সেলিনা হোসেন

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
Jump to navigation Jump to search
সেলিনা হোসেন
Selina Hossain (2).JPG
জন্ম (১৯৪৭-০৬-১৪) ১৪ জুন ১৯৪৭ (বয়স ৭১)[১]
রাজশাহী, বাংলাদেশ
জাতীয়তা বাংলাদেশী
জাতিসত্তা বাঙালি
নাগরিকত্ব  বাংলাদেশ
পেশা কথা-সাহিত্যিক, লেখক, ঔপন্যাসিক
পুরস্কার বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৮০), জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, একুশে পদক (২০০৯), স্বাধীনতা পদক (২০১৮)[২]

সেলিনা হোসেন (জুন ১৪, ১৯৪৭)[১] বাংলাদেশের একজন প্রখ্যাত নারী ঔপন্যাসিক। তাঁর উপন্যাসে প্রতিফলিত হয়েছে সমকালের সামাজিক ও রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব্ব সংকটের সামগ্রিকতা। বাঙালির অহংকার ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গ তাঁর লেখায় নতুনমাত্রা যোগ করেছে। তাঁর গল্প উপন্যাস ইংরেজি, রুশ, মেলে এবং কানাড়ী ভাষায় অনূদিত হয়েছে।[৩] ২০১৪ সালে বাংলাদেশ শিশু একাডেমির চেয়ারম্যান হিসেবে দুই বছরের জন্য নিয়োগ পান তিনি। [৪]

জন্ম ও প্রাথমিক জীবন[সম্পাদনা]

সেলিনা হোসেনের জন্ম ১৪ই জুন, ১৯৪৭, রাজশাহী শহরে। [৫] তাঁর পৈতৃক নিবাস লক্ষ্মীপুর জেলার হাজিরপাড়া গ্রামে। বাবা এ কে মোশাররফ হোসেন এর আদিবাড়ি নোয়াখালি হলেও চাকরিসূত্রে বগুড়া ও পরে রাজশাহী থেকেছেন দীর্ঘকাল; কাজেই সেলিনাকে একেবারে মেয়েবেলায় নোয়াখালিতে বেশিদিন থাকতে হয়নি। সেলিনা হোসেনের মায়ের নাম মরিয়ামুন্ননেছা বকুল। মোশাররফ-মরিয়ামুন্ননেছা দম্পতির সব মিলিয়ে সাত ছেলেমেয়ে। সেলিনা ভাইবোনদের মধ্যে চতুর্থ।

শিক্ষা জীবন[সম্পাদনা]

মহান ভাষা আন্দোলনের দুবছর পর (অর্থাৎ,১৯৫৪ সালে) বগুরার লতিফপুর প্রাইমারি স্কুলে ভর্তি হন বালিকা সেলিনা। ক্লাস থ্রিতে, ১৯৫৯ সালে রাজশাহীর নাথ গালর্স স্কুলে অষ্টম শ্রেনীতে ভর্তি হন তিনি। নাথ গালর্স স্কুলের বেশির ভাগ শিক্ষক-শিক্ষিকাই ছিলেন উদার আর মহৎ। কেননা, ছাত্রীদের তারা কেবল সিলেবাসে আটকে রাখেননি। নাথ গালর্স স্কুল থেকেই ম্যাট্রিক (তখন এস এস সি বলা হত না) পাশ করেন ১৯৬২ সালে। পরবর্তীতে ১৯৬৪ সালে রাজশাহী মহিলা কলেজে ভর্তি হন তিনি। কলেজ জীবন শেষ করে বাংলা ভাষা ও সাহিত্য নিয়ে ভর্তি হন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে। এবার জীবনে যুক্ত হল নিবিড় সাংস্কৃতিক ও গভীর রাজনৈতিক অধ্যায়। ১৯৬৭ সালে বিতর্ক প্রতিযোগীতায় অংশ নিতে পাঞ্জাব যাওয়ার কথা থাকলেও অস্থির রাজনৈতিক অবস্থার কারণে যাওয়া হয়নি। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই বি এ অনার্স পাশ করেন ১৯৬৭ সালে। এম এ পাশ করেন ১৯৬৮ সালে।

কর্মজীবন[সম্পাদনা]

সেলিনা হোসেনের কর্মজীবন শুরু হয় ১৯৭০ সালে বাংলা একাডেমির গবেষণা সহকারী হিসেবে। তিনি ১৯৬৮ সালে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বেরিয়ে চাকরি পাওয়ার আগ পর্যন্ত বিভিন্ন পত্রিকাতে উপসম্পাদকীয়তে নিয়মিত লিখতেন। ১৯৭০ সালে দুটো চাকরির ইন্টারভিউয়ের জন্য চিঠি পান। একটি বাংলা একাডেমিতে অন্যটি পাবলিক সার্ভিস কমিশন থেকে সরকারি কলেজের জন্য। বাংলা একাডেমির চাকরির ইন্টারভিউ বোর্ডে ছিলেন বাংলা একাডেমির তৎকালীন পরিচালক কবীর চৌধুরী, ড. মুহম্মদ এনামুল হক, ড. নীলিমা ইব্রাহিম, আবদুল্লাহ আল মুতী শরফুদ্দিন প্রমুখ। এর পাশাপাশি পাবলিক সার্ভিস কমিশনে সরকারি কলেজের চাকরির জন্য ইন্টারভিউ দিতে গিয়ে বোর্ডে শহীদ অধ্যাপক মুনীর চৌধুরীকে পান। কর্মরত অবস্থায় তিনি বাংলা একাডেমির 'অভিধান প্রকল্প', 'বিজ্ঞান বিশ্বকোষ প্রকল্প', 'বিখ্যাত লেখকদের রচনাবলী প্রকাশ', 'লেখক অভিধান', 'চরিতাভিধান' এবং 'একশত এক সিরিজের' গ্রন্থগুলো প্রকাশনার দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়াও ২০ বছরেরও বেশি সময় 'ধান শালিকের দেশ' পত্রিকা সম্পাদনা করেন। তিনি ১৯৯৭ সালে বাংলা একাডেমির প্রথম মহিলা পরিচালক হন। ২০০৪ সালের ১৪ জুন চাকুরি থেকে অবসর নেন।[৬] প্রথম গল্পগ্রন্থ উৎস থেকে নিরন্তর প্রকাশিত হয় ১৯৬৯ সালে। ভ্রমণ তাঁর নেশা। তাঁর মোট উপন্যাসের সংখ্যা ২১টি, গল্প গ্রন্থ ৭টি এবং প্রবন্ধের গ্রন্থ ৪টি।

গ্রন্থতালিকা[সম্পাদনা]

উপন্যাস[সম্পাদনা]

  • জলোচ্ছ্বাস(১৯৭৩)১ম উপন্যাস[৭]
  • জ্যোস্নায় সূর্যজ্বালা(১৯৭৩)
  • হাঙর নদী গ্রেনেড(১৯৭৬)
  • মগ্ন চৈতন্যে শিস(১৯৭৯)
  • যাপিত জীবন(১৯৮১)
  • নীল ময়ূরের যৌবন(১৯৮২)
  • পদশব্দ(১৯৮২)
  • চাঁদবেনে(১৯৮৪)
  • পোকা মাকড়ের ঘরবসতি(১৯৮৬)
  • নিরন্তর ঘন্টাধ্বনি(১৯৮৭)
  • ক্ষরণ(১৯৮৮)
  • কাঁটাতারে প্রজাপতি(১৯৮৯)
  • খুন ও ভালোবাসা(১৯৯০)
  • কালকেতু ও ফুল্লরা(১৯৯২)
  • ভালোবাসা প্রীতিলতা(১৯৯২)
  • টানাপোড়েন(১৯৯৪)
  • গায়ত্রী সন্ধ্যা-১ম খণ্ড(১৯৯৪)
  • গায়ত্রী সন্ধ্যা-২য় খণ্ড(১৯৯৫)
  • গায়ত্রী সন্ধ্যা-৩য় খণ্ড(১৯৯৬)
  • দীপাম্বিতা(১৯৯৭)
  • যুদ্ধ(১৯৯৮)
  • লারা(২০০০)
  • কাঠ কয়লার ছবি(২০০১)
  • মোহিনীর বিয়ে(২০০১)
  • আণবিক আঁধার(২০০৩)
  • ঘুমকাতুরে ঈশ্বর(২০০৪)
  • মর্গের নীল পাখি(২০০৫)
  • অপেক্ষা(২০০৭)
  • দিনের রশিতে গিটঠু(২০০৭)
  • মাটি ও শস্যের বুনন(২০০৭)
  • পূর্ণছবির মগ্নতা(২০০৮)
  • ভূমি ও কুসুম(২০১০)
  • উত্তর সারথি
  • যমুনা নদীর মুশায়রা(২০১১)
  • আগষ্টের একরাত(২০১৩)[৮]
  • গেরিলা ও বীরাঙ্গনা (২০১৪)
  • দিনকালের কাঠখড়(২০১৫)

গল্প[সম্পাদনা]

  • উৎস থেকে নিরন্তর(১৯৬৯)
  • জলবতী মেঘের বাতাস(১৯৭৫)
  • খোল করতাল(১৯৮২)
  • পরজন্ম(১৯৮৬)
  • মানুষটি(১৯৯৩)
  • মতিজানের মেয়েরা(১৯৯৫)
  • অনূঢ়া পূরণিমা(২০০৮)
  • সখিনার চন্দ্রকলা(২০০৮)
  • একালের পান্তাবুড়ি(২০০২)
  • অবেলার দিনক্ষণ(২০০৯)
  • নারীর রূপকথা(২০০৯)
  • নুনপান্তার গড়াগড়ি(২০১৪)
  • মৃত্যুর নীলপদ্ম(২০১৫)

কবিতা[সম্পাদনা]

  • বর্ণমালার গল্প

শিশু-কিশোর সাহিত্য[সম্পাদনা]

  • সাগর(১৯৯১)
  • বাংলা একাডেমী গল্পে বর্ণমালা(১৯৯৪)
  • কাকতাড়ুয়া(১৯৯৬)
  • বর্ণমালার গল্প(১৯৯৭)
  • আকাশ পরী(২০০১)
  • অন্যরকম যাওা(২০০১)
  • যখন বৃষ্টি নামে(২০০২)
  • জ্যোৎস্নার রঙে আঁকা ছবি(২০০২)
  • মেয়রের গাড়ি(২০০৩)
  • মিহিরুনের বন্ধুরা(২০০৪)
  • রংধনু (সম্পাদনা) (২০০৪)
  • এক রুপোলি নদী(২০০৫)
  • গল্পটা শেষ হয় না(২০০৬)
  • বায়ান্নো থেকে একাত্তর(২০০৬)
  • চাঁদের বুড়ির পান্তা ইলিশ(২০০৮)
  • মুক্তিযোদ্ধারা(২০০৯)
  • সোনারতরীর ছোটমণিরা(২০০৯)
  • পুটুসপুটুসের জন্মদিন(২০১০)
  • নীলটুনির বন্ধু(২০১০)
  • কুড়কুড়ির মুক্তিযুদ্ধ(২০১১)
  • ফুলকলি প্রধানমন্ত্রী হবে(২০১১)
  • হরতালের ভূতবাবা(২০১৪)

প্রবন্ধ[সম্পাদনা]

  • স্বদেশে পরবাসী(১৯৮৫)
  • ঊনসত্তরের গণ-আন্দোলন(১৯৮৫)
  • একাত্তরের ঢাকা(১৯৮৯)
  • নির্ভয় করো হে(১৯৯৮)
  • মুক্ত করো ভয়(২০০০)
  • ঘরগেরস্থির রাজনীতি(২০০৮)
  • নিজেরে করো জয়(২০০৮)
  • প্রিয় মুখের রেখা(২০১০)
  • শ্রেষ্ঠ প্রবন্ধ(২০১০)
  • পথ চলাতেই আনন্দ(২০১৪)

সম্পাদনা[সম্পাদনা]

  • নারীর ক্ষমতায়নঃ রাজনীতি ও আন্দোলন (যৌথ) (২০০৩)
  • ইবসেনের নারী(২০০৬)
  • ইবসেনের নাটক ও কবিতা(২০০৬)
  • জেন্ডার বিশ্বকোষ (যৌথ) (২০০৬)
  • বাংলাদেশ নারী ও সমাজ (যৌথ) (২০০৭)
  • জেন্ডার ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন (যৌথ) (২০০৭)
  • সাহিত্যে নারীর জীবন ও পরিসর (যৌথ) (২০০৭)
  • জেন্ডার আলোকে সংস্কৃতি (যৌথ) (২০০৭)
  • পুরুষতন্ত্র নারী ও শিক্ষা (যৌথ) (২০০৭)
  • দক্ষিণ এশিয়ার নারীবাদী গল্প(যৌথ) (২০০৮)
  • জেন্ডার ও উন্নয়ন কোষ(২০০৯)
  • ধান শালিকের দেশ (বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত শিশু-কিশোর পত্রিকা, ২২ বছর)
  • ছোটদের অভিধান (বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত) (অন্যতম সম্পাদক)

ইংরেজিতে অনূদিত উপন্যাস[সম্পাদনা]

  • Selected Short Stories of Selina Hossain (2007)
  • The Shark The River & The Grenade(1987)
  • Warp and Woof (1999)
  • Plumed Peacock (2009)
  • Fugitive colours (2010)

পুরস্কার[সম্পাদনা]

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. বেলা অবেলা সারাবেলায় সেলিনা হোসেন
  2. Kantho, Kaler। "স্বাধীনতা পদক পাচ্ছেন ১৬ বিশিষ্ট ব্যক্তি | কালের কণ্ঠ"Kalerkantho। সংগ্রহের তারিখ ২০১৮-০২-২৪ 
  3. "সেলিনা হোসেন"uplbooks.com 
  4. "404 Not Found"kalerkantho.com 
  5. http://www.boiwala.com/writer.php?lang=bn&id=185
  6. ":: Welcome to GUNIJAN :: The Eminent :: Largest electronic journal of bangladeshi eminents :."gunijan.org.bd 
  7. ":: Welcome to GUNIJAN :: The Eminent :: Largest electronic journal of bangladeshi eminents :."gunijan.org.bd 
  8. ":: Welcome to GUNIJAN :: The Eminent :: Largest electronic journal of bangladeshi eminents :."gunijan.org.bd 
  9. "হাঙ্গর নদী গ্রেনেড - সেলিনা হোসেন - Amarboi.com"amarboi.com 
  10. "একুশে পদক"wikipedia.org 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]