রবিন উইলিয়ামস

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
সরাসরি যাও: পরিভ্রমণ, অনুসন্ধান
রবিন উইলিয়ামস
Robin Williams 2011a (2).jpg
২০১১ সালে রবিন উইলিয়ামস
স্থানীয় নাম Robin Williams
জন্ম রবিন ম্যাকলরিন উইলিয়ামস
(১৯৫১-০৭-২১)জুলাই ২১, ১৯৫১
শিকাগো, ইলিনয়েস, যুক্তরাষ্ট্র
মৃত্যু আগস্ট ১১, ২০১৪(২০১৪-০৮-১১) (৬৩ বছর)
টিবুর্ন, ক্যালিফোর্নিয়া, যুক্তরাষ্ট্র
মৃত্যুর কারণ ফাঁসির মাধ্যমে আত্মহত্যা
শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জুলিয়ার্ড স্কুল
পেশা অভিনেতা, স্ট্যান্ড-আপ কমেডিয়ান, চলচ্চিত্র প্রযোজক, চিত্রনাট্যকার
কার্যকাল ১৯৭২–২০১৪
দাম্পত্য সঙ্গী
  • ভ্যালেরি ভেলার্ডি (বি. ১৯৭৮; বিবাহবিচ্ছেদ ১৯৮৮)
  • মার্শা গার্সেস (বি. ১৯৮৯; বিবাহবিচ্ছেদ ২০০৮)
  • সুজান স্নেইডার (বি. ২০১১–১৪)
সন্তান ৩, জেলদা উইলিয়ামস
Comedy career
মাধ্যম মঞ্চ, চলচ্চিত্র, টেলিভিশন
ধরন চরিত্র কৌতুকাভিনয়, improvisational comedy
Influences জোনাথন উইন্টার্স,[১][২] ওয়ার্নার ব্রাদার্সের কার্টুন,[৩] ডুডলি মুর,[৪] পিটার সেলার্স,[৪] পিটার কুক[৪]
Influenced
ওয়েবসাইট robinwilliams.com

রবিন উইলিয়ামস (২১ জুলাই ১৯৫১ - ১১ আগস্ট ২০১৪) ছিলেন একজন মার্কিন কৌতুকাভিনেতা এবং চলচ্চিত্র অভিনেতা। উনিশ সত্তরের দশকের মাঝামাঝিতে সান ফ্রান্সিস্কো এবং লস অ্যাঞ্জেলেসে কৌতুকাভিনেতা হিসেবে তিনি কর্মজীবন শুরু করা রবিন সান ফ্রান্সিস্কোর কৌতুকের নবজাগণের অন্যতম একজন। 'দ্য ফিশার কিং', 'ডেড পোয়েটস সোসাইটি' ও 'গুড মর্নিং, ভিয়েতনাম'- এই তিনটি সিনেমাতে অনবদ্য অভিনয়ের জন্য অস্কারের মনোনয়ন পেয়েছিলেন রবিন। সমসাময়িক সময়ের বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ অভিনেতা রবিন উইলিয়ামস বিখ্যাত মার্কিনি কমেডি টেলিসিরিজ 'মর্ক অ্যান্ড মাইন্ডি'-তে অভিনয় করে সারা বিশ্বের মন জয় করেছিলেন।

১৯৯৭ সালে এন্টারটেনমেন্ট উইকলি তাকে পৃথিবীর সবচেয়ে মজার মানুষ উপাধি দেয়। বহু সিনেমা ও টেলিসিরিজে এই কৌতুকাভিনেতার অবিস্মরণীয় অভিনয় তাঁকে সব সময় আলোচিত করেছে। শুধু মাত্র কৌতুক চরিত্রেই নয়, বিভিন্ন গুরুগম্ভীর চরিত্রেও দাপটের সঙ্গে নিজের প্রতিভার প্রমান দিয়েছিলেন রবিন। ১৯৯৭ সালের গুড উইল হান্টিং ছবিতে শন ম্যাগুইয়াইর চরিত্রে অভিনয়ের জন্য তিনি শ্রেষ্ঠ পার্শ্ব অভিনেতার জন্য একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন। এছাড়া তিনি তার কর্মজীবনে সাতটি গোল্ডেন গ্লোব পুরস্কার, পাঁচটি গ্র্যামি পুরস্কার, দুটি এমি পুরস্কার, এবং দুটি স্ক্রিন অ্যাক্টরস গিল্ড পুরস্কার জয় করেন।

চলচ্চিত্র জীবন[সম্পাদনা]

রবিন অভিনীত প্রথম চলচ্চিত্র ১৯৯৭ সালের স্বল্প বাজেটের ক্যান আই ডু ইট... 'টিল আই নিড গ্লাসেস?। এতে তিনি ছোট একটি ভূমিকায় অভিনয় করেন। তার প্রথম বড় কাজ ছিল পপাই (১৯৮০) ছবিতে নাম ভূমিকায় অভিনয়। এই ছবিতে রবিন পূর্বে তার টেলিভিশনে কাজের দক্ষতা কাজে লাগান এবং ছবিটি বাণিজ্যিকভাবে সফল না হলেও এই ব্যর্থতার দায়ভার তার অভিনয়ের ছিল না।[৯][১০] ১৯৮২ সালে তিনি দ্য ওয়ার্ল্ড অ্যাকর্ডিং টু গার্প ছবিতে কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেন। রবিন এই ছবি সম্পর্কে পরে বলেন যে পর্দায় কাজের গভীরতা কম থাকলেও এতে গুরুতর বিষয় ছিল। এরপর তিনি দ্য সার্ভাইভার্স (১৯৮৩) এবং ক্লাব প্যারাডাইজ (১৯৮৬) ছবিতে ছোটখাট ভূমিকায় অভিনয় করেন। রবিন এই ছবিগুলো সম্পর্কে বলেন যে এগুলো তার চলচ্চিত্র জীবনের উন্নতিতে কোন ভূমিকা পালন করে নি।[১১]

রবিনের প্রথম বড় রকমের কাজ ছিল বেরি লেভিনসন পরিচালিত গুড মর্নিং, ভিয়েতনাম (১৯৮৭)। ছবিটি তাকে শ্রেষ্ঠ অভিনেতার জন্য একাডেমি পুরস্কারের মনোনয়ন এনে দেয় এবং তিনি শ্রেষ্ঠ সঙ্গীতধর্মী বা কমেডি চলচ্চিত্রের অভিনেতার জন্য গোল্ডেন গ্লোব পুরস্কার লাভ করেন। ১৯৬৫ সালের ভিয়েতনাম যুদ্ধ চলাকালীন সময়ের পটভূমিতে নির্মিত ছবিতে রবিন আদ্রিয়ান ক্রোনাউর নামে একজন রেডিও শক জোক চরিত্রে অভিনয় করেন, যে যুদ্ধে সৈন্যদের কৌতুক ও ব্যঙ্গের মাধ্যেম বিনোদন প্রদান করে। তাকে কোন পান্ডুলিপি দেওয়া হয় নি এবং তার লাইনগুলো নিজের মত করে করার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। মাইক্রোফোনে তিনি ওয়াল্টার ক্রোঙ্কিট, গোমার পাইল, এলভিস প্রেসলি, মিস্টার এড এবং রিচার্ড নিক্সনদের স্বর হুবহু নকল করেন।[১১] এই প্রসঙ্গে প্রযোজক মার্ক জনসন বলেন, আমরা ক্যামেরা রোল করতাম আর উইলিয়ামস প্রতিবারই নতুন কিছু করে দেখাত।"[১২]

তার পরবর্তী অধিকাংশ চরিত্রই কমেডি-কেন্দ্রিক।[১৩] তবে কমেডি এবং নাট্য সম্বলিত চরিত্রের জন্য তিনি একাডেমি পুরস্কার জয় করেন এবং মনোনয়ন লাভ করেন। ১৯৮৯ সালে ডেড পোয়েটস সোসাইটি ছবিতে একজন ইংরেজির শিক্ষক ও ১৯৯১ সালে দ্য ফিশার কিং ছবিতে বিপর্যস্ত অসহায় চরিত্রে অভিনয়ের জন্য শ্রেষ্ঠ অভিনেতার জন্য একাডেমি পুরস্কারের মনোনয়ন লাভ করেন এবং ১৯৯৭ সালে গুড উইল হান্টিং ছবিতে একজন থেরাপিস্ট চরিত্রে অভিনয়ের জন্য শ্রেষ্ঠ পার্শ্ব অভিনেতার জন্য একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন। ডেড পোয়েটস সোসাইটি ছবির শেষের দিকে একটি বেদনাদায়ক দৃশ্য ছিল, যাকে অনেক সমালোচক "একটি প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করে" বলে মন্তব্য করেন এবং তা পপ সংস্কৃতির অংশ হয়ে যায়।[১৪] গুড উইল হান্টিং ছবিতে তার অভিনয় কয়েকজন বাস্তবিক থেরাপিস্টকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে।[১৫]

১৯৯০ সালে উইলিয়ামস অ্যাওয়াকেনিংস ছবিতে অলিভার স্যাকসের ভূমিকায় অভিনয় করেন। অলিভারের লেখা বই থেকেই ছবিটি নির্মিত হয়। ১৯৯১ সালে তিনি পিটার প্যান চরিত্রে হুক ছবিতে অভিনয় করেন। এই ছবির জন্য তাকে ২৫ পাউন্ড ওজন কমাতে হয়েছিল।[১৬] এছাড়া নব্বইয়ের দশকে তিনি সমালোচক কর্তৃক সমাদৃত নাট্যধর্মী হোয়াট ড্রিমস মে কাম (১৯৯৮) এবং বাইসেন্টেনিয়াল ম্যান (১৯৯৯) ছবিতে অভিনয় করেন।[১৭]

পুরস্কার ও মনোনয়ন[সম্পাদনা]

বিজয়ী

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "Rolling Stone Interview"। ২০০৮। সংগৃহীত আগস্ট ১৩, ২০১৪ 
  2. "Jonathan Winters, who influenced Jim Carrey and Robin Williams, among others, dead at 87"। National Post। এপ্রিল ১২, ২০১৩। সংগৃহীত আগস্ট ১৩, ২০১৪ 
  3. Williams, Robin (November 14, 2006). Late Night with Conan O'Brien. Interview with Conan O'Brien. https://www.youtube.com/watch?v=NkYeZqGHh6s। সংগৃহীত হয়েছে August 12, 2014.
  4. Williams, Robin. Robin Williams, Parkinson interview 2002. Interview with Michael Parkinson. https://www.youtube.com/watch?v=4LaJDOD5cJI। সংগৃহীত হয়েছে August 12, 2014.
  5. "Free Time | Caliendo hopes 'Frank TV' makes good first impression"। Pantagraph.com। সংগৃহীত জুলাই ১, ২০১২ [অকার্যকর সংযোগ]
  6. "Robin Williams". James Lipton (host). Inside the Actors Studio (Bravo). June 10, 2001. http://www.bravotv.com/Inside_the_Actors_Studio/guest/Robin_Williams. No. 710, season 7.
  7. Katsilometes, John (আগস্ট ১১, ২০১৪)। "In Las Vegas, Robin Williams remembered as ‘one of the most beloved and respected comics ever’"। Las Vegas Sun। সংগৃহীত আগস্ট ১৩, ২০১৪ 
  8. Weatherford, Mike (আগস্ট ২১, ২০০৯)। "Comic Jo Koy finds funny material right at home without going for usual targets"। Las Vegas Review Journal। সংগৃহীত আগস্ট ১৩, ২০১৪ 
  9. Rea, Steven (আগস্ট ১৩, ২০১৪)। "Robin Williams, 63, comic genius"The Philadelphia Inquirer। সংগৃহীত আগস্ট ১৮, ২০১৪ 
  10. Spitznagel, Eric (আগস্ট ১২, ২০১৪)। "Popeye Is the Best Movie Robin Williams Ever Made"Vanity Fair। সংগৃহীত আগস্ট ১৩, ২০১৪ 
  11. Zehme, Bill (ফেব্রুয়ারি ২৫, ১৯৮৮)। "Robin Williams: The Rolling Stone Interview"Rolling Stone। পৃ: 29–32। সংগৃহীত আগস্ট ১৮, ২০১৪ 
  12. Anderegg, Michael, সম্পাদক (১৯৯১)। Inventing Vietnam: The War in Film and Television। Culture And The Moving Image: Vol 6। Philadelphia: Temple University Press। পৃ: 238। আইএসবিএন 9780877228622এএসআইএন B00DT6526E 
  13. Monk, Katherine (আগস্ট ১২, ২০১৪)। "A clown and his demons: Robin Williams mixed zany comedy, sharp satire and pathos (with video)"Vancouver Sun। সংগৃহীত আগস্ট ১২, ২০১৪ 
  14. Goodman, Jessica (আগস্ট ১১, ২০১৪)। "Robin Williams and the 'O Captain' Scene That Inspired a Generation"Huffington Post। ২০১৪-১০-২৪-এ মূল থেকে আর্কাইভ। সংগৃহীত ২০১৪-১০-২৩ 
  15. "Requiem for a Therapist: A Tribute to Robin Williams"Huffington Post। আগস্ট ১২, ২০১৪। অক্টোবর ২৪, ২০১৪-এ মূল থেকে আর্কাইভ। সংগৃহীত ২০১৪-১০-২৩ 
  16. Rolling Stone, February 21, 1991 p. 26.
  17. Brennan, Sandra। "Robin Williams"Allmovie। সংগৃহীত আগস্ট ১২, ২০১৪ 
  18. "DID ROBIN WILLIAMS EVER WIN AN EMMY? OF COURSE HE DID — HE WAS RIDICULOUSLY TALENTED, AFTER ALL", Bustle, August 2014
  19. "Robin Williams Dies", Grammy.com, August 11, 2014
  20. Robin Williams Emmys, Emmys
  21. "Aladdin"। Golden Globe Awards। সংগৃহীত মার্চ ৭, ২০১৭ 
  22. "SAG-AFTRA Statement on the Loss of Robin Williams", SAG-AFTRA, August 11, 2014
  23. "Emmy Awards Remember Robin Williams", Guardianlv, August 27, 2014

আরো পড়ুন[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]