা গেছে। নূরনামা তার বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ। তার অন্যান্য উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ হলঃ ‌‌ইউসুফ-জুলেখা, লালমতি, সয়ফুলমুলুক, শিহাবুদ্দিননামা, নসীহতনামা, কারবালাশহরনামা। তিনি ১৬৯০ খ্রিষ্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন। বাংলা ভাষা ছাড়াও তিনি আরবি, ফার্সিসংস্কৃত ভাষায় পারদর্শী ছিলেন| বাঙালি হিসেবে তার গর্ববোধ ছিল। [২] সেসময় একশ্রেণির লোকের বাংলা ভাষার প্রতি অবজ্ঞার জবাবে তিনি তার নূরনামা কাব্যে লিখেছিলেন :

যে সব বঙ্গেত জন্মি হিংসে বঙ্গবাণী।

সে সব কাহার জন্ম নির্ণয় ন জানি।।[৩]

গ্রন্থ[সম্পাদনা]

  • ইউসুফ-জুলেখা
  • নূরনামা

নূরনামা মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একটি জনপ্রিয় কাব্যধারা। হযরত মুহাম্মাদ (স.) ও বিশ্বব্রহ্মান্ডের জন্মরহস্য এর মূল বিষয়। এই নূরতত্ত্বের আদি উৎস আল-কুরআন এর ‘নূর’ নামে একটি সূরা (নং ২৫)। এর ৩৫ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে: ‘আল্লাহ্-তায়ালা এই পৃথিবী ও বিশ্বব্রহ্মান্ডের আলোস্বরূপ’। সূরা ‘আহসাব’ (নং ৩৩)-এর ৪৫ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে: ‘মুহাম্মাদ (স.) আলো বিকিরণকারী প্রদীপস্বরূপ’। পরবর্তীকালে কুরআনের এই তত্ত্বের সঙ্গে আধ্যাত্মচিন্তার সমন্বয় ঘটিয়ে মুসলিম দার্শনিকগণ বিভিন্ন মতবাদ প্রচার করেন। তাঁদের মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য আল-ফারাবি ও ইবনে সিনা।

নূরতত্ত্বের সঙ্গে মরমিয়াবাদের সমন্বয় লক্ষ করা যায় আল-গাজ্জালির মিশকাতুল আনাওয়ার নামক দর্শন-গ্রন্থে। বাংলা ভাষায় একাধিক কবি নূরনামা রচনা করেছেন। তাঁদের মধ্যে সতেরো শতকের কবি আবদুল হাকিমের কাব্য বিস্তৃত ও পূর্ণাঙ্গ। যারা মাতৃভাষার প্রতি শ্রদ্ধাশীল নয় তাদের সম্পর্কে আবদুল হাকিমের সাহসী উচ্চারণ ‘যেসবে বঙ্গেতে জন্মি হিংসে বঙ্গবাণী/ সেসব কাহার জন্ম নির্ণয় ন জানি\’ এই নূরনামা কাব্যেই ধ্বনিত হয়েছে। মধ্যযুগে কাব্যখানি খুবই জনপ্রিয় হয়েছিল, যেজন্য এর অনেক পান্ডুলিপি পাওয়া যায়। আঠারো শতকের কবি আবদুল করিম খন্দকারের নূরনামা সম্পূর্ণ হলেও অপেক্ষাকৃত সংক্ষিপ্ত। এছাড়া শেখ পরান (আনু. ১৫৫০-১৬১৫), মীর মুহম্মদ শফী (আনু. ১৫৫৯-১৬৩০) ও দ্বিজ রামতনু রচিত কাব্যের শুরুতে নূরমাহাত্ম্য বা সৃষ্টিরহস্য বর্ণিত হওয়ায় সেগুলিও নূরনামা নামে অভিহিত হয়। [রাজিয়া সুলতানা]

  • চারি মোকাম ভেদ
  • লালমতি
  • সয়ফুলমুলক
  • নসিহৎনামা
  • কারবালা ও শহরনামা[৪]
  • শাহাবুদ্দিননামা

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. আবদুল হাকিম - বাংলাপিডিয়া
  2. The Essential Rokeya: Selected Works of Rokeya Sakhawat Hossain (1880-1932) (ইংরেজি ভাষায়)। BRILL। ২০১৩-০৮-২২। আইএসবিএন 978-90-04-25587-6 
  3. Quasem, Mohammed Abul (২০০২)। Aronowitz, Stanley, সম্পাদক। Bangladesh: A Land of Beautiful Traditions & Cultures (PDF)। Chittagong: Chattagram Sangskriti Kendra। পৃষ্ঠা 142। আইএসবিএন 9848208046। ২০১৬-১১-২৩ তারিখে মূল (PDF) থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০১৬-১১-২২ 
  4. সেলিনা হোসেন ও নুরুল ইসলাম সম্পাদিত; বাংলা একাডেমী চরিতাভিধান; ফেব্রুয়ারি, ১৯৯৭; পৃষ্ঠা- ৪১১।

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]