ক্যাথরিন হেপবার্ন

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
ক্যাথরিন হেপবার্ন
Katharine Hepburn promo pic.jpg
স্টুডিও প্রচারণা ছবি, আনু. ১৯৪১
স্থানীয় নাম
Katharine Hepburn
জন্ম
ক্যাথরিন হৌটন হেপবার্ন

(১৯০৭-০৫-১২)১২ মে ১৯০৭
মৃত্যু২৯ জুন ২০০৩(2003-06-29) (বয়স ৯৬)
ফেনউইক, কানেটিকাট, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র
যেখানের শিক্ষার্থীব্রায়ান মাউর কলেজ
পেশাঅভিনেত্রী
কার্যকাল১৯২৮–১৯৯৪
দাম্পত্য সঙ্গীলুডল অগডেন স্মিথ
(বি. ১৯২৮; তালাক. ১৯৩৪)
সঙ্গীস্পেন্সার ট্রেসি
(১৯৪১; মৃ. ১৯৬৭)
পিতা-মাতাথমাস নরভাল হেপবার্ন
ক্যাথরিন মার্থা হৌটন
আত্মীয়দেখুন হৌটন পরিবার
পুরস্কারপূর্ণ তালিকা

ক্যাথরিন হৌটন হেপবার্ন (ইংরেজি: Katharine Houghton Hepburn; জন্ম: ১২ই মে, ১৯০৭ - ২৯শে জুন, ২০০৩) ছিলেন একজন মার্কিন অভিনেত্রী। তিনি ষাট বছরের অধিক সময় হলিউডের প্রধান অভিনেত্রী হিসেবে কাজ করে গেছেন। তিনি স্কুবল কমেডি থেকে শুরু করে সাহিত্যিক নাট্যধর্মীসহ অনেক ধরনের চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। তিনি চারবার শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী বিভাগে একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন, যা অভিনয় শাখায় যেকোন অভিনয়শিল্পীর জন্য সর্বোচ্চ অস্কার বিজয়।[১] ১৯৯৯ সালে আমেরিকান ফিল্ম ইনস্টিটিউট তাকে ধ্রুপদী হলিউড চলচ্চিত্রের সেরা নারী তারকা বলে ঘোষণা দেয়।

কানেটিকাটে ধনী পিতামাতার ঘরে বেড়ে ওঠা হেপবার্ন ব্রায়ান মাউর কলেজে পড়াকালীন অভিনয় শুরু করেন। মঞ্চে চার বছর অভিনয় করে ইতিবাচক সাড়া পাওয়ার পর তিনি হলিউডে মনোনিবেশ করেন। চলচ্চিত্রে তার শুরুর বছরগুলোতে তিনি সফলতা অর্জন করেন এবং তার তৃতীয় চলচ্চিত্র মর্নিং গ্লোরি (১৯৩৩) দিয়ে শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী বিভাগে একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন। কিন্তু তার পরবর্তী কয়েকটি চলচ্চিত্র ব্যবসায়িকভাবে ব্যর্থ হলে ১৯৩৮ সালে তাকে "বক্স অফিস পয়জন" উপাধি পেতে হয়। হেপবার্ন তার ঘুরে দাড়ানোর পরিকল্পনা করেন এবং তিনি শ্রেষ্ঠাংশে অভিনয় করবেন এই শর্তে আরকেও রেডিও পিকচার্সের সাথে চুক্তিতে যান ও দ্য ফিলাডেলফিয়া স্টোরি মঞ্চনাটকটির চলচ্চিত্র উপযোগকরণের স্বত্ব গ্রহণ করেন। ১৯৪০-এর দশকে তিনি মেট্রো-গোল্ডউইন-মেয়ার কোম্পানির সাথে চুক্তিবদ্ধ হন। সেখানে তিনি স্পেন্সার ট্রেসির সাথে জুটি গড়েন এবং এই যুগল ২৫ বছর একসাথে অভিনয় করেন ও ৯টি চলচ্চিত্র প্রযোজনা করেন।

হেপবার্ন পরবর্তীতে শেকসপিয়ারীয় মঞ্চনাটকে অভিনয় করেন এবং বিভিন্ন সাহিত্যিক চরিত্রে কাজ করেন। তিনি গেজ হুজ কামিং টু ডিনার (১৯৬৭), দ্য লায়ন ইন উইন্টার (১৯৬৮) এবং অন গোল্ডেন পন্ড (১৯৮১) চলচ্চিত্রে তার কাজের জন্য বাকি তিনটি অস্কার জয় করেন। ১৯৭০-এর দশকে তিনি টেলিভিশন চলচ্চিত্রে অভিনয় শুরু করেন এবং তার বাকি কর্মজীবনে টেলিভিশন পর্দায় তিনি কাজ করেছেন। তিনি বৃদ্ধ বয়স পর্যন্ত অভিনয়ে সক্রিয় ছিলেন। তিনি সর্বশেষ কাজ করেন ১৯৯৪ সালে ৮৭ বছর বয়সে। শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ায় তিনি আর কাজ করতে পারেননি এবং ২০০৩ সালে ৯৬ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন।

প্রারম্ভিক জীবন ও শিক্ষা[সম্পাদনা]

মা ও ভাইবোনদের সাথে হেপবার্ন (বামে), ১৯২১।

হেপবার্ন ১৯০৭ সালের ১২ই মে কানেটিকাটের হার্টফোর্ডে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা থমাস নরভাল হেপবার্ন (১৮৭৯-১৯৬২) ছিলেন হার্টফোর্ড হাসপাতালের ইউরোলজিস্ট এবং মাতা ক্যাথরিন মার্থা হৌটন (১৮৭৮-১৯৫১) ছিলেন একজন নারীবাদী সমাজকর্মী। তার পিতামাতা দুজনেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামাজিক পরিবর্তনের জন্য কাজ করেন। থমাস যৌনবাহিত রোগ সম্পর্কে জনগণকে শিক্ষিত করে তুলতে নিউ ইংল্যান্ড সোশ্যাল হাইজিন অ্যাসোসিয়েশন গড়ে তুলেন[২] এবং ক্যাথরিন মার্থা কানেক্টিকাট ওম্যান সাফ্রেজ অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান ছিলেন ও পরবর্তীতে মার্গারেট স্যাঙ্গারের সাথে মিলে জন্ম নিয়ন্ত্রণ বিষয়ে সামাজিক সচেতনতা গড়ে তুলেন।[৩] শৈশবে হেপবার্ন তার মায়ের সাথে কয়েকবার নারীর ভোটাধিকার আন্দোলনে যোগ দেন।[৪] হেপবার্ন ছিলেন তার পিতামাতার ছয় সন্তানের মধ্যে দ্বিতীয়। হেপবার্ন পরিবারের সন্তানদের ছেলেবেলা থেকেই বাক-স্বাধীনতার ব্যবহার এবং যে কোন বিষয়ে চিন্তা-ভাবনা ও বিতর্ক করার সুযোগ দেওয়া হত।[৫] তার পিতামাতাকে তাদের এমন অগ্রবর্তী আচরণের জন্য সমালোচিত হতে হয়েছে, ফলে হেপবার্ন এমন পরিস্থিতির বিরুদ্ধে সংগ্রাম করতে হয়েছে।[৬][৭] হেপবার্ন বলেন তিনি শৈশবেই বুঝেছিলেন তিনি দুজন খুবই খ্যাতনামা ব্যক্তির সন্তান[৮] এবং তার সৌভাগ্যময় বেড়ে ওঠাকে তার সফলতার ভিত্তি বলে উল্লেখ করেন।[৯][১০] তিনি সারাজীবন তার পরিবারের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখেছেন।[১১]

কিশোরী হেপবার্ন ছেলেদের মত চুল ছোট রাখতেন এবং নিজেকে জিমি বলে পরিচয় দিতেন।[১২] থমাস তার সন্তানদের তাদের মন ও দেহ ব্যবহারের বিষয়ে আগ্রহী ছিলেন এবং তাদের সাঁতার কাটা, দৌড়ানো, ঘোড়ায় চড়া, কুস্তি খেলা, গলফ ও টেনিস খেলা শেখাতেন।[১৩] হেপবার্নের পছন্দ ছিল গলফ। তিনি প্রতিদিনই গলফের পাঠ নিতেন এবং খুবই দক্ষ হয়ে ওঠেন। তিনি কানেক্টিকাট যুব প্রমীলা গলফ প্রতিযোগিতায় সেমি-ফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছান।[১৪] তিনি লং আইল্যান্ড সাউন্ডে সাঁতার কাটতে পছন্দ করতেন। তিনি প্রতিদিন সকালে ঠাণ্ডা-বরফ দিয়ে গোসল করতেন এবং বিশ্বাস করতেন "ঔষধ যত তিক্ত, ততই ভাল"।[১৫] হেপবার্ন শৈশব থেকেই চলচ্চিত্রের ভক্ত ছিলেন এবং প্রতি শনিবার রাতে প্রেক্ষাগৃহে চলচ্চিত্র দেখতে যেতেন।[১৬] তিনি নাভায়ো সম্প্রদায়ের জন্য তহবিল সংগ্রহের লক্ষ্যে তার প্রতিবেশী বন্ধু ও ভাইবোনদের সাথে মঞ্চনাটকে অভিনয় করতেন।[১৭]

ব্রায়ান মাউর কলেজে বইয়ে হেপবার্নের ছবি, ১৯২৮।

১৯২১ সালে ৩রা এপ্রিল গ্রিনউইচ গ্রামে বেড়াতে গিয়ে হেপবার্ন তার বড় ভাই টমের মৃত দেহ খুঁজে পান।[১৮] টমকে একটি খুটিতে চাদর পেঁচানো অবস্থায় পাওয়া যায়।[১৯] হেপবার্ন পরিবার তার আত্মহত্যার বিষয়টি নাকচ করে দিয়ে বলেন টম সম্ভবত কোন প্রকার নিরীক্ষাধর্মী কাজ করতে গিয়েছিল কিন্তু তাতে ভুল হয়েছিল।[২০] এই ঘটনা কিশোরী হেপবার্নকে উদ্বিগ্ন, বদমেজাজি ও সন্দেহপ্রবণ করে তুলে।[২১] তিনি অন্য বাচ্চাদের এড়িয়ে চলতেন এবং অক্সফোর্ড স্কুল থেকে ঝড়ে পরায় বাড়িতেই শিক্ষাগ্রহণ করেন।[২২] অনেক বছর তিনি টমের জন্মদিন (৮ নভেম্বর) নিজের জন্মদিন হিসেবে পালন করতেন। ১৯৯১ সালে তার আত্মজীবনী মি: স্টোরিজ অব মাই লাইফ প্রকাশিত হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত কেউ তার সত্যিকার জন্মদিন জানত না।[২৩]

১৯২৪ সালে হেপবার্ন ব্রায়ান মাউর কলেজে ভর্তি হন। তিনি তার মাকে খুশির করার জন্য এই প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হন। তার মাও এই প্রতিষ্ঠানে পড়াশুনা করেন। হেপবার্ন এই প্রতিষ্ঠানে তার পড়াশুনার অভিজ্ঞতা অপছন্দ করেন।[২৪] বেশ কয়েক বছর আবার স্কুলে আসায় তিনি আত্ম-সচেতন ছিলেন এবং তার সহপাঠীদের সাথে মিশতে পারতেন না।[২৫] তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের পাণ্ডিত্যপূর্ণ চাহিদা মেটাতে কষ্ট করেন এবং একবার তার কক্ষে ধূমপানের জন্য বহিষ্কৃত হন।[২৬] হেপবার্ন অভিনয়ের প্রতি আকৃষ্ট হন, কিন্তু কলেজে ভালো ফলাফলকারীরা মূল চরিত্রগুলোতে অভিনয়ের সুযোগ পেতেন। একবার তার ফলাফলে উন্নতি হলে তিনি নিয়মিত অভিনয় শুরু করেন।[২৬] তিনি দ্য ওম্যান ইন দ্য মুন নাটকে মূল চরিত্রে অভিনয় করেন এবং এর ইতিবাচক সাড়া তাকে মঞ্চে অভিনয়ের শুরু করতে অনুপ্রাণিত করে।[১৪] তিনি ১৯২৮ সালের জুনে ইতিহাস ও দর্শন বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন।[২৭]

কর্মজীবন[সম্পাদনা]

১৯২৮-৩২: মঞ্চনাটকে আগমন[সম্পাদনা]

হেপবার্ন অভিনেত্রী হওয়ার সংকল্প নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ত্যাগ করেন।[২৮] স্নাতক সম্মান অর্জনের পরের দিন তিনি বাল্টিমোরে এডউইন এইচ. নফের সাথে সাক্ষাৎ করতে যান। নফ তখন একটি সফল স্টক মঞ্চ কোম্পানি চালাতেন।[২৯] হেপবার্নের আগ্রহে মুগ্ধ হয়ে নফ তাকে সে সময়ে চলমান দ্য জারিনা মঞ্চনাটকে অভিনয়ের সুযোগ দেন।[৩০] তিনি তার ছোট এই চরিত্রের জন্য ইতিবাচক পর্যালোচনা অর্জন করেন এবং মুদ্রিত সংস্করণে তার অভিনয়কে "স্তব্ধ" করে দেওয়ার মত বলে উল্লেখ করা হয়।[৩১] পরবর্তী সপ্তাহের একটি নাটকে তাকে আরেকটি চরিত্রে কাজের সুযোগ দেওয়া হয়, কিন্তু তার দ্বিতীয় কাজ কিছুটা কম সমাদৃত হয়। তার কটু কণ্ঠের জন্য তাকে সমালোচিত হতে হয়, এবং এর ফলে তিনি বাল্টিমোর ছেড়ে দিয়ে নিউ ইয়র্ক সিটিতে এক কণ্ঠ প্রশিক্ষকের কাছে পাঠ গ্রহণ করতে যান।[৩২]

নফ নিউ ইয়র্কে দ্য বিগ পন্ড মঞ্চস্থ করার সিদ্ধান্ত নেন এবং পাঠরত হেপবার্নকে শ্রেষ্ঠাংশে কাজের জন্য নিয়োগ দেন। মূলত নাটকটি মঞ্চস্থ করার এক সপ্তাহ পূর্বে পূর্ব নির্বাচিত প্রধান অভিনেত্রীকে বাদ দেওয়া হয় এবং তার স্থলে হেপবার্নকে নেওয়া হয়। ফলে তিনি তার মঞ্চ কর্মজীবনের চতুর্থ সপ্তাহেই শ্রেষ্ঠাংশে কাজ করার সুযোগ পান।[৩৩] নাটকটির উদ্বোধনী রাতে হেপবার্ন দেরি করে আসেন, তার সংলাপ গুলিয়ে ফেলেন, লঘু পদক্ষেপ ফেলেন এবং এতো দ্রুত সংলাপ বলছিলেন যে তা বোধগম্য হচ্ছিল না।[৩২] তাকে অতিসত্তর বাদ দেওয়া হয় এবং পূর্ব নির্বাচিত প্রধান অভিনেত্রীকে পুনরায় নিয়ে আসা হয়। হেপবার্ন প্রযোজক আর্থার হপকিন্সের সাথে যোগ দেন এবং দিজ ডেজ নাটকে স্কুল বালিকা চরিত্রে অভিনয় করেন। ১৯২৮ সালের ১২ই নভেম্বর কর্ট থিয়েটারে তার ব্রডওয়ে মঞ্চস্থ নাটকে অভিষেক হয়। কিন্তু নাটকটি নেতিবাচক সমালোচনা লাভ করলে আট রাত চলার পর তা বন্ধ হয়ে যায়।[৩২] হপকিন্স হেপবার্নকে ফিলিপ ব্যারির হলিডে নাটকে কাজের জন্য নিয়োগ দেন। ডিসেম্বর মাসের শুরুর দিকে মাত্র দুই সপ্তাহ পর তিনি তার কলেজে পরিচিত হওয়া লুডলো ওগডেন স্মিথকে বিয়ে করার জন্য তিনি এই কাজ ছেড়ে দেন। তিনি মঞ্চে অভিনয় ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন, কিন্তু তার কাজের মায়া ত্যাগ করতে পারেন না এবং পুনরায় হলিডে নাটকে কাজ শুরু করেন। তিনি এই নাটকে আরও ছয় মাস কাজ করেন।[৩৪]

দ্য ওয়ারিয়র্স হাজবেন্ড (১৯৩২) নাটকের দৃশ্যে হেপবার্ন।

১৯২৯ সালে হেপবার্ন ডেথ টেকস আ হলিডে নাটকে শ্রেষ্ঠাংশে অভিনয় করার জন্য থিয়েটার গিল্ডের একটি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি মনে করেন তিনি এই চরিত্রের জন্য যোগ্য, তবুও তাকে বাদ দেওয়া হয়,[৩৫] তিনি গিল্ডের নাটকে ফিরে যান এবং খুবই অল্প পারিশ্রমিক আ মান্‌থ ইন দ্য কান্ট্রি নাটকে ছোট চরিত্রে অভিনয় করেন। ১৯৩০ সালের বসন্তে হেপবার্ন ম্যাসাচুসেটসের স্টকব্রিজের একটি স্টক কোম্পানিতে যোগ দেন। তিনি গ্রীষ্মের মাঝামাঝি পর্যন্ত কাজ করার পর এই নাটক ছেড়ে চলে যান এবং নাট্য শিক্ষকের কাছে পাঠ গ্রহণ চালিয়ে যান।[৩৬] ১৯৩১ সালের শুরুর দিকে তাকে ব্রডওয়ের আর্ট অ্যান্ড মিসেস বোটল নাটকের জন্য তাকে নির্বাচিত করা হয়। কিন্তু নাট্যকার তাকে পছন্দ না করায় তাকে এই ভূমিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়। তিনি বলেন, "তাকে দেখতে ভীত লেগেছিল, তার আচরণ প্রশ্নবিদ্ধ এবং তার কোন প্রতিভা নেই।" কিন্তু অন্য কোন অভিনেত্রীকে পাওয়া না যাওয়ায় হেপবার্নকেই আবার নিয়োগ দেওয়া হয়।[৩৭] নাটকটি অল্প-বিস্তর সফলতা লাভ করে।[৩৮]

হেপবার্ন কানেক্টিকাটের আইভরিটনে গ্রীষ্মকালীন স্টক কোম্পানিতে বেশ কয়েকটি মঞ্চনাটকে অভিনয় করেন এবং নিজেকে হিটের তালিকায় নিয়ে আসেন।[৩৭] ১৯৩১ সালে গ্রীষ্মে ফিলিপ ব্যারি তাকে তার নতুন নাটক দ্য অ্যানিমেল কিংডম-এ লেসলি হাওয়ার্ডের বিপরীতে অভিনয়ের জন্য বলেন। তারা নভেম্বরে মহড়া শুরু করেন। হেপবার্ন মনে করতে থাকেন এই চরিত্রটি তাকে তারকা খ্যাতি এনে দিবে, কিন্তু হাওয়ার্ড তাকে অপছন্দ করেন এবং আবার তাকে বাদ দেওয়া হয়।[৩৯] যখন তিনি ব্যারির কাছে জানতে চান তাকে কেন বাদ দেওয়া হল, তখন ব্যারি জানান তার কাজ খুব ভালো ছিল না।[৩৯] এতে হেপবার্নের কর্মজীবন অনিশ্চিত হয়ে পড়ে, কিন্তু তিনি কাজ খুঁজতে থাকেন।[৪০] তিনি একটি আসন্ন মঞ্চস্থ নাটকে ছোট ভূমিকায় কাজ পান। কিন্তু যখন মহড়া শুরু হয় তাকে গ্রিক নীতিকথা অবলম্বনে প্রস্তুতকৃত এই নাটক দ্য ওয়ারিয়র্স হাসবেন্ড-এর প্রধান নারী চরিত্রের জন্য মহড়া দিতে বলা হয়।[৪১]

দ্য ওয়ারিয়র্স হাসবেন্ড নাটকটি ছিল তাকে ঘুরে দাঁড়াতে সাহায্য করে। জীবনীকার চার্লস হাইয়াম বলেন এই চরিত্রটি তার জন্য আদর্শ চরিত্র ছিল, যার জন্য তেজদীপ্ত ও ব্যায়ামদক্ষ হওয়া প্রয়োজন ছিল, এবং তিনি আগ্রহের সাথেই এই কাজে নিজেকে যুক্ত করেন।[৪২] নাটকটি ১৯৩২ সালের ১১ই মার্চ মরস্কো থিয়েটারে ব্রডওয়েতে মঞ্চস্থ হয়। নাটকটি তিন মাস চলে এবং হেপবার্ন ইতিবাচক সমালোচনা অর্জন করেন।[৪৩] নিউ ইয়র্ক ওয়ার্ল্ড-টেলিগ্রামের রিচার্ড গারল্যান্ড লিখেন, "অনেক রাত পর জমকালো এই অভিনয় ব্রডওয়ে দৃশ্যকে উজ্জ্বল করে তুলেছে।"[৪৪]

১৯৩২-৩৪: হলিউডে সফলতা[সম্পাদনা]

আ বিল অব ডিভোর্সমেন্ট (১৯৩২), হেপবার্নের প্রথম চলচ্চিত্র অভিনয়।

হলিউড এজেন্ট লিল্যান্ড হেওয়ার্ড দ্য ওয়ারিয়র্স হাসবেন্ড নাটকে তার অভিনয় দেখেন এবং তাকে সিডনি ফেয়ারফিল্ডের আসন্ন আরকেও চলচ্চিত্র আ বিল অব ডিভোর্সমেন্ট-এর জন্য পরীক্ষা দিতে বলেন।[৪৫] পরিচালক জর্জ কিউকার মুগ্ধ হয়ে তাকে "অদ্ভুত প্রজাতি" বলে উল্লেখ করেন এবং বলেন হেপবার্ন "আমি কখনো শুনিনি এমন ছিলেন।" কিউকার তার গ্লাস তোলার আচরণটি পছন্দ করে বলেন "আমি মনে করি তিনি এই কাজের জন্য খুবই প্রতিভাবান।"[৪৬] তাকে এই চরিত্রের জন্য প্রস্তাব দেওয়া হলে হেপবার্ন প্রতি সপ্তাহে ১,৫০০ মার্কিন ডলার দাবী করেন, যা একজন অখ্যাত অভিনেত্রীর জন্য বড় অংকের পারিশ্রমিক।[৪৭] কিউকার স্টুডিওকে তার দাবী মেনে নিতে বলেন এবং তারা হেপবার্নের সাথে তিন সপ্তাহের একটি চুক্তিতে আবদ্ধ হয়।[২৮][৪৮] [ক]

হেপবার্ন ১৯৩২ সালের জুলাইয়ে ২৫ বছর বয়সে ক্যালিফোর্নিয়ায় আগমন করেন। তিনি আ বিল অব ডিভোর্সমেন্ট চলচ্চিত্রে জন ব্যারিমোরের বিপরীতে অভিনয় করেন, কিন্তু তার মধ্যে কোন ভীতি ছিল না।[৪৯][৫০] যদিও তিনি চলচ্চিত্রে অভিনয়ের প্রকৃতির সাথে একাত্ম হতে সময় নেন, তিনি শুরু থেকেই এই শিল্পের প্রতি আগ্রহী ছিলেন।[৫১] যাই হোক, চলচ্চিত্রটি সফলতা লাভ করে এবং হেপবার্ন ইতিবাচক সমালোচনা অর্জন করেন।[৫২] দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসের মরডন্ট হল তার অভিনয়কে চমৎকার বলে উল্লেখ করে বলেন, "মিস হেপবার্নের চরিত্রায়ন পর্দায় অন্যতম সুন্দর কাজ ছিল।"[৫৩] ভ্যারাইটি এক পর্যালোচনায় লিখে, "ক্যাথরিন হেপবার্ন তার প্রথম চলচ্চিত্রের কাজে বিদীর্ণকারী ভাব প্রকাশ করেছেন। তার মধ্যে আবশ্যকীয় এমন কিছু রয়েছে যা তাকে আলাদা করেছে।"[৫৪] আ বিল অব ডিভোর্সমেন্ট চলচ্চিত্রের সফলতার পর আরকেও তার সাথে দীর্ঘ চুক্তিতে আবদ্ধ হয়। জর্জ কিউকার তার আজিবনের বন্ধু ও সহকর্মী হয়ে যান এবং তারা একত্রে দশটি চলচ্চিত্রে কাজ করেন।[৫৫]

লিটল ওমেন (১৯৩৩) চলচ্চিত্রে জো মার্চ চরিত্রে হেপবার্ন। সে সময়ের অন্যতম সফল চলচ্চিত্র

হেপবার্নের দ্বিতীয় চলচ্চিত্র ছিল ক্রিস্টোফার স্ট্রং (১৯৩৩)। এটি ছিল একজন মহিলা বৈমানিক ও একজন বিবাহিত পুরুষের সাথে তার সম্পর্কের গল্প। চলচ্চিত্রটি বাণিজ্যিকভাবে সফল না হলেও হেপবার্ন ইতিবাচক সমালোচনা লাভ করেন।[৫৬] জার্নাল আমেরিকানে রেজিনা ক্রিউ লিখেন, "যদিও তার আচরণগুলো বিরক্ত লাগছিল, তারা মনোযোগ ধরে রেখেছিল এবং দর্শকদের মুগ্ধ করেছিল। তিনি স্বতন্ত্র, যথাযথ এবং ইতিবাচক ব্যক্তিত্ব।"[৫৭] হেপবার্নের তৃতীয় চলচ্চিত্র তাকে হলিউডের বড় অভিনেত্রী হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করে।[৫৮] তিনি মর্নিং গ্লোরি চলচ্চিত্রে একজন প্রতিশ্রুতিশীল অভিনেত্রী ইভা লাভলেস চরিত্রে অভিনয় করেন। চরিত্রটি প্রথম অভিনেত্রী কনস্ট্যান্স বেনেটের করার কথা ছিল। হেপবার্ন প্রযোজক পান্ড্রো এস. বারম্যানের টেবিলের উপর এই চলচ্চিত্রের পান্ডুলিপি দেখেন এবং তাকে বুঝাতে সক্ষম হন যে তিনি এই চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য জন্মগ্রহণ করেন এবং তাকে এই চরিত্র প্রদানের জন্য পীড়াপীড়ি করেন।[৫৯] যাই হোক, এই চরিত্রে অভিনয়ের জন্য তিনি তার প্রথম শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর জন্য একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন। হেপবার্ন অস্কার আয়োজনে অংশগ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত নেন। এটি মূলত তার কর্মজীবনের ব্যাপ্তির জন্য নয়, বরং বিজয়ের উত্তেজনার জন্য।[৬০] লিটল ওমেন (১৯৩৩) চলচ্চিত্রে জো চরিত্রে অভিনয় করেও তিনি সফল হন। ছবিটি হিট হয়, যা সে সময়ের চলচ্চিত্র শিল্পের অন্যতম সফল চলচ্চিত্র ছিল।[৪৯] হেপবার্ন ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর পুরস্কার লাভ করেন। লিটল ওমেন হেপবার্নের অন্যতম ব্যক্তিগত প্রিয় চলচ্চিত্র ছিল এবং তিনি তার এই কাজ নিয়ে গর্ব করতেন ও পরবর্তী সময়ে বলেন, "আমি যে কাউকে এই চরিত্রে আমার মত ভাল করতে আহ্বান জানাই।"[৫৮]

১৯৩৩ সালের শেষের দিকে হেপবার্ন সম্মানিত চলচ্চিত্র অভিনেত্রী হয়ে ওঠেন, কিন্তু তিনি তখনও ব্রডওয়েতে নিজেকে প্রমাণ করতে উদগ্রীব ছিলেন।[৬১] ১৯২০-এর দশকের অন্যতম মঞ্চ প্রযোজক জেড হ্যারিস তার কর্মজীবন পতনের দিকে যাচ্ছিল।[৬২] তিনি হেপবার্নকে দ্য লেক নাটকে অভিনয় করার প্রস্তাব দেন। অল্প পারিশ্রমিক হলেও তিনি এতে রাজি হন।[৬৩] আরকেও ছাড়ার পূর্বে তারা হেপবার্নকে স্পিটফায়ার (১৯৩৪) চলচ্চিত্রে অভিনয় করতে বলেন। হেপবার্ন এতে পর্বতশ্রেণির পার্শ্ববর্তী একজন অশিক্ষিত বালিকা ট্রিগার হিক্‌স চরিত্রে অভিনয় করেন। ছবিটি হেপবার্নের কর্মজীবনের সবচেয়ে বাজে চলচ্চিত্র বলে বিবেচিত হয়, এবং হেপবার্ন নিজেও নেতিবাচক সমালোচনা লাভ করেন।[৬৪] তিনি "নিজেকে বিনয়ী রাখতে" বাকি জীবন তার শোওয়ার ঘরে হিক্‌সের একটি ছবি রেখে দেন।[৬৫]

দ্য লেক মঞ্চনাটকটি ওয়াশিংটন ডিসিতে মঞ্চস্থ হয় এবং অনেক অগ্রিম টিকেট বিক্রি হয়। হ্যারিসের নির্দেশনার দুর্বলতা হেপবার্নের আত্মবিশ্বাস কমিয়ে দেয় এবং তিনি তাঁর অভিনয় খারাপ হতে থাকে।[৬৬] তা স্বত্ত্বেও হ্যারিস আরও অভিনয়ের পুনরাবৃত্তি না করেই নিউ ইয়র্কে নাটকটি মঞ্চস্থ করেন। ১৯৩৩ সালের ২৬শে ডিসেম্বর মার্টিন বেক থিয়েটারে নাটকটি মঞ্চস্থ হয় এবং হেপবার্নের কাজ সমালোচকদের মিশ্র প্রতিক্রিয়া লাভ করে।[৬৭] ডরোথি পার্কার লিখেন, "তিনি তাঁর ভাবভঙ্গির স্বরগ্রাম এ থেকে বি তে উত্থান-পতন করতে থাকেন।"[৬৮] দশ সপ্তাহের জন্য চুক্তিবদ্ধ হওয়ার পর তাঁকে বক্স অফিসে বিক্রি কমতে থাকার লজ্জা সহ্য করতে হয়।[৬৯] হ্যারিস এই নাটকটি নিয়ে শিকাগো যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন এবং তাঁকে বলেন যে তাঁকে দিয়ে তিনি টাকা উপার্জন করতে চান। হেপবার্ন এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন এবং এর পরিবর্তে এই নাটকটি বন্ধের জন্য হ্যারিসকে ১৪,০০০ মার্কিন ডলার প্রদান করেন।[৭০] পরবর্তীতে তিনি হ্যারিস সম্পর্কে বলেন, আমি আমার জীবনের সবচেয়ে দানবীয় লোকের কাছে আত্মসমার্পন করেছিলাম,"[৬২] এবং দাবী করেন এই অভিজ্ঞতা তার কর্মজীবনের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা ছিল।[৭১]

১৯৩৪-৩৮: ব্যর্থতা[সম্পাদনা]

ম্যারি অব স্কটল্যান্ড (১৯৩৬) হেপবার্নের কয়েকটি ঠানা ব্যর্থ চলচ্চিত্রের একটি।

স্পিটফায়ারদ্য লেক-এ ব্যর্থ হওয়ার পর হেপবার্ন জেমস ব্যারির ভিক্টোরীয় যুগের উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত দ্য লিটল মিনিস্টার (১৯৩৪) চলচ্চিত্রে শ্রেষ্ঠাংশে অভিনয় করেন। আরকেও মূলত লিটল ওম্যান চলচ্চিত্রের সফলতাকে কাজে লাগাতে চেয়েছিল।[৭২] কিন্তু তার পুনরাবৃত্তি হয়নি, এবং চলচ্চিত্রটি বাণিজ্যিকভাবে ব্যর্থ হয়।[৭৩] চার্লস বয়ারের বিপরীতে প্রণয়ধর্মী নাট্য চলচ্চিত্র ব্রেক অব হার্টস (১৯৩৫) ও নেতিবাচক সমালোচনা লাভ করে ও বাণিজ্যিকভাবে ব্যর্থ হয়।[৭৪] তিনটি চলচ্চিত্রে ব্যর্থ হওয়ার পর অ্যালিস অ্যাডামস (১৯৩৫) চলচ্চিত্রে তিনি আবার সফলতা লাভ করেন। ছবিতে একজন তরুণীর সমাজে উপরের স্তরে ওঠার প্রচেষ্টা ও সংকল্প দেখানো হয়েছে। হেপবার্ন বইটি পছন্দ করেন এবং এই চলচ্চিত্রে কাজ করার প্রস্তাব পেয়ে অত্যন্ত খুশি হন।[৭৫] চলচ্চিত্রটি হিট হয় এবং তার ব্যক্তিগত প্রিয় চলচ্চিত্র ছিল। তিনি তার দ্বিতীয় অস্কারের মনোনয়ন লাভ করেন এবং বিজয়ী বেটি ডেভিসের পর দ্বিতীয় সর্বাধিক ভোট পান।[৭৬]

হেপবার্নকে পরবর্তী কাজ নিজে পছন্দ করে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হলে তিনি জর্জ কিউকারের সিলভিয়া স্কারলেট (১৯৩৫) চলচ্চিত্রে শ্রেষ্ঠাংশে অভিনয় করার সিদ্ধান্ত নেন। এতে তিনি প্রথমবারের মত ক্যারি গ্রান্টের বিপরীতে কাজ করেন।[৭৬] এই চরিত্রের জন্য তার চুল কেটে ছোট করা হয় এবং চলচ্চিত্রের বেশির ভাগ অংশে তাকে ছেলেদের মত দেখা যায়। সমালোচকেরা সিলভিয়া স্কারলেটকে অপছন্দ করেন এবং দর্শকদের কাছে ছবিটি জনপ্রিয়তা লাভ করেনি।[৭৭] তিনি পরবর্তীতে জন ফোর্ড পরিচালিত ম্যারি অব স্কটল্যান্ড (১৯৩৬) চলচ্চিত্রে ম্যারি স্টুয়ার্ট চরিত্রে অভিনয় করেন। এটিও পূর্ববর্তী চলচ্চিত্রের জন্য নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া অর্জন করে।[৭৮] তার পরবর্তী চলচ্চিত্র আ ওম্যান রেবেল্‌স (১৯৩৬) ছিল ভিক্টোরীয় যুগীয় গল্প, যেখানে হেপবার্নের চরিত্রটি বিবাহ বহির্ভূত সন্তান জন্মদান করে সামাজিক প্রথা ভাঙ্গার আহ্বান জানায়।[৭৯] অন্যদিকে কোয়ালিটি স্ট্রিট (১৯৩৭) ছিল হাস্যরসাত্মক চলচ্চিত্র। এই দুটি চলচ্চিত্রও জনপ্রিয়তা লাভ করতে পারেনি। ফলে তার অভিনীত ঠানা চারটি চলচ্চিত্র ব্যর্থ হয়।[৮০]

কয়েকটি চলচ্চিত্রটি ব্যর্থ হওয়ার পাশাপাশি হেপবার্নের আচরণেও পরিবর্তন দেখা দেয়।[৮১] গণমাধ্যমের সাথে তার সম্পর্ক খারাপ হতে থাকে, তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের সাথে বিরূপ ও উত্তেজিত ব্যবহার করতে থাকেন।[৮২][খ] তিনি সাক্ষাৎকার দিতেন না এবং স্বাক্ষর দেওয়ার অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করতেন। ফলে তাকে "বদমেজাজী ক্যাথরিন" নামে ডাকা হতো।[৮২][৮৪] দর্শকও তার বালকসুলভ আচরণ ও পোশাকের পছন্দে হতবুদ্ধি হতো এবং তিনি খুবই অজনপ্রিয় হয়ে ওঠতে থাকেন।[৮৫] হেপবার্ন মনে করেন তার হলিউড ছেড়ে দেওয়া দরকার,[৮৬] তাই তিনি জেন আয়ারের মঞ্চস্থ একটি নাটকে শ্রেষ্ঠাংশে অভিনয় করেন। নাটকটির একটি সফর সফল হয়,[৮৭] কিন্তু পাণ্ডুলিপির বিষয়ক অনিশ্চয়তা ও দ্য লেক নাটকের মত ব্যর্থ হওয়ার ঝুঁকির কথা ভেবে হেপবার্ন নাটকটি ব্রডওয়েতে না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।[৮৬] ১৯৩৬ সালের শেষের দিকে হেপবার্ন গন উইথ দ্য উইন্ড চলচ্চিত্রের স্কারলেট ওহারা চরিত্রের জন্য পরীক্ষা দেন।[৮৮] প্রযোজক ডেভিড ও. সেলৎসনিক তাকে এই চরিত্রে নিতে মানা করেন, কারণ তার কাছে মনে হয়েছিল হেপবার্নের মধ্যে যৌন আবেদন নেই।[গ]

ব্রিংগিং আপ বেবি (১৯৩৮) ছবিটি ফ্লপ হয় কিন্তু এর ধ্রুপদী স্ক্রুবল কমেডির জন্য খ্যাতি লাভ করে।[৯০]

হেপবার্নের পরবর্তী চলচ্চিত্র স্টেজ ডোর (১৯৩৭) এ জিঞ্জার রজার্সের সাথে কাজ করেন। এতে তিনি তার নিজের জীবনের প্রতিবিম্ব চরিত্রে অভিনয় করেন, যেখানে একজন বিত্তবান তরুণী অভিনেত্রী হওয়ার চেষ্টা করছে।[৯১] ছবি মুক্তির পূর্বতন পর্যালোচনায় হেপবার্নের কাজ প্রসংসিত হন এবং এতে তিনি রজার্সের চেয়ে বেশি পারিশ্রমিক লাভ করেন।[৯২] ছবিটি শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র বিভাগে একাডেমি পুরস্কারের মনোনয়ন লাভ করে, কিন্তু আরকেওর প্রত্যাশা অনুযায়ী বক্স অফিসে হিট হতে পারেনি।[৯১] চলচ্চিত্র শিল্পের পণ্ডিতেরা এই অল্প মুনাফার জন্য হেপবার্নকে দোষারোপ করেন, কিন্তু স্টুডিওটি তার জনপ্রিয়তা পুনর্জ্জীবিত করার প্রতিজ্ঞা রাখে।[৯৩] তারা তাকে হাওয়ার্ড হকসের স্ক্রুবল কমেডি ব্রিংগিং আপ বেবি (১৯৩৮) চলচ্চিত্রে সুযোগ দেয়। তিনি আত্মবিশ্বাসের সাথে চলচ্চিত্রে কাজ করেন,[৯৩] এবং তার সহশিল্পী ওয়াল্টার ক্যাটলেটের কাছ থেকে হাস্যরসাত্মক কাজের শিক্ষা নেন।[৯৪] সমালোচকেরা চলচ্চিত্রটির প্রশংসা করেন, তবুও চলচ্চিত্রটি বক্স অফিসে ব্যর্থ হয়।[৯৫] জীবনীকার এ. স্কট মনে করেন হেপবার্নকে চলচ্চিত্রগামী দর্শকদের প্রত্যাখ্যান করার কারণে সে সময়ে চলচ্চিত্রের এই ধরন এবং গ্র্যান্টের বিপুল জনপ্রিয়তার পরও এই চলচ্চিত্রটি ব্যর্থ হয়।[৯৬]

ব্রিংগিং আপ বেবি মুক্তির পর ইন্ডিপেন্ডেন্ট থিয়েটার ওনার্স অব আমেরিকা হেপবার্নকে তাদের "বক্স অফিস পয়জন" তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে।[৯৬] তার যশ কমতে থাকলে আরকেও তাকে তাদের পরবর্তী চলচ্চিত্র মাদার ক্যারিস চিকেন্‌স নামে একটি বি শ্রেণীর চলচ্চিত্রের প্রস্তাব দেয়।[৯৬] হেপবার্ন এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন এবং তার চুক্তির ৭৫,০০০ মার্কিন ডলার ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।[৯৭] অনেক অভিনয়শিল্পী তখন এই স্টুডিও ছাড়তে ভয় পেত, কিন্তু হেপবার্নের নিজস্ব সম্পত্তির কারণে তিনি স্বাধীনভাবে কাজ করার সিদ্ধান্ত নেন।[৯৮] তিনি কলাম্বিয়া পিকচার্সের হলিডে (১৯৩৮) চলচ্চিত্রের জন্য চুক্তিবদ্ধ হন। এতে তিনি তৃতীয়বারের মত গ্র্যান্টের বিপরীতে কাজ করেন। ছবিতে তিনি উচ্চবিত্ত তরুণী চরিত্রে অভিনয় করেন, যে তার বোনের বাগদত্তার সাথে সম্পর্কে জড়িয়ে যায়। হাস্যরসাত্মক এই চলচ্চিত্রটি ইতিবাচক পর্যালোচনা লাভ করলেও দর্শকদের আকৃষ্ট করতে ব্যর্থ হয়।[৯৯] ফলে তার পরবর্তী চলচ্চিত্রের জন্য ১০,০০০ মার্কিন ডলার পারিশ্রমিকের প্রস্তাব আসে, যা তার প্রথম চলচ্চিত্রের পারিশ্রমিকের চেয়েও কম।[১০০][ঘ]

১৯৩৯-৪২: পুনরায় সাফল্য[সম্পাদনা]

ব্রডওয়েতে দ্য ফিলাডেলফিয়া স্টোরি (১৯৩৯) মঞ্চনাটকে হেপবার্ন।

চলচ্চিত্র কর্মজীবনের ব্যর্থতার পর হেপবার্ন নিজেই নিজের ফিরে আসার পদক্ষেপ নেন। তিনি হলিউড ছেড়ে দিয়ে মঞ্চে কাজের খোঁজ করেন এবং ফিলিপ ব্যারির নতুন মঞ্চনাটক দ্য ফিলাডেলফিয়া স্টোরি-তে শ্রেষ্ঠাংশে অভিনয়ের জন্য চুক্তিবদ্ধ হন। এতে তাকে হাস্যরসসমৃদ্ধ, ক্রোধোন্মত্ত, উদ্বিগ্ন ও ভঙ্গুর ট্রেসি লর্ড চরিত্রে দেখা যায়।[১০২] হেপবার্নের সে সময়ের সঙ্গী হাওয়ার্ড হিউজ বুঝতে পারেন এই নাটকটি তার পুনরায় হলিউডের তারকাখ্যাতি ফিরিয়ে দিতে পারে এবং তিনি তাকে সদ্য মঞ্চায়িত হওয়ার এই নাটকের চলচ্চিত্র স্বত্ব কিনে দেন।[১০৩] দ্য ফিলাডেলফিয়া স্টোরি নাটকটি প্রথমে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সফর করে এবং ইতিবাচক পর্যালোচনা লাভ করে। পরবর্তীতে ১৯৩৯ সালের ২৮শে মার্চ নিউ ইয়র্কের শুবার্ট থিয়েটারে নাটকটি মঞ্চায়িত হয়।[১০৪][১০৫] এটি সমালোচনামূলক ও ব্যবসায়িক দুই দিক থেকেই হিট হয় এবং ৪১৭টি প্রদর্শনী হওয়ার পর দ্বিতীয়বার আরেকটি সফল সফরে বের হয়।[২৮]

দ্য ফিলাডেলফিয়া স্টোরি (১৯৪০) চলচ্চিত্রে জেমস স্টুয়ার্টের সাথে ট্রেসি লর্ড চরিত্রে হেপবার্ন। হেপবার্ন বলেন আমি তাকে জীবন দিয়েছি, সে আমাকে আমার কর্মজীবন ফিরিয়ে দিয়েছে।[২৯]

কয়েকটি বড় প্রযোজনা কোম্পানি ব্যারি এই নাটকটির চলচ্চিত্র সংস্করণ প্রযোজনা করতে হেপবার্নকে প্রস্তাব দেয়।[১০৬] তিনি নিজেই এতে শ্রেষ্ঠাংশে অভিনয় করবেন এই শর্তে তিনি হলিউডের এক নাম্বার স্টুডিও মেট্রো-গোল্ডউইন-মেয়ারের কাছে এর স্বত্ব বিক্রয় করেন।[১০৭] চুক্তির অংশ হিসেবে তিনি নিজেই পরিচালক হিসেবে জর্জ কিউকারকে নির্বাচন করেন এবং সহ-শিল্পী হিসেবে জেমস স্টুয়ার্টক্যারি গ্রান্টকে নির্বাচন করেন এবং তাদের নিজের থেকে বেশি পারিশ্রমিক দেন।[১০৮] চিত্রায়ন শুরুর পূর্বে হেপবার্ন চালাকি করে বলেন, "এই চলচ্চিত্রে আমি নিজের জন্য বড় আয়োজন রাখতে চাইনি।" তাই চলচ্চিত্রটি শুরু এমন দৃশ্য দিয়ে যেখানে গ্র্যান্ট হেপবার্নের ফ্ল্যাটে ঠোকা দিচ্ছেন এবং হেপবার্নকে পিছন দিক থেকে দেখানো হচ্ছে।[১০৯] বার্গ এই চরিত্রটি কীভাবে দর্শকদের মনে গেঁতে গিয়েছিল এই প্রসঙ্গে বলেন, "তাকে নিয়ে যথেষ্ঠ হাসিঠাট্টা হওয়ার পর তার প্রতি সহানুভূতি চলে এসেছিল।" হেপবার্ন মনে করেছিলেন তার ভাবমূর্তি ফিরিয়ে আনতে এরকম করাটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল।[১১০] দ্য ফিলাডেলফিয়া স্টোরি চলচ্চিত্রটি ১৯৪০ সালের অন্যতম হিট চলচ্চিত্র ছিল। এটি রেডিও সিটি মিউজিক হলে টিকেট বিক্রির পূর্ববর্তী রেকর্ড ভেঙ্গে দিয়েছিল।[২৮] টাইম সাময়িকীর পর্যালোচনায় বলা হয়, "ক্যাটি, ফিরে আসুন, সবকিছু ক্ষমা করে দেওয়া হল।"[১১১] ভ্যারাইটির হার্ব গোল্ডেন বলেন, "এটি ছিল ক্যাথরিন হেপবার্নের চলচ্চিত্র... গল্পটি তাকে ছাড়া অভাবনীয় ছিল।"[১১২] হেপবার্ন ট্রেসি লর্ড চরিত্রে তার কাজের জন্য শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী বিভাগে তার তৃতীয় একাডেমি পুরস্কারের মনোনয়ন লাভ করেন এবং শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী বিভাগে নিউ ইয়র্ক ক্রিটিকস সার্কেল পুরস্কার লাভ করেন।[১১৩][১১৪]

হেপবার্নের পরবর্তী চলচ্চিত্র ছিল ওম্যান অব দ্য ইয়ার। প্রণয়ধর্মী হাস্যরসাত্মক এই ছবিতে তিনি একজন রাজনৈতিক সাংবাদিক চরিত্রে অভিনয় করেন, যে একজন ক্রীড়া সাংবাদিকের সাথে সম্পর্কে জড়ায়, কিন্তু তার অবাধ স্বাধীনতার জন্য তাদের সম্পর্কে ফাটল ধরতে শুরু করে। ১৯৪১ সালে হেপবার্নকে চলচ্চিত্রের পাণ্ডুলিপিটির প্রস্তাব দিয়েছিলেন গারসন ক্যানিন। তিনি জানান হেপবার্ন এই পাণ্ডুলিপির কাজে তাকে কতটা সহায়তা করেছিলেন।[১১৫] তিনি চূড়ান্ত পাণ্ডুলিপি এমজিএমের কাছে উপস্থাপন করেন এবং ২৫০,০০০ মার্কিন ডলার দাবী করেন, যার অর্ধেক তার নিজের জন্য ও বাকি অর্ধেক লেখকের জন্য।[১১৬] হেপবার্নের দাবী মেনে নেওয়া হয় এবং তাকে পুনরায় পরিচালক ও অভিনেতা নির্বাচনের দায়িত্ব দেওয়া হয়। তিনি জর্জ স্টিভেনসকে পরিচালক ও স্পেন্সার ট্রেসিকে অভিনেতা হিসেবে নির্বাচন করেন। ১৯৪২ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ছবিটি সফল হয়। সমালোচকেরা তারকাদের রসায়নের প্রশংসা করেন এবং হাইয়াম হেপবার্নের অভিনয়কে "পরিপক্ক ও গোছানো" বলে উল্লেখ করেন।[১১৭] দ্য ওয়ার্ল্ড-টেলিগ্রাম দুটি "উজ্জ্বল অভিনয়ের" প্রশংসা করেন।[১১৮] হেপবার্ন তার চতুর্থ একাডেমি পুরস্কারের মনোনয়ন লাভ করেন। এই চলচ্চিত্রের কাজ চলাকালীন হেপবার্ন এমজিএমের সাথে একটি চুক্তিতে আবদ্ধ হন।[১০৮]

১৯৪২ সালে হেপবার্ন ব্রডওয়েতে ফিরে আসেন এবং ফিলিপ ব্যারির আরেকটি নাটক উইদাউট ইউ-এ অভিনয় করেন। এই নাটকটিও হেপবার্নের কথা মাথায় রেখে লেখা হয়।[১১৮] সমালোচকেরা এই নাটকের বিষয়ে তেমন আগ্রহী ছিলেন না, কিন্তু হেপবার্নের জনপ্রিয়তার জন্য নাটকটি ১৬ সপ্তাহ ধরে চলে।[১১৯] এমজিএম ট্রেসি ও হেপবার্নকে নিয়ে আরেকটি চলচ্চিত্র নির্মাণে আগ্রহী হয়ে ওঠে এবং কিপার অব দ্য ফ্লেম (১৯৪২) নির্মাণ করে।[১২০] চলচ্চিত্রটি সমালোচকদের কাছ থেকে প্রশংসা অর্জন না করলেও ট্রেসি-হেপবার্ন জুটির জনপ্রিয়তার জন্য ব্যবসায়িকভাবে সফল হয়।[১২১]

১৯৪৩-৪৯: কর্মজীবনে ধীরগতি[সম্পাদনা]

অ্যাডাম্‌স রিব (১৯৪৯) ছবিতে ট্রেসি ও হেপবার্ন। ১৯৪০-এর দশকে হেপবার্ন বেশিরভাগ চলচ্চিত্রে স্পেন্সার ট্রেসির বিপরীতে কাজ করেন। তিনি পরে বলেন, এই জুটি তার কর্মজীবনকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে সাহায্য করেছে, কারণ ট্রেসি তখন তার চেয়ে জনপ্রিয় তারকা ছিলেন।[১২২]

ওম্যান অব দ্য ইয়ার চলচ্চিত্রের পর থেকে হেপবার্ন ও ট্রেসির মধ্যে প্রণয়ের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তিনি ট্রেসিকে মাদকাসক্তি ও ইনসোমনিয়া থেকে মুক্তির চেষ্টায় রত হন।[১২৩] এর ফলে তার কর্মজীবন ধীরগতিসম্পন্ন হয়ে যায়। তিনি পরবর্তী এক দশক তার পূর্ববর্তী ১৯৩০-এর দশকের চেয়ে কম কাজ করেন, বিশেষ করে ১৯৫০ সালের পূর্বে আর কোন মঞ্চনাটকে অভিনয় করেননি।[১২৪] ১৯৪৩ সালে তিনি শুধু স্টেজ ডোর ক্যান্টিন চলচ্চিত্রে তার নিজের চরিত্রেই ক্ষণিক সময়ের জন্য অভিনয় করেন। ১৯৪৪ সালে তিনি বড় বাজেটের নাট্যধর্মী ড্রাগন সিড ছবিতে একজন চীনা কৃষক চরিত্রে অভিনয় করেন। হেপবার্ন ছবিটি নিয়ে আশাবাদী ছিলেন, কিন্তু ছবিটি কিছুটা তীক্ষ্ণ প্রতিক্রিয়া লাভ করে এবং তার চরিত্রটিকে ভুল চরিত্রায়ণ বলে উল্লেখ করা হয়।[১২৫] তিনি পরবর্তীতে পুনরায় ট্রেসির সাথে উইদাউট লাভ নাটকের চলচ্চিত্ররূপে কাজ করেন। ট্রেসিকে তার ব্রডওয়েতে ফিরে যাওয়ায় সাহায্য করতে হেপবার্ন দ্য রেজর্‌স এজ চলচ্চিত্রের একটি চরিত্রে অভিনয়ের প্রস্তাব বাতিল করেন।[১২৬] উইদাউট লাভ ছবিটি নেতিবাচক সমালোচনা লাভ করে, কিন্তু ট্রেসি-হেপবার্ন জুটির এই চলচ্চিত্রটি এই বছরের বড় ঘটনার একটি ছিল এবং মুক্তির পর এটি জনপ্রিয়তা লাভ করে। ১৯৪৫ সালের ইস্টার সপ্তাহে ছবিটির রেকর্ড সংখ্যক টিকেট বিক্রি হয়।[১২৭]

হেপবার্নের পরবর্তী চলচ্চিত্র ছিল নোয়া চলচ্চিত্র আন্ডারকারেন্ট (১৯৪৬)। রবার্ট টেলর ও রবার্ট মিচামের সাথে অভিনীত তার এই চলচ্চিত্রটি নেতিবাচক সমালোচনা লাভ করে।[১২৮] ট্রেসি-হেপবার্ন জুটির চতুর্থ চলচ্চিত্র দ্য সি অব গ্রাস ১৯৪৭ সালে মুক্তি পায়। কিপার অব দ্য ফ্লেমউইদাউট লাভ চলচ্চিত্র দুটির মত এটিও সমাদৃত না হলেও দেশ ও দেশের বাইরে ব্যবসাসফল হয়।[১২৯] একই বছর হেপবার্ন জীবনীধর্মী সং অব লাভ ছবিতে ক্লারা উইক শুম্যান ভূমিকায় অভিনয় করেন। তিনি এই চরিত্রের জন্য একজন পিয়ানো বাদকের কাছে প্রশিক্ষণ নেন।[১৩০] অক্টোবর মাসে এই ছবি মুক্তিকালে হলিউডে কমিউনিস্ট বিরোধী আন্দোলনে তার বিরোধিতা তার কর্মজীবনে প্রভাব ফেলে। কয়েকজন তার এই বিরোধিতাকে বিপজ্জনক রকমের অগ্রগামী সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখেন এবং পরবর্তী নয় মাস তাকে কোন চলচ্চিত্রের প্রস্তাব দেয়া হয়নি, এমনকি সং অব লাভ ছবির প্রদর্শনীতে দর্শকেরা জিনিসপত্র ছুড়ে মারছিল।[১৩১] তার পরবর্তী চলচ্চিত্রে কাজ করার প্রস্তাব আসে অপ্রত্যাশিতভাবে, তাকে শুটিং শুরুর মাত্র একদিন পূর্বে ফ্রাঙ্ক ক্যাপ্রার রাজনৈতিক নাট্যধর্মী স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন (১৯৪৮) ছবিতে ক্লডেট কোলবার্টের স্থলাভিষিক্ত করা হয়।[১৩২] ট্রেসি অনেক দিন আগে থেকেই এই চলচ্চিত্রের কেন্দ্রীয় অভিনেতা হিসেবে কাজ করার জন্য চুক্তিবদ্ধ ছিলেন। ফলে হেপবার্ন এই গল্পের সাথে পরিচিত ছিলেন এবং তিনি ট্রেসি-হেপবার্ন জুটির পঞ্চম চলচ্চিত্রে কাজের জন্য সম্মত হন।[১৩১] সমালোচকেরা ছবিটির প্রশংসা করে এবং এটি বক্স অফিসেও সফল হয়।[১৩৩]

ট্রেসি ও হেপবার্ন ১৯৪৯ সালে টানা তৃতীয় বছরে অ্যাডাম্‌স রিব চলচ্চিত্রে একসাথে কাজ করেন। ওম্যান অব দ্য ইয়ার-এর মত এটিও হাস্যরসাত্মক ধরনের ছিল এবং তাদের বন্ধু গারসন ক্যানিনরুথ গর্ডন বিশেষভাবে তাদের জন্য এই চিত্রনাট্য রচনা করেন। এটি দুজন বিবাহিত আইনজীবীর গল্প যারা আদালতে একে অপরের বিরুদ্ধে লড়েন। হেপবার্ন বলেন "এটি তার [ট্রেসি] ও আমার জন্য উপযুক্ত ছিল।"[১৩৪] যদিও তার রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণে তখনও দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রেক্ষাগৃহে লোকজন ঢিল মারত, অ্যাডাম্‌স রিব হিট তকমা লাভ করে। ছবিটি ইতিবাচক সমালোচনা অর্জন করে এবং সে সময় পর্যন্ত এটিই ট্রেসি-হেপবার্ন জুটির সবচেয়ে ব্যবসাসফল চলচ্চিত্র ছিল।[১৩৫] দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসের বজলি ক্রোদার চলচ্চিত্রটির এবং এই জুটির "পরিপূর্ণ সঙ্গতি"র উচ্চ প্রশংসা করেন।[১৩৬]

১৯৫০-৫২: কর্মজীবনের পরিব্যাপ্তি[সম্পাদনা]

হেপবার্ন ১৯৫০-এর দশকে প্রবাসে কাজ করেন, দি আফ্রিকান কুইন দিয়ে এই যাত্রা শুরু হয়। ছবিতে তার পিছনে রয়েছেন হামফ্রি বোগার্ট

১৯৫০-এর দশকে হেপবার্ন তাঁর কর্মজীবনে আরও কয়েকটি কঠিন কাজে হাত দেন এবং তাঁর জীবনের সবচেয়ে সফল বিন্দুতে আরোহণ করেন। এই সময়ে অন্যান্য অভিনেত্রীরা নিজেদের গুটিয়ে নিতে শুরু করেন।[১৩৭] বার্গ এই দশককে "তাঁর বৃহত্তর উত্তরাধিকারের কেন্দ্রবিন্দু" ও "তাঁর নিজের সত্তায় আসার সময়কাল" বলে বর্ণনা করেন।[১৩৮] ১৯৫০ সালের জানুয়ারি মাসে হেপবার্ন শেকসপিয়রীয় নাটকে কাজ শুরু করেন এবং অ্যাজ ইউ লাইক ইট মঞ্চনাটকে রোজালিন্ড চরিত্রে অভিনয় করেন।[২৯] তিনি আশাবাদী ছিলেন যে তিনি ইতোমধ্যে প্রতিষ্ঠিত এই নাটকে নিজের প্রমাণ দিতে পারবেন, এবং বলেন, "কিছু ভিন্ন ও ব্যর্থ কিছু করার চেয়ে সব সময় নিরাপদ এমন কিছু করাই ভালো।"[১৩৯] নাটকটি নিউ ইয়র্কের কর্ট থিয়েটারে বিপুল পরিমাণ দর্শকের সামনে মঞ্চস্থ হয় এবং ১৪৮ বার মঞ্চায়ন হয়।[১৪০] পরবর্তীতে তারা এই নাটকটি নিয়ে সফরে বের হন। হেপবার্নের অভিনয় নিয়ে মিশ্র পর্যালোচনা আসে, কিন্তু হলিউডের প্রধান অভিনেত্রী হিসেবে তিনি মঞ্চে উচ্চ অভিনয় গুণের জন্য প্রশংসিত হন।[১৪১]

১৯৫১ সালে হেপবার্ন দি আফ্রিকান কুইন চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। এটি তাঁর অভিনীত প্রথম টেকনিকালার চলচ্চিত্র। এতে তিনি প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরুর সময়ে জার্মান পূর্ব আফ্রিকার একজন মিশনারি রোজ সেয়ার চরিত্রে অভিনয় করেন। হামফ্রি বোগার্টের বিপরীতে কাজ করা এই চলচ্চিত্রটি বেলজীয় কঙ্গোতে চিত্রায়িত হয়।[১৪২] প্রবাসে কাজ করার অভিজ্ঞতা কঠিন ছিল, এবং চিত্রায়ন চলাকালীন হেপবার্ন অসুস্থ হয়ে পড়েন।[১৪৩] পরবর্তী জীবনে তিনি তাঁর আত্মকথায় এই অভিজ্ঞতার কথা লিখেন।[১৪৪] চলচ্চিত্রটি ১৯৫১ সালের শেষের দিকে মুক্তি পায় এবং দর্শক ও সমালোচকদের প্রশংসা লাভ করেন।[১৪৫] এই কাজের জন্য হেপবার্ন শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী বিভাগে তাঁর পঞ্চম একাডেমি পুরস্কারের মনোনয়ন লাভ করেন। এটি ট্রেসিকে ছাড়া তাঁর প্রথম সফল চলচ্চিত্র। প্রায় এক দশক পূর্বে দ্য ফিলাডেলফিয়া স্টোরির পর এই ছবির সফলতা তাঁর জনপ্রিয়তাকে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করে এবং প্রমাণ করে যে তিনি ট্রেসিকে ছাড়াও হিট চলচ্চিত্র উপহার দিতে পারেন।[১৪৬]

হেপবার্ন ক্রীড়া-হাস্যরসাত্মক প্যাট অ্যান্ড মাইক (১৯৫২) ছবিতে কাজ করেন। এটি বিশেষভাবে ট্রেসি-হেপবার্ন জুটির জন্য কানিন ও গর্ডন রচিত দ্বিতীয় চলচ্চিত্র। ছবিতে হেপবার্নকে অ্যাথলেট চরিত্রে দেখা যায়। এই চলচ্চিত্রের গল্পের প্রেরণা প্রসঙ্গে কানিন বলেন তিনি একদিন তাঁকে টেনিস খেলতে দেখেন এবং মনে করেন তাঁর দর্শকদের তাঁর এই বিশেষ দিকটি দেখানো প্রয়োজন।[১৪৭] হেপবার্নকে তাঁর চরিত্রের জন্য কয়েক ধরনের খেলা খেলতে হয়েছিল এবং চলচ্চিত্রে তিনি কয়েকটি খেলা খেলতে পারেন নি।[১৪৮] প্যাট অ্যান্ড মাইক এই যুগলদের সবচেয়ে জনপ্রিয় ও সমাদৃত চলচ্চিত্রের একটি এবং ট্রেসির বিপরীতে করা নয়টি চলচ্চিত্রের মধ্যে হেপবার্নের ব্যক্তিগত প্রিয় চলচ্চিত্র।[১৪৯] তাঁর এই কাজের জন্য তিনি সঙ্গীতধর্মী বা হাস্যরসাত্মক চলচ্চিত্রে শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী বিভাগে গোল্ডেন গ্লোব পুরস্কারের মনোনয়ন লাভ করেন।[১৫০]

১৯৫২ সালের গ্রীষ্মে হেপবার্ন লন্ডনের ওয়েস্ট এন্ডে দশ সপ্তাহ ব্যাপী চলা জর্জ বার্নার্ড শ'য়ের দ্য মিলিয়নিয়ার্স মঞ্চনাটকে অভিনয় করেন। তাঁর শৈশবে তাঁর পিতামাতা তাঁকে শ'য়ের নাটক পড়ে শুনাতেন, ফলে এই নাটকটি তাঁর জন্য বিশেষ অভিজ্ঞতা ছিল।[১৫১] দুই বছর অত্যাধিক কাজের ফলে তিনি বিষণ ক্লান্ত হয়ে পড়েন। তাঁর বন্ধু কনস্ট্যান্স কলিয়ার লিখেন হেপবার্ন স্নায়ু পীড়ার শেষ প্রান্তে পৌছেছিলেন।[১৫২] বিপুল প্রশংসিত দ্য মিলিয়নিয়ার্স ব্রডওয়ে মঞ্চে নিয়ে আসা হয়।[১৫৩] ১৯৫২ সালের অক্টোবরে নাটকটি শুবার্ট থিয়েটারে মঞ্চস্থ হয় এবং নেতিবাচক সমালোচনা লাভের পরও দশ সপ্তাহের টিকেট বিক্রি হয়ে যায়।[১৫২] হেপবার্ন পরবর্তীতে নাটকটির চলচ্চিত্ররুপ দিতে চান। প্রেস্টন স্টার্জেস চলচ্চিত্রের জন্য চিত্রনাট্য প্রস্তুত করেন। হেপবার্ন বিনা পারিশ্রমিকে কাজ করতে চান এবং পরিচালককে নিজে পারিশ্রমিক দিতে চান, কিন্তু কোন স্টুডিও এই কাজের জন্য এগিয়ে আসে নি।[১৫৪] তিনি পরবর্তীতে এই বিষয়টিকে তাঁর কর্মজীবনের সবচেয়ে হতাশাজনক বিষয় বলে উল্লেখ করেন।[১৫১]

পুরস্কার ও মনোনয়ন[সম্পাদনা]

পাদটীকা[সম্পাদনা]

  1. আরকেও প্রধান ডেভিড ও. সেলৎসনিক বলেন কিউকার অখ্যাত একজন অভিনেত্রীকে নিতে "ভয়ানক রকমের সুযোগ" নেন।[৪৯]
  2. তার সন্তান আছে কিনা জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি রেগে গিয়ে বলেন, "হ্যাঁ আমার পাঁচ সন্তান আছে - দুজন শ্বেতাঙ্গ ও তিনজন কৃষ্ণাঙ্গ।"[৮৩]
  3. ডেভিড ও. সেলৎসনিক হেপবার্নকে বলেন, "রেট বাটলার বার বছর আপনার পিছু নিবে, এটা আমি পর্দায় দেখতে পারবো না।"[৮৯]
  4. অ্যান্ড্রু ব্রিটন হেপবার্নের ভাগ্যের এই পরিবর্তন সম্পর্কে লিখেন, "কোন তারকাই এত দ্রুত বা এত সমাদৃত হয়ে চলচ্চিত্রাঙ্গনে আসেনি। কোন তারকাই এত দ্রুত এত দীর্ঘ সময়ের জন্য অজনপ্রিয় হয়নি।"[১০১]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "Academy Awards Best Actress" (ইংরেজি ভাষায়)। ফিল্মসাইট। ফেব্রুয়ারি ১১, ২০১৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৮ মার্চ ২০১৮ 
  2. ব্রিটন (২০০৩) পৃ. ৪১।
  3. বার্গ (২০০৪), পৃ. ৪০।
  4. চ্যান্ডলার (২০১১) পৃ. ৩৭।
  5. হাইয়াম (২০০৪) পৃ. ২।
  6. "Katharine Hepburn: Part 2"। The Dick Cavett Show। অক্টোবর ৩, ১৯৭৩। আমেরিকান ব্রডকাস্টিং কোম্পানি  Stated by Hepburn in this interview.
  7. হাইয়াম (২০০৪) পৃ. ৪; চ্যান্ডলার (২০১১) পৃ. ৩৯; প্রিদু (১৯৯৬) পৃ. ৭৪।
  8. হেপবার্ন (১৯৯১) পৃ. ২১।
  9. "Katharine Hepburn: Part 1"। The Dick Cavett Show। ২ অক্টোবর ১৯৭৩। আমেরিকান ব্রডকাস্টিং কোম্পানি 
  10. বার্গ (২০০৪) পৃ. ৪৭।
  11. হেপবার্ন (১৯৯১) পৃ. ৩০; ক্যানিন (১৯৭১) পৃ. ৮২।
  12. চ্যান্ডলার (২০১১) পৃ. ৩০।
  13. হেপবার্ন (১৯৯১) পৃ. ৪৩; হাইয়াম (২০০৪) পৃ. ২।
  14. হাইয়াম (২০০৪) পৃ. ৭।
  15. হাইয়াম (২০০৪) পৃ. ৩।
  16. চ্যান্ডলার (২০১১) পৃ. ৩৪।
  17. হাইয়াম (২০০৪) পৃ. ৪।
  18. হেপবার্ন (১৯৯১) পৃ. ৪৪।
  19. হেপবার্ন (১৯৯১) পৃ. ৪৬।
  20. চ্যান্ডলার (২০১১) পৃ. ৬।
  21. হাইয়াম (২০০৪) পৃ. ৫।
  22. হেপবার্ন (১৯৯১) পৃ. ৪৯।
  23. চ্যান্ডলার (২০১১) পৃ. ৭।
  24. ক্যানিন (১৯৭১) পৃ. ২৮৫।
  25. হেপবার্ন (১৯৯১) পৃ. ৬৯।
  26. ডিকেন্স (১৯৯০) পৃ. ৪।
  27. হর্টন ও সিমন্স (২০০৭) পৃ. ১১৯।
  28. "Cinema: The Hepburn Story"টাইম (ইংরেজি ভাষায়)। ১ সেপ্টেম্বর ১৯৫২। ডিসেম্বর ২৭, ২০১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৮ মার্চ ২০১৮ (সদস্যতা প্রয়োজনীয়)
  29. Directed by David Healy। Katharine Hepburn: All About Me। Turner Network Television।  Stated by Hepburn in this documentary.
  30. হাইয়াম (২০০৪) পৃ. ৮।
  31. হেপবার্ন (১৯৯১) পৃ. ৮১।
  32. বার্গ (২০০৪) পৃ. ৯।
  33. বার্গ (২০০৪) পৃ. ৫৯; হাইয়াম (২০০৪) পৃ. ৯।
  34. বার্গ (২০০৪) পৃ. ৭৩।
  35. হেপবার্ন (১৯৯১) পৃ. ১০৯; হাইয়াম (২০০৪) পৃ. ১১।
  36. হাইয়াম (২০০৪) পৃ. ১৬; হেপবার্ন (১৯৯১) পৃ. ১১২।
  37. হাইয়াম (২০০৪) পৃ. ১৬।
  38. ক্যানিন (১৯৭১) পৃ. ২২।
  39. হেপবার্ন (১৯৯১) পৃ. ১১৮।
  40. বার্গ (২০০৪) পৃ. ৭৪।
  41. হেপবার্ন (১৯৯১) পৃ. ১২০।
  42. হাইয়াম (২০০৪) পৃ. ১৭।
  43. বার্গ (২০০৪) পৃ. ৭৫।
  44. ডিকেন্স (১৯৯০) পৃ. ২২৯।
  45. হেপবার্ন (১৯৯১) পৃ. ১২৮।
  46. হাইয়াম (২০০৪) পৃ. ২৩
  47. হাইয়াম (২০০৪) পৃ. ২১
  48. হ্যাভার (১৯৮০) পৃ. ৯৪।
  49. হ্যাভার (১৯৮০) পৃ. ৯৬।
  50. প্রিদু (১৯৯৬) পৃ. ১৫।
  51. হাইয়াম (২০০৪) পৃ. ৩০–৩১।
  52. বার্গ (২০০৪) পৃ. ৮২।
  53. হল, মরডন্ট (৩ অক্টোবর ১৯৩২)। "A Bill of Divorcement (1932)"দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস (ইংরেজি ভাষায়)। ডিসেম্বর ২৮, ২০১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৮ মার্চ ২০১৮ 
  54. "A Bill of Divorcement"ভ্যারাইটি (ইংরেজি ভাষায়)। অক্টোবর ১৯৩২। এপ্রিল ২, ২০১৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৮ মার্চ ২০১৮ 
  55. হেপবার্ন (১৯৯১) পৃ. ১৭৮, ১৮১।
  56. বার্গ (২০০৪) পৃ. ৮৪।
  57. হাইয়াম (২০০৪) পৃ. ৪৪।
  58. বার্গ (২০০৪) পৃ. ৮৬।
  59. বার্গ (২০০৪) পৃ. ৮৫।
  60. বার্গ (২০০৪) পৃ. ৮৮।
  61. বার্গ (২০০৪) পৃ. ৮৯; হাইয়াম (২০০৪) পৃ. ৫৭।
  62. বার্গ (২০০৪) পৃ. ৯১।
  63. বার্গ (২০০৪) পৃ. ৯২।
  64. বার্গ (২০০৪) পৃ. ৮৯।
  65. বার্গ (২০০৪) পৃ. ৯০।
  66. হাইয়াম (২০০৪) পৃ. ৬০।
  67. হাইয়াম (২০০৪) পৃ. ৬২।
  68. হেন্ড্রিকসন (২০১১) পৃ. ৩১১।
  69. হেপবার্ন (১৯৯১) পৃ. ১৬৬।
  70. বার্গ (২০০৪) পৃ. ৯৩।
  71. হেপবার্ন (১৯৯১) পৃ. ৪।
  72. বার্গ (২০০৪) পৃ. ১০৫।
  73. হাইয়াম (২০০৪) পৃ. ৬৬।
  74. বার্গ (২০০৪) পৃ. ১০৬।
  75. হাইয়াম (২০০৪) পৃ. ৬৮।
  76. বার্গ (২০০৪) পৃ. ১০৯।
  77. বার্গ (২০০৪) পৃ. ১১০।
  78. বার্গ (২০০৪) পৃ. ১১১–১১২।
  79. বার্গ (২০০৪) পৃ. ১২৬।
  80. বার্গ (২০০৪) পৃ. ১১২।
  81. হর্টন ও সিমন্স (২০০৭) পৃ. ১২০।
  82. McNamara, Mary (১ জুলাই ২০০৩)। "It was her defining role: life"লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমস (ইংরেজি ভাষায়)। জানুয়ারি ১৩, ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২ অক্টোবর ২০১১ 
  83. ক্যানিন (১৯৭১) পৃ. ২৮৪।
  84. বার্গ (২০০৪) পৃ. ১১১।
  85. ব্রিটন (২০০৩) পৃ. ১৬।
  86. বার্গ (২০০৪) পৃ. ১১৪।
  87. চ্যান্ডলার (২০১১) পৃ. ১০৫।
  88. হ্যাভার (১৯৮০) পৃ. ২৩৭–২৩৮।
  89. হাইয়াম (২০০৪) পৃ. ৯৪।
  90. ডিকস্টেইন (২০০২) পৃ. ৪৮–৫০।
  91. বার্গ (২০০৪) পৃ. ১১৬।
  92. হেপবার্ন (১৯৯১) পৃ. ২৩৮।
  93. বার্গ (২০০৪) পৃ. ১১৭।
  94. হাইয়াম (২০০৪) পৃ. ৮৮।
  95. হাইয়াম (২০০৪) পৃ. ৯০।
  96. বার্গ (২০০৪) পৃ. ১১৮।
  97. হেপবার্ন (১৯৯১) পৃ. ২০১।
  98. ভেরলাক (২০০৯) পৃ. ৮; চ্যান্ডলার (২০১১) পৃ. ১৪২।
  99. এডওয়ার্ডস (১৯৮৫) পৃ. ১৬৬।
  100. বার্গ (২০০৪) পৃ. ১১৯।
  101. ব্রিটন (২০০৩) পৃ. ১৩।
  102. হাইয়াম (২০০৪) পৃ. ৯৭।
  103. বার্গ (২০০৪) পৃ. ১৩২।
  104. বার্গ (২০০৪) পৃ. ১৩৬।
  105. অ্যাটকিনসন, ব্রুকস (২৯ মার্চ ১৯৩৯)। "The Play: Katharine Hepburn Appearing in Philip Barry's 'The Philadelphia Story' for the Theatre Guild"দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস (ইংরেজি ভাষায়)। মার্চ ৫, ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২২ মার্চ ২০১৮ 
  106. বার্গ (২০০৪) পৃ. ১৩৭।
  107. কার্টিজ (২০১১) পৃ. ২২৪।
  108. ডিকেন্স (১৯৯০) পৃ. ১৭।
  109. বার্গ (২০০৪) পৃ. ১৩৯।
  110. বার্গ (২০০৪) পৃ. ১৩৯–১৪০।
  111. "The New Pictures, January 20, 1941"টাইম। ২০ জানুয়ারি ১৯৪১। ডিসেম্বর ২৭, ২০১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ সেপ্টেম্বর ২৭, ২০১১ (সদস্যতা প্রয়োজনীয়)
  112. গোল্ডেন, হার্ব (২৬ নভেম্বর ১৯৪০)। "The Philadelphia Story review"ভ্যারাইটি। জুলাই ২৯, ২০১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৩ মার্চ ২০১৮ 
  113. হাইয়াম (২০০৪) পৃ. ১০৪।
  114. "1940 Awards"। নিউ ইয়র্ক ক্রিটিকস সার্কেল। জানুয়ারি ৮, ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৩ মার্চ ২০১৮ 
  115. ক্যানিন (১৯৭১) পৃ. ৮১।
  116. বার্গ (২০০৪) পৃ. ১৪৭।
  117. হাইয়াম (২০০৪) পৃ. ১১৩।
  118. কার্টিজ (২০১১) পৃ. ৪৫৭।
  119. বার্গ (২০০৪) পৃ. ১৭৮।
  120. বার্গ (২০০৪) পৃ. ১৭৫।
  121. কার্টিজ (২০১১) পৃ. ৪৮০; ক্যানিন (১৯৭১) পৃ. ৫।
  122. চ্যান্ডলার (২০১১) পৃ. ১৪৯।
  123. কার্টিজ (২০১১) পৃ. ৫০৮, ৬৬২, ৬৭০, ৭০২, ৭২৭।
  124. বার্গ (২০০৪) পৃ. ১৭৯।
  125. ডিকেন্স (১৯৯০) পৃ. ১৮।
  126. কার্টিজ (২০১১) পৃ. ৫২২।
  127. কার্টিজ (২০১১) পৃ. ৫১৫।
  128. হাইয়াম (২০০৪) পৃ.১২৯।
  129. কার্টিজ (২০১১) পৃ. ৫৪৯।
  130. হাইয়াম (২০০৪) পৃ. ১৩১।
  131. কার্টিজ (২০১১) পৃ. ৫৫৫।
  132. বার্গ (২০০৪) পৃ. ১৮২।
  133. কার্টিজ (২০১১) পৃ. ৫৬৪।
  134. হেপবার্ন (১৯৯১) পৃ. ২৪৬।
  135. কার্টিজ (২০১১) পৃ. ৫৮৭।
  136. ক্রোদার, বজলি (২৬ ডিসেম্বর ১৯৪৯)। "'Adam's Rib,' 'Tight Little Island,' 'Amazing Mr. Beecham' Among Movie Newcomers"দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ১২ মে ২০১৮ 
  137. বার্গ (২০০৪) পৃ. ১৯২।
  138. বার্গ (২০০৪) পৃ. ১৯৩।
  139. কার্টিজ (২০১১) পৃ. ৭২৮।
  140. হেপবার্ন (১৯৯১) পৃ. ২৬৭।
  141. বার্গ (২০০৪) পৃ. ১৮৬।
  142. বার্গ (২০০৪) পৃ. ১৯৪।
  143. ডিকেন্স (১৯৯০) পৃ. ২১।
  144. হেপবার্ন, ক্যাথরিন (১৯৮৭)। The Making of The African Queen, or। পৃষ্ঠা ১২৯। আইএসবিএন 0394562720। সংগ্রহের তারিখ ২৯ জুন ২০১৮ 
  145. বার্গ (২০০৪) পৃ. ১৯৮।
  146. কার্টিজ (২০১১) পৃ. ৬৩৩।
  147. কানিন (১৯৭১) পৃ. ১৬৯।
  148. কার্টিজ (২০১১) পৃ. ৬২২।
  149. বার্গ (২০০৪) পৃ. ১৯৮-১৯৯।
  150. "Katharine Hepburn"গোল্ডেন গ্লোব (ইংরেজি ভাষায়)। হলিউড ফরেন প্রেস অ্যাসোসিয়েশন। সংগ্রহের তারিখ ১৪ জুলাই ২০১৮ 
  151. চ্যান্ডলার (২০১১) পৃ. ২০০।
  152. কার্টিজ (২০১১) পৃ. ৬৩৫।
  153. ডিকেন্স (১৯৯০) পৃ. ২২।
  154. কানিন (১৯৭১) পৃ. ১৬৩; বার্গ (২০০৪) পৃ. ২০০।

গ্রন্থপঞ্জী[সম্পাদনা]

  • এডওয়ার্ডস, অ্যান (১৯৮৫)। A Remarkable Woman: A Biography of Katharine Hepburn (ইংরেজি ভাষায়)। New York City, NY: William Morrow & Company, Inc। আইএসবিএন 0-688-04528-6 
  • ক্যানিন, গারসন (১৯৭১)। Tracy and Hepburn: An Intimate Memoir। New York City, NY: Viking। আইএসবিএন 0-670-72293-6 
  • কার্টিজ, জেমস (২০১১)। Spencer Tracy: A Biography (ইংরেজি ভাষায়)। London: Hutchinson। আইএসবিএন 0-09-178524-3 
  • চ্যান্ডলার, শার্লট (২০১১) [২০১০]। I Know Where I'm Going: Katharine Hepburn, a Personal Biography (ইংরেজি ভাষায়)। Milwaukee, WI: Applause। আইএসবিএন 1-907532-01-3 
  • ডিকেন্স, হোমার (১৯৯০) [১৯৭১]। The Films of Katharine Hepburn (ইংরেজি ভাষায়)। New York City, NY: Carol Publishing Group। আইএসবিএন 0-8065-1175-3 
  • ডিএডওয়ার্ডো, ম্যারিঅ্যান পাসডা (২০০৬)। The Legacy of Katharine Hepburn: Fine Art as a Way of Life: A Memoir (ইংরেজি ভাষায়)। Bloomington, IN: AuthorHouse। আইএসবিএন 1-4259-6089-8 
  • ডিকস্টাইন, মরিস (২০০২)। Bringing Up Baby (1938), in The A List: The National Society of Film Critics' 100 Essential Films (ইংরেজি ভাষায়)। Cambridge: Da Capo। আইএসবিএন 0-306-81096-4 
  • প্রিদু, জেমস (১৯৯৬)। Knowing Hepburn and Other Curious Experiences (ইংরেজি ভাষায়)। Boston, MA: Faber and Faber। আইএসবিএন 0-571-19892-9 
  • বাকল, লরান (২০০৫)। By Myself and Then Some (ইংরেজি ভাষায়)। London: Headline। আইএসবিএন 0-7553-1350-X 
  • বার্গ, স্কট এ. (২০০৪) [২০০৩]। Kate Remembered: Katharine Hepburn, a Personal Biography। London: Pocket। আইএসবিএন 0-7434-1563-9 
  • ব্রিটন, অ্যান্ড্রু (২০০৩) [১৯৮৪]। Katharine Hepburn: Star as Feminist (ইংরেজি ভাষায়)। New York City, NY: Columbia University Press। আইএসবিএন 0-231-13277-8 
  • ভের্লাক, পিয়ের-অঁরি (২০০৯)। Katharine Hepburn: A Life in Pictures (ইংরেজি ভাষায়)। San Francisco, CA: Chronicle Books। আইএসবিএন 0-8118-6947-4 
  • মান, উইলিয়াম জে. (২০০৭)। Kate: The Woman Who Was Hepburn (ইংরেজি ভাষায়)। New York City, NY: Picador। আইএসবিএন 0-312-42740-9 
  • হর্টন, রোজ; সিমন্স, স্যালি (২০০৭)। Women Who Changed the World (ইংরেজি ভাষায়)। London: Quercus Publishing Plc। আইএসবিএন 1-84724-026-7 
  • হ্যাভার, রোনাল্ড (১৯৮০)। David O. Selznick's Hollywood (ইংরেজি ভাষায়)। London: Martin Secker & Warburg Ltd। আইএসবিএন 0-394-42595-2 
  • হাইয়াম, চার্লস (২০০৪) [১৯৭৫]। Kate: The Life of Katharine Hepburn। New York City, NY: W. W. Norton। আইএসবিএন 0-393-32598-9 
  • হেন্ড্রিকসন, রবার্ট (২০১৩)। God Bless America: The Origins of Over 1,500 Patriotic Words and Phrases (ইংরেজি ভাষায়)। New York City, NY: Skyhorse Publishing। আইএসবিএন 978-1-62087-597-1 
  • হেপবার্ন, ক্যাথরিন (১৯৯১)। Me: Stories of My Life (ইংরেজি ভাষায়)। New York City, NY: Alfred A. Knopf। আইএসবিএন 0-679-40051-6 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]