জোডি ফস্টার

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
Jump to navigation Jump to search
জোডি ফস্টার
Jodie Foster Césars 2011 2 (cropped).jpg
২০১১ সালে সিসার পুরস্কার অনুষ্ঠানে ফস্টার
স্থানীয় নাম Jodie Foster
জন্ম অ্যালিশিয়া ক্রিস্টিয়ান ফস্টার
(১৯৬২-১১-১৯) ১৯ নভেম্বর ১৯৬২ (বয়স ৫৫)
লস অ্যাঞ্জেলেস, ক্যালিফোর্নিয়া, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র
শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়
পেশা
  • অভিনেত্রী
  • পরিচালক
  • প্রযোজক
কার্যকাল ১৯৬৫–বর্তমান
দাম্পত্য সঙ্গী আলেক্সান্দ্রা হেডিসন (বি. ২০১৪)
সঙ্গী সিডনি বার্নার্ড (১৯৯৩–২০০৮)
সন্তান
পুরস্কার পূর্ণ তালিকা

অ্যালিশিয়া ক্রিস্টিয়ান "জোডি" ফস্টার (ইংরেজি: Jodie Foster, জন্ম ১৯ নভেম্বর ১৯৬২)[১] হলেন একজন মার্কিন অভিনেত্রী ও চলচ্চিত্র নির্মাতা। তিনি চলচ্চিত্র ও টেলিভিশনে কাজ করেন। তাকে তার প্রজন্মের অন্যতম সেরা অভিনেত্রী বলে অভিহিত করা হয়।[২][৩] ফস্টারের পেশাদারী কর্মজীবন শুরু হয় ১৯৬৫ সালে মাত্র তিন বছর বয়সে শিশু মডেল হিসেবে, এবং দুই বছর পরে সিটকমের টেলিভিশন ধারাবাহিক মেবেরি আর.এফ.ডি.তে অভিনয়ের মধ্যে দিয়ে তার টেলিভিশন পর্দায় অভিষেক হয়। ১৯৬০ এর দশকের শেষের দিকে এবং ১৯৭০ এর দশকের শুরুর দিকে তিনি কয়েকটি প্রাইমটাইম টেলিভিশন ধারাবাহিকে এবং প্রধান শিশু অভিনেত্রী হিসেবে কয়েকটি শিশুতোষ চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। ফস্টারের প্রথম সাফল্য আসে মার্টিন স্কোরসেজি পরিচালিত ট্যাক্সি ড্রাইভার (১৯৭৬) দিয়ে, এতে তিনি একজন কিশোরী যৌনকর্মী চরিত্রে অভিনয় করেন এবং এই চরিত্রে অভিনয়ের জন্য তিনি তার প্রথম শ্রেষ্ঠ পার্শ্ব অভিনেত্রীর জন্য একাডেমি পুরস্কারের মনোনয়ন লাভ করেন। কিশোর অভিনেত্রী হিসেবে তার অন্যান্য সমাদৃত চলচ্চিত্র হল সঙ্গীতধর্মী বাগসি ম্যালোন (১৯৭৬), থ্রিলারধর্মী দ্য লিটল গার্ল হু লিভস ডাউন দ্য লেন (১৯৭৬) এবং তিনি ডিজনি'র ফ্রিকি ফ্রাইডে (১৯৭৬), ক্যান্ডলশু (১৯৭৭), এবং ফক্সেস (১৯৮০) চলচ্চিত্র দিয়ে জনপ্রিয় কিশোর অভিনেত্রী হয়ে ওঠেন।

ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করার পর ফস্টার কিশোর অভিনেত্রী থেকে প্রাপ্ত বয়স্ক অভিনেত্রী চরিত্রে অভিনয়ে প্রতিষ্ঠা লাভ করতে অনেক সংগ্রাম করতে হয়। প্রাপ্ত বয়স্ক চরিত্রে তার প্রথম সফলতা আসে দি অ্যাকিউস্‌ড (১৯৮৮) চলচ্চিত্রের মাধ্যমে। এই চলচ্চিত্রের জন্য তিনি শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর জন্য একাডেমি পুরস্কারগোল্ডেন গ্লোবসহ বেশ কয়েকটি পুরস্কার জয় করেন। তিনি শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী বিভাগে তার দ্বিতীয় একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন মনস্তাত্বিক থ্রিলারধর্মী দ্য সাইলেন্স অব দ্য ল্যাম্বস (১৯৯১) চলচ্চিত্রে সিরিয়াল খুনের তদন্তকারী এফবিআইয়ের শিক্ষানবিশ ক্লেরিস স্টারলিং চরিত্রে অভিনয়ের জন্য। একই বছর ফস্টারের পরিচালনায় অভিষেক হয় লিটল ম্যান টেট চলচ্চিত্র দিয়ে, এবং পরের বছর ১৯৯২ সালে তিনি তার নিজস্ব প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান এগ পিকচার্স প্রতিষ্ঠা করেন। এই প্রতিষ্ঠানের প্রযোজিত প্রথম চলচ্চিত্র হল নেল (১৯৯৪), এতে ফস্টার নাম ভূমিকায় অভিনয় করে তার চতুর্থ একাডেমি পুরস্কারের মনোনয়ন লাভ করেন। তার পরিচালিত দ্বিতীয় চলচ্চিত্র হোম ফর দ্য হলিডেজ (১৯৯৫) ব্যবসাসফল হয় নি এবং সমালোচকদের মিশ্র প্রতিক্রিয়া লাভ করে। ১৯৯০ এর দশকের তার অন্যান্য চলচ্চিত্রসমূহ হল নাট্যধর্মী সমারসবি, পশ্চিমা ধাঁচের হাস্যরসাত্মক মাভেরিক (১৯৯৪), বিজ্ঞান কল্পকাহিনীধর্মী কনট্যাক্ট (১৯৯৭) এবং নাট্যধর্মী অ্যানা অ্যান্ড দ্য কিং (১৯৯৯)।

২০০০ এর দশকের শুরুর দিকে একটি চলচ্চিত্রের কাজ পরিত্যক্ত হওয়া ও তার প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়াসহ নানাবিধ বিপত্তির পর ফস্টার চারটি থ্রিলার চলচ্চিত্রে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেন। চলচ্চিত্রগুলো হল প্যানিক রুম (২০০২), ফাইটপ্ল্যান (২০০৫), ইনসাইড ম্যান (২০০৬) এবং দ্য ব্রেভ ওয়ান (২০০৭)। ২০১০ এর দশকে তিনি চলচ্চিত্র পরিচালনায় মনোযোগ দেন এবং দ্য বিভার (২০১১) ও মানি মনস্টার (২০১৬) চলচ্চিত্র,[৪] এবং নেটফ্লিক্স এর ওরেঞ্জ ইজ দ্য নিউ ব্ল্যাকহাউজ অব কার্ড্‌স টেলিভিশন ধারাবাহিকের কয়েকটি পর্ব নির্মাণ করেন। ২০১৩ সালে তিনি ইলিসিয়াম চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। দুটি একাডেমি পুরস্কার ছাড়াও ফস্টার তিনটি বাফটা পুরস্কার, তিনটি গোল্ডেন গ্লোবগোল্ডেন গ্লোব সেসিল বি ডিমিল পুরস্কার, একটি স্ক্রিন অ্যাক্টরস গিল্ড পুরস্কার অর্জন করেন।

আইরনসাইড (১৯৭২) টিভি ধারাবাহিকে রোড সার্লিং এবং জোডি ফস্টার।

প্রারম্ভিক জীবন[সম্পাদনা]

ফস্টার ১৯৬২ সালের ১৯ নভেম্বর লস অ্যাঞ্জলেসে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা তৃতীয় লুসিয়াস ফিশার ফস্টার ও মাতা এভেলিন ইলা "ব্র্যান্ডি" (জন্মনাম আলমন্ড)। তিনি তার পিতামাতার সর্বকনিষ্ঠ সন্তান। তার পিতার জন্ম শিকাগোর একটি ধনী পরিবারে, যার পূর্বপুরুষদের মধ্যে রয়েছেন জন আল্ডেন। আল্ডেন ১৬২০ সালে মেফ্লাওয়ার জাহাজে করে উত্তর আমেরিকায় এসেছিলেন।[৫][৬] ফস্টারে পিতা লুসিয়াস ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিমান বাহিনীর লেফটেন্যান্ট কর্নেল এবং পরে রিয়াল এস্টেটের দালাল হিসেবে কাজ করেন।[৫] ফস্টারের মাতা ব্র্যান্ডিকে বিয়ের পূর্বে তিনি ১৯৫৩ সালে লাস ভেগাসে আরও একটি বিয়ে করেছিলেন এবং প্রথম স্ত্রী তিন পুত্র ছিল।[৬] ব্র্যান্ডি জার্মান বংশোদ্ভূত এবং তিনি ইলিনসের রকফোর্ডে বেড়ে ওঠেন।[৭] ফস্টারের পূর্বপুরুষদের মধ্যে আইরিশও ছিল এবং তারা কাউন্টি কর্কে বাস করত।[৮] ফস্টারের জন্মের পূর্বে ব্র্যান্ডি ও লুসিয়াসের তিন সন্তান জন্মগ্রহণ করে। তারা হলেন কন্যা লুসিন্ডা "সিন্ডি" ফস্টার (জন্ম ১৯৫৪) ও কনস্ট্যান্স "কনি" ফস্টার (জন্ম ১৯৫৫) এবং পুত্র লুসিয়াস ফিশার "বাডি" ফস্টার (জন্ম ১৯৫৭)।[৬] ফস্টারের জন্মের পূর্বে তার পিতামাতার বিবাহ বিচ্ছেদ হয় এবং তিনি কখনো তার পিতার সাথে সম্পর্ক গড়তে পারেন নি।[৫][৯][১০] বিবাহ বিচ্ছেদের পর ব্র্যান্ডি তার অপর এক সঙ্গীর সাথে লস অ্যাঞ্জেলেসে তার সন্তানদের বড় করেন।[১১] তিনি প্রযোজক আর্থার পি. জ্যাকবসের অধীনে প্রচারণাকর্মী হিসেবে কাজ করেন এবং পুত্র বাডি ও কন্যা জোডি অভিনয় জীবন শুরু করার পূর্ব পর্যন্ত এই পেশায় ছিলেন।[৫][৬][৯] যদিও ফস্টারের জন্মনাম ছিল অ্যালিশিয়া, কিন্তু তার ভাইবোনেরা তাকে "জোডি" নামে ডাকত, যা তার কাছে খুবই বিরক্তিকর ছিল।[১২]

পুরস্কার ও মনোনয়ন[সম্পাদনা]

জোডি ফস্টার দি অ্যাকিউস্‌ড (১৯৮৮) ও দ্য সাইলেন্স অব দ্য ল্যাম্বস (১৯৯১) চলচ্চিত্রের জন্য দুবার শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর জন্য একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন এবং আরও দুবার এই পুরস্কারের মনোনয়ন লাভ করেন। তার অন্যান্য পুরস্কারের মধ্যে রয়েছে তিনটি শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র অভিনেত্রীর জন্য বাফটা পুরস্কার জয় ও একটি মনোনয়ন, দুটি নাট্য চলচ্চিত্র অভিনেত্রীর জন্য গোল্ডেন গ্লোব পুরস্কার জয়, পাঁচটি মনোনয়ন ও গোল্ডেন গ্লোব সেসিল বি ডিমিল পুরস্কার, ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসব থেকে তিনটি দাভিদ দি দনাতেল্লো পুরস্কার, দুটি স্যাটার্ন পুরস্কার জয় ও তিনটি মনোনয়ন, একটি স্ক্রিন অ্যাক্টরস গিল্ড পুরস্কার জয়, একটি পিপলস চয়েজ পুরস্কার জয় ও তিনটি মনোনয়ন এবং একটি ইন্ডিপেন্ডেন্ট স্পিরিট পুরস্কার।

চলচ্চিত্রের তালিকা[সম্পাদনা]

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "Jodie Foster Biography (1962-)" (ইংরেজি ভাষায়)। ফিল্ম রেফারেন্স। সংগ্রহের তারিখ ১৯ নভেম্বর ২০১৭ 
  2. "Jodie Foster slams media, defends Kristen Stewart after breakup"সিটিভি নিউজ (ইংরেজি ভাষায়)। আগস্ট ১৫, ২০১২। সংগ্রহের তারিখ ১৯ নভেম্বর ২০১৭ 
  3. "Jodie Foster's Christmas turkey"দ্য আইরিস টাইমস (ইংরেজি ভাষায়)। ডিসেম্বর ৬, ১৯৯৬। সংগ্রহের তারিখ ১৯ নভেম্বর ২০১৭ 
  4. "Jodie Foster | American actress and director"এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ১৯ নভেম্বর ২০১৭ 
  5. Cullen, pp. 182–183
  6. Shearer, Lloyd (অক্টোবর ৯, ১৯৭৬)। "The Mother Behind Child Star Jodie Foster"The Spokesman–Review (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ১৯ নভেম্বর ২০১৭ 
  7. Hirshey, Gerri (মার্চ ২১, ১৯৯১)। "Jodie Foster Makes It Work"রোলিং স্টোন (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ১৯ নভেম্বর ২০১৭ 
  8. "The Legend: Jodie Foster"Interview (ইংরেজি ভাষায়)। ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০১৬। সংগ্রহের তারিখ ১৯ নভেম্বর ২০১৭ 
  9. van Meter, Jonathan (জানুয়ারি ৬, ১৯৯১)। "Child of the Movies"দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ১৯ নভেম্বর ২০১৭ 
  10. {{ওয়েব উদ্ধৃতি |url=http://www.cbsnews.com/stories/1999/12/07/60II/main73459.shtml |title=Jodie Foster, Reluctant Star |work=60 Minutes II |language=ইংরেজি |accessdate=১৯ নভেম্বর ২০১৭
  11. Thorpe, Vanessa (১৬ ডিসেম্বর ২০০৭)। "The Observer profile: Jodie Foster"দ্য গার্ডিয়ান (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ১৯ নভেম্বর ২০১৭ 
  12. "Interview: Jodie Foster, actress in The Beaver"The Scotsman (ইংরেজি ভাষায়)। জুন ১৫, ২০১১। সংগ্রহের তারিখ ১৯ নভেম্বর ২০১৭ 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]

টেমপ্লেট:জোডি ফস্টার