নিকোল কিডম্যান

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
সরাসরি যাও: পরিভ্রমণ, অনুসন্ধান
নিকোল কিডম্যান
এসি
Nicole Kidman Cannes 2013 2.jpg
২০১৩ সালে কান চলচ্চিত্র উৎসবে নিকোল কিডম্যান
জন্ম নিকোল ম্যারি কিডম্যান
(১৯৬৭-০৬-২০) ২০ জুন ১৯৬৭ (বয়স ৫০)[১]
হনুলুলু, হাওয়াই
নাগরিকত্ব  অস্ট্রেলিয়া,  যুক্তরাষ্ট্র
শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অস্টেলিয়ান থিয়েটার ফর ইয়ং পিপল
পেশা অভিনেত্রী, প্রযোজক, গায়িকা
কার্যকাল ১৯৮৩–বর্তমান
মোট সম্পত্তি AUD $১৮৩ মিলিয়ন (মার্চ ২০১৫)[২][৩]
দাম্পত্য সঙ্গী টম ক্রুজ (বি. ১৯৯০তা. ২০০১)
কেইথ আরবান (বি. ২০০৬)
সন্তান
আত্মীয় অ্যান্টোনিয়া কিডম্যান (বোন)
ওয়েবসাইট nicolekidmanofficial.com

নিকোল ম্যারি কিডম্যান, এসি (নিকোল কিডম্যান নামে পরিচিত; জন্ম: ২০ জুন, ১৯৬৭) হলেন একজন অস্ট্রেলীয় অভিনেত্রী, চলচ্চিত্র প্রযোজক ও গায়িকা।[৪] কিডম্যানের প্রথম উল্লেখযোগ্য কাজ ছিল ১৯৮৯ সালের থ্রিলারধর্মী চলচ্চিত্র ডেড কাম এবং থ্রিলার মিনি ধারাবাহিক ব্যাংকক হিল্টন। ১৯৯০ এর দশকের প্রথম দিকে ডেজ অফ থান্ডার (১৯৯০), রোমান্স-নাট্যধর্মী ফার অ্যান্ড অ্যাওয়ে (১৯৯২) ও সুপারহিরো চলচ্চিত্র ব্যাটম্যান ফরেভার (১৯৯৫) এ অভিনয় দিয়ে বিশ্বব্যাপী পরিচিতি লাভ করেন। ২০০১ সালের সঙ্গীতধর্মী মুলা রুশ! চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি দ্বিতীয়বারের মত গোল্ডেন গ্লোব পুরস্কার এবং প্রথমবারের মত একাডেমি পুরস্কার এর মনোনয়ন লাভ করেন। ২০০২ সালে দ্য আওয়ার্স চলচ্চিত্রে ভার্জিনিয়া উলফ এর ভূমিকায় অভিনয়ের জন্য তিনি শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর জন্য একাডেমি পুরস্কার, গোল্ডেন গ্লোব পুরস্কার (সেরা অভিনেত্রী - নাট্য চলচ্চিত্র), বাফটা পুরস্কার (সেরা অভিনেত্রী) এবং বার্লিন আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব-এ শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর জন্য সিলভার বিয়ার অর্জন করেন।

কিডম্যান ১৯৯৪ সাল থেকে ইউনিসেফ এবং ২০০৬ সাল থেকে ইউনিফেম-এর শুভেচ্ছা দূত। ২০০৬ সালে তিনি অর্ডার অফ অস্ট্রেলিয়া হিসেবে নিয়োগ লাভ করেন এবং এই বছরের সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক প্রাপ্ত অভিনেত্রী হন। হাওয়াইয়ে জন্মগ্রহণের এবং যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের ফলে তার অস্ট্রেলীয় ও মার্কিন দ্বৈত নাগরিকত্ব রয়েছে। এছাড়া তিনি ব্লুজম ফিল্মস নামে একটি প্রযোজনা সংস্থা প্রতিষ্ঠা করেন।

প্রাথমিক জীবন[সম্পাদনা]

নিকোল ১৯৬৭ সালের ২০ জুন হাওয়াইয়ের হনুলুলুতে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা অ্যান্টনি কিডম্যান (১৯৩৮-২০১৪) ছিলেন একজন প্রাণরসায়নবিদ ও মনোবিদ ও লেখক।[৫] তার মা জ্যানেল অ্যান একজন নার্সিং প্রশিক্ষক। কিডম্যানের পূর্বপুরুষগণ স্কটিশ, আইরিশ ও ইংরেজ বংশোদ্ভূত।[৬]

কর্মজীবন[সম্পাদনা]

১৯৮৩-১৯৯৪: কর্মজীবনের প্রারম্ভ[সম্পাদনা]

১৯৮৩ সালে ১৬ বছর বয়সে অস্ট্রেলীয় চলচ্চিত্র বুশ ক্রিসমাস দিয়ে চলচ্চিত্রে অভিষেক হয়। ১৯৮৩ সালের শেষের দিকে তিনি টেলিভিশন ধারাবাহিক ফাইভ মাইল ক্রীক এ পার্শ্ব চরিত্রে অভিনয় করেন। ১৯৮৪ সালে তার মায়ের স্তন ক্যান্সারের চিকিৎসার জন্য কিছুদিন অভিনয়ে বিরতি দেন।[৭] ১৯৮০ এর দশকের মাঝামাঝিতে তিনি বিএমএক্স ব্যান্ডিটস্‌ (১৯৮৩), ওয়াচ দ্য শ্যাডোস ড্যান্স (১৯৮৭), ও রোমান্টিক কমেডি উইন্ডরাইডার (১৯৮৬) এ অভিনয় করে তিনি জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। এছাড়া এই দশকে সোপ অপেরা অ্যা কান্ট্রি প্র্যাকটিস[৮] ও মিনি ধারাবাহিক ভিয়েতনাম[৯] এ অভিনয় করেন। পাশাপাশি অস্ট্রেলীয় টেলিভিশন অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে তাকে দেখা যেত।

১৯৯১ সালে তিনি তার সহপাঠী ও বন্ধু নাওমি ওয়াটসথান্ডি নিউটনদের সাথে অস্ট্রেলীয় স্বাধীন চলচ্চিত্র ফ্লার্টিং-এ অভিনয় করেন। কিডম্যান ও ওয়াটস এই ছবিতে দুজন স্কুল ছাত্রী চরিত্রে অভিনয় করেন, ছবিটি শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র বিভাগে অস্ট্রেলিয়ান ফিল্ম ইনস্টিটিউট পুরস্কার লাভ করে।[১০] একই বছর বিলি বাথগেট চলচ্চিত্রে তার অভিনয়ের জন্য তিনি প্রথমবারের মত সেরা পার্শ্ব অভিনেত্রী বিভাগে গোল্ডেন গ্লোব পুরস্কারের মনোনয়ন লাভ করেন।[১১] পরের বছর টম ক্রুজের বিপরীতে রন হাউয়ার্ড পরিচালিত আইরিশ মহাকাব্যিক চলচ্চিত্র ফার অ্যান্ড অ্যাওয়ে (১৯৯২) এ অভিনয় করেন।[১২] ছবিটিতে তার অভিনয় প্রশংসিত হয়[১৩] এবং ছবিটি ব্যবসাসফল হয়।[১৪] ১৯৯৩ সালে তিনি আলেক বাডউইনের বিপরীতে ম্যালিস[১৫]মাইকেল কিটনের বিপরীতে মাই লাইফ[১৬] চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন।

১৯৯৫-২০০৪: বিশ্বব্যাপী পরিচিতি[সম্পাদনা]

১৯৯৫ সালে কিডম্যান এখন পর্যন্ত (২০১৭ সাল) তার অভিনীত সর্বোচ্চ আয়ের চলচ্চিত্র[১৭] ব্যাটম্যান ফরেভার-এ ডঃ চেজ মেরিডিয়ান চরিত্রে অভিনয় করেন। এই সুপারহিরো চলচ্চিত্রে তার বিপরীতে নাম চরিত্রে অভিনয় করেন ভাল কিলমার। একই বছর কিডম্যান গুস ভ্যান স্যান্ট পরিচালিত টু ডাই ফর চলচ্চিত্রে সুজান স্টোন মারেত্তো চরিত্রে তার অভিনয় প্রশংসিত হয় এবং তিনি তার প্রথম গোল্ডেন গ্লোব পুরস্কার লাভ করেন।[১৮][১৯] পরের বছর তিনি দ্য পোট্রেট অফ অ্যা লেডি উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত একই নামের চলচ্চিত্রে বারবারা হার্শি, জন মালকোভিচম্যারি-লুইস পার্কারদের সাথে অভিনয় করেন। ১৯৯৭ সালে জর্জ ক্লুনির বিপরীতে অ্যাকশন-থ্রিলার দ্য পিসমেকার চলচ্চিত্রে হোয়াইট হাউজের নিউক্লিয়ার এক্সপার্ট ডঃ জুলিয়া কেলি চরিত্রে অভিনয় করেন।[২০][২১] পরের বছর সান্ডা বুলকের সাথে ফ্যান্টাসিধর্মী প্র্যাকটিক্যাল ম্যাজিক চলচ্চিত্রে আধুনিক ডাইনী চরিত্রে অভিনয় করেন।[২২] একই বছর তিনি ডেভিড হেয়ার নির্দেশিত দ্য ব্লু রুম মঞ্চ নাটকে অভিনয় করেন। নাটকটি লন্ডনে প্রদর্শিত হয়।[২৩]

২০০১ সালে কান চলচ্চিত্র উৎসবে মুলা রুশ! চলচ্চিত্রের প্রচারণায় কিডম্যান

১৯৯৯ সালে কিডম্যান তার স্বামী টম ক্রুজের সাথে স্ট্যানলি কুব্রিক পরিচালিত শেষ চলচ্চিত্র আইজ ওয়াইড শাট-এ বিবাহিত দম্পতি চরিত্রে অভিনয় করেন। চলচ্চিত্রটি অত্যধিক যৌনতার কারণে সেন্সর বিতর্কে পড়ে। তবে চলচ্চিত্রটি মুক্তির কিছুদিন পূর্বে কুব্রিক মারা গেলে তা সকলের মনোযোগ কাড়ে। টম ক্রুজের সাথে বিবাহবিচ্ছেদের পর[২৪] কিডম্যান ব্রিটিশ-মার্কিন নাট্যধর্মী চলচ্চিত্র বার্থডে গার্ল চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন।[২৫] ২০০১ সালে এওয়ান ম্যাক্‌গ্রেগর-এর বিপরীতে বাজ লুরম্যান পরিচালিত সঙ্গীতধর্মী চলচ্চিত্র মুলা রুশ!-এ অভিনয় করেন। তার অভিনয় ইতিবাচক সমালোচনা অর্জন করেন এবং তার দ্বিতীয় সেরা অভিনেত্রী বিভাগে গোল্ডেন গ্লোব পুরস্কার লাভ করেন এবং আরো কয়েকটি পুরস্কার ও মনোনয়ন লাভ করেন। এছাড়া তিনি এই চরিত্রে অভিনয়ের জন্য প্রথমবারের মত শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর জন্য একাডেমি পুরস্কার এর মনোনয়ন লাভ করেন।[২৬]

২০০২ সালে তিনি স্টিভেন ডালড্রি পরিচালিত দ্য আওয়ার্স চলচ্চিত্রে ভার্জিনিয়া উলফ চরিত্রে অভিনয় করেন। এতে আরো অভিনয় করেন মেরিল স্ট্রিপজুলিয়ান মুর। ছবিটিতে তার অভিনয় প্রশংসিত হয়[২৭] এবং তিনি বেশ কয়েকটি সমালোচনা পুরস্কার লাভ করেন। তিনি তার প্রথম বাফটা পুরস্কার, তৃতীয় গোল্ডেন গ্লোব পুরস্কার এবং প্রথম শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর জন্য একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন। তিনি প্রথম অস্ট্রেলীয় অভিনেত্রী হিসেবে একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন।[২৮]

অস্কার বিজয়ের পর নিকোল ২০০৩ সালে তিনটি ভিন্নধর্মী চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। তিনি প্রথমে ডেনিশ পরিচালক লার্স ফন ত্রিয়ের পরিচালিত ডগভিলা, পরে ফিলিপ রথ-এর উপন্যাস অবলম্বনে রবার্ট বেন্টন পরিচালিত দ্য হিউম্যান স্টেইন, এবং অ্যান্থনি মিঙ্গেলা পরিচালিত কোল্ড মাউন্টেন চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। কোল্ড মাউন্টেন চলচ্চিত্রে তার অভিনয় প্রশংসিত হয় এবং তিনি তার ৬ষ্ঠ বারের মত সেরা অভিনেত্রী হিসেবে গোল্ডেন গ্লোব পুরস্কারের মনোনয়ন লাভ করেন।[২৯]

চলচ্চিত্রের তালিকা[সম্পাদনা]

ডিস্কোগ্রাফি[সম্পাদনা]

পুরস্কার[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "Monitor"। Entertainment Weekly (1264)। ২১ জুন ২০১৩। পৃ: 26। 
  2. Fitzsimmons, Caitlin (৮ মার্চ ২০১৫)। "The 30 richest self-made women in Australia"BRW। সংগৃহীত ৯ মার্চ, ২০১৭ 
  3. "Bridges among Australia's richest women"Sky News Australia। ৮ মার্চ ২০১৫। সংগৃহীত ৯ মার্চ, ২০১৭ 
  4. "Nicole Kidman sweats new producer role"The Independent (London)। ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১১। সংগৃহীত ৯ মার্চ, ২০১৭ 
  5. Murrihy, Rachael (১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৪)। "Dr Antony Kidman: Nicole Kidman's father's legacy of nurture"The Sydney Morning Herald। সংগৃহীত ৯ মার্চ, ২০১৭ 
  6. "Nicole Kidman Biography"। thebiographychannel.co.uk। সংগৃহীত ৯ মার্চ, ২০১৭ 
  7. Lucy Ellis; Bryony Sutherland (অক্টোবর ২০০২)। Nicole Kidman: the biography। Aurum। পৃ: ৩৪। "Nicole withdrew from all acting jobs and enrolled on a massage course so that she could relieve her mother's suffering with physical therapy." 
  8. "Nicole Kidman- A Country Practise 1984"। YouTube। সংগৃহীত ৯ মার্চ, ২০১৭ 
  9. "Vietnam – Nicole Kidman"। YouTube। সংগৃহীত ৯ মার্চ, ২০১৭ 
  10. "AFI Award Winners Feature Categories 1958–2009"Australian Film Institute। সংগৃহীত ৯ মার্চ, ২০১৭ 
  11. Canby, Vincent (১ নভেম্বর ১৯৯১)। "Billy Bathgate (1991)"The New York Times। সংগৃহীত ৯ মার্চ, ২০১৭ 
  12. Dolman, Bob (২৫ মে ১৯৯২)। "Surviving in a New World"Time। সংগৃহীত ৯ মার্চ, ২০১৭ 
  13. Gene, Siskel (২২ মে ১৯৯২)। "Cinematography And Acting Save Far And Away"The New York Times। সংগৃহীত ৯ মার্চ, ২০১৭ 
  14. "Far and Away (1992)"বক্স অফিস মোজো। সংগৃহীত ৯ মার্চ, ২০১৭ 
  15. "Malice"empireonline.com। সংগৃহীত ৯ মার্চ, ২০১৭ 
  16. Ebert, Roger (১২ নভেম্বর ১৯৯৩)। "My Life"। সংগৃহীত ৯ মার্চ, ২০১৭ 
  17. "Kidman"বক্স অফিস মোজো। সংগৃহীত ৯ মার্চ, ২০১৭ 
  18. Ebert, Roger (৬ অক্টোবর ১৯৯৫)। "To Die For"। সংগৃহীত ৯ মার্চ, ২০১৭ 
  19. LaSalle, Mike (৬ অক্টোবর ১৯৯৫)। "Film Review-- Kidman Monstrously Good in 'To Die For'"San Francisco Chronicle। সংগৃহীত ৯ মার্চ, ২০১৭ 
  20. "The Peacemaker"মেটাক্রিটিক। সংগৃহীত ৯ মার্চ, ২০১৭ 
  21. "The Peacemaker"বক্স অফিস মোজো। সংগৃহীত ৯ মার্চ, ২০১৭ 
  22. "Practical Magic"মেটাক্রিটিক। সংগৃহীত ৯ মার্চ, ২০১৭ 
  23. "Journal; Nicole Kidman's Behind"The New York Times। সংগৃহীত ৯ মার্চ, ২০১৭ 
  24. "Kidman Tells Oprah Divorce Is 'Awful'"। ABC News.com। ২১ মে ২০০১। সংগৃহীত ৯ মার্চ, ২০১৭ 
  25. "Birthday presence in Herts"bbc.co.uk। ১ আগস্ট ২০০২। সংগৃহীত ৯ মার্চ, ২০১৭ 
  26. "Nicole "the most beautiful person in the world""theage.com.au। সংগৃহীত ৯ মার্চ, ২০১৭ 
  27. Tomatoes "The Hours (2002), FILM REVIEW; Who's Afraid Like Virginia Woolf?"The New York Times। সংগৃহীত ৯ মার্চ, ২০১৭ 
  28. "Memorable Moments From Oscar Night"ABC News। ২৩ মার্চ ২০০৩। সংগৃহীত ৯ মার্চ, ২০১৭ 
  29. "61st Annual Golden Globe Awards – Nominees and Winners"about.com। সংগৃহীত ৯ মার্চ, ২০১৭ 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]