কেট উইন্সলেট
কেট উইন্সলেট | |
|---|---|
Kate Winslet | |
২০২৪ সালে উইন্সলেট | |
| জন্ম | কেট এলিজাবেথ উইন্সলেট ৫ অক্টোবর ১৯৭৫ |
| শিক্ষা | রেডরুফস থিয়েটার স্কুল |
| পেশা | অভিনেত্রী |
| কর্মজীবন | ১৯৯১—বর্তমান |
| প্রতিষ্ঠান | গোল্ডেন হ্যাট ফাউন্ডেশন |
কর্ম | পূর্ণ তালিকা |
| দাম্পত্য সঙ্গী |
|
| সন্তান | ৩, মিয়া থ্রিপলটন ও জো অ্যান্ডার্স-সহ |
| পুরস্কার | পূর্ণ তালিকা |
| স্বাক্ষর | |
কেট এলিজাবেথ উইন্সলেট (/ˈwɪnzlət/ (); উইঞ্জলেট;[২] জন্ম: ৫ অক্টোবর ১৯৭৫) একজন ইংরেজ অভিনেত্রী। স্বাধীন চলচ্চিত্রে, বিশেষ করে ঐতিহাসিক নাট্যধর্মী চলচ্চিত্রে, একগুঁয়ে ও জটিল নারী চরিত্রে অভিনয়ের জন্য সুপরিচিত উইন্সলেট পেশাজীবনে একটি একাডেমি পুরস্কার, দুটি প্রাইমটাইম এমি পুরস্কার, পাঁচটি বাফটা পুরস্কার ও পাঁচটি গোল্ডেন গ্লোব পুরস্কার-সহ অসংখ্য পুরস্কার ও সম্মাননা অর্জন করেছেন। ২০০৯ ও ২০২১ সালে টাইম সাময়িকী তাকে বিশ্বের ১০০ প্রভাবশালী ব্যক্তি তালিকায় স্থান প্রদান করে। ২০১২ সালে তিনি কমান্ডার অব দি অর্ডার অব দ্য ব্রিটিশ এম্পায়ার (সিবিই) খেতাবে ভূষিত হন।
উইন্সলেট রেডরুফস থিয়েটার স্কুলে নাট্যকলা বিষয়ে অধ্যয়ন করেন। তিনি মাত্র পনের বছর বয়সে ব্রিটিশ টেলিভিশন ধারাবাহিক ডার্ক সিজন (১৯৯১)-এ অভিনয়ের মধ্য দিয়ে প্রথম পর্দায় উপস্থিত হন। ১৯৯৪ সালে হেভেনলি ক্রিয়েচার্স চলচ্চিত্রে কিশোরী খুনী চরিত্রে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে তার চলচ্চিত্রে অভিষেক ঘটে এবং পরের বছর সেন্স অ্যান্ড সেন্সিবিলিটি (১৯৯৫)-এ ম্যারিঅ্যান ড্যাশউড চরিত্রে অভিনয় করে একটি বাফটা পুরস্কার অর্জন করেন। এরপর জেমস ক্যামেরনের মহাকাব্যিক প্রণয়ধর্মী টাইটানিক (১৯৯৭)-এ রোজ ডিউইট বুক্যাটার চরিত্রে অভিনয় করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তারকাখ্যাতি অর্জন করেন। উইন্সলেট এই সময়ে বিপুল সমাদৃত ঐতিহাসিক চলচ্চিত্র কুইলস (২০০০) ও আইরিস (২০০১)-এ অভিনয়ের জন্য কয়েকটি ব্যবসাসফল চলচ্চিত্রে অভিনয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন।
উইন্সলেট বিজ্ঞান কল্পকাহিনীধর্মী প্রণয়মূলক ইটার্নাল সানশাইন অব দ্য স্পটলেস মাইন্ড (২০০৪)-এ ক্লিমেনটাইন ক্রুজিন্স্কি চরিত্রে অভিনয় করেন, যা সমকালীন পটভূমি থেকে বিপরীতমূখী চরিত্র। এটি তার কর্মজীবনের বাঁক বদলে দেয়। এছাড়া তিনি ফাইন্ডিং নেভারল্যান্ড (২০০৪), লিটল চিলড্রেন (২০০৬), দ্য হলিডে, রেভলূশন্যারি রোড (২০০৮) ও দ্য রিডার (২০০৮) চলচ্চিত্রে অভিনয় করে অধিক পরিচিতি অর্জন করেন। দ্য রিডার চলচ্চিত্রে নাৎসি ক্যাম্পের প্রহরী হ্যানা স্মিট্জ চরিত্রে অভিনয়ের জন্য তিনি শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী বিভাগে একাডেমি পুরস্কার ও বাফটা পুরস্কার অর্জন করেন। উইন্সলেট জীবনীমূলক স্টিভ জবস (২০১৫) চলচ্চিত্রে জোঅ্যানা হফম্যান চরিত্রে অভিনয় করে আরেকটি বাফটা পুরস্কার অর্জন করেন। তিনি এইচবিওর সীমিত দৈর্ঘ্য ধারাবাহিক মিলড্রেড পিয়ার্স (২০১১) ও মেয়ার অব ইস্টটাউন (২০২১)-এ অভিনয় করে দুটি প্রাইমটাইম এমি পুরস্কার অর্জন করেন। ২০২২ সালে তিনি একক নাটক আই অ্যাম রুথ প্রযোজনা করেন এবং এতে অভিনয় করেন, যার জন্য তিনি দুটি বাফটা টিভি পুরস্কার অর্জন করেন।
অডিওবই লিসেন টু দ্য স্টোরিটেলার (১৯৯৯)-এর একটি ছোট গল্পের ধারাভাষ্যের জন্য উইন্সলেট একটি গ্র্যামি পুরস্কার অর্জন করেন। তিনি তার অভিনীত ক্রিসমাস ক্যারল: দ্য মুভি (২০০১) চলচ্চিত্রের "হোয়াট ইফ" গানে কণ্ঠ দেন। উইন্সলেট দাতব্য সংস্থা গোল্ডেন হ্যাট ফাউন্ডেশনের সহ-প্রতিষ্ঠাতা, যার লক্ষ্য হল আত্মসংবৃতি বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টি করা। তিনি এই বিষয়বস্তুর উপর একটি বইও লিখেছেন। উইন্সলেট চলচ্চিত্র পরিচালক জিম থ্রিপলটন ও স্যাম মেন্ডেজের প্রাক্তন স্ত্রী এবং ব্যবসায়ী এডওয়ার্ড অ্যাবেল স্মিথের সাথে ২০১২ সাল থেকে বৈবাহিক সূত্রে আবদ্ধ রয়েছেন। তিনটি বৈবাহিক সম্পর্ক থেকে তার একজন করে সন্তান রয়েছে, তন্মধ্যে মিয়া থ্রিপলটন ও জো অ্যান্ডার্স অভিনয়ের সাথে জড়িত রয়েছেন।
প্রাথমিক জীবন
[সম্পাদনা]উইন্সলেটের জন্ম যুক্তরাজ্যের, বার্কশায়ারের রিডিং-এ। তার মা স্যালি অ্যান (জন্মসূত্রে ব্রিজেস) ছিলেন পানশালার একজন পরিবেশনকারিনী এবং বাবা রজার জন উইন্সলেট ছিলেন একজন সুইমিং পুল ঠিকাদার।[৩] তার বাবা-মা দুজনই ছিলেন “খুচরো অভিনেতা”, এছাড়াও উইন্সলেট যেমনটি বলেন, “শিক্ষাদীক্ষার সুযোগসুবিধা খুব একটা পাওয়া যায় নি” এবং তাদের অবস্থা ছিলো অনেকটা “দিন আনি দিন খাই”-এর মতো।[৪] উইন্সলেটের নানা-নানী, লিন্ডা (জন্মসূত্রে প্লাম্ব) ও আর্চিবাল্ড অলিভার ব্রিজেস, রিডিং রির্পেটরি থিয়েটার[৪] নামে একটি নাট্যদল প্রতিষ্ঠা করেছিলেন এবং এটা তারাই চালাতেন। তার মামা রবার্ট ব্রিজেসকে ওয়েস্ট এন্ড-এর প্রযোজিত অলিভার! নাটকে দেখা গিয়েছিলো। এবং তার দুই বোন, বেথ উইন্সলেট ও অ্যানা উইন্সলেট - উভয়েই অভিনয়শিল্পী।[৪]
উইন্সলেট বড়ো হন একজন অ্যাঙ্গলিকান হিসেবে। এগারো বছর বয়সে তিনি রেডরুফস থিয়েটার স্কুল[৫]-এ নাটক বিষয়ে পড়াশোনা শুরু করেন। বিদ্যালয়টি ছিলো বার্কশায়ার-এর মেইডেনহেড-এ অবস্থিত একটি স্বাধীন বিদ্যালয়। সেখানে সহশিক্ষা কার্যক্রম চালু ছিলো এবং উইন্সলেট ছিলেন সেখানকার হেড গার্ল, এবং সেখানে অধ্যয়নরত অবস্থায় তাকে প্রথমবারের মতো টেলিভিশনের জন্য নির্মিত একটি বাণিজ্যিক সিরিয়ালে দেখা যায়। সিরিয়ালটির নাম ছিলো সুগার পাফ্স এবং পরিচালনায় ছিলেন টিম পোপ।
পেশাজীবন
[সম্পাদনা]প্রাথমিক কাজ
[সম্পাদনা]টেলিভিশনে অভিনয়ের মাধ্যমে উইন্সলেট তার পেশাজীবন শুরু করেন। তার শুরুটা ছিলো ১৯৯১ সালে, বিবিসি-তে শিশুদের বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনীর ধারাবাহিক ডার্ক সিজন-এ সহঅভিনেত্রী হিসেবে। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৯২ সালে তাকে দেখা যায় অ্যাঙ্গলো-স্যাক্সন অ্যাটিটিউডস চলচ্চিত্রে, যা টেলিভিশনে সম্প্রচারের জন্য নির্মিত হয়েছিলো। এছাড়া তিনি ১৯৯৩-এ চিকিৎসা বিষয়ক নাটক ক্যাজ্যুয়্যালিটির একটি পর্বেও অভিনয় করেছিলেন। আর এ সব কাজই ছিলো বিবিসি’র জন্য।
১৯৯২-১৯৯৭
[সম্পাদনা]
১৯৯২ সালে, লন্ডনে, উইন্সলেট পিটার জ্যাকসন-এর হ্যাভেনলি ক্রিয়েচারস চলচ্চিত্রে নির্বাচিত হবার জন্য ডাক পান। তিনি অডিশন দিয়েছিলেন জুলিয়েট হালমে চরিত্রটির জন্য। চরিত্রটি ছিলো একটি প্রাণচঞ্চল ও কল্পনাপ্রবণ কিশোরীর, যে তার সবচেয়ে প্রিয় বন্ধু পলিন পারকার-এর মাকে হত্যা করতে সহায়তা করেছিলো। পলিন পারকার চরিত্রটিতে রূপদান করেছিলেন মেলানি লিনস্কি। অডিশনে অন্য ১৭৫ জন মেয়ের মধ্য থেকে উইন্সলেট নির্বাচিত হন।[৬] চলচ্চিত্রটি ১৯৯৪ সালে মুক্তি পায় এবং জ্যাকসন ও তাঁর সহকর্মী ফ্র্যান ওয়ালশ শ্রেষ্ঠ চিত্রনাট্য বিভাগে অ্যাকাডেমি পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন পান।[৭] এ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য উইন্সলেট একটি সনি এরিকসন এমপায়ার পুরস্কার এবং একটি লন্ডন সমালোচক গোষ্ঠীর চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন।[৮] দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট-এর লেখক ডেসন থম্পসন মন্তব্য করেন: “জুলিয়েট হিসেবে, উইন্সলেট একটি উজ্জল আগুনের গোলা, তাঁর করা প্রতিটি দৃশ্যে সে আলো ছড়িয়েছে।”[৯] চলচ্চিত্রের পরিবেশ সম্পর্কে সম্পূর্ণ অনভিজ্ঞ উইন্সলেট, তার তখনকার অভিজ্ঞতা সম্পর্কে বলেন: “হ্যাভেনলি ক্রিয়েচারস এ অভিনয়ের সময় আমি যেটুকু জানতাম তা হলো, আমাকে পুরোপুরি ঐ ব্যক্তিটির মতো হয়ে যেতে হবে। এক অর্থে এটি (চলচ্চিত্রটি) ছিলো একটি খুব সুন্দর একটা কাজ এবং যা আমি করেছি কোনো কিছু না জেনেই।”[১০][১১]
২০০১-২০০৬
[সম্পাদনা]তার অভিনীত চলচ্চিত্র “আইরিশ” মুক্তি পায় ২০০১ সালে , যার গল্প ঔপন্যাসিক আইরিশ মারডক ও তার স্বামী জন বেয়লির ভালোবাসা নিয়ে । চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করেন রিচার্ড আয়ার । ২০০৪ সালে মুক্তি পায় চলচ্চিত্র “ফাইন্ডিং নেভারল্যান্ড” , এতে জনি ডেপ এর সাথে তিনি অভিনয় করেন , যা একটি পরিবার ও একজন মানুষের সাথে সেই পরিবার নিয়ে গল্প । ছবিটি পরিচালনা করেন মার্ক ফরস্টার ।“ইটারনাল সানসাইন অফ স্পটলেস মাইন্ড” চলচ্চিত্রে কেট অভিনয় করেন জিম ক্যারির সাথে । ২০০৪ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত চলচ্চিত্রটির গল্প লেখেন –মাইকেল গন্ড্রি , চার্লি কফম্যান,প্যারি বিসমাথ ।আর ছবিটি পরিচালনা করেন ফরাসি পরিচালক মাইকেল গন্ড্রি। এটি মূলত একটি রোমান্টিক সাইন্স ফিকশন চলচ্চিত্র ।
২০০৬ সালে নির্মিত “লিটেল চিলড্রেন” চলচ্চিত্রটির গল্প শুরু হয়েছে সারাহ পিরসকে দিয়ে , যিনি একজন উচ্চমধ্যবিত্ত পরিবারের গৃহিণী ও মা । যার স্বামী একজন পর্ণস্টার এর সাথে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে এবং তাদের একটি কন্যা সন্তান আছে । এ নিয়েই ছবির শুরু ।ছবিটির গল্প নেয়া হয়েছে লেখক টম প্যারিটা লেখা গল্প অবলম্বনে । ছবিটি পরিচালনা করেছেন- টড ফিল্ড । লিওনার্দো ডি ক্যাপ্রিও এর সাথে অভিনীত কেট উইন্সলেট এর আরেকটি চলচ্চিত্র হচ্ছে -“রেভুলেশানারি রোড”। রিচার্ড ইয়ারটস এর উপন্যাস অবলম্বনে ছবিটিতে উঠে এসেছে ১৯৫০ দশকে কানেকটি শহরে জীবন সংগ্রামে অবতীর্ণ হওয়া এক অল্প বয়সী দম্পতিকে ঘিরে , যারা তাদের দুটি বাচ্চাকে প্রতিপালনের সময় ব্যক্তিজীবনে যে সমস্যায় পড়তে হয় তাকে নিয়ে ।
২০০৭-বর্তমান
[সম্পাদনা]
২০০৭ সালে, রেভ্যুলশনারি রোড চলচ্চিত্রে উইন্সলেটকে আবার দেখা যায় লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিওর সাথে। চলচ্চিত্রটির পরিচালক ছিলেন উইন্সলেটের স্বামী স্যাম মেন্ডেজ। উইন্সলেট, ডিক্যাপ্রিও ও মেন্ডেজ উভয়কেই তার সাথে এ চলচ্চিত্রে কাজ করার পরামর্শ দেন। ১৯৬১ সালে রিচার্ড ইয়েটস-এর লেখা রেভ্যুলশনারি রোড নামের একটি উপন্যাসের পাণ্ডুলিপি পড়েই তিনি এটির ব্যাপারে আগ্রহী হয়ে ওঠেন। পাণ্ডুলিপিটি তৈরি করেছিলেন জাস্টিন হেইথ। এই চলচ্চিত্রেই উইন্সলেট প্রথমবারের মতো মেন্ডেজের সাথে কাজ করেন, যার ফলাফল দুজনেই “একটি আর্শীবাদ ও অতিরিক্ত চাপ”-এর মধ্যে ছিলেন। চলচ্চিত্রটিতে ফুটে উঠেছে ১৯৫০-এর দশকের একটি দম্পত্তির ব্যর্থ দাম্পত্যজীবন। এ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে উইন্সলেট সপ্তমবারের মতো মনোনয়ন পান এবং অবশেষে তিনি শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী বিভাগে গোল্ডেন গ্লোব পুরস্কার জিতে নেন।
২০০৮ সালের বসন্তে আরো মুক্তি পায় উইন্সলেট অভিনীত চলচ্চিত্র দ্য রিডার। মুক্তির পর এ চলচ্চিত্রটি রেভ্যুলশনারি রোড-এর সাথে প্রতিযোগীতায় অবতীর্ণ হয়। বার্নাড শিলিংক-এর ১৯৯৫ সালে প্রকাশিত উপন্যাস দ্য রিডার অনুসারে একই নামের এই চলচ্চিত্রটি তৈরি হয়। এর পরিচালক ছিলেন স্টিফেন ড্যালড্রাই এবং এখানে পাশ্বচরিত্রে রূপদানের জন্য রাল্ফ ফিয়েন্নেস ও ডেভিড ক্রস নামে দুজনকে আনা হয়। দ্য রিডার-এ অভিনয়ের জন্য উইন্সলেট পরিচালকের প্রথম পছন্দ থাকলেও রেভ্যুলশনারি রোড-এর সাথে শেডিউল জটিলতার কারণে চলচ্চিত্রটিতে তার বদলে নেওয়া হয় নিকোল কিডম্যানকে। চলচ্চিত্রের কাজ শুরু হওয়ার এক মাস পর কিডম্যান তার গর্ভধারণের কারণে চরিত্রটি ছেড়ে দেন, ফলে উইন্সলেট আবার চরিত্রটিতে কাজ করার সুযোগ পান। এখানে তিনি একজন জার্মানভাষীর ধাঁচে ইংরেজিতে কথা বলেন। তিনি এখানে ফুটিয়ে তোলেন একজন নাৎসি কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্প-এর পাহারাদারের চরিত্র যে কিনা পরে প্রেমে পড়ে এক যুবকের (ক্রস)। ঐ যুবক পরে তার প্রেমিকার যুদ্ধ-অপরাধের বিভিন্ন মহড়া প্রত্যক্ষ করে। উইন্সলেট জন্য এ চরিত্রটিতে রূপদান করা একটু কঠিন হয়েছিলো, কারণ স্বাভাবিক ভাবে একজন এসএস পাহারাদার-এর প্রতি তার সহমর্মিতা নেই। চলচ্চিত্রটি সাধারণের মধ্যে মিশ্র সমালোচনার শিকার হয়, এবং উইন্সলেট তার কাজের জন্য আক্রমণাত্মক সমালোচনার শিকার হন। এ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্যে সেবছর তিনি তার ষষ্ঠ অ্যাকাডেমি পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন পান এবং শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী বিভাগে অ্যাকাডেমি পুরস্কার লাভ করেন। আরো যেসকল পুরস্কার তিনি পান তার মধ্যে, মূল চরিত্রে রূপদানকারী শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী বিভাগে বাফটা পুরস্কার, নারী পার্শ্বচরিত্র বিভাগে অসাধারণ অভিয়ের জন্য স্ক্রিন অ্যাক্টরস গিল্ড পুরস্কার এবং শ্রেষ্ঠ নারী পার্শ্বচরিত্র বিভাগে গোল্ডেন গ্লোব পুরস্কার।
সঙ্গীত
[সম্পাদনা]সাউন্ডট্র্যাক ক্রিসমাস ক্যারল: দ্য মুভি-তে তার একক সঙ্গীত হোয়াট ইফ পরিবেশনের মাধ্যমে উইন্সলেট তার গান গাওয়াটা উপভোগ করা শুরু করেছিলেন। এটি আইরিশ একক তালিকাতে প্রথম ও যুক্তরাজ্য একক তালিকায় ষষ্ঠ স্থান দখল করেছিলো। তিনি এ গানটির জন্য নির্মিত একটি মিউজিক ভিডিওতেও পারফর্ম করেছিলেন। তিনি “উইয়ার্ড অল” ইয়ানকোভিচ-এর মাধ্যমে সান্ড্রা বয়নটন-এর সিডি ডগ ট্রেইন-এ একটি দ্বৈত সঙ্গীতেও কণ্ঠ দিয়েছেন এবং গান গেয়েছেন ২০০৬ সালে রোমান্স এন্ড সিগারেটস চলচ্চিত্রে।
ব্যক্তিগত জীবন
[সম্পাদনা]ডার্ক সিজন-এ উইন্সলেট যখন কাজ করছিলেন তখন তার সাথে পরিচয় হয় অভিনেতা ও লেখক স্টিফেন ট্রিডের-এর সাথে। সেখান থেকে তাদের সম্পর্ক পাঁচ বছর স্থায়ী হয়েছিলো। উইন্সলেট টাইটানিক-এর কাজ সম্পূর্ণ করার কিছুদিনের মধ্যেই স্টিফেন ট্রিডের হাড়ের ক্যান্সার-এ আক্রান্ত হয়ে মারা যান। আর লন্ডনে তার অন্তেষ্টিক্রিয়ায় যোগ দেবার জন্যে তিনি টাইটানিক-এর প্রথম প্রদর্শনীতে যোগ দিতে পারেননি। উইন্সলেট ও টাইটানিক-এ তার সহশিল্পী লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিও, তারা দুজনে এখন পর্যন্ত পরস্পরের ভালো বন্ধু।[১২]
উইন্সলেট পরে রাফাস সিউয়েল[১৩]-এর সাথে সম্পর্কে জড়ান, কিন্তু ১৯৯৮ সালের ২২ নভেম্বর তিনি বিয়ে করেন পরিচালক জিম থ্রিপলেটনকে। তাদের একটা মেয়ে আছে, যার নাম মিয়া হানি থ্রিপলেটন এবং জন্ম হয়েছিলো লন্ডনে, ২০০০ সালের ১২ অক্টোবর। তাদের মধ্যে বিবাহবিচ্ছেদের পরে ২০০১ সালে উইন্সলেট সম্পর্কে জড়ান পরিচালক স্যাম মেন্ডেজ-এর সাথে, যাকে তিনি ২০০৩ সালে ২৪ মে বিয়ে করেন। তাদের বিয়েটা হয়েছিলো ক্যারিবিয়ান-এর অ্যাঙ্গিলা দ্বীপে। এই ঘরে উইন্সলেটের একটা ছেলে আছে, যার নাম জো আলফি উইন্সলেট-মেন্ডেজ, এবং জন্ম হয়েছিলো ২০০৩ সালের ২২ ডিসেম্বর, নিউ ইয়র্ক শহরে।
মেন্ডেজ ও তার প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান নিল স্ট্রিট প্রডাকশন্স, অনেক দিন ধরে পড়ে থাকা মেবেল শার্ক[১৪] চলচ্চিত্রটির স্বত্ত্ব কিনে নেয়। ছবিটি সার্কাসের একজন বাঘ প্রশিক্ষকের জীবনীর ওপর ভিত্তি করে তৈরি হয়েছিলো। এ সম্পর্কে এই দম্পতির মুখপাত্র বলেন, “এটা খুব সুন্দর একটা গল্প। তাঁরা অনেকক্ষণ ধরে এই ছবিটি দেখেছেন। যদি তাঁরা স্ক্রিপ্টটা ঠিকভাবে তৈরি করতে পারেন তবে তাঁরা একটা দারুণ ছবি তৈরি করতে পারবেন।”[১৪]
উইন্সলেট ও মেন্ডেজ বর্তমানে বাস করছেন নিউ ইয়র্ক সিটির গ্রীনিচ ভিলেজ-এ। এছাড়া ইংল্যান্ড-এর গ্লুচেস্টারশায়ার-এর চার্চ ওয়েস্টকোট-এর ছোটো একটা গ্রামে তাদের একটা কাছারি বাড়ি আছে। ওয়েস্টকোটের এই কাছারি বাড়িটি একটি দ্বিতীয় শ্রেণীর স্থাপনা এবং এর আশেপাশের রাস্তাঘাট পরিকল্পিত নয় এবং বাইশ একর জায়গার ওপর অবস্থিত, আট বেডরুমের এই বাড়ির পিছনে তারা ব্যয় করেছেন তিন মিলিয়ন পাউন্ড।
বিমানভ্রমণের ক্ষেত্রে বিভিন্ন সময় উইন্সলেট ও মেন্ডেজ নানা রকম ঘটনার মুখোমুখি হয়েছেন এবং তাদের সন্তানেরা পিতৃ-মাতৃহীন হয়ে পড়তে পারে, এই ভয়ে তারা কখনো একই বিমানে ভ্রমণ করেন না।[১৫] অ্যামেরিকান এয়ারলাইন্স-এর ফ্লাইট ৭৭-এ মেন্ডেজের ভ্রমণ করার কথা ছিলো, যেটা ১১ সেপ্টেম্বর, ২০০১-এ ছিনতাই হয় এবং পেন্টাগনের ওপর বিধ্বস্ত হয়। এবং অক্টোবর, ২০০১-এ উইন্সলেট, তার মেয়ে মিয়া’র সাথে লন্ডন-ডালাস-এ ভ্রমণ করার সময় ঐ ফ্লাইটের একজন যাত্রী নিজেকে মুসলিম সন্ত্রাসী হিসেবে দাবি করে। পরবর্তীতে ঐ যাত্রীর বিরুদ্ধে আতঙ্ক সৃষ্টি করার অভিযোগ আনা হয় এবং বলা হয় যে, তিনি দাঁড়িয়ে চিৎকার করে বলেছেন, “আমরা সবাই মারা যাচ্ছি।”[১৫]
পাদটীকা
[সম্পাদনা]তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ উদ্ধৃতি ত্রুটি:
<ref>ট্যাগ বৈধ নয়; "uproxx" নামের সূত্রটির জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি - ↑ উইঞ্জলেটের নিজের নামের উচ্চারণ:
- "A Slate Show" with Stephen Colbert, Feat. Megan Thee Stallion, Tom Hanks and More। দ্য লেট শো উইথ স্টিফেন কলবেয়ার। ইউটিউব। ১৩ মার্চ ২০২১। ঘটনা সংঘটিত হয় 3:20। ১৪ নভেম্বর ২০২১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৯ মে ২০২৫।
- ↑ "Family detective: Kate Winslet"। Daily Telegraph। ৫ ডিসেম্বর ২০০৫। ৩ মার্চ ২০০৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৫ জুলাই ২০২১।
- 1 2 3 Boshoff, Alison (2009-02-230=2009-02-23)। "The Other Winslet Girls"। Daily Mail।
{{সংবাদ উদ্ধৃতি}}:|তারিখ=এর মান পরীক্ষা করুন (সাহায্য) - ↑ "Redroof Associates FAQ: Is it true that Kate Winslet went to Redroofs?"। ৮ জানুয়ারি ২০১০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০০৮।
- ↑ Rollings, Grant (২৮ জানুয়ারি ২০০৯)। "I was the fat kid at the back of the line"। The Sun। ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০০৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২ ফেব্রুয়ারি ২০০৮।
- ↑ "Heavenly Creatures (1994)"। Rotten Tomatoes। ৬ এপ্রিল ২০১৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২ ফেব্রুয়ারি ২০০৮।
- ↑ উদ্ধৃতি ত্রুটি:
<ref>ট্যাগ বৈধ নয়; "two" নামের সূত্রটির জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি - ↑ Howe, Desson (২৫ নভেম্বর ১৯৯৪)। "Heavenly Creatures review"। The Washington Post। সংগ্রহের তারিখ ২ ফেব্রুয়ারি ২০০৮।
- ↑ Obst, Lynda (১ নভেম্বর ২০০০)। "Kate Winslet - Interview"। ১৪ জানুয়ারি ২০১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২ ফেব্রুয়ারি ২০০৮।
- ↑ Rollings, Grant (২২ ডিসেম্বর ২০০৮)। "Why Kate Winslet Is Our Best Actress"। The Sun। ৭ ফেব্রুয়ারি ২০০৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৪ ফেব্রুয়ারি ২০০৮।
- ↑ Thornton, Michael (২৩ সেপ্টেম্বর ২০০৮)। "DiCaprio, Winslet reunite on 'Road'"। ১ সেপ্টেম্বর ২০০৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১০ জানুয়ারি ২০০৯।
- ↑ "Winslet's 'friendly' reunion with Sewell"। Breaking News। ২৫ নভেম্বর ২০০৬। ৬ মার্চ ২০০৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৮ জুলাই ২০০৯।
- 1 2 "Winslet Teams Up with Mendes for Circus Film"। WENN। ২১ ফেব্রুয়ারি ২০০৭। ৩ জানুয়ারি ২০১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১২ জানুয়ারি ২০১৯।
- 1 2 "Kate Winslet and Sam Mendes never fly together for fear of crash that would orphan their children"। Daily Mail Online। ৯ ফেব্রুয়ারি ২০০৯। সংগ্রহের তারিখ ১০ ফেব্রুয়ারি ২০০৯।
বহিঃসংযোগ
[সম্পাদনা]- ইন্টারনেট মুভি ডেটাবেজে কেট উইন্সলেট (ইংরেজি)
- টার্নার ক্লাসিক মুভিজ ডেটাবেজে কেট উইন্সলেট (ইংরেজি)
- কেট উইন্সলেট - টিভি ডট কম
- বাফটায় কেট উইন্সলেট
- ১৯৭৫-এ জন্ম
- জীবিত ব্যক্তি
- ২০শ শতাব্দীর ইংরেজ অভিনেত্রী
- ২১শ শতাব্দীর ইংরেজ অভিনেত্রী
- আইরিশ বংশোদ্ভূত ইংরেজ ব্যক্তি
- সুয়েডীয় বংশোদ্ভূত ইংরেজ ব্যক্তি
- অডিওবই পাঠক
- ইংরেজ কণ্ঠাভিনেত্রী
- ইংরেজ চলচ্চিত্র অভিনেত্রী
- ইংরেজ জনহিতৈষী
- ইংরেজ টেলিভিশন অভিনেত্রী
- ইংরেজ টেলিভিশন প্রযোজক
- ইংরেজ নারী টেলিভিশন প্রযোজক
- ইংরেজ নারী সক্রিয়কর্মী
- ইংরেজ ভিডিও গেম অভিনেত্রী
- ইংরেজ মঞ্চ অভিনেত্রী
- ইংরেজ শিশু অভিনেত্রী
- ইংরেজ সঙ্গীতশিল্পী
- ব্রিটিশ মঞ্চ অভিনেত্রী
- ব্রিটিশ টেলিভিশন অভিনেত্রী
- ব্রিটিশ গায়িকা
- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ইংরেজ প্রবাসী
- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ব্রিটিশ প্রবাসী অভিনেত্রী
- কমান্ডার অব দি অর্ডার অব দ্য ব্রিটিশ এম্পায়ার
- শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী বিভাগে একাডেমি পুরস্কার বিজয়ী
- গোল্ডেন গ্লোব পুরস্কার (সেরা অভিনেত্রী - নাট্য চলচ্চিত্র) বিজয়ী
- গোল্ডেন গ্লোব পুরস্কার (সেরা পার্শ্ব অভিনেত্রী - চলচ্চিত্র) বিজয়ী
- গোল্ডেন গ্লোব পুরস্কার (সেরা অভিনেত্রী - মিনি ধারাবাহিক বা টিভি চলচ্চিত্র) বিজয়ী
- গ্র্যামি পুরস্কার বিজয়ী
- সীমিত ধারাবাহিক বা চলচ্চিত্রে সেরা প্রধান অভিনেত্রী বিভাগে প্রাইমটাইম এমি পুরস্কার বিজয়ী
- শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী বিভাগে বাফটা পুরস্কার বিজয়ী
- শ্রেষ্ঠ পার্শ্ব অভিনেত্রী বিভাগে বাফটা পুরস্কার বিজয়ী
- শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী বিভাগে বাফটা পুরস্কার (টেলিভিশন) বিজয়ী
- সম্মানসূচক সেজার প্রাপক
- স্ক্রিন অ্যাক্টরস গিল্ড পুরস্কার (সেরা পার্শ্ব অভিনেত্রী - চলচ্চিত্র) বিজয়ী
- ২১শ শতাব্দীর ইংরেজ অ-কল্পকাহিনী লেখক
- ২১শ শতাব্দীর ইংরেজ লেখিকা
- ২১শ শতাব্দীর ইংরেজ জনহিতৈষী